The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২০ পৌষ ১৪১৯, ২০ সফর ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারও জনসেবার সুযোগ দিন : প্রধানমন্ত্রী | পদ্মা দুর্নীতি: রিমান্ড শেষে মোশারফ-ফেরদৌস কারাগারে | ভারতের মাটিতে পাকিস্তানের সিরিজ জয় | সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের কাজ প্রায় শেষের পথে: সিইসি | ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন করতে আইনগত বাধা নেই: সিইসি | স্কাইপে কথোপকথন:জিয়াউদ্দিনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ট্রাইব্যুনাল | জামায়াত নেতা তাহের ৭ দিনের রিমান্ডে | আরো দুই মামলায় মির্জা ফখরুলকে রিমান্ডের আবেদন | কুমারখালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্র নিহত | মার্কিন ড্রোন হামলায় পাক জঙ্গি নেতা নিহত | হাসপাতাল ছেড়েছেন হিলারি | সাতক্ষীরায় বাস খাদে, নিহত ১ | কুষ্টিয়ায় ডাকাত সন্দেহে গণপ্রহার, নিহত ২ | সুইজারল্যান্ডে বন্দুকধারীর গুলিতে ৩ জন নিহত

চলচ্চিত্র নির্মাণে

নতুন প্রজন্ম

বাঙালির বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে বাংলা চলচ্চিত্র, কারণ আমাদের জীবনের বাস্তবতা ও কল্পনা প্রতিফলিত হয় এই রুপালি পর্দায়। এ বছরে এই শিল্পটি এগিয়েছে অনেকটা ভালো-মন্দের মিশেল গতিতে। নতুনদের আগমনে এ বছরটি ছিল অনেক বেশি সরগরম, তাদের কাজে গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে আসার সুস্পষ্ট ইঙ্গিতও ছিল। তাই সাড়া জাগানো কয়েকজন তরুণ চলচ্চিত্র পরিচালকদের নিয়ে জমে উঠেছিল চলচ্চিত্র বিষয়ক এই আড্ডা। এ নিয়ে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু

ছবির ব্যবসা মন্দা, দর্শক প্রেক্ষাগৃহে যায় না—এমন অভিযোগে চলচ্চিত্র শিল্প যখন বিপর্যস্ত ঠিক তখনই নতুন পরিচালকদের হাত ধরে বাংলা চলচ্চিত্র শুরু করেছে নতুন যাত্রা। তাদের হাত ধরেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের ভিড় নতুন করে জমে উঠেছে। নানা প্রতিজ্ঞা আর উদ্যোগের পরও বিগত বছরগুলোতে বাংলা চলচ্চিত্রের দুরবস্থা অপরিবর্তিত ছিল। সেই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার প্রচেষ্টা নতুনদের হাত ধরে এখন অনেকটাই সফলতার মুখ দেখছে। নতুন এ প্রজন্মের কয়েকজন মেধাবী পরিচালককে নিয়ে আয়োজিত এক আড্ডায় উঠে এসেছে এ সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রের নানা বিষয়-আশয় ও তাদের চলচ্চিত্র নির্মাণের গল্প। এ আড্ডায় অংশ নিয়েছিলেন রেদওয়ান রনি, মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ, সামুরাই মারুফ, সরদার সানিয়াত হোসেন।

শুরুতেই 'চোরাবালি' খ্যাত পরিচালক রেদওয়ান রনির কাছে জানতে চেয়েছিলাম, প্রথম ছবি নির্মাণ ও তা মুক্তির পরের অনুভূতি সম্পর্কে। উত্তরে তিনি বলেন, 'প্রথম চলচ্চিত্রটি আমার কাছে নিজের সন্তানের মতো। অনেক যত্নে একটু একটু করে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে। একেবারে তুচ্ছ থেকে শুরু করে সবগুলো ক্ষেত্রেই সুতীক্ষ দৃষ্টি ছিল আমাদের। একটি পূর্ণাঙ্গ সফল চলচ্চিত্র নির্মাণই ছিল আমার প্রথম লক্ষ্য। ছবিটি ৩৫ এমএম প্রযুক্তিতে তৈরি করেছি। কিন্তু এখন যেহেতু কিছু প্রেক্ষাগৃহে ডিজিটাল প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে, তাই ওই সব প্রেক্ষাগৃহের জন্য ছবির প্রিন্ট ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সরবরাহ করা হয়েছে। ভারতের প্রসাদ ল্যাব এবং কারিগরি সহযোগিতায় নির্মিত একটি ব্যতিক্রমধর্মী ছবি এটি। আর ছবি মুক্তির দিনটায় অনেকটা প্রথম সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার মতো অনুভূতি ছিল আমার।' নিজের নির্মাণ ভাবনা নিয়ে রেদওয়ান রনি বললেন, 'আমি সব সময়ই দর্শকদের কথা মাথায় রেখে কাজ করি। আমার নির্মিত অধিকাংশ কাজেই আমি যাপিত জীবনের গল্পকে প্রাধান্য দিয়েছি। আমার চেনাজানা গল্প নিয়েই যে সব সময় কাজ করব তা নয়। আগামীতে ফ্যান্টাসিনির্ভর কিছু কাজ করার ইচ্ছা আমার রয়েছে। যেখানে বাস্তবতার কোনো চিহূ থাকবে না। আমি বরাবরই তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখে কাজ করি। আমাদের তরুণেরা যে গল্প বলতে চায়, ওদের স্বপ্ন ও কল্পনার সাথে আমার কাজ মিলে যায় বলেই হয়তো ওরা আমার নির্মাণকে আপন করে নিয়েছে।'

খ্যাতিমান নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর হাত ধরেই রাজের মিডিয়ায় পথচলা। ফারুকীর 'মেড ইন বাংলাদেশ' ছবিতে সহকারী হিসেবে কাজ করেন তিনি। রাজের ভাষ্যে, 'ফারুকী ভাইয়ের বিজ্ঞাপনগুলোতেই বেশি কাজ করেছি। সহকারী হিসেবে নাটকে কাজ করার সৌভাগ্য তেমন হয়নি।' সহকারী হিসেবে কাজ করতে করতে একসময় নিজের পরিচালনায় নাটক নির্মাণের স্বপ্ন দেখলেন রাজ। কিন্তু সাহস পাচ্ছিলেন না কীভাবে অনুমতি নিবেন গুরুর কাছ থেকে। নতুন বুদ্ধি আসে রাজের মাথায়, নাটক নির্মাণের স্বপ্নের কথা লিখে 'এসএমএস'করলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নম্বরে। তারপর নিজের মুঠোফোন বন্ করে রাখলেন। কিছুক্ষণ পর মুঠোফোন খুলে দেখলেন গুরুর আশীর্বাদ বাণী। ফারুকীর শর্ত মেনে 'পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি' নামের একটি নাটক নির্মাণের মধ্য দিয়েই যাত্রা শুরু হয় পরিচালক রাজ-এর। এ নাটকে অভিনয় করলেন মৌসুমী ও শাহেদ। নাটকটি প্রচারের পর অনেকের কাছ থেকে ভাল সাড়া পেলেও ফারুকীর কাছ থেকে তেমন কোন সাড়া পাননি। গুরুর প্রশংসা না পেয়ে আবার নবোদ্যমে কাজ শুরু করলেন রাজ। তার রচনা ও পরিচালনায়

'নেকলেস' নাটকটি এটিএন বাংলায় প্রচারের পর নওয়াজীশ আলী খান রাজের কাজের প্রশংসা করেন। এনটিভি'তে প্রচারিত 'চিরকুমার সংঘ' নাটকের জন্য দর্শকসাড়া রাজ এখনো পান। 'যোগফল শূন্য', 'নৈশভোজ', 'কিংকর্তব্যবিমূঢ়', ধারাবাহিক নাটক 'রঙ'সহ আরও কিছু নাটকে মাধ্যমে আলোচিত নির্মাতা হিসেবে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন। এ বছরে বাংলা চলচ্চিত্রে আরেকটি সফল নাম 'প্রজাপতি'। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের প্রথম চলচ্চিত্র 'প্রজাপতি' এরই মধ্যে উড়েছে সফলতার আকাশে। গত ঈদে মুক্তির পর টানা এক সপ্তাহ হাউজফুল। প্রথম চলচ্চিত্রের এমন সফলতার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন চলচ্চিত্রের ঘোষণা দিয়েছেন জনপ্রিয় এই তরুণ নির্মাতা। চলচ্চিত্রটির নাম রেখেছেন 'ছায়া-ছবি'। মূলত 'প্রজাপতি'র সাফল্যে প্রাপ্ত মানসিক শক্তি আর মানুষের ভালোবাসা নিয়ে আবারও নতুন নির্মাণযুদ্ধে নামার ঘোষণা করেছেন রাজ তার 'ছায়া-ছবি'র মধ্য দিয়ে। নতুনদের আন্তরিক আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরিয়ে আনতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন এমন প্রশ্নের উত্তরে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ বলেন, 'নতুনদের এই আগ্রহ ও উদ্যোগ অবশ্যই আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য ইতিবাচক একটি বিষয়। কেননা বিনোদন মানেই নতুন কিছু। নতুন প্রজন্ম বরাবরই অনেক বেশি আপডেট, তাই তাদের চিন্তাভাবনাও অনেক যুগোপযোগী। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, তরুণ নির্মাতাদের হাত ধরেই বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন দিনের সূচনা হবে।'

এক ক্ষিপ্র নারী চোরের সঙ্গে এক প্রতিভাবান বিজ্ঞানীর প্রেমকাহিনী নিয়ে গড়ে উঠছে ভিন্ন স্বাদের চলচ্চিত্র 'পারলে ঠেকা'। গেল বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যভাগে উত্তরায় একটি গানের চিত্রায়ণের মধ্য দিয়ে এ ছবির কাজ শুরু করেন পরিচালক সামুরাই মারুফ। ছবিতে কেবল ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয়ই নয়, প্লে-ব্যাকও করেছেন জয়া আহসান। এ ছাড়া পরিচালক জানান এই ছবির চিত্রায়ণেও থাকবে ভিন্নতার ছোঁয়া। অ্যাকশন আমেজ যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য এই ছবিতে হংকংয়ের অ্যাকশন স্ট্যান্টসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আয়োজন করছেন পরিচালক। এই চলচ্চিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা পরিচালক শেয়ার করলেন এভাবে, 'শুটিং মানেই খুবই মজা। এটা একটা লার্জ স্কেল মজা। দৌড়াদৌড়ি, হুড়াহুড়ি, হৈচৈ সব মিলিয়ে ছোটবেলার মতো মজা।'

মেধাবী পরিচালক সরদার সানিয়াত হোসেনের প্রথম চলচ্চিত্র 'অল্প অল্প প্রেমের গল্প'। বর্তমানে চলচ্চিত্রটি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এরই মাঝে চলচ্চিত্রটির গল্প এবং নির্মাণ ভাবনা মিডিয়ার মানুষের কাছে আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সম্পূর্ণ রোমান্টিক গল্পনির্ভর চলচ্চিত্র এটি। এ ধরনের গল্প নিয়ে এ দেশে এর আগে কোনো চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়নি বলে মনে করেন অনেকে। একই সঙ্গে এর অন্য একটি ব্যতিক্রমী দিক হচ্ছে এই প্রথম চলচ্চিত্রের মুখ্য দুটি চরিত্রে বিজ্ঞাপনের প্রতিষ্ঠিত দুই তারকাকে নিয়ে কাজ করা হলো। এরা হলেন নিলয় ও শখ। 'অল্প অল্প প্রেমের গল্প' চলচ্চিত্রটি রোমান্টিক, কমেডি ও অ্যাকশন ধাঁচের। চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এক কথায় বলতে গেলে চলচ্চিত্রটির কাজের অভিজ্ঞতা আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। এখনও মুক্তি পায়নি তবে চেষ্টা করছি খুব তাড়াতাড়ি মুক্তি দেওয়ার। আসলে নিজের কাজটিকে যত সহজ এবং সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায় ততই আনন্দ পাওয়া যায়।' তিনি আরও বলেন, 'আমাদের দেশে সিনেমা সাধারণ মানুষের বিনোদনের জায়গায়। অথচ সেই অর্থে আমরা কর্মাশিয়াল ছবি একদম বানাই না। ছবি বানাই অ্যাওয়ার্ড বা নিজেকে খুশি করার জন্য। আমি সাধারণ মানুষের জন্য এই ছবি বানাচ্ছি। প্রথম প্রজেক্টে আমি চেষ্টা করেছি এন্টারটেইনমেন্ট করতে। আশা করছি ছবিটি দর্শকদের ভালো লাগবে।'

এরই ফাঁকে বাংলা চলচ্চিত্রের প্রসারের ক্ষেত্রে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া প্রয়োজন সে প্রসঙ্গে সামুরাই মারুফ বলেন, 'শুধুমাত্র চলচ্চিত্র করার জন্যই না, এর মাধ্যমে মনে রাখার মতো চরিত্র তৈরি করতে হবে। উদ্দীপ্ত করার মতো কনসেপ্ট তৈরি করতে হবে। শুধুমাত্র ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে চলচ্চিত্রকে মাপা উচিত নয়। মনে রাখতে হবে, এটা একটি বিনোদনের মাধ্যম। আর এই বিনোদনের মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে সঠিক শিক্ষামূলক ম্যাসেজ পৌঁছে দিতে হবে। তাহলে আমার মনে হয় একটি চলচ্চিত্র তৈরির মূল সার্থকতা ফুটে উঠবে। আর নতুন-পুরোনোরা সবাই মিলে বিনোদনের এই জায়গাটিকে জয় করতে হবে। মানুষকে নতুন কিছু দেওয়ার সময় নিজের ঐতিহ্যের প্রতিও শ্রদ্ধা ও জ্ঞান থাকতে হবে। এভাবেই অভিজ্ঞতা এবং মেধার সংমিশ্রণে চলচ্চিত্রের কার্যকর নির্মাণ পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।'

এ প্রসঙ্গে রেদওয়ান রনি বলেন, 'দর্শক মূলত হলে যায় বিনোদনের জন্য, সে ক্ষেত্রে দর্শকদের চাহিদার ব্যাপারটি মাথায় রাখতে হবে সবার আগে। সিনেমা হলগুলোর পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। তবে আরও ভালো করা দরকার। এ ক্ষেত্রে সিনেমা হলগুলোকে ডিজিটালাইজ করা জরুরি। একই সাথে পোস্ট প্রোডাকশন ল্যাব আনতে হবে, ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল আরও ট্রান্সপারেন্ট করতে হবে।' রনির কথার রেশ টেনেই রাজ বলেন, 'চলচ্চিত্রের প্রসারে সবার প্রথম যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে তা হচ্ছে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সেন্সর নীতিমালার পরিবর্তন। সিনেমা হলের সংস্কার এবং শিল্পীদের আরও মনোযোগ। মূলত আমাদের এই শিল্পটা অনেক বেশি ঐতিহ্যসমৃদ্ধ, হয়তো কিছুটা সময় অন্ধকারে ছিল। তবে বর্তমানে তা আশার আলো সঞ্চার করছে। এ ক্ষেত্রে তরুণরাই আগামী দিনের চলচ্চিত্রের ধারক ও বাহক, তরুণদের দিকেই তাকিয়ে আছে গোটা চলচ্চিত্র। নতুন সম্ভাবনার দ্বার তরুণদের হাতেই উন্মোচিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।'

বাংলা চলচ্চিত্রে তরুণদের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে সরদার সানিয়াত হোসেন বলেন, 'আমাদের মতো তরুণ নির্মাতাদের আগমন ইন্ডাস্ট্রির জন্য অবশ্যই একটি পজেটিভ দিক। তারুণ্যের চিন্তার প্রতিফলনের মধ্যে দিয়ে ঘটে রুচির পরিবর্তন। আমাদের বরাবরই চেষ্টা থাকে একটু ভিন্নধর্মী চিন্তা করার, চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট পরিবর্তন করার জন্য অবশ্যই পুরোনোদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।'

আমাদের চলচ্চিত্র নিয়ে নতুন নির্মাতাদের এই আলোচনার মধ্য দিয়ে অনেকগুলো ভাবনা ও সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তাদের নিতুন চিন্তার উপর ভর করে আমাদের বাংলা চলচ্চিত্র এগিয়ে যাবে সামনের দিকে এমনটাই প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের এই আড্ডা শেষ হয়।

'আমার প্রথম চলচ্চিত্র 'চোরাবালি'। এখন তা প্রদর্শিত হচ্ছে। অনেক যত্নে গড়া এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমার প্রত্যাশা অনেক ছিল এবং সফলতা পেয়েছি তারচেয়েও বেশি। এই কনকনে শীতের ভেতরে দর্শক দলবেঁধে লাইন ধরে টিকেট কেটে হলে যাচ্ছে এটি আমার জন্য অনেক ভালো লাগার একটি ব্যাপার। হত্যা, সংঘর্ষ ও প্রেম—এই তিন মিলে শ্বাসরুদ্ধকর, অ্যাকশন, থ্রিলার চলচ্চিত্র 'চোরাবালি'। চলচ্চিত্রটির চিত্রপট গড়ে উঠেছে একজন গড ফাদার, একজন পোষা খুনি আর এক সাহসী সুন্দরী নারী সাংবাদিককে নিয়ে।' -রেদওয়ান রনি

'একটি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ছবি 'পারলে ঠেকা'। এই ছবিতে জয়া আহসানকে দেখা যাবে এক ক্ষিপ্র চোরের ভূমিকায়, যে অস্ত্র পরিচালনা এবং শারীরিক কসরতে হবে পারদর্শী। ছবিটা অ্যাকশন ঘরানার এবং সায়েন্স ফিকশনধর্মী। এতে ২০১২ সালের নারী চোরের বিপরীতে প্রধান চরিত্রে থাকবেন ৩০১৩ সালের এক প্রতিভাবান বিজ্ঞানী। তাদের মধ্যে গড়ে উঠবে সখ্যতা, হবে প্রেম, থাকবে পেশাগত দ্বন্দ্ব। ছবির চিত্রায়ণে ভিন্নতা রাখার কারণে ইতোমধ্যেই দশর্কদের সাড়া পাচ্ছি। আশা করি ছবিটি দর্শকদের ভিন্ন এক স্বাদ জোগাবে।' -সামুরাই মারুফ

'মূলত সিনেমা বানিয়েই শুধু সফলতা আশা করা ঠিক না। বেশি বেশি সিনেমা বানাতে হবে এবং এই সিনেমা হবে সবশ্রেণীর মানুষের জন্য—এই চিন্তাটাই একজন নতুন পরিচালকের জন্য জরুরি। 'অল্প অল্প প্রেমের গল্প' চলচ্চিত্রটি একটু ভিন্নধারার রোমান্টিক গল্প নিয়ে সবশ্রেণীর মানুষের জন্যই নির্মাণ করা। দর্শকদের নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টা থেকেই আমার এই চলচ্চিত্র ভাবনা। আশা করছি সবার ভালো লাগবে।' -সরদার সানিয়াত হোসেন

'আমার প্রথম চলচ্চিত্র 'প্রজাপতি'র মতো এবারও থাকছে বেশ কিছু চমক। 'ছায়া-ছবি'র চলচ্চিত্রের প্ল্যানিং আমার অনেক দিনের। শুধু অপেক্ষায় ছিলাম 'প্রজাপতি'র মুক্তি ও পাবলিক রিঅ্যাকশনের। মুক্তির এক সপ্তাহে বলাকা এবং সিনেপ্লেক্সে 'প্রজাপতি'র জন্য মানুষের যে ঢল দেখেছি, তাতে আমি উজ্জীবিত। শ্রোতা-দর্শক-ভক্তদের এমন সাড়া পাবো সেটা ভাবিনি। ফলে চলমান এই মানসিক শক্তি আর মানুষের ভালোবাসা নিয়ে আবারও নতুন যুদ্ধে নামার ঘোষণা দিয়েছি 'ছায়া-ছবি'র মধ্য দিয়ে। 'প্রজাপতি' হলো আমার চলচ্চিত্রে হাতেখড়ি। আর 'ছায়া-ছবি' হবে চিত্রনির্মাতা হিসেবে পায়ের নিচে একটা শক্ত ভিত করে নেওয়া।' -মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করতে বলেছেন খালেদা জিয়া। আপনি তার এ বক্তব্য সমর্থন করেন?
2 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ২২
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :