The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৩, ১১ পৌষ ১৪২০, ২১ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিচ্ছেন ক্যালিস | বাগদাদে চার্চের সন্নিকটে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ, নিহত ১৫ | কাল সারাদেশে ১৮ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ | রাজধানীতে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে পুলিশের মৃত্যু | আগুনে প্রাণ গেল আরও দুই পরিবহন শ্রমিকের

বিএনপি'র আন্দোলন স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে

১৪ দলের গণসমাবেশে নেতৃবৃন্দ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল কিংবা আগামী নির্বাচনের বিরুদ্ধে নয়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে বিএনপি-জামায়াত। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে একাত্তরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তারা আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও, নাশকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। জাতীয় পতাকা রক্ষার স্বার্থে দেশবাসীকে একাত্তরের মতোই গর্জে উঠে এদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে 'দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে' শরিক হতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ১৪ দলের বিশাল গণসমাবেশে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতা সৃষ্টি এবং পাকিস্তান পার্লামেন্টে একাত্তরের গণহত্যাকারীদের পক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত এই গণসমাবেশে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের শীর্ষ নেতারা বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, নির্বাচন বানচাল ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন। একাত্তরে পরাজিত পাকিস্তান ও তাদের দোসর ঘাতক-যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে দেশ ধ্বংসের যতই চক্রান্ত করুন, দেশ ধ্বংস হবে না। উল্টো আপনি ও আপনার দলই ধ্বংস হয়ে যাবে। এখনও সময় আছে সমঝোতা চাইলে যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গিবাদ ও জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করুন, নইলে তাদের মতো আপনারও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। ষড়যন্ত্র বন্ধ না করলে বিক্ষুব্ধ জনগণ আপনাদের ঘর থেকে বের হতে দেবে না। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। এ নির্বাচন কেউ ঠেকাতে পারবে না। এতে বিদেশি কোন পর্যবেক্ষক দলও লাগবে না। তারা না আসলেও সমস্যা নেই। দেশের জনগণই এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণতন্ত্রী পার্টির নুরুর রহমান সেলিম, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, ডা. অসিত বরণ রায়, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের দপ্তর সমন্বয়ক মৃণাল কান্তি দাস।

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে কোন আপোষ নেই। দেশবাসীকে আজ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার শপথ নিতে হবে। দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া দুর্বৃত্তদের একে একে শেষ করে দিতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে 'দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে' শরিক হয়ে আমাদের বিজয়ী হতেই হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে অনেকে নানা টালবাহানা করছে। কিন্তু কোন ষড়যন্ত্র সফল হবে না। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হবেই।

আমির হোসেন আমু বলেন, বিরোধী দলের আন্দোলন গণতান্ত্রিক নয়। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে যারা এর বিরোধীতা করেছিল তাদের মতোই আচরণ করছে বিএনপি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এই অপশক্তির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে রুখে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ধরা পড়ে গেছেন। তিনি যে যুদ্ধাপরাধীদের দোসর, কাদের মোল্লার ফাঁসিতে পাকিস্তানের নিন্দা প্রস্তাবের পর তার নিশ্চুপ থাকায় তা প্রমাণিত হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা আর না করার জন্য খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাদের সহযোগী হিসেবে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে।

কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করলে আগামী ৫ জানুয়ারির পর বিএনপি বাংলার মাটি থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া নির্বাচনের ট্রেন মিস করেছেন, পৃথিবীর কোনো শক্তি এই নির্বাচনী ট্রেন থামাতে পারবে না, বঙ্গভবনে গিয়েই এই ট্রেন থামবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তৃতীয়বারের মতো জনগণের সরকার গঠন করা হবে।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বিএনপির উদ্দেশে বলেন, ভারতের নির্বাচনে কোন দেশের পর্যবেক্ষক লাগে না, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের নির্বাচনেও পর্যবেক্ষক (অবজারভার) যায় না। আমাদের দেশেও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, কারো পর্যবেক্ষণের দরকার নেই। এ সময় তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি, বাঘে ধরলে বাঘে ছাড়ে, শেখ হাসিনা ধরলে ছাড়েন না। বাইরের লোকদের দিয়ে চাপ দিয়ে কোন লাভ হবে না। তিনি বলেন, বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে একাদশ জাতীয় সংসদের 'মধ্যবর্তী নির্বাচন' নিয়ে। তবে তার আগে খালেদা জিয়াকে বলতে হবে তিনি যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াতকে তালাক দিয়ে গণতন্ত্রের পথে আসতে চান কি না?

রাশেদ খান মেনন বলেন, বিরোধী দল আন্দোলনের নামে যতোই নৈরাজ্য সৃষ্টি করুক না কেন বাংলাদেশ আর কোন দিন পাকিস্তান হবে না। বিদেশি তত্পরতার সমালোচনা করে মেনন বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আপনাদের কিসের এত তত্পরতা ? জামায়াতের সঙ্গে তাদের (বিদেশিদের) কিসের সংলাপ?

হাসানুল হক ইনু খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, সন্ত্রাস, গাড়ি পোড়ানো ও নাশকতা বন্ধ করুন। সমঝোতা চাইলে যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াতিদের সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়ুন, সন্ত্রাস বর্জন করুন। সমঝোতা চাইলে সংবিধান মেনে সংলাপে বসুন। নইলে জঙ্গিবাদীদের ও আপনার পরিণতি একই হবে। তিনি বলেন, এ লড়াই এসপার-ওসপারের লড়াই। আপনি আপনার পথ ঠিক করুন। আপনি বাংলাদেশের ট্রেন না ধরলে আপনাকে ট্রেনে আফগানিস্তান বা পাকিস্তান পাঠিয়ে দেয়া হবে। গায়ের জোরে সন্ত্রাস চালিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া যায় না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া নির্বাচনের ট্রেন মিস করেছেন। তাই তিনি জঙ্গির ট্রেনে উঠেছেন।

দিলীপ বড়ুয়া বলেন, দেশ আজ দু'ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অসাম্প্রদায়িক শক্তি, অন্যটি খালেদা জিয়ার পক্ষে যুদ্ধাপরাধী ও একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি।

গণসমাবেশ শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে শুরু হয়ে গুলিস্তান, জিরো পয়েন্ট, মুক্তাঙ্গন হয়ে আবার দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। গণসমাবেশে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিল। 'নৌকা আর বঙ্গবন্ধুর' শ্লোগানে সমাবেশটি রীতিমত নির্বাচনী জনসভায় পরিণত হয়। ব্যাপক লোক সমাগমের কারণে এসময় রাজধানীতে কিছুটা যানজটেরও সৃষ্টি হয়।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, 'সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে সঙ্কটের সমাধান হয়নি।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
7 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ২৩
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :