The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২০ পৌষ ১৪১৯, ২০ সফর ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারও জনসেবার সুযোগ দিন : প্রধানমন্ত্রী | পদ্মা দুর্নীতি: রিমান্ড শেষে মোশারফ-ফেরদৌস কারাগারে | ভারতের মাটিতে পাকিস্তানের সিরিজ জয় | সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের কাজ প্রায় শেষের পথে: সিইসি | ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন করতে আইনগত বাধা নেই: সিইসি | স্কাইপে কথোপকথন:জিয়াউদ্দিনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ট্রাইব্যুনাল | জামায়াত নেতা তাহের ৭ দিনের রিমান্ডে | আরো দুই মামলায় মির্জা ফখরুলকে রিমান্ডের আবেদন | কুমারখালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্র নিহত | মার্কিন ড্রোন হামলায় পাক জঙ্গি নেতা নিহত | হাসপাতাল ছেড়েছেন হিলারি | সাতক্ষীরায় বাস খাদে, নিহত ১ | কুষ্টিয়ায় ডাকাত সন্দেহে গণপ্রহার, নিহত ২ | সুইজারল্যান্ডে বন্দুকধারীর গুলিতে ৩ জন নিহত

[ রা জ নী তি ]

নতুন বছরেও রাজনীতিতে অশনিসংকেত

ড. নইম সুলতান

বছর শেষ হয়ে নতুন বছর আসবে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। শেষ হয়ে যাওয়া বছরটিতে যাই ঘটুক না কেন, মানুষ নতুন বছরে প্রত্যাশা করে ভালো কিছু ঘটবে। পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষের প্রত্যাশা থাকে শুভ কিছুর। সেই প্রত্যাশা নিয়েই আমরা বছরের শুরুতে সবাইকে শুভ নববর্ষ জানিয়ে বছর শুরু করি। মানুষের এই প্রত্যাশা যেমন সত্য, তেমনি সত্য এটাও যে, বিগত বছরের রেশ মানুষকে টানতে হয়। আর এই রেশ যদি সংকটপূর্ণ হয়, তবে তা কাটিয়ে উঠে শুভ কিছুর আশা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ২০১২ সালের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া কঠিন হবে না যে, এই রাজনৈতিক ঘটনাবলীর রেশ সহজেই কাটিয়ে উঠে শুভ কিছু আশা করা যায়। এই ঘটনাবলী বরং অশনিসংকেত দিচ্ছে নতুন বছরের জন্য। বাংলাদেশের অতীত রাজনৈতিক ঘটনাবলীর অভিজ্ঞতা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, বিগত বছরের ঘটনা নতুন বছরকে অশুভ করে দিয়েছে। আমরা ২০০৬ সালের ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখবো যে, উক্ত ঘটনাবলী অশুভ করে দিয়েছিল ২০০৭ সাল। এরকম অনেক উদাহরণ আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে পাওয়া যাবে।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ২০১২ সাল ছিল গুম, হত্যা, সংঘাত, বিভিন্ন কেলেঙ্কারি ও অস্থিরতায় পরিপূর্ণ। রাজনীতিবিদদের অসহিষ্ণুতা, লাগামহীন বক্তব্য, সরকারের দমননীতি এবং বিরোধী দলের সংসদ বর্জন আর হরতালে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে। সরকার এই ধূম্রজালকে আরও ঘনীভূত করেছে। বিশেষ করে সরকারের বিভিন্ন মহলের দুর্নীতি, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি, সরকার দলীয় সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের অপকর্ম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই অবস্থা থেকে নতুন বছরে সরকার বেরিয়ে আসতে পারবে বলে এখনও মনে হচ্ছে না। দূরত্ব তৈরি হয়েছে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে। এই দূরত্ব কমার কোন সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। এই দূরত্ব কমিয়ে আনতে না পারলে আমাদের রাজনৈতিক জীবনে অশুভ কোন ঘটনা নতুন বছরে ঘটলে বিস্মিত হবার মতো কিছু থাকবে না। যে বিষয়গুলো ২০১২ সালে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করেছে সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যেতে পারে যে, সামনে কী ঘটতে পারে।

২০১২ সালে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে ইলিয়াস আলী ও তার ড্রাইভারের গুম হওয়ার ঘটনা। বিএনপি ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার জন্য সরকারকে দায়ী করে। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয় যে, সরকারের নির্দেশে নিরাপত্তা বাহিনী ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে। সরকার বিএনপির এই বক্তব্য অস্বীকার করে। তবে সরকারের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের মতো ঘটনা ঘটানোর অনেক অভিযোগ রয়েছে। সরকার এই ঘটনায় জড়িত না থাকলেও ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেবার দাবিতে বিরোধী দল হরতাল আহ্বান করে এবং সহিংস ঘটনা ঘটে। হরতালকে কেন্দ্র করে মামলা দায়ের করা হয় বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্যের অপর ইস্যুটি হচ্ছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্তির বিরুদ্ধে বিরোধী দলের আন্দোলন (এই সংশোধনী ২০১২ সালের পূর্বের ঘটনা)। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সংসদে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ আদালতের রায়ের অজুহাত দাঁড় করালেও পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণার পূর্বেই বাতিল প্রক্রিয়া সংসদে সমাপ্ত করা হয়। সংক্ষিপ্ত রায়ে আদালত আরও দুইবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে বলে মন্তব্য করে। এই বিষয়টিকে আমলে না নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হয়। কাজেই বিএনপি ২০১২ সালেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে। অপরপক্ষে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত সরকার বিষয়টিতে অনড়। এই বিষয়টি বহাল থাকলে দলীয় সরকারের অধীনে আগামী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অথচ প্রধান বিরোধী দল ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না এবং নির্বাচন প্রতিহত করবে।

২০১২ সালে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করেছে সরকারের দমননীতি। বিরোধী দলের আন্দোলন ঠেকাতে সরকার বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দায়ের করে তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানো এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বোমা নিক্ষেপের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে হরতালের সময় ময়লার গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করে বর্তমানে তাকে জেলহাজতে রাখা হয়েছে। এই মামলার অভিযোগকারী ড্রাইভার নাকি বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন। এই ড্রাইভার ঘটনার দিন ছুটিতে ছিলেন বলে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায় এবং তার স্থলে অপর এক ড্রাইভারকে দিয়ে গাড়ি চালানো হয়েছিল। পত্রিকান্তরে আরও জানা যায় যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার প্রধান সাক্ষীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ সমস্ত মামলা হাস্যকর ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

২০১২ সালে অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে রয়েছে সরকারের রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ঘুষ কেলেঙ্কারি। এই কারণে তাকে রেল মন্ত্রণালয় ছাড়তে হয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পদ ছাড়তে হয়েছে যোগাযোগমন্ত্রী জনাব আবুল হোসেনকে। বিশ্ব ব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ রেখেছে। সোনালী ব্যাংকের অর্থ কেলেঙ্কারি, ডেসটিনির অর্থ পাচারের ঘটনা, হরতাল চলাকালে সরকার সমর্থিত ক্যাডারদের হাতে বিশ্বজিত্ হত্যা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় উপাচার্যদের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে সামপ্রতিক বিতর্ক, কক্সবাজারে সংখ্যালঘু বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের উপর হামলা, পুলিশের উপর মৌলবাদীদের আক্রমণ প্রতিহত করতে ব্যর্থতা, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে ব্যর্থতা, নবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. ইউনূসকে নিয়ে বিতর্ক সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রচণ্ডভাবে বিনষ্ট করেছে বিগত ২০১২ সালে। সরকার তার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করে কি উক্ত সংকটগুলো থেকে বের হতে পারবে? যদি পারে তবে ২০১৩ সাল হবে আমাদের জন্য শুভ। একই সাথে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আগ্রহী হতে হবে বিরোধী দলকেও। শুধু সংসদ বর্জন আর হরতাল করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সমস্যার সমাধানের জন্য প্রয়োজন সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা। ২০১২ সালের ঘটনাবলী থেকে মনে হচ্ছে যে, সরকারের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার যেমন কঠিন ব্যাপার, তেমনি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যেও মতৈক্য সৃষ্টি হওয়া কঠিন। যদি তাই হয়, তবে নিশ্চিত করে বলা যায় যে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন হবে না, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, বিরোধী দল উক্ত নির্বাচন বয়কট করে প্রতিহত করার চেষ্টা করবে, প্রধান বিরোধী দল ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না। সৃষ্টি হবে সংঘাতময় পরিস্থিতি। ২০১২ সালের রাজনৈতিক ঘটনাবলী ২০১৩ সালে আমাদের জন্য শুভ না হয়ে অশনিসংকেত হলে আশ্চর্য হবার মতো কিছু নাই। কেননা, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি না।

লেখক :অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ,

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করতে বলেছেন খালেদা জিয়া। আপনি তার এ বক্তব্য সমর্থন করেন?
8 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ২৫
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :