The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২২ পৌষ ১৪১৯, ২২ সফর ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ 'যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করবে' | নারী শিবির সন্দেহে আটক ৭ | তাজরীনের মালিককে গ্রেফতারের দাবি | রাজধানীতে ১২টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ | মালালাকে সম্মাননা জানাতে মার্কিন কংগ্রেসে বিল উত্থাপন | 'চুরি ও দুর্নীতির কারণেই বাড়াতে হয়েছে তেলের দাম' | দিল্লিতে গণধর্ষণ : ঘটনার বর্ণনা দিলেন মেয়েটির বন্ধু

নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না

০০০

নিয়ম রক্ষার নয়, চাই সত্যিকারের গণতন্ত্রের

নির্বাচন

গণমানুষের মুক্তি, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার, বাক স্বাধীনতা, রাষ্ট্রভাষা বাংলা, অর্থনৈতিক মুক্তি, আত্মমর্যাদা, স্বাধিকার, ইত্যাদি অর্জনের জন্য ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। লাখো শহিদের প্রাণ আর কোটি মানুষের ছোট-বড় বিভিন্ন আত্মত্যাগের ফসল হিসাবে অর্জিত হয়েছিল স্বাধীনতা। কিন্তু অত্যন্ত কষ্ট ও লজ্জার কথা স্বাধীনতার পর থেকেই রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যিনিই এসেছেন, তিনিই নিজেকে চিরস্থায়ী ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে ভেবেছেন, সমগ্র দেশটা নিজের তালুক ভেবেছেন। সেই যে শুরু, আজও চলছে সেই ধারা। গণতন্ত্রের লেবাসে চলছে একনায়কতান্ত্রিক, পরিবারতান্ত্রিক, ব্যক্তিতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা। সময়ের সাথে সাথে ক্ষমতার হাত বদল হয়, সংবিধান সংশোধিত হয়, নির্বাচন আসে, নির্বাচন যায়, কিন্তু গণমানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না। জাতীয় নির্বাচন মানেই ৫ বছরের জন্য শাসক শ্রেণি সর্বময় ক্ষমতা দেয়া, যাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য। নির্বাচনের আগে দলগুলো দীর্ঘ চমকপ্রদ মন ভোলানো ইশতেহার প্রদান করে, কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর তার বিন্দুমাত্র পূরণে তাদের উদ্যোগী হতে দেখা যায় না। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জনবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যায়। রাজনৈতিকভাবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিতার অনুশীলন না করলে ভোট, নির্বাচন, ব্যালট বা সংবিধান ও তন্ত্র-মন্ত্র কোন কিছুরই সঠিক প্রতিফলন হবে না। স্বাধীন দেশের পরাধীন মানুষের পরিচয় মুছতে হলে সুষ্ঠু ও কল্যাণমুখী রাজনৈতিক চর্চার কোন বিকল্প নেই। সাধারণ জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতিফলন না ঘটলে সেই নির্বাচন নিয়ে কোন আশা নেই দেশবাসীর। নিয়ম রক্ষার নির্বাচন আর চাই না। চাই সত্যিকারের গণতন্ত্রের নির্বাচন।

এ.এইচ.এম আরিফ হাসান (মারূফ)

তৃতীয় বর্ষ, ইসলামিক স্টাডিজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

০০০

চাই শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন

মাতৃভূমি বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। স্বাধীনতা অর্জনের পর আমাদের গণতন্ত্র নামক নিয়ামকটি বারবার দুর্বৃত্তের হাতে পড়েছে। বহু সংঘাত-রক্তপাতের মধ্য দিয়ে আবার পুন.প্রতিষ্ঠাও হয়েছে। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে মনে হয় আমাদের গণতন্ত্র এখনও অপরিপক্ব অবস্থায় আছে। গণতন্ত্রের প্রাণ হচ্ছে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন। নির্বাচন যত স্বচ্ছ হবে গণতন্ত্রের ভিত ততো মজবুত হবে। কিন্তু আমাদের দেশের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। দেশে এ পর্যন্ত যতগুলো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে বিজয়ী দল বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, আর পরাজিত দলের মতে, নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপি, স্থূল কারচুপিসহ নানাবিধ অভিযোগ আনেন। আমরা জানি, এই সংস্কৃতি দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, উন্নয়নের জন্য মোটেই শুভ নয়। এই সংস্কৃতি একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এই সংস্কতি দূর করতে হলে চাই শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা। সংবিধানের ১১৮নং অনুচ্ছেদ থেকে ১২৬নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত অর্থাত্ সপ্তমভাগে নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। তারপরও কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কমিশন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নয়। কমিশনার নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে দল ক্ষমতায় তথা সরকারে থাকে তারা হস্তক্ষেপ করেন, তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেন। আমার মতে, এই বিষয়টা আইন করে সমাধান করা সম্ভব নয়, এটা রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার ব্যাপার। শুভ বুদ্ধির উদয় না হলে আইনের সুফল পাওয়া কষ্টসাধ্য । রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই- আপনারা দয়া করে নির্বাচন কমিশনের উপর কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবেন না। আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই, কোনো প্রকার সংঘাত চাই না। দেশে অনেক রাজনৈতিক সমস্যা বিদ্যমান, পরস্পরকে দোষারোপ না করে আলোচনায় বসুন । যদি সত্যিকারে মানুষের জন্য রাজনীতি করে থাকেন তাহলে রেষারেষি বন্ধ করুন। আলোচনার টেবিলে বসে সকল সমস্যার সমাধান করুন, আমরা রাজপথে সংঘাত আর প্রাণহানি দেখতে চাই না। নিজেরা নিজেরা সংঘাতে লিপ্ত হলে মাঝখানে তৃতীয় কোনো শক্তির আগমনের বার্তাই বহন করে। আমরা আর পিছিয়ে যেতে চাই না, গণতন্ত্রের বাধাহীন অগ্রযাত্রা চাই। তাই সরকার ও বিরোধী দল সবার প্রতি অনুরোধ, পরস্পরের প্রতি আস্থা এনে, হাতে হাত রেখে সহিংসতা পরিহার করে, ক্ষমতার লোভ ত্যাগ করে, সকল সমস্যার সমাধান করে নির্বাচন কমিশনের হাতকে শক্তিশালী ও মজবুত করুন। নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী হলে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে মনে করি।

মোল্যা শিহাব উদ্দিন

পালি ও বুদ্ধিস্ট স্টাডিস বিভাগ, মার্স্টাস প্রথম সেমিস্টার

স্যার, এ, এফ রহমান হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

০০০

রাজনৈতিক সমঝোতা

প্রয়োজন

বর্তমান মহাজোট সরকারের চার বছরের মাথায় আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি । সংঘাতমুখী হয়ে উঠছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন । গত বছর ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের ডাকা দেশব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রলীগের গুণ্ডাবাহিনীর হাতে পুরান ঢাকার দর্জি ব্যবসায়ী বিশ্বজিত্ হত্যা, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস ধরে জামায়াত-শিবিরের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, ইসলামি ছাত্রী সংস্থার ২০ নারী সদস্যকে গ্রেফতার, সর্বশেষ সম্প্রতি রংপুর সিটি নির্বাচনোত্তর পরাজিত প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যকার সংঘর্ষে ১জন নিহত হওয়া, পরস্পর কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি এবং সাপ আখ্যায়িত করা এবং সংসদ বর্জন ইত্যাদি সংঘাতমুখী অসুস্থ রাজনীতির পূর্বাভাস। এই সংঘাতমুখী হিংসাত্মক রাজনীতি সত্যিকার অর্থে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ও আগামী নির্বাচনকে বিঘ্নিত করে তুলছে । সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, "বর্তমান সংকট সমাধানে আমরা বিরোধী দলসহ সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনায় বসবো।" এখনই ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলসহ সকল রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা, প্রয়োজন রাজনৈতিক সমঝোতা সৃষ্টি করা । সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতা সৃষ্টি করে আগামী নির্বাচনকে নির্দলীয়, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে। এজন্য সরকারের উচিত অবিলম্বে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের বিল সংসদে উপস্থাপন করা । তাহলেই অর্থবহ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে । আর না হলে দেশে যে সংঘাত ও সহিংস কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হবে যার পরিণতিতে সামরিক বাহিনী রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নিতে পারে । তাই আগামী নির্বাচনকে ঘিরে দুই দলকেই জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে ।

মো. ইয়ামিন খান

শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ,সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর

০০০

বেহাল দশা ও অনিশ্চয়তার

পথে নির্বাচন

নিবার্চনের প্রহসনে গণতন্ত্রকে বলি দেয়ার জন্য সরকার জনগণকে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে ফর্মূলা প্রস্তাবকারীকে সরকার প্রধান ফফর দালাল মনে করে। কিন্তু জনগন একমত য়ে, তিনি ৯০% সময় ধানভনতে শিবের গীত গাইতে ভালবাসেন । অপর দল তত্ত্বআবধায়ক ছাড়া নির্বাচনে য়াবেই না । একদিকে রাজনীতিবিদদের নাজেহাল ,রিমান্ড , নির্যাতন অন্যদিকে জনগনকে নির্বাচন নিয়ে পুতুল খেলায় মেতে উঠেছে সরকার । তাদের কলঙ্ক রাজনীতি দেশ ও জাতিকে বিশ্বের দ্বারে অপমানিত অপদস্ত করছে এদিকে তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই । রাজনীতি খেলা য়তই খেলুন গোল পোষ্ট হচ্ছে নির্বাচন । র্নিবাচন ছাড়া সকল রাজনীতিবিদ পঙ্গু। সুতরাং সত্তর দশকের ইতিহাস স্মরণ রাখুন । দল রক্ষার্থে সমঝোতার পথে পা না বাড়ালে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে। দেশ ও জাতি স্বস্তির ধারা খুঁজে না পেলে দুদক চেয়ারম্যানের কথায় আমল করবে অর্থাত্ "কোন দুর্নীতিবাজকে জনগণ যেন নির্বাচন না করে "। পরিশেষে নতুন দলের উত্থান হবে এবং নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার স্থান পাবে না বর্তমান সরকার । ইতিহাসকে সামনে রেখে দেশ ও জাতির শান্তির কথা ভাবা উচিত পরস্পর ভেদাভেদ ভুলে সমঝোতার আলোচনায় বসা উচিত নইলে নৌমন্ত্রীর উপহারটি জনগণ সংঘাতময় রাজনীতির জন্য প্রস্তুত করে রেখেছে। নির্বাচন নিয়ে সংঘাতময় রাজনীতি নয় সুস্থ রাজনীতিই জনগণের কাম্য । বেহাল দশা ও অনিশ্চয়তার পথ থেকে নির্বাচনকে স্বস্তির পথে দেখতে চায় জনগণ ।

এ এইচ এম আরিফ হাসান (মারূফ)

ইসলামিক স্টাডিজ (৩য় বর্ষ)

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
এবার একুশে বইমেলায় কোন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন স্টল দিতে পারবে না। বাংলা একাডেমীর এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন?
7 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ২১
ফজর৪:৩১
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৯
এশা৭:১২
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :