The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৩, ১১ পৌষ ১৪২০, ২১ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিচ্ছেন ক্যালিস | বাগদাদে চার্চের সন্নিকটে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ, নিহত ১৫ | কাল সারাদেশে ১৮ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ | রাজধানীতে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে পুলিশের মৃত্যু | আগুনে প্রাণ গেল আরও দুই পরিবহন শ্রমিকের

মীরগঞ্জের বালক মুক্তিযোদ্ধারা

সুমনা আক্তার মীম, সদস্য নম্বর :১২৭৭

সেটা ছিল ১৯৭১ সাল। ছায়া ঢাকা, পাখি ডাকা এক সুনিবিড় শান্ত গ্রাম ছিল মীরগঞ্জ। গ্রামের মানুষ একসাথে বহু বছর ধরে বাস করছিল সেই গ্রামে।

যদিও গ্রামটি ছিল শহর থেকে বহুদূরে। গ্রামের মানুষ খুব ভালো ছিল। ছোট-বড়, ধনী-গরীব, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তারা বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত এক সাথে। কোন ভেদাভেদ ছিল না। এই গ্রামেরই শিশু রাসু, প্রদীপ আর দীপু। ওদের গ্রামে একটা প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে, সেখানে বহু ছেলে-মেয়ের সাথে ওরা পড়াশোনা করে। ওরা ৩ জন খুব ভালো বন্ধু। পড়াশোনার পাশাপাশি অনেক দুষ্টুমিও করে। এভাবেই কেটে যাচ্ছিল সোনার দিনগুলো; কিন্তু হঠাত্ ওদের শান্ত জীবনে নেমে এল দুঃখের ছায়া। শহর থেকে বহু লোক হেঁটে, আরো নানাভাবে গ্রামে আসছে। পাশের গ্রাম ও মীরগঞ্জের লোকদের বাড়িতে আশ্রয় চাইছে। বহু লোক তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। তাদের অবস্থার কথা জানতে চাইলে ওদের মুখে শোনা যায় ভয়ানক গল্প যা কাহিনী-কিচ্ছায়ও শোনেনি গ্রামের কোন লোক। ২৫ মার্চ রাতে নাকি ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর বড় বড় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী। ফলে বহু মানুষকে ওরা নির্বিচারে হত্যা করে আর প্রাণভয়ে তারা শহর থেকে ছুটে এসেছে গ্রামে। রেডিওতে চায়ের দোকানে খবর শুনে গ্রামের লোক। বাঙালিদের ওপর আক্রমণের কথা শুনে আঁতকে উঠে লোকেরা।

বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। দীপু, প্রদীপ আর রাসু বাবার মুখে যুদ্ধের কথা শুনে। মিলিটারিরা অস্ত্র আর বোমা নিয়ে ধেয়ে আসছে গ্রামের দিকে। দীপুদের গ্রাম মীরগঞ্জেও এক সময় মিলিটারি আসে, জ্বালিয়ে দেয় বাড়িঘর, ক্ষেত-খামার। অনেক মানুষকে নির্বিচরে হত্যা করে। দীপু, রাসু আর প্রদীপের বাবা-চাচারা সবাই যুদ্ধে যায়। ওরা ৩ বন্ধু এখন যুদ্ধ মানে বোঝে। ওদের মধ্যে দেশপ্রেম জেগে উঠে। ওরা শপথ নেয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করবে। প্রতি রাতে ওরা খুব সাবধানে মুক্তিক্যাম্পে যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার, অস্ত্র, বোমা আর গুলি নিয়ে পৌঁছে দেয়।

তাছাড়া এলাকার খবর আদান-প্রদান করে। ওরা স্কুলে আজ একটু দেরিতে যায়, পথে ওদের কাজ ছিল মিলিটারিদের অবস্থান জানার। স্কুলে এসে দেখে ধর্ম স্যার পড়াচ্ছেন পাকিস্তান কী জয়, পাকিস্তান জিন্দাবাদ। 'একথা সবাই শ্লোগানের মতো করে পড়ছে; কিন্তু ওরা তা পড়বে না। ধর্ম স্যার পাকিস্তানীদের ভালোবাসেন, তাই পাকিস্তানীদের দোসর, রাজাকার, গ্রামের সব খবর নিয়ে পাকিস্তানীদের দেয়। একদিন রাতে হঠাত্ মুক্তিক্যাম্পে পাকিস্তানীদের আক্রমণ চালায়। সে সময় দীপু ওরা ক্যাম্পে ছিল। অতর্কিত আক্রমণে দিশেহারা হয়ে গেলেও মুক্তিবাহিনী যুদ্ধ চালিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে ওরা যুদ্ধ করে। হাতে তুলে নেয় বোমা আর বন্দুক। বন্দুক চালাতে না জানলেও মুক্তিযোদ্ধাদের দেখে ওরা অনেকটাই শিখে ফেলেছিল। যুদ্ধের এক পর্যায়ে অবস্থা খারাপ দেখে পাকিস্তানীরা পিছু হটে যায়।

এরপর রাসুদেরকে বাড়ি যেতে বলা হয়। বাড়ি যাবার পথে ওদের চোখে-মুখে আনন্দের আভাস, দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। হঠাত্ পেছন থেকে কে যেন এসে ওদের ধরে। অন্ধকারে আবছা চাদের আলোতে পাকিস্তানীদের দেখা যায়, আর একজনের গলা শোনা যায়। গলার স্বরটা বড় চেনা। আরে, এটাতো ধর্ম স্যারের আওয়াজ। ফিসফিসিয়ে কী যেন বললেন। এরপর ওদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, আর মুক্তিবাহিনীর কথা জানতে চাওয়া হয়; কিন্তু দেশের নামে শপথ নেয়া বালক মুক্তিযোদ্ধারা মুখ খোলে না। ওদের আঘাত করা হয়। এক সময় ওদের চোখ বেঁধে গুলি করে পাকিস্তানী হায়েনারা। নিভে যায় প্রদীপ, রাসু আর দীপুর জীবনের আলো। মৃত্যুর পূর্বেও মুখে ছিল এক সুর— জয় বাংলা।

তারপর আজ মুক্তিযুদ্ধের ৪২ বছর পরও ওদের বীরত্বের আর দেশপ্রেমের গল্প শোনা যায় লোকের মুখে মুখে। প্রতি বছর বিজয় দিবসে বালক মুক্তিযোদ্ধাদের দেশপ্রেমের আর অকুতোভয় সাহসের কথা জানানো হয় নতুন প্রজন্মকে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, 'সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে সঙ্কটের সমাধান হয়নি।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
1 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১২
ফজর৫:০৯
যোহর১১:৫২
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩০সূর্যাস্ত - ০৫:১১
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :