The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২২ পৌষ ১৪১৯, ২২ সফর ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ 'যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করবে' | নারী শিবির সন্দেহে আটক ৭ | তাজরীনের মালিককে গ্রেফতারের দাবি | রাজধানীতে ১২টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ | মালালাকে সম্মাননা জানাতে মার্কিন কংগ্রেসে বিল উত্থাপন | 'চুরি ও দুর্নীতির কারণেই বাড়াতে হয়েছে তেলের দাম' | দিল্লিতে গণধর্ষণ : ঘটনার বর্ণনা দিলেন মেয়েটির বন্ধু

অস্ত্রোপচারের জন্য নিজ প্রস্তুতি

অধ্যাপক ডা: শুভাগত চৌধুরী, পরিচালক, ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস, বারডেম, ঢাকা

সার্জারি হবে, এর মানে সব জেনে নেয়া ভালো। কি সার্জারি হবে তা জেনে নিতে হবে। যে রোগী যত বেশি এসব ব্যাপারে অবহিত থাকেন তাদের সন্তুষ্টি হয় তত বেশি। মেডিক্যাল টিমের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে পারেন রোগী। টিমে থাকেন সার্জন, যিনি সার্জারি করবেন, আর এনেসথেশিওলজিস্ট যিনি সার্জারির সময় রোগীর স্বস্তি ও পরিচর্যা তদারকি করবেন। সবকিছু নিয়ে তাদের প্রশ্ন করুন। এতে ঝুঁকি কতটুকু, জটিলতা কি হতে পারে, সারতে কত সময় লাগতে পারে এসব পদ্ধতি সম্বন্ধে অনেক হাসপাতালে ক্লাসও হয়। ভূলভ্রান্তি যাতে না হয় সেজন্য নার্স, ডাক্তার বা স্বাস্থ্য পরিচর্যা টিমের কোনও সদস্য অপারেশন স্থলে X চিহ্ন দিয়ে রাখেন মার্কার পেন দিয়ে। অচেতন করার বিকল্পগুলো নিয়ে প্রয়োজনে আলাপ হতে পারে। কি ধরণের সার্জারি হবে এর উপর নির্ভর করে কোথায় ও কিভাবে অচেতন করা ঠিক হবে। তবে এনেসথেশিয়া পছন্দ নিয়ে আলাপ করতে পারেন অবেদনবিদের সঙ্গে। লোকাল এনেসথেশিয়া দিলে শরীরের ছোট একটি অংশ অচেতন করা যায় আর রিজিওন্যাল এনেসথেশিয়া দিলে এর চেয়ে বড় এলাকা অচেতন করা যায় আর জেনারেল এনেসথেশিয়া দিলে গোটা শরীর অচেতন করা যায়। এনেসথেশিয়ার ধরণের উপর নির্ভর করে একে প্রয়োগ করা হতে পারে। ইনজেকশন, আই.ডি বা শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণের মাধ্যমে। এনেসথেশিয়ার সময় জাগ্রত হলে ভয় পাবার কিছু নেই। সার্জারির সময় জেনারেল এনেসথেশিয়া কালে রোগীর সামান্য চেতন ভাব থাকতে পারে তবে পুরো চেতনভাব থাকেনা। এনেসথেশিয়ার সময় যে চেতনাভাব অনেকে উপলব্ধি করেন তা হলো তারা কোনও বেদনা অনুভব করেন না। কেউ কেউ চাপ অনুভব করেন। গবেষণা করে দেখা গেছে অচেতন করা হয়েছে এমন ১০০০ জন লোকের মধ্যে ১ বা ২ জনের কোনও কোনও পর্যায়ে চেতনা থাকে। উচ্চ ঝুঁকির সার্জারি যেমন আহত হবার পর সার্জারি, কার্ডিয়াক সার্জারি বা জরুরী সিজারিয়ান সেকশন বা গুরুতর অসুস্থ রোগীর সার্জারির সময় সচেতন হবার ঝুঁকি বেশি। এ ব্যাপারে এনেসথেশিওলজিস্টের সঙ্গে

আলাপ করা যায়।

সার্জারির পর ব্যথা-বেদনা

সার্জারির পর নড়া-চড়া শুরু করার সময় বা নড়া-চড়া করলে সার্জারি স্থলে ব্যথা, চাপ বা জ্বলুনি অনুভব করা যায়। গলায় অস্বস্থি বা পেশিতে ব্যথা অনুভব হতে পারে। ডাক্তার ব্যথার ওষুধ দিতে পারেন। ব্যথা উপশম হলে আরাম হবে, জটিলতার ঝুঁকি কমে রোগ সারতে সময় নেবে কম। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবার আগে ব্যথা মোকাবেলার বিকল্পগুলো

সম্বন্ধে আলোচনা করে নিলে ভালো। ঘরে এসে ব্যথার ওষুধ নেওয়া ছাড়াও শিথিলয়েন চর্চা করা, গরম বা শীতল পানি থেরাপি, ম্যাসেজ ব্যথা উপশমের উপায় হতে পারে।

হাসপাতালে সংক্রমণ মোকাবেলা

হাসপাতাল থেকে অর্জিত জীবাণু সংক্রমণ যেমন- (ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট ও স্ট্যাপ ইনফেকশন) সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে গেলে ব্যক্তিগত পচ্ছিন্নতা বড় জরুরী। ডাক্তার ও নার্স ভালো করে হাত ধোবেন, চিকিত্সার আগে নিজেদের পরিচ্ছন্ন করে নেবেন, নিশ্চয় তাও দেখা দায়িত্ব। সার্জারির পর নিজের হাতও খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত। সংক্রমণের লক্ষণ হলে নজর রাখা উচিত।

যেমন-জ্বর, ফুলে যাওয়া, লাল হওয়া, রক্তক্ষরণ এবং ক্ষত থেকে তরল ক্ষরণ।

রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি আছে কি

কিছু সার্জারিতে ডিপভেন থ্রম্বোসিস (ডিভিটি) শরীরের গভীরে শিরার ভেতর রক্ত জমাট বাঁধা এবং পালমোনারি এসেবালিজম (পিই), ফুসফুসে নালীতে রক্ত জমাট বাধার মত ঘটনা ঘটার ঝুঁকি প্রবল। এমন রক্ত জমাট বাঁধা জীবন সংশয় ঘটাতে পারে। এর ঝুঁকি ও প্রতিরোধের উপায় জেনে রাখা ভালো। বৃদ্ধ বয়স, স্থূলতা, ধূমপান, ক্যান্সার, পূর্বে রক্ত জমাটের প্রবণতা এবং কিছু কিছু ওষুধে ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

চিকিত্সা সমস্যা, রোগ নিয়ে আলোচনা করে নিলে ভালো

মেডিক্যাল টিমের সঙ্গে আলাপ করা যায় স্বাস্থ্য ইস্যুগুলো নিয়ে যেমন-ফুসফুসের রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, দাঁতের সমস্যা, আথ্রাইটিস বা খাদ্যে বা ওষুধে এলার্জি এসব রোগ যে কোনটা থেকে থাকলে তা টিমকে জানানো উচিত। নিজের বা পরিবারের কোনও সদস্যের এনেসথেশিয়া দেবার ওষুধ প্রয়োগের সময় কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয় কিনা তাও জানানো উচিত।

ওষুধ গ্রহণ, সেবন নিয়ে দুর্বিপাক এড়ানো উচিত

যে সব ওষুধ গ্রহণ করে থাকেন সবগুলো ডাক্তারকে জানানো উচিত। সার্জারির সময় কোন কোনও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়া বিচিত্র নয়। যে ওষুধগুলো ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুসারে খাওয়া হয়, যে ওষুধগুলো বিনা প্রেসকিপশনে খাওয়া হয় সবগুলোর তালিকা সার্জনকে দেখানো উচিত। যেমন- রক্তপাতল করার ওষুধ এবং এসপিরিন অতিরিক্ত ক্ষরণের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। সার্জন বলে দেবেন সার্জারির আগে কোন ওষুধ খাওয়া উচিত, কোন ওষুধ বন্ধ করা উচিত।

বিস্ময়কর, মজার সব সাপ্লিমেন্ট ঝুঁকি হতে পারে

অনেকে জিংকো বিলোবা, নিজসেং, রসুন বড়ি, আদা, মাছের তেল, ভিটামিন ও আরো অনেক জিনিষ হতে পারে ঝুঁকির কারণ। কিছু কিছু সাপ্লিমেন্ট হূদযন্ত্র ও রক্তনালী জনিত ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এনেসথেশিয়ার স্থায়িত্বকাল, অন্য ওষুধের সঙ্গে পরপর ক্রিয়া এসবও বিবেচনার বিষয়। দেখা গেছে ৭০% লোক সার্জনদের জানায় না যে কি ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট তারা গ্রহণ করেছেন।

রক্তদান সম্বন্ধে জ্ঞাতব্য

সার্জারির সময় রক্ত ভরণ প্রয়োজন হবে কিনা তা ডাক্তারের কাছে জেনে নেওয়া উচিত। তা যদি লাগে এবং অপারেশনের তারিখ একমাস পরে হলে নিজের রক্ত দান করে সংরক্ষণ করা যায় রক্ত ভরণ কেন্দ্রে পরে প্রয়োজনে নিজের সার্জারির সময় ভরণের জন্য।

প্রয়োজনে নিতে পারেন দ্বিতয় মত

ডাক্তারের পরামর্শ যাচাই করতে পারেন যে সার্জারির কথা বললেন, দ্বিতীয় মত নিতে পারেন প্রয়োজন হলে। সঠিক চিকিত্সা পাচ্ছেন নিশ্চিত হতে পারেন। দ্বিতীয় মতও নিতে পারেন। এতে ডাক্তার বিরক্ত হন না বরং অনেক সময় উত্সাহিত করেন। যাচাই করে নিন সিদ্ধান্ত নেবার আগে। এমন ডাক্তারের কাছে দ্বিতীয় মত নেবেন যে সেই রোগের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ। যদি সার্জারি হয়, তাহলে নিজের উদ্বেগ, প্রশ্ন সব কিছুর উত্তর জেনে নিন যে কোনও সময়ে হাসপাতালে ঢোকার আগে, হাসপাতাল বাসের সময়

এমনকি এর পরেও।

পরিচর্যা যারা করবেন তাদেরকেও বলুন

সার্জারির পরপর তো তন্দ্রালু থাকবে রোগী। তাই সাহায্য প্রয়োজন হবে। তাই পরিবার-পরিজন-বন্ধুদের অবলম্বন প্রয়োজন হবে। সেরে উঠার সময় তাদের সাহায্য-সহযোগিতা ও পরিচর্যা দরকার হবে। খুব ঘনিষ্ট ও বিশ্বস্থ কাউকে ঘরের প্রয়োজন হবে সেরে উঠার সময়। রাত্রিত্রে সঙ্গে থাকতে এমনকি হাসপাতালে কেবিনেও। ভাড়ার ঘর ও ফ্রিজারে স্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় মজুদ করে রাখুন। তাহলে সেরে উঠার সময় বাজার-হাট করার ঝামেলা থাকবে না। সময় নেই, তাহলে পরিবারের কোনও সদস্য বা বন্ধুকে বলা যায় কাজটি করে রাখতে। এছাড়া ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, তৈজস, পরিচ্ছন্নতা দ্রব্য, স্যানিটারি ও ব্যান্ডেজ বা অন্যান্য দ্রব্য জোগাড় করে রাখা ভালো।

পরতে হবে ঢোলা পোষাক

সার্জারির ধরণ বিবেচনায় আরোগ্য হবার সময়টুকুতে কেমন পোষাক পরিধান করা উচিত তাও এক চ্যালেঞ্জ বটে। ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করতে হবে সার্জারির কেমন প্রভাব পড়তে শরীরের উপর। এটি যদি চলাচল, নড়াচড়ার উপর প্রভাব ফেলে তাহলে পরতে হবে ঢোলা পোষাক যা পরা ও খোলা সহজ। ইলাস্টিক কোমর বন্ধনী বা ঢোলা প্যান্ট বা পায়জামা ও বোতাম দেওয়া শার্ট ভালো।

সার্জারির পূর্বে খাওয়া বা

পান করা ঠিক নয়

এনেসথেশিয়া প্রয়োগ সার্জারির সময় এবং এর পরে রমন উদ্রেক বা রমন ঘটাতে পারে স্বাভাবিকভাবে শরীর শ্বাসপথে খাদ্য প্রবেশে বাঁধা দেয়, এনেসথেশিয়া হলে তেমন প্রতিবর্ত ক্রিয়া কাজ ঠিকমত করেনা। এর জন্য সার্জারির পর স্বাসবোধ এমনকি নিউমোনিয়ার মত জটিলতা হতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলতে হবে। আহার ও পান সার্জারির কত আগে বন্ধ করতে হবে সে নির্দেশ কঠোরভাবে পালন করতে হবে।

ভালো সার্জারি যাতে হয়

সেজন্য প্রস্তুতি

নিরাপদেই অস্ত্রোপচার হোক না কেন সার্জারি হলে শরীর আহত হয় বটে। যাদের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস চর্চা আছে তারা সহজে একে মোকাবেলা করতে পারেন। জীবন একেবারে আগের মত হবে তা প্রত্যাশা করা যাবেনা। তবে অনেক ভালো থাকবে তা নিশ্চিত করা যায়। শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিলে ব্যথা-বেদনা কম নিয়ে, জটিলতা ছাড়া সেরে উঠেন অনেকে। মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে বর্জন করা উচিত। ধূমপান করে থাকলে একেবারে বন্ধ করা উচিত।

চেক করে নিতে হবে রক্তচাপ

উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা মেডিকেল টিমকে অবহিত করতে হবে। বিশেষ করে এনেসথেশিওলজিস্টকে। তিনি সার্জারির আগে ও সার্জারির সময় রক্তচাপ ও দেহের অন্যান্য প্রধান জীবনস্পন্দনগুলো তদারকি করবেন। সার্জারির পূর্বে রক্তচাপকে সামনে রাখা বড় গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে তা করা যাবে।

দেহের ওজন মোকাবেলাও ঠিকমত আহার

শরীর বেশি ভারি হলে বা স্থূল হলে সার্জারির পর জটিলতার শংকা বেশি। ওজন হরাস করলে সেরে উঠা সুগম হবে। তবে সার্জারি একমাস দূরে হলে ডায়েটিং শুরু করা ঠিক না। বরং স্বাস্থ্যকর খাবার আহার করতে হবে যাতে সেরে উঠার সময় সঠিক পুষ্টির জোগান থাকে। ঘুমের সময় শ্বাসবোধের সমস্যা থাকলেও ডাক্তারকে জানানো ভালো।

ব্যায়াম করা ও সক্রিয় থাকা

স্বাস্থ্যসম্মত আহারই কেবল নয়, সার্জারির আগে নিয়মিত ব্যায়াম করলে সার্জারির পর সেরে উঠা

সহজ হয়। যাদের নিয়মিত

ব্যায়ামের অভ্যাস আছে তাদের অস্ত্রোপচারের পর সেরে উঠা

বেশ সহজ ও মসূন হয়।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
এবার একুশে বইমেলায় কোন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন স্টল দিতে পারবে না। বাংলা একাডেমীর এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন?
5 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ২০
ফজর৩:৪৯
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৩৯
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :