The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৩, ১১ পৌষ ১৪২০, ২১ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিচ্ছেন ক্যালিস | বাগদাদে চার্চের সন্নিকটে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ, নিহত ১৫ | কাল সারাদেশে ১৮ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ | রাজধানীতে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে পুলিশের মৃত্যু | আগুনে প্রাণ গেল আরও দুই পরিবহন শ্রমিকের

মুক্তিযুদ্ধের সেই স্মৃতি

মো. এনামূল হক আয়ুব

মহান মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিজয়ের মাস ডিসেম্বর এলেই মনে পড়ে নানা স্মৃতিকথা। ১৯৭১ সালের ২৭ এপ্রিল। আমি তখন হাই স্কুলের ছাত্র। আমার সহোদর বড়ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাসুদুর রহমান (বর্তমানে কানাডা প্রবাসী), মেঝো ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সোহরাব হোসেন (বর্তমানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত) সে সময়ে ঢাকা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবং সেঝো ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদ (বর্তমানে সাংসদ, ঢাকা-২০ আসন) তখন ধামরাই থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন। তাঁরা প্রত্যেকেই মুক্তিযোদ্ধে অংশ গ্রহণের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের জন্য ভারত চলে যান। কয়েক দিন পর আমি আত্নীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের মায়ার বাধন ছিন্ন করে বাবা মার সাথে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মামা বাড়ি চলে যাই। বার বার পেছন ফিরে তাকিয়ে ছিলাম আপনজন আর নিজ বাসভূমির দিকে। হূদয়ের হাহাকার আর প্রচন্ড বেদনায় দু'চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু তবু যেতে হয়েছিল। দুই সপ্তাহ পরে বেনজীর ভাই ভারত থেকে নিজ এলাকা ধামরাইয়ে চলে আসেন। তিনি দফায় দফায় ধামরাই থেকে প্রায় তিন চার শত যুবককে সংগঠিত করে ভারতে নিয়ে যান। এদেশের স্বাধীনতার জন্য, এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, একটি নতুন মানচিত্র, একটি নতুন পতাকার জন্য আত্ম-অনুপ্রেরণায় আমিও বেরিয়ে পড়ি অজানা, অচেনা পথে, জানা ছিলনা সে পথের শেষ কোথায়। তবে লক্ষ্য ছিল অভিষ্ট। অস্ত্র হাতে জড়িয়ে পড়ি মুক্তিযুদ্ধে। আমি যোগ দিয়েছিলাম ডেল্টা কোম্পানিতে। ক্যাপ্টেন এটিএম হালিম চৌধুরী ছিলেন আমাদের এরিয়া কমান্ডার। যুদ্ধ চলাকালীন অনেকগুলো সম্মুখ যুদ্ধে আমি অংশ গ্রহণ করি। তার মধ্যে তিনটি ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রথমটি ছিল ধামরাইয়ের বৈন্যা, কুশুরা, আমছিমুর, পানকাত্তা, টোপেরবাড়ি, ডালিপাড়া, চানখালী, কালামপুর হয়ে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক। টাঙ্গাইল থেকে ধাওয়া খেয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের একটি বৃহত্ দল ঢাকার দিকে ছুটে আসছিল। ওই সময় মুক্তিযোদ্ধা হেকমত মাষ্টার, মিছির আলী (গামা), লুত্ফর রহমান, লাল মিয়া সহ আমি আমছিমুর এলাকায় অবস্থান করছিলাম। হানাদারদের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের লক্ষ্য করে আমি প্রথম ফায়ার করি। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। এক সময় উভয় পক্ষ খুব কাছাকাছি মুখোমুখি হয়ে পড়ি। কিন্তু পালাবার কোন পথ ছিল না। ভেবেছিলাম মৃত্যু অনিবার্য। আমি এবং আমার বন্ধু লুত্ফর রহমান হঠাত্ সটকে পড়ে নিরাপদ জায়গায় পজিশন নিতে পারলেও মিছির আলী গামাসহ আরও দুই জন নিরাপদে পজিশন নিতে পারেনি। ওরা পড়ে যায় ধানী জমিতে। ওদের পালানোর কোন পথ ছিলনা। ওদের বাঁচানোরও কোন পথ ছিলনা। নিমিষের মধ্যেই আমাদের চোখের সামনে আমার বাল্যবন্ধু ও সহকর্মী মিছির আলী গামাসহ আরও দুই সহকর্মী হানাদার বাহিনীর বুলেটের নির্মম আঘাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তবে আমাদের পজিশন অনুকূলে থাকায় আমরা তাদের ঘায়েল করতে সমর্থ হই এবং ঢাকা আরিচা রোড পর্যন্ত তারা করতে সক্ষম হই। এ সময় ইপিআর কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন।

পরের দিনই আর একটি ভয়াবহ যুদ্ধ হয় বালিয়া গ্রামে। বালিয়ার একটি মসজিদে পাক আর্মীদের অবস্থানের খবর পেয়ে সে খানে গিয়ে তাদের আক্রমণ করি। তারাও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। নিহত হয় কয়েক জন পাক আর্মি। বাকীরা আত্ম সমর্পন করে। আমরা তাদের নিয়ে এসে ঢাকা বিনিময় ক্যাম্পে প্রেরণ করি। তার দু'দিন পরেই সকালে ফজর নামাজে শেষে বেতারে বিজয়ের খবর পাই। সাথে সাথে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে বিজয়ের আনন্দ। মুক্তিযুদ্ধের এমন আরও অনেক স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা অন্তরে সাজানো রয়েছে। অস্ত্র হাতে জীবন বাজি রেখে বহুবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে অনেক স্বজন আর সহকর্মীদের হারিয়ে নয় মাস মুক্তি যুদ্ধের পর দেখেছি বিজয়ের মুখ, হাতে পেয়েছি একটি লাল সবুজ পতাকা। মনে হয়েছিল অর্জিত বিজয় আমাদের সবরকমের ত্যাগ-তিতিক্ষা, অগণিত শহীদের রক্তকে স্বার্থক করে দিয়েছে। এদেশের জন্য, এদেশের প্রতিটি মানুষের জন্য অন্তরে অগাধ ভালবাসা ছিল বলেই স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। আজও সে ভালবাসা আর দেশাত্ববোধের বিন্দুমাত্র কমতি নেই। তাই তো দেশে যখন মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয় তখন সত্যি খুব কষ্ট হয়। আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা, অর্জিত বিজয়কে গর্বের সাথে টিকিয়ে রাখার আহবান ও অনুরোধ থাকছে বর্তমান ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কাছে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, 'সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে সঙ্কটের সমাধান হয়নি।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
3 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ২১
ফজর৪:৫৮
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :