The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ০৫ জানুয়ারি ২০১৪, ২২ পৌষ ১৪২০, ০৩ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল: আওয়ামী লীগ (নৌকা) ১০৩টি, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ১২টি, অন্যান্য ২২টি

[ রা জ নী তি ]

সহিংস রাজনীতি, দেশ সংকটে: ভবিষ্যতের ভাবনা

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আঙ্গিকে হতে হবে। লাখ শহীদের রক্ত, অগণিত মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল ধারণা এদেশের প্রতিটি মানুষকে মানব মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা। অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ও কল্যাণধর্মী রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সমাজের সকল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। একটা দিক ছিল স্বাধীনতা অর্জন আর অপরদিকটি এদেশের প্রত্যেক ব্যক্তির আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের সেই বজ কণ্ঠ 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'। সেই বাক্যই অমোঘভাবে এদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও চরিত্রের মূল বিষয়টি পরিষ্কার করে দেয়। মানুষের কল্যাণ সাধনই হচ্ছে রাজনীতির একটি প্রধান লক্ষ্য। সে লক্ষ্য থেকে আজ আমরা বিচ্যুত আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে দূরে সরে গেছি।

এইবার নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের সহিংস, এমনকি সন্ত্রাসী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটে আসছে তা কোন অবস্থাতেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মধ্যে পড়ে না। তা সম্পূর্ণ বিরোধী। কেননা, যে সন্ত্রাসী এবং জঙ্গি গোষ্ঠী, মানুষ হত্যা, রেললাইন উপড়ে ফেলা, রাস্তাঘাট বিনষ্ট করা, গাছপালা কেটে পরিবেশ ধ্বংস করা এবং বাসে আগুন দেয়া ইত্যাদি কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তারা ১৯৭১-এর পরাজিত শক্তি। বিএনপিও বলেছে, এরা তাদের দলের লোক নয়। কাজেই এই সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ সবাইকে মিলে প্রতিহত করতে হবে এবং সবাই মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই সন্ত্রাসবাদের সূত্রপাত হয়েছে মূলত নির্বাচনকে ঘিরে নয়, বরং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে। অবশ্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে হবে। কেন না এই কালিমা জাতি ৪২ বছর ধরে বয়ে বেড়িয়েছে, আর নয়। জাতিকে এখন এই কলংক মোচন করে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আবারও উদ্বুদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

অর্থনৈতিক যে ব্যাপক ক্ষতি ইতোমধ্যে সাধিত হয়েছে তা থেকে পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়বে। আর এই কর্মকাণ্ড যদি চলতে থাকে তাহলে কৃষি, রপ্তানিসহ অর্থনীতির সকল খাত ব্যাহত হতে থাকবে। আমরা ইতোমধ্যেই অনেক অগ্রগতি সাধন করেছিলাম। কী প্রবৃদ্ধি অর্জনে, কী কৃষির বিকাশে, কী কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে, কী বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে, কী দারিদ্র্য নিরসনে, কী শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে। সেগুলো এখন হুমকির মুখে পড়বে। কাজেই এইসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে এবং এই সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদীদের বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।

অনেকেই বলছেন একটা রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐকমত্যের প্রয়োজন। আমিও তাই মনে করি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বহু রাজনৈতিক দল থাকবে এবং সবাই সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে চলমান সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন করতে হবে যদি রাজনৈতিক সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলা যায়। কাজেই যে সমঝোতার কথা আমরা সবাই বলছি সে সমঝোতার ভিত্তিমূলে কয়েকটি বিষয় থাকতে হবে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ১। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ নিশ্চিত করা। ২। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন করা। ৩। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করা ৪। জাতীয় মর্যাদা সমুন্নত রাখা। ৫। রাজনীতি হতে হবে জনকল্যাণমূলক, নাশকতা ভিত্তিক নয়। ৬। কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন ৭। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। এই বিষয়গুলোতে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সুস্থ সমঝোতা সৃষ্টি করা জরুরি।

এই লক্ষ্যেই ক্ষমতাসীন দল মূল বিরোধী দল এবং অন্যান্য দল তারা নিজেদের স্বার্থে এবং দেশের স্বার্থে ঐকমত্যের ভিত্তিতে আগামীতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। এখানে ক্ষমতাসীন দলকে সহনশীলতা দেখাতে হবে। অবশ্যই পূর্বেই সমঝোতার ভিত্তিমূল হিসাবে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলোতে নমনীয়তার কোন সুযোগ নেই। বিরোধীদলকে বুঝতে হবে সুস্থ রাজনীতি এখনই সম্ভব যখনই এই জাতির জন্মলগ্নের চেতনা সমুন্নত থাকে এবং সাধারণ মানুষ তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক, রাজনৈতিক অগ্রগতির পথে চলতে পারে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আজ সম্পন্ন হচ্ছে। শীঘ্রই একটি নতুন সরকার গঠিত হবে। আশা করবো এই সরকারে যারা দায়িত্ব পালন করবেন তারা অবশ্যই নিজ নিজ দায়িত্বের বিষয়ে দক্ষতা দেখাবেন এবং তাদের সততা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকবে। তাদের একটি বড় দায়িত্ব হবে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং অর্থনীতি ও সমাজকে দ্রুত টেকসই অগ্রগতির পথে পুনঃস্থাপন করা।

ইতিমধ্যেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা শুনা যাচ্ছে। যা হবে সমঝোতার ভিত্তিতে সকল দলকে নিয়ে। সমঝোতার ভিত্তি কী হবে তা আগেই বলা হয়েছে। সেই ভিত্তিতে জনকল্যাণকামী রাজনৈতিক দল সমঝোতায় আসবেন এবং নির্বাচনসহ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের অবদান রাখবেন। জাতি সেই দিকেই তাকিয়ে আছে।

[বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত শীর্ষক সেমিনারে লেখকের উপস্থাপিত বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রবন্ধ]

লেখক :অর্থনীতিবিদ

[email protected]

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
পরিবেশ মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, '৫ জানুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে চলমান সন্ত্রাস নির্মূল করা হবে।' আপনি কি মনে করেন এটা সম্ভব হবে?
3 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ২০
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :