The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৩, ১১ পৌষ ১৪২০, ২১ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিচ্ছেন ক্যালিস | বাগদাদে চার্চের সন্নিকটে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ, নিহত ১৫ | কাল সারাদেশে ১৮ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ | রাজধানীতে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে পুলিশের মৃত্যু | আগুনে প্রাণ গেল আরও দুই পরিবহন শ্রমিকের

কমছে কর্মদক্ষতা!

মো. মুজিবুর রহমান

দেশে এখন দীর্ঘদিন ধরে চলছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। এটা আরম্ভ হয়েছে এ বছরের গোড়া থেকে। হরতালের কারণে ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল ২০১৩ সালের এসএসসি পরীক্ষা। তখন অনেকগুলো বিষয়ের পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। একইভাবে এইচএসসি পরীক্ষাও বিঘ্নের মুখে পড়েছিল। চলতি বছরের অনেকটা সময় কেটেছে বড় বড় হরতালের মধ্য দিয়ে। ফলে পুরো বছর স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় কোথাও নিয়মিত ক্লাস হতে পারেনি। এমনকি পরীক্ষাও নেয়া যায়নি নির্দিষ্ট সময়ে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সময় কেটেছে একপ্রকার অলসভাবে। আর অভিভাবকরা ছিলেন উদ্বিগ্ন। তবে তাদের উদ্বেগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি। কারণ একই ধরনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে বছরের শেষ সময়ে এসেও। আগে যেমন হরতাল থাকত দিনের পর দিন। এখন থাকছে অবরোধ কর্মসূচি!

ডিসেম্বর মাস প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের আশা ছিল, এ মাসের শেষ সপ্তাহে হলেও রাজনৈতিক কর্মসূচি কিছুটা শিথিল থাকবে এবং এ সময়ের মধ্যেই স্কুলগুলোয় অসমাপ্ত পরীক্ষা শেষ করা যাবে। অনন্যোপায় হয়ে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুক্রবারেও পরীক্ষা নেয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটির দিন বলতে আর কিছু রইল না। কিন্তু এখন সরকারি ছুটির দিন শুক্রবারের আগে ও পরে অবরোধ আহ্বান করায় শিক্ষার্থীরা পড়েছে চরম বিপাকে। তারা এমনিতেই হতাশা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। চতুর্থ বারের মতো ডাকা অবরোধ কর্মসূচি ডিসেম্বরের ২০ তারিখ সকালে শেষ হওয়ার পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২১ ডিসেম্বর পঞ্চম দফায় তা আরম্ভ হওয়ায় সবার মনে আতঙ্ক আরও বেড়েছে সন্দেহ নেই। সরকার চেষ্টা করছে বিভিন্নভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার। অনেকের ধারণা, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বহাল থাকবে আগামী নির্বাচনের দিন পর্যন্ত। অবশ্য কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, যেহেতু প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে এখনও সমঝোতা হয়নি সে কারণে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আরও দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাদের মতে, এ ধারা বহাল থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত না বড় দুই দলের মধ্যে কার্যকর বৈঠক এবং সহনশীলতার মাধ্যমে কোনো চূড়ান্ত আপসরফা হবে। অথচ বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে পরিষ্কারভাবে ধারণা পাওয়া যায়, অস্থিতিশীল পরিস্থিতির আপাতত উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। এখন শোনা যাচ্ছে, যতদিন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে জটিলতার অবসান না হবে ততদিন পর্যন্ত লাগাতার হরতাল-অবরোধ চলবে। এমনকি প্রয়োজনে ছুটির দিনগুলোতেও চলবে রাজনৈতিক কর্মসূচি!

রাজনৈতিক অঙ্গনে যা কিছুই ঘটুক না কেন সেটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার ভার রাজনীতিকদের ওপরই রইল। কিন্তু আমরা ভাবছি, রাজনৈতিক কারণে সৃষ্ট জটিলতার কারণে দেশের কর্মক্ষম মানুষের কর্মদক্ষতা কমে যাওয়া নিয়ে। কারণ দীর্ঘদিন যদি কোনো দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করে তাহলে মানুষের কর্মদক্ষতা কমে যায়— এটা নতুন করে আর বলার প্রয়োজন পড়ে না। এমনকি রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জনগণের মনোবল ভেঙে যায়, নাগরিকদের মধ্যে দেখা দেয় হতাশা, সৃষ্টি হয় বিষণ্নতার, ভেতরে ভেতরে ক্ষোভেরও জন্ম হয়। ফলে কর্মস্পৃহা হরাস পেতে থাকে।

প্রশ্ন হলো, রাজনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টির ফলে মানুষের কর্মদক্ষতা কমার কারণ কী? এটা মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কর্মজীবী মানুষেরা যদি নিরাপদে কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত করতে না পারেন এবং স্বাভাবিকভাবে কাজ করার সুযোগ না পান তাহলে তাদের মনোজগতে নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। এ পরিবর্তন এমনভাবে ঘটে যা নিয়ন্ত্রণ করা তখন ব্যক্তির পক্ষে অনেকটা দুরূহ হয়ে ওঠে। বাস্তব জগতে যেসব পরিবর্তন ঘটে সেগুলো যদি প্রত্যাশিত ও ইতিবাচক হয় তাহলে মানুষের অবচেতন মন সচেতনভাবেই সেগুলো সহজে গ্রহণ করে এবং সে অনুযায়ী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। কিন্তু ঘটনা প্রবাহ যদি অনাকাঙ্ক্ষিত হয় তাহলে তা একইভাবে মানুষের মনে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। আর সাধারণভাবে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের চেয়ে নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রভাব দ্রুত পড়তে আরম্ভ করে। এ অবস্থায় মানুষের কর্মদক্ষতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। কর্মদক্ষতা কমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ। এটা কাজকর্মে স্থবিরতাও সৃষ্টি করে। অস্থিতিশীল ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে কাজের গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন। কখনও কখনও সম্পাদিত কাজের পরিমাণ কমে যায়, এমনকি যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয় সেটাও হয় নিম্নমানের। আর্থিকভাবেও নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শুধু কর্মক্ষম ব্যক্তির ওপর নয়, বরং তার পরিবারের সদস্যদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। ফলে পরিবারে দেখা দেয় অশান্তি। পারিবারিক অশান্তি মানুষকে সহজেই অস্থির করে তোলে। আর অস্থির আচরণ মানুষের মধ্যে কর্মদক্ষতার কোনো কিছুই অবশিষ্ট রাখে না। কাজেই স্পষ্টভাবে বলা যায়, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর দেশের মানুষের কর্মদক্ষতার উন্নয়ন নির্ভরশীল।

একইভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনও নির্ভর করে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর। দেশে যদি শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি না থাকে তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিখনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। এর ফলে শিক্ষার্থীরা জীবনের জন্য দরকারি দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হয়। এবার দেখা যায়, প্রায় সারা বছর শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে পাঠ্য বিষয়ে বর্ণিত যেসব দক্ষতা অর্জন করা তাদের জন্য জরুরি ছিল তারা সে সবের কিছুই আয়ত্ত করতে পারেনি। এটিও অদক্ষ জনবল তৈরির অন্যতম কারণ।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক,সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ময়মনসিংহ

[email protected]

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, 'সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে সঙ্কটের সমাধান হয়নি।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
4 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৭
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫৩
মাগরিব৫:৩৪
এশা৬:৪৬
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :