The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২০ পৌষ ১৪১৯, ২০ সফর ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারও জনসেবার সুযোগ দিন : প্রধানমন্ত্রী | পদ্মা দুর্নীতি: রিমান্ড শেষে মোশারফ-ফেরদৌস কারাগারে | ভারতের মাটিতে পাকিস্তানের সিরিজ জয় | সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের কাজ প্রায় শেষের পথে: সিইসি | ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন করতে আইনগত বাধা নেই: সিইসি | স্কাইপে কথোপকথন:জিয়াউদ্দিনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ট্রাইব্যুনাল | জামায়াত নেতা তাহের ৭ দিনের রিমান্ডে | আরো দুই মামলায় মির্জা ফখরুলকে রিমান্ডের আবেদন | কুমারখালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্র নিহত | মার্কিন ড্রোন হামলায় পাক জঙ্গি নেতা নিহত | হাসপাতাল ছেড়েছেন হিলারি | সাতক্ষীরায় বাস খাদে, নিহত ১ | কুষ্টিয়ায় ডাকাত সন্দেহে গণপ্রহার, নিহত ২ | সুইজারল্যান্ডে বন্দুকধারীর গুলিতে ৩ জন নিহত

আগামী নির্বাচন নিয়ে নানা ভাবনা

সুধীর সাহা

বাংলাদেশে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের পূর্বে এদেশের মানুষ বেশ অনেকটা অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যায়। পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পর শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা বদলের পালাটি সুন্দরভাবে হয়ে ওঠে না। নির্বাচনের পূর্বে শুরু হয়ে যায় নানারকম অশুভ তত্পরতা। ক্ষমতায় বসা দলটি ছলে-বলে-কৌশলে ক্ষমতাটি ধরে রাখার চেষ্টায় মেতে ওঠে এবং গণতান্ত্রিক রাস্তায় অনিশ্চয়তার আঁচ লক্ষ্য করে অগণতান্ত্রিক উপায়ে টিকে থাকার পথ খুঁজে। অন্যদিকে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি যে কোন পথে ক্ষমতার আস্বাদ লাভে মরিয়া হয়ে ওঠে। ভোটের মাধ্যমেই হোক অথবা অন্য কোন রাস্তায়ই হোক, ক্ষমতায় তাদের যেতেই হবে—এমন এক অশান্ত প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। মূলত এই অশান্ত প্রতিযোগিতাটি গত কয়েক নির্বাচন ধরে সীমাবদ্ধ আছে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মধ্যে। এই দু'টি দল ক্ষমতায় আসার পর দলবাজিতে মেতে ওঠে। সরকারি সকল স্তরে তাদের নিজেদের দলের লোকদের খুঁজে বেড়ায় এবং বড় বড় পদ দিয়ে খুশি রাখে। পেশাজীবী সংগঠন ও অফিসগুলোতেও সরকার নিজ দলের লোক দিয়ে ভরে ফেলে। অন্য দলের বিশ্বাসী লোকদের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে রাখে। বিএনপির রাজত্বকালেও আমরা ঠিক এমনটাই দেখেছি এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ শাসনামলেও ঠিক তাই দেখছি। দলীয়করণের এই মহাপ্লাবনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্র। রাষ্ট্রীয় কাঠামো বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে দলীয়করণের কারণে। সবচেয়ে দুঃখজনক দিক হলো আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিতে দলীয় পেশাজীবী হিসাবে চি?িহ্নত অনেক যোগ্য ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও সরকারি ও রাষ্ট্রীয় পদগুলোতে এই দল দু'টো কেন যেন সেসব যোগ্য দলীয় লোক নিয়োগ না দিয়ে বরং তাদের চাটুকারিতায় পটিয়সী কিছু অযোগ্য দলীয় লোকদের বড় বড় পজিশনে নিয়োগ দিয়ে বসে। তাই সর্বত্র দেখা যায় অযোগ্য নেতৃত্ব। আর তাই তো হওয়া স্বাভাবিক। সরকার তো বিবেচনা করে তার দলীয় দৃষ্টিভঙ্গী, যোগ্যতা সেখানে গৌণ হয়ে পড়ে। জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এই দলীয়করণ বিষয়টি আবার নতুন করে জাতীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় আরেকবার। কেননা সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত যেখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা, সেখানে আমাদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি এই দুই শিবিরে বিভক্ত। তাই তারা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারছে না। আর মাত্র একবছর অবশিষ্ট আছে সামনের জাতীয় নির্বাচনের। বরাবরের মত এই নির্বাচনের জন্যও দু'দলের অজুহাত দাঁড় হয়ে আছে। একদল নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে অনড় এবং অন্যদল অনির্বাচিত সরকার ব্যবস্থায় না ফেরার শক্ত অবস্থানে অনড়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন চায় না। সরকার কোন অবস্থাতেই অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার মেনে নেবে না। তাদের পক্ষে অজুহাত হিসাবে এসেছে বর্তমান সংবিধানের বিধানটি। হাইকোর্টের রায়ের জোরে এবং সংক্ষিপ্ত রায় প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংবিধান পরিবর্তন করে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান থেকে বাদ দিয়ে রেখেছে আগেই। এখন তাদের দাবি- নির্বাচিত সরকার এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসাবে কে থাকবেন তাও স্পষ্ট করেছে মহাজোট সরকার। অর্থাত্ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই থাকবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্য অনেকবারই বর্তমান সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হবে এমনও বলেছেন। অর্থাত্ বেশ স্পষ্টভাবেই বুঝা যাচ্ছে, সরকার চাচ্ছে হয় অন্তর্বর্তী সরকার অথবা বর্তমান সরকার এই দু'য়ের যে কোন একটির অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে।

অন্যদিকে বিএনপির নির্বাচন অবস্থান বরাবরের মতই উল্টো পথে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে না হলে তারা আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। শুধু সেটুকুই নয়, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ছাড়া কোন নির্বাচন তারা হতে দেবে না। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে ইতোমধ্যে বিএনপি বেশ কয়েকবার হরতাল করেছে, গণমিছিল, গণঅনশন এবং রোডমার্চ করেছে।

বড় দুই দলের দুই নেত্রীই সম্ভবত এই সত্যটি ঠিক উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যদি তারা তা বুঝতেন, তবে এটুকু বুঝতেন যে তাদের কথাবার্তায় এবং কাজকর্মে প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের আভাস পাওয়া যাচ্ছে এবং তার ফলে সামনের দিনে সংঘাতের পদধ্বনি পেয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দেশের সাধারণ জনগণ ভীত হয়ে পড়েছে। তাদের অন্তত এটুকু বুঝা উচিত যে, তারা দু'জন শুধু ব্যক্তি মানুষই নন, তারা একজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যজন মাননীয় বিরোধী নেত্রী। সংবিধান অনুযায়ী তারা এদেশের জনগণের নিকট দায়বদ্ধ। সুতরাং তারা এমন কোন কাজ করতে পারেন না যে কাজে দেশের শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে। শান্তিপূর্ণ অবস্থায় ক্ষমতার পালাবদলের স্বার্থে তাদের দু'জনকে যে কোন ত্যাগ স্বীকার করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তাদের আছে। সেখানে দু'জন দু'জনের প্রতি অশোভন বক্তব্য পেশের অথবা পাশাপাশি দেখা হলেও কথা না বলার অধিকার কিন্তু তাদের নেই। কেননা ব্যক্তিবিশেষের থেকেও তাদের সাংবিধানিক পরিচয়টি রাষ্ট্রের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য। যেখানে জড়িয়ে আছে সারাদেশের ভাগ্য, সেই নির্বাচন নিয়ে খেয়ালের বশে তারা দু'জন যা কিছু করবেন বা বলবেন এমন অরাজনৈতিক স্বাধীনতা কিন্তু তারা ভোগ করেন না। এই সত্যটুকু যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তারা যদি বুঝতে পারেন তবে এদেশের, এ রাষ্ট্রের এবং তাদের উভয়ের মঙ্গল নিহিত আছে। জনপ্রিয়তার দোহাই দিচ্ছেন দু'জনই। দু'জনই দাবি করছেন তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করবে সামনের নির্বাচনে। তবে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গ্রহণে অথবা দলীয় অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা গ্রহণে অথবা বর্তমান সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের এত 'না' কেন? জনগণের উপর তাদের কি ভরসা নেই? তাই যদি থাকে তবে পদ্ধতির উপর নয় বরং আগামী নির্বাচনের ফলাফলের ভার তারা ছেড়ে দিতে পারে জনগণের উপরই।

উভয় দলকেই স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, বাংলাদেশের মিডিয়া কিন্তু এখন আর আগের জায়গায় নেই। এখন মিডিয়া অনেক শক্তিশালী এবং অনুসন্ধানী। মিডিয়াকে ফাঁকি দিয়ে নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে পাশ করার স্বপ্ন কিন্তু এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে সুশীল সমাজ, নাগরিক সমাজ এবং দেশের সাধারণ জনগণ কেউ কিন্তু আজ আর আগের জায়গায় নেই। সকলে এখন সোচ্চার এবং আগের থেকে অনেক বেশি সচেতন। যেনতেনভাবে লোক দেখানো নির্বাচন নিয়ে বিশ্ব সমাজের গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া কিন্তু আজকের দিনে প্রায় অসম্ভব। এই সত্যগুলো যদি আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সত্যিই বুঝতে পারে তবে আগামী নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে এত বাড়াবাড়ি কেন? তবে কি তারা জনগণকে ভয় পায়? তবে কি তারা জনগণের ভোট নয় বরং অন্য পথে ক্ষমতা চায়? তাদের এমন অবস্থানের কারণে ভয় হচ্ছে আগামী নির্বাচনটি সুস্থভাবে হবে তো? সঠিক প্রার্থী নির্বাচনে এদেশের ভোটাররা স্বাধীনভাবে সুযোগটি পাবে তো?

লেখক :সাবেক সেনা কর্মকর্তা

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করতে বলেছেন খালেদা জিয়া। আপনি তার এ বক্তব্য সমর্থন করেন?
5 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ২১
ফজর৪:৫৮
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :