The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ০৫ জানুয়ারি ২০১৪, ২২ পৌষ ১৪২০, ০৩ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল: আওয়ামী লীগ (নৌকা) ১০৩টি, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ১২টি, অন্যান্য ২২টি

এসিসি কলম্বো বৈঠক

এশিয়া কাপ ঢাকাতেই থাকছে

স্পোর্টস রিপোর্টার

গতকাল সকাল পর্যন্ত শঙ্কা ছিল। ভয় ছিল, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসসিসি) নির্বাহী কমিটি বেঁকে বসতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই শঙ্কা, ভয় সবই উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তরফ থেকে এসিসির কলম্বো বৈঠকে উপস্থাপিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা। সে পরিকল্পনা দেখে এসিসির প্রতিটি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা আশ্বস্ত হয়ে একমত হয়েছেন যে, এশিয়া কাপ পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশেই হবে।

ফলে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বর্ধিত কলেবরের এশিয়া কাপ। এবার নতুন দেশ হিসেবে এই এশিয়ান টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে আফগানিস্তান। গতকাল সকালে শুরু হওয়া এসিসির কলম্বো বৈঠকশেষে সভার এই সিদ্ধান্ত সংবাদ মাধ্যমে জানিয়ে সংস্থার প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশরাফুল হক বলেছেন, পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আনছে না এসিসি। তাদের প্রস্তুতি সব সম্পন্ন হয়েছে ফলে খেলা এখন মাঠে গড়ানোর অপেক্ষা। সভায় এসিসির কোনো সদস্য বাংলাদেশে টুর্নামেন্ট আয়োজনের বাস্তবতা নিয়ে আপত্তি করেননি এবং বাংলাদেশের উপস্থাপিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা দেখে সবাই সন্তুষ্ট হয়েছেন বলেছেন আশরাফুল হক। প্রায় একই ধরনের তথ্য জানিয়েছেন সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকা বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন।

আশরাফুল হক পরিষ্কার করে বলেছেন, 'সূচিমতোই এশিয়া কাপ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্ট আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গেছে। সভায় কেউ এই আয়োজন নিয়ে আপত্তি করেনি। তাই ভেন্যুতে কোনো পরিবর্তন আসছে না।'

ফেব্রুয়ারি মার্চে শ্রীলঙ্কার বাংলাদেশ সফরের পর পর এশিয়া কাপ এবং মহিলা ও পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজন অনেক আগে থেকেই নিশ্চিত হয়ে আছে। কিন্তু এই তিনটি আয়োজনই প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছিল দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতার কারণে। এই পরিস্থিতি নিয়ে গুঞ্জন চলা অবস্থায় আলোচনাটাকে তীব্র আকারে উস্কে দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নিরাপত্তাহীনতার কথা বলে সফর বাতিল করে চলে যাওয়ার ঘটনা।

এই অবস্থায় গতকাল কলম্বোতে বৈঠকে বসেছিল এসিসির নির্বাহী কমিটি। সে বৈঠকে নিরাপত্তা বিষয়ে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে বিসিবির প্রধান নির্বাহী সুজন বলেছেন, 'সর্বশেষ সিদ্ধান্ত এই যে, এশিয়া কাপ বাংলাদেশেই থাকছে। আমরা আমাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরে এসিসি বোর্ড সদস্যদের নিশ্চিত করেছি যে, দলগুলোকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তারা এতে সবাই আশ্বস্ত হয়েছেন। বিকল্প ভেন্যু নিয়ে আর আলাপই হয়নি। আমরা বলতে পারি, এশিয়া কাপ বাংলাদেশই আয়োজন করছে।'

এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কেউ বলতে না চাইলেও ক্রিকইনফো তার সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে যে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে এই পরিকল্পনা দাঁড় করানো হয়েছে। এই পরিকল্পনায় বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী অংশ নিয়েছেন এবং তাদের দক্ষতা এখানে ব্যবহার করা হবে বলেই পরিকল্পনায় দেখানো হয়েছে। সূত্রের খবর, ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের মতো এই তিনটি আয়োজন জুড়েই তিন স্তরের নিরাপত্তা থাকবে বলে পরিকল্পনায় বলা হয়েছে। বিসিবি এই তিনটি ইভেন্টের জন্য আলাদা আলাদা বা ভিন্ন মানের নিরাপত্তা পরিকল্পনা দাঁড় করায়নি। শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশে পা রাখার পর থেকে বিশ্বকাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত একটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা বর্তমান থাকবে বলেই পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি এখানে ওয়ানডে বিশ্বকাপের চেয়ে বেশি সংখ্যায় বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা এবং আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে পরিকল্পনায় সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরের উদাহরণও আনা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ঠিক একই পরিস্থিতি নিউজিল্যান্ড কেমন নির্বিঘ্নে বাংলাদেশ সফর শেষ করে গেছে।

ক্রিকইনফোতে বিসিবির এই সূত্রটি বলেছেন যে, 'আইসিসি, এসিসি ও এসএলসি একই নিরাপত্তা রিপোর্ট পেতে থাকবে। কারণ, আমরা তিনটি ইভেন্টের এই পুরোটা সময় জুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা চালিয়ে যাবো। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে দেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা, এমনকি সেনাবাহিনীর সঙ্গেও আলাপ করেছি।'

নিশ্চয়ই এইসব আলাপ ও পরিকল্পনা বাস্তবানুগ দেখেই এসিসি কোনোরকম আপত্তি ছাড়াই এশিয়া কাপকে ঢাকায় 'হ্যাঁ' বলে দিয়েছে। এখন রাজনীতিবিদদের কাজ এসিসির এই সিদ্ধান্তকে সফলতার সঙ্গে ধরে রাখা।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
পরিবেশ মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, '৫ জানুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে চলমান সন্ত্রাস নির্মূল করা হবে।' আপনি কি মনে করেন এটা সম্ভব হবে?
1 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ২০
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :