The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৩, ১১ পৌষ ১৪২০, ২১ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিচ্ছেন ক্যালিস | বাগদাদে চার্চের সন্নিকটে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ, নিহত ১৫ | কাল সারাদেশে ১৮ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ | রাজধানীতে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে পুলিশের মৃত্যু | আগুনে প্রাণ গেল আরও দুই পরিবহন শ্রমিকের

ফলকে ন্যায্য মানছেন ভিলিয়ার্সও

স্পোর্টস ডেস্ক

নিকট অতীত তো বটেই পরিসংখ্যান বিচারে ইতিহাসেরই অন্যতম তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে মানতে হবে জোহানেসবার্গ টেস্টকে। ব্যাট-বলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে যে খেলায় জিততে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা-ভারত কোন দলই। তবে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও জয়ের জন্য ব্যাট না করায় দক্ষিণ আফ্রিকান দর্শকরা দুষছেন উইকেটে থাকা দুই ব্যাটসম্যান ভারনন ফিল্যান্ডার এবং ডেল স্টেইনকে। শেষ দুই ওভারের বেশি ভাগ সময় ব্যাটিং প্রান্তে কাটানো স্টেইনের দিকেই সমালোচনার তীরটা ছুটছে বেশি। তবে সেই সমালোচনায় কান দিয়ে প্রায় অসম্ভব এক পরিস্থিতি থেকে ড্র পর্যন্ত ম্যাচকে টেনে আনায় সতীর্থদের প্রসংশায় পঞ্চমুখ হয়েছেন দ্বিতীয় ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান এবং প্রোটিয়াদের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। আগামীকাল ডারবানে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে এই টেস্টের পরিকল্পনা এবং প্রথম টেস্ট নিয়ে গণমাধ্যমের সাথে দীর্ঘ আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছেন তিনি।

আপনাদের তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

অনেক কিছুই তখন সবার মনে খেলা করছিল। ডেল (স্টেইন) ছিল খুবই হতাশ এবং নিজেকে সামলাতে সে হিমশিম খাচ্ছিল। আরো কয়েকজনকে সাথে নিয়ে গ্রায়েম (স্মিথ) অনেক কষ্টে তাকে ঠান্ডা করে। চারপাশের মানুষ এবং দর্শকদের দুয়োধ্বনির কারণেই আসলে পরিস্থিতিটা এমন হয়েছিল। তারা সবাই ভারনন এবং তাকে (স্টেইন) দুষছিল। স্বভাবতই তারা ছিল দারুণ হতাশ এবং বাকি সবার দায়িত্ব ছিল তাদেরকে শান্ত করা।

আমি ব্যক্তিগতভাবে সব সময় খেলাটাকে ফলাফলের ঊর্ধ্বে বিচার করতে পছন্দ করি। এরকম একটা ম্যাচের অংশ হতে পারাটা দারুণ সৌভাগ্যের। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করেছি। ফ্যাফের (ডু প্লেসিস) ব্যাপারটাও তেমন। পুরো দলই তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। দুর্দান্ত একটা টেস্টে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও জয় থেকে কিছুটা দূরে আমাদের থামতে হয়েছে তবে এরকম কিছুর অংশ হতে পেরে সবাই নিজেদের ভাগ্যবান ভাবছে। কোন সন্দেহ নেই সর্বকালের অন্যতম সেরা টেস্ট হিসেবেই এটা স্বীকৃত হবে। আমি এভাবেই বিষয়টি দেখতে চাচ্ছি।

আর গ্রায়েমের বিষয়ে কথা বলাটা আমার জন্য কঠিন। শেষ দিকে সে দারুণ নার্ভাস ছিল। ড্রেসিংরুমের এদিক সেদিক হাটাচলা করছিল সে। ঐ সময়ে মাঠে কোন বার্তা দেয়াটা ছিল কঠিন। তাই মাঠে যারা ছিল তাদের উপরেই সে সিদ্ধান্ত নেয়ার ভারটা ছেড়ে দেয়। আমি এখনও বিশ্বাস করি সেটাই ছিল সেরা সিদ্ধান্ত। খেলা শেষে গ্রায়েম এবং রাসেল (ডোমিঙ্গো) আমাদের সবাইকে দারুণ কিছু কথা বলেছিল। এরপরই সবকিছু স্বাভাবিক হওয়া শুরু করে।

সেই কথাগুলো কি ছিল? এটা অনেক বড় কিংবা তাত্পর্যপূর্ণ একটি ড্র?

আমাদের জন্য এটা অসাধারণ একটা ড্র। গ্রায়েমের কথাটি ছিল এমন। আমরা দল হিসেবে কি করতে সক্ষম এবং আমাদের অর্জনটা কেমন এটাও বলছিল সে। আমাদের সমালোচকদের কথায় কান দেয়া চলবে না বরং চারিত্রিক যে দৃঢ়তা আমরা দেখিয়েছি সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের এবং পরস্পরের উপর আমাদের বিশ্বাস ছিল। আর পরস্পরকে সাহায্য করতেই আমাদের মাঠে নামা। আমরা পরস্পরের চোখের দিকে তাকালাম এবং সবার চোখই সে কথা বলছিল।

এখনও কি ম্যাচ নিয়ে হতাশা কাজ করছে নাকি স্বস্তির অনুভূতি কাজ করছে?

এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া কঠিন। এতটা পথ এসে শেষ পর্যন্ত জিততে পারিনি, এভাবে চিন্তা করলে হতাশ হওয়াটা স্বাভাবিক। মনে হয় রবিন জ্যাকম্যান ম্যাচের সারাংশ হিসেবে যা বলেছেন সেটাই ঠিক, 'দক্ষিণ আফ্রিকা-ভারত দুই দলই হয়তো ফল নিয়ে হতাশ। তবে এই ম্যাচে জয় হয়েছে ক্রিকেটের।'আমারও মনে হয় ফলটা দু'দলের জন্যই ন্যায্য।

অ্যাডিলেড নাকি জোহানেসবার্গ? কোন টেস্টকে এগিয়ে রাখবেন?

নি:সন্দেহে জোহানেসবার্গ। এখানে হয়তো আমাদের অ্যাডিলেডের মতো কঠিন বোলিং আক্রমণের মোকাবেলা করতে হয়নি। তবে ওয়ান্ডারার্সের উইকেট বিচার করলে আপনি দেখবেন এখানে খুব কম টেস্টই পঞ্চম দিনে গড়ায়। শেষ কবে এখানে কোন টেস্টে ফলাফল আসেনি আমি মনে করতে পারছি না। আর সেখানে এমন দীর্ঘ সময় ব্যাট করা এবং ড্র নিয়ে ফেরাটা সত্যিই বিশাল এক অর্জন।

এই টেস্ট থেকে কি শিক্ষা নিচ্ছেন আপনারা?

প্রথম তিন দিন আমরা প্রতিপক্ষের সাথে পেরে উঠিনি। দ্বিতীয় ইনিংসের শেষ দিকে আমরা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি রান দিয়েছি। হয়তো ২০-৩০ রান কম দেয়া সম্ভব ছিল। যেটা কিনা ফলটা পাল্টে দিতে পারতো। সুতরাং, বোলিংয়ে আরেকটি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

কিংসমিডে সর্বশেষ চারটি টেস্টেই প্রোটিয়ারা হেরেছে। জিততেই হবে এমন এক পরিস্থিতিতে সেখানে মাঠে নামছেন। আপনাদের প্রত্যাশাটা কেমন?

ডারবানের বিষয়ে বলাটা একটু কঠিন। আমি একটু সন্দিহানও বটে। সাধারণত যেভাবে খেলি এখানেও তেমনই খেলবো। আমি বল ধরে ধরে খেলবো এবং পূর্ব অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগাতে চেষ্টা করবো। পুরো দলই সেভাবেই খেলবে।

মরনে মরকেলের পরিবর্তে কে খেলবেন? কাইল অ্যাবট নাকি ররি ক্লেইনভেল্ট? সিদ্ধান্তটা কখন আসতে পারে?

আমার ধারণা মরনের খেলার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। তবে শতভাগ সুস্থ না থাকলে কারো মাঠে নামা উচিত নয়। আর অন্য দু'জনের মধ্যে কে ভালো সেটা বলা কঠিন। এটা কোচ এবং অধিনায়কের সিদ্ধান্ত।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, 'সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে সঙ্কটের সমাধান হয়নি।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
9 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ৬
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫০
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :