The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৭ পৌষ ১৪২০, ২৭ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা | ৩ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ভাঙ্গনে বদলে যাচ্ছে গলাচিপা ও রাঙ্গাবালির মানচিত্র

গলাচিপা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

'আমারে কিলইগ্যা বড়মেয়া কন। আমি তো এহন আর বড়মেয়া নাই, আমি এহন পথের ভিখারী। আপনারা এ নামে ডাকলে কেউ আর ভিক্ষা দিতেও চাইবে না।" এ কথাগুলো বলছিলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের বাসিন্দা তাজেম আলী সরদার ওরফে বড়মিয়া। দক্ষিণ পানপট্টি গ্রামের অবস্থাপন্ন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিল বলে তার নাম রাখা হয়েছিল বড়মিয়া। পুরো পরিবারের প্রায় একশ একর ফসলি জমি ছিল। বুড়া গৌরাঙ্গ নদী সবকিছু কেড়ে নিলো। এখন তার বসবাস বেড়িবাঁধে।

বর্ষা মৌসুম শেষ হলেও নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা কমছে না। অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে বদলে যাচ্ছে গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার মানচিত্র। ভাঙনের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে বাড়িঘর, ফসলি জমি, পুকুর, বাগান, বাজার, স্কুল, রাস্তাঘাট, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ।। উদ্বাস্তু হয়ে হাজার হাজার পরিবার এখন বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে ভাসমান অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ভাঙ্গনকবলিত এলাকায একাধিকবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মিত হলেও নদী শাসনের কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

উপকূলীয় গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলা বুড়াগৌরাঙ্গ, আগুনমুখা, রামনাবাদ, গলাচিপা, দারচিরা, ডিক্রিসহ বেশ কয়েকটি নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত। মূল ভূখণ্ড ভেঙ্গে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন চরের। এক সময়ের বিত্তবান পরিবারগুলো নদী ভাঙ্গনে সব হারিয়ে এখন উদ্বাস্তু। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সূত্র থেকে জানা গেছে, গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় প্রায় ৫ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত।

গত কয়েক বছরে গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি ইউনিয়নের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে পানপট্টি ইউনিয়ন বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর অব্যাহত ভাঙনে আকারে অর্ধেক হয়ে গেছে। দক্ষিণ পানপট্টির প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়ি-ঘর, জায়গা-জমি সবকিছু হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছে দুই সহাস্রাধিক মানুষ। বড় বাইশদিয়া ইউনিয়নের ফেলাবুনিয়া গ্রামের প্রায় ৩ কিলোমিটার আয়তনের এলাকা ডিক্রি নদী পুরোপুরি গ্রাস করে নিয়েছে। এখানে সরকারি খাদ্য গুদামের দু'টি পাকাভবন, বারো নম্বর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাইক্লোন শেল্টারসহ তক্তাবুনিয়া, ছাতিয়ানপাড়া, কাটাখালী, তুলাতলি ও গাববুনিয়া গ্রামের অধিকাংশ পুকুর ও বাড়ি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ডিক্রি নদীর ভাঙ্গনে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের অধিকাংশ এলাকা ভেঙ্গে গেছে। চর মোন্তাজের দক্ষিণ ও পশ্চিমে ব্যাপক এলাকা ভেঙ্গে নদীগর্ভে চলে গেছে। দক্ষিণ চর মোন্তাজ ও পূর্ব বেস্টিনের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে চর মোন্তাজ লঞ্চঘাটের স্থান বার বার পরিবর্তন করতে হচ্ছে।

ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ গ্রামটির অর্ধেক নদীগর্ভে চলে গেছে। চিকনিকান্দি ইউনিয়নে সুতাবাড়িয়া নদীর ভাঙ্গনে দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী মন্দিরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে। গত দুই দশকে নদীভাঙনে গলাচিপা উপজেলার ৮ হাজার পরিবারের ৫৫ হাজার মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত ৫৫ /৩ নম্বর পোল্ডারের প্রায় ৫ কিলোমিটার, চরমোন্তাজের ৫৫/৪ নম্বর পোল্ডারে ৩ কিলোমিটার এবং ৫৫/১ নম্বর পোল্ডারের ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নদীতে ভেঙ্গে গেছে। বদনাতলী লঞ্চঘাট সংলগ্ন বেড়িবাঁধের পাকা রাস্তা ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এলাকাবাসী জানান, ভাঙ্গনকবলিত এলাকায় বার বার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করে নদী শাসনের ব্যবস্থা করলে ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে জমি-জমা সহায়-সম্পদ রক্ষা করা যেতে পারে। এছাড়া নদী ভাঙ্গনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে এবং যেখানে-সেখানে ডুবো চর জাগছে। পরিবর্তন হচ্ছে নৌ-পথ। এতে নদীপথে প্রায়ই লঞ্চসহ অন্যান্য নৌযান আটকে পড়ছে ডুবোচরে এবং ঘটছে দুর্ঘটনা।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'বিরোধীদল সরকারের বিরুদ্ধে নয়, জনগণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
7 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মার্চ - ৩১
ফজর৪:৩৫
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৭
এশা৭:৩০
সূর্যোদয় - ৫:৫২সূর্যাস্ত - ০৬:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :