The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ০৫ জানুয়ারি ২০১৪, ২২ পৌষ ১৪২০, ০৩ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল: আওয়ামী লীগ (নৌকা) ১০৩টি, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ১২টি, অন্যান্য ২২টি

'যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই'

প্রফেসর ড. আবদুল খালেক

আমার আজকের লেখার শিরোনামটি নিয়েছি রবীন্দ্রনাথের একটি বিখ্যাত কবিতা থেকে। বিশ্বের যাঁরা বড়মাপের কবি বলে খ্যাতি অর্জন করেছেন তাঁরা বড়মাপের মনস্তত্ত্ববিদও বটে। রবীন্দ্রনাথ আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ কবি। বাঙালি জাতি একটু আবেগপ্রবণ জাতি একথা অনেকেই বলে থাকেন। আবেগের মধ্যে ভালো দিকটি যেমন আছে, মন্দ দিকটিও একেবারে উপেক্ষণীয় নয়। আবেগের দ্বারা অনেক মহত্ অর্জন বাঙালির রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা উল্লেখ করতে পারি। বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর এতো আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিল যে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পর বলা যেতে পারে একেবারে খালিহাতে বাংলার মানুষ মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছিল।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক গুরু ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। পাশ্চাত্যের গণতন্ত্রের চর্চা ছিল হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মূল লক্ষ্য। শেখ মুজিব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আদর্শে লালিত হয়েছিলেন। যে কারণে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১০ জানুয়ারি বাংলার মাটিতে পা রেখেই তিনি বলে দিয়েছিলেন 'বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র'। অপরদিকে মাওলানা ভাসানী, কমরেড মনিসিংহ, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ এবং আরো অনেকে দাবি তুলেছিলেন 'বাংলাদেশ হবে একটি সমাজতান্ত্রিক দেশ'। তাঁদের দাবির সাথে বঙ্গবন্ধু সমন্বয় করে ১৯৭২ সালে সংবিধানে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে সমাজতন্ত্রের কথাটি সংযোজন করেছিলেন। তবে তিনি গণতন্ত্রের জন্য একটু সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু সমাজতন্ত্রের আন্দোলন যারা করছিলেন তারা বঙ্গবন্ধুকে সময় দিতে রাজি হননি। তরুণ নেতাদের কাছ থেকে দাবি উঠেছিল অতিদ্রুত দেশে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কায়েমের। উল্লেখযোগ্য তরুণ নেতা আ স ম আব্দুর রব, মেজর জলিল, কর্ণেল তাহের প্রমুখ দেশের তরুণ ছাত্রসমাজ গভীর আবেগ সহকারে সাড়া দিয়েছিল বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের পক্ষে। বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে দেশে শুরু হয়েছিল চরম অরাজকতা, মারামারি, হানাহানি। বঙ্গবন্ধুর আদেশ-নির্দেশকে অগ্রাহ্য করে দেশে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য বলা যেতে পারে দেশে এক অঘোষিত যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তাদের সেই অঘোষিত যুদ্ধের মুখে বঙ্গবন্ধু বেশ বিব্রত হয়ে পড়েছিলেন। বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কায়েমের নামে সেই অঘোষিত যুদ্ধের সুযোগ গ্রহণ করেছিল দেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট তারিখে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির হাতে বঙ্গবন্ধুকে জীবন হারাতে হয়।

আশির দশকে জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবার লক্ষ্যে এই দেশের রাজনীতিবিদরা দাবি তুলেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের। সামরিক স্বৈরাচারের হাত থেকে জাতিকে রক্ষার জন্য মূলত এ দাবি উঠেছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল একটি পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা। প্রথমের দিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ২০০১ সালে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বিতর্কিত করে তুলেছিল। যার ফলে ২০০৬ সালে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নব্বই দিন ক্ষমতায় থাকার কথা ছিল সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার সুযোগ পেয়ে দীর্ঘ দু'বছর ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ তথা দেশবাসীর যে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয় তাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন জাতির বৃহত্তর স্বার্থে অপরিহার্য হয়ে ওঠে।

আইনের পথে না গিয়ে বিএনপি যে আন্দোলনের পথে পা দিয়েছে সেই পথটি অত্যন্ত জটিল, পিচ্ছিল এবং দুর্গম। আন্দোলনের মাঠে আওয়ামী লীগ যে অত্যন্ত দক্ষ এবং পারদর্শী, ইতিহাসে তার প্রমাণ আছে। আওয়ামী লীগের তুলনায় আন্দোলনের মাঠে বিএনপি যে অনেকটা দুর্বল ইতোমধ্যে তা প্রমাণিত হয়ে গেছে। বিএনপি দিনের পর দিন অবরোধ এবং হরতাল ডেকে চলেছে কিন্তু সেই হরতাল অবরোধে দেশের মানুষকে তারা সম্পৃক্ত করতে পারেনি। বিএনপির সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন-বিরোধী যে কর্মসূচি দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আন্দোলনের ডাক দিয়ে বিএনপির নেতারা মাঠে না নেমে কেউ ঘরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন অথবা কেউ আত্মগোপন করেছেন। এতে আন্দোলন থমকে গেছে। বিএনপির নেতারা বলছেন- বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর বাসায় সরকার অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তাঁদের অভিযোগ যদি সত্যি হয়, সেক্ষেত্রে অবরুদ্ধ নেত্রীকে বাসা থেকে মুক্ত করবার তেমন কোনো জোরালো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে যদি কেউ অবরুদ্ধ করে রাখতে চাইতো, দেশের পথে-ঘাটে তাঁর মুক্তির জন্য জনতার ঢল নামতো। সেই ঢল থামানোর ক্ষমতা কোনো সরকারের থাকতো না। কিন্তু খালেদা জিয়ার পক্ষে তেমন কোনো ঢল দেশে গড়ে ওঠেনি। এখানেই বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগের বড় পার্থক্য।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে কোনো অবস্থাতে গণতান্ত্রিক সরকার বলে চিহ্নিত করা যায় না। বিএনপি যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে আবার সংবিধানে স্থান দিতে চায় সেক্ষেত্রে বর্তমান ব্যবস্থাতেই তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে এবং সেই নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে তাঁকে আবার সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। সে কথা বিবেচনায় বিএনপিকে প্রতিকূলতার মধ্যেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বিকল্প ছিল না। দেশে আওয়ামী লীগ শাসনের শেষের দিকে যে পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই পাঁচটি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেছিল। এ থেকে দেশের মানুষ বার্তা দিয়েছিল দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলে ফলাফল তাদের অনুকূলে যেতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্য বিএনপির নেতৃত্ব জনসাধারণের সেই বার্তা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের উন্নয়নের কাজ করলেই যে মানুষের ভোট পাওয়া যায়, এমন উদাহরণ বাংলাদেশের মানুষ গত নির্বাচনে প্রমাণ করতে পারেনি। বিগত পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনকালে সিটি কর্পোরেশনের প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে একথা দেশের মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত আছে। যেহেতু আমি রাজশাহীতে অবস্থান করছি, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন আমি নিজের চোখে দেখেছি। বিগত বিশ বছরে রাজশাহীতে যে উন্নয়ন হয়েছিল, আওয়ামী লীগের পাঁচ বছরের আমলে তার চেয়ে বহুগুণে উন্নয়ন ঘটেছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের এলাকায় এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বিগত পাঁচ বছরে উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন সে কথা যদি ভোটার বিবেচনা করতো তাহলে খায়রুজ্জামান লিটনের প্রচুর ভোট পাওয়ার কথা, হেরে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু মেয়র নির্বাচনে তিনি হেরে গেছেন। যে প্রার্থীর কাছে তিনি হেরে গেছেন তিনি এলাকার মানুষের কাছে তেমন পরিচিত নন। রাজশাহীতে তার কোনো অবদান আছে একথাও কেউ বলতে পারবে না। তবুও মানুষ তাকে ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করেছে। ভাবখানা এরকম, পাঁচ বছরের জন্যতো খায়রুজ্জামান লিটনকে মেয়র হিসেবে তারা নির্বাচিত করেছিল এবার পাঁচ বছরের জন্য নতুন একজনকে নির্বাচিত করে তারা দেখতে চায় তার দ্বারা এলাকার কতটা উন্নতি হয়। খানিকটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পরীক্ষামূলক একটা ব্যবস্থার দিকে ভোটাররা পা বাড়িয়েছে। ভোটারদের মনস্তত্ত্ব বেশ জটিল। রাজশাহী মহানগরে এতো যে উন্নয়ন ভোটাররা তা যেন হিসেবেই আনছে না। অর্থাত্ উন্নয়ন যেন তাদের আর ভালো লাগছে না। রবীন্দ্রনাথ বোধহয় এদের কথা ভেবেই তাঁর কবিতায় বলেছিলেন: 'যাহা পাই তাহা চাই না'। আজকের পত্র-পত্রিকায় যে খবর বেরিয়েছে তাতে বেগম খালেদা জিয়া ৫ জানুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন দেশবাসীকে বর্জন করতে বলেছেন। এর আগে তিনি নির্বাচনকে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন দেশবাসীর কাছে। সম্ভবত সে আহ্বান থেকে তিনি সরে এসেছেন। এ থেকে মনে হয়েছে, বাস্তব অবস্থা বিচারে তিনি খানিকটা নমনীয় হয়েছেন। নির্বাচন যে প্রতিহত করা সম্ভব নয় এই উপলব্ধিবোধ তাঁর মধ্যে এসেছে।

নির্বাচনের যে বিকল্প নেই একথা বিএনপিকে উপলব্ধি করতেই হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুব স্পষ্ট করেই জাতিকে জানিয়ে দিয়েছেন সংবিধানকে সমুন্নত রাখবার স্বার্থেই তাঁদেরকে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সমাপ্ত করতে হচ্ছে। দেশকে সাংবিধানিক শূন্যতার মধ্যে তিনি ফেলতে চাননি। বিএনপির নেতৃত্বের মধ্যে যদি শুভবুদ্ধির উদয় হয় তারা যদি দেশের মানুষের আবেগ-অনুভুতিকে উপলব্ধি করতে সমর্থ হন, সংবিধানের প্রতি তারা আস্থাশীল হতে পারেন, বর্তমান সংবিধানকে যদি তারা মেনে নিতে রাজি হন, সেক্ষেত্রে সমঝোতার মাধ্যমে পুনরায় আরেকটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যেতেই পারে এতে কোনো বাধা থাকবে না। আমরা জানি রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই, রাজনীতিবিদদেরকেই এদেশকে পরিচালনা করতে হবে। সুশীল সমাজ বলে যাঁরা আত্মপ্রচারে মগ্ন আছেন, তাঁদের দ্বারা দেশ পরিচালনা সম্ভব নয়। সুশীল সমাজ বলে যাঁরা নিজেদের পরিচয় দিতে স্বস্তি অনুভব করেন, গর্ব অনুভব করেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারে তাঁদের চেহারা মানুষ দেখেছে। তাঁরা ভেবেছিল খালেদা এবং হাসিনা মাইনাস করেই দেশ পরিচালনা করবে কিন্তু তাঁদের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাঁরা ২০০৮ সালে দেশের মানুষের চাপের মুখে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছিল। বলা হয়ে থাকে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হবেন একজন নির্দলীয় ব্যক্তি। সেই নির্দলীয় ব্যক্তি নির্বাচন করা যে কত কঠিন কাজ সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা জাতির আছে। সুশীল সমাজের মধ্য থেকেই একজন নির্দলীয় মানুষকে হয়তো খুঁজতে হবে কিন্তু সেই নির্দলীয় মানুষটি জনসাধারণের কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা মেপে দেখবার কোনো মাপকাঠি আমাদের কাছে নেই। আজকে যাঁরা সুশীল সমাজের মুখপত্র তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যদি আমরা প্রশ্ন করি এবং সেই প্রশ্নের সমাধান যদি আমরা দেশের আপামর জনসাধারণের হাতে ছেড়ে দেই তাহলে তার ফলাফল কি হতে পারে? সেই গণভোটের ফলাফল কি হবে তা আমরা বলে দিতে পারি। সেই গণভোটে সুশীল সমাজের কোনো প্রতিনিধি আওয়ামী লীগের যে কোনো একজন নেতার কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হবেন।

রাজনীতিবিদরাই দেশ পরিচালনা করবেন। বিদেশ থেকে অনেক কিছুই আমদানি করা যায় কিন্তু রাজনীতিবিদকে আমদানি করা যায় না। সে কথা মনে রেখেই আমাদেরকে পথ চলতে হবে। সুশীল সমাজ দেশ পরিচালনা করতে পারবেন না। কাজেই সুশীল সমাজের ধান্ধাবাজদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলে আমাদের চলবে না। দেশে বিভিন্ন সময় রাজনীতি সংকট এসেছে, সেইসব সংকট রাজনৈতিকভাবে রাজনীতিবিদরাই সমাধান করেছেন। আমাদের বিশ্বাস আজ দেশে যে সংকট দেখা দিয়েছে, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর রাজনীতিবিদদেরকে এ নিয়ে বসতে হবে এবং সংবিধানের আলোকেই এই সমস্যার সমাধান দিতে হবে।

ভুল মানুষের হতেই পারে। একজন ব্যক্তি যখন ভুল করেন তার খেসারত সেই ব্যক্তিকেই দিতে হয় অন্য কাউকে নয়। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল যখন ভুল পথে পা বাড়ায় তার খেসারত সমগ্র দেশবাসীকে দিতে হয়। বিগত দু'বছর ধরে বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে নানা ভুল পথে পা বাড়িয়েছে, সেই ভুলের খেসারত আজ তাদেরকে যেমন দিতে হচ্ছে তেমনি সমগ্র জাতিকে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে প্রক্রিয়ায় সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব উত্থাপন করেন সেই সর্বদলীয় সরকারের বিএনপির অংশগ্রহণ না করা একটা বড় ভুল। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবটি যদি বিএনপি গ্রহণ করতো তাহলে এর সুফল বিএনপি পেতো বলে সকলেরই ধারণা। প্রাজ্ঞজনেরা বলছেন, জামায়াতে ইসলামীর আপত্তির কারণে বিএনপি নেতৃত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সর্বদলীয় সরকারে যোগদান করতে পারেনি। দিন যত যাবে ততই পরিষ্কার হবে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর সাথে হাত মেলানো বিএনপির জন্য মহাক্ষতির কারণ হয়ে গেছে। দিন যতই যাবে দেশবাসীর কাছে বিষয়টি ততই পরিষ্কার হয়ে উঠবে। বিএনপির বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ তাঁর বিখ্যাত কবিতায় যথার্থই বলে দিয়েছিলেন: 'যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই, যাহা পাই তাহা চাই না।'

লেখক: সাবেক ভিসি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
পরিবেশ মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, '৫ জানুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে চলমান সন্ত্রাস নির্মূল করা হবে।' আপনি কি মনে করেন এটা সম্ভব হবে?
4 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ২৬
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৬
এশা৭:৪১
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২১
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :