The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ০৫ জানুয়ারি ২০১৪, ২২ পৌষ ১৪২০, ০৩ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল: আওয়ামী লীগ (নৌকা) ১০৩টি, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ১২টি, অন্যান্য ২২টি

এলএল.বি (পাস) কোর্স প্রিলিমিনারী পরীক্ষার প্রস্তুতি

Higher education corner

এ. এস. এম সাইফুল্লাহ্

সহকারী অধ্যাপক

আইন বিভাগ

অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সুপ্রিয় শিক্ষার্থী ভাই ও বোনেরা,

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলএল.বি (পাস) কোর্সের প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় যারা অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক তাদের জন্যে আমাদের এ নিয়মিত আয়োজন।

আজকে আমরা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১টি প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আলোচনা করার প্রয়াস পাব।

প্রশ্ন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের সংজ্ঞা দাও। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের উদ্দেশ্য বর্ণনা কর । সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে কি ধরনের প্রতিকার পাওয়া যায় ? সুনির্দিষ্ট প্রতিকার কিভাবে প্রদান করা যায় ?

* সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের সংজ্ঞা (Definition of specific Relief):১৮৭৭ সালে Specific Relief বা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে বা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বলতে ঐ সকল প্রতিকারকে বুঝায় যা কোন ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ অত্র আইনের বিধান অনুযায়ী সুনির্দিষ্টভাবে পাওয়ার অধিকারী। বিভিন্ন আইনবিদগণের সংজ্ঞার আলোকে একথা বলা যায় যে, ‚Specific Relief means a relicie. It is a remedz which aims at the exact fulfillment of an obligationœ অর্থাত্ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বলতে একটি বিশেষ ধরনের প্রতিকারকে বুঝায়। ইহা এমন একটি প্রতিকার যা কোন আইনানুগ বাধ্যবাধকতার সঠিক প্রতিপালনের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। অত্র আইনে উল্লেখিত Relief বা প্রতিকার বলতে এমন প্রতিকারকে বুঝায় যা ন্যায়বান আদালত মোকদ্দম্যকারী ব্যক্তিগণকে প্রদান করে থাকেন। ইহা এমনই এক প্রকার বৈধ প্রতিকার(Legal redress) যা অন্যান্য প্রতিকার থেকে ভিন্ন।

কোন ধরণের মামলায় কি প্রকার প্রতিকার পাওয়া যাবে-এ আইনে উহা সুনির্দিষ্টভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে বলে উহার নাম 'সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন' রাখা হয়েছে। সুতরাং অত্র আইনে কতকগুলি বিশেষ মামলার বিচার কার্যক্রম ও উহার নিষ্পত্তির বিধানবলী তথা উহার প্রেক্ষাপটে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষকে Specific Relief বা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাই জনৈক Jurist বলেন যে, "The object of the Specific Relief Act is confined to that class of remedies by which a suitor seeks to obtain and a court of justice seeks to give him the very relief which he is entitledœ অর্থাত্ সুনির্দিষ্ট আইনের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য এমন একটা বিশেষ ধরণের প্রতিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ যা কোন অভিযোগকারী আইনানুগভাবে পাবার অধিকার এবং আইন আদালতও তাকে উহা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

উল্লেখিত আলোচনা থেকে একথা প্রতীয়মান হয় যে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন Equitable Principles এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাই, এ আদালত ক্ষতিপুরণের মাধ্যমে প্রতিকার বিধান না করে বরং সুনির্দিষ্ট চুক্তি পালনের নির্দেশ দেয় এবং কোন পক্ষকে কার্যে বাধ্য করে বা করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। যদি কোন পক্ষ এ আদেশ অমান্য করে, তবে সেক্ষেত্রে তাকে আটক আদেশ বা তার সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দেয়।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের উদ্দেশ্য (Purpose of Specific Relief Act): সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের সম্পুর্নরূপে ইকুইটি বা ন্যায়পরতার উপর ভিত্তিশীল দেওয়ানী মামলার অর্জনযোগ্য কতিপয় সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সংক্রান্ত আইনের সংজ্ঞা নিরূপণ এবং সংশোধনের উদ্দেশ্যে ১৮৭৭ সালে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রণীত হয়েছে। ন্যায়পরায়ণতা বা ইকুইটির উপর ভিত্তিশীল হলেও বর্তমানে বিধিবদ্ধ আকারে প্রণীত হয়েছে। এই আইনটি সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বলতে ন্যায়পর আদালত কর্তৃক বিশেষ প্রকৃতির কতিপয় প্রকার বুঝায়। কমল ল' এর উদ্দেশ্য হচ্ছে , কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির আইনগত ক্ষতি সাধন করলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা। কিন্তু সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের লক্ষ্য হচ্ছে উক্ত ব্যক্তিকে তার কর্তব্য পালনের উদ্দেশ্য কোন কাজ করার নির্দেশ দিয়ে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে প্রতিকার দেয়া। আর্থিক ক্ষতিপূরণ অনেক ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিকার প্রতীয়মান হতে পারে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সুনির্দিষ্টভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা যায়। দেওয়ানী প্রকৃতির মামলা সর্বদাই দেওয়ানী আদালতে দায়ের করা হয়। এর মধ্যে কতিপয় বিশেষ ধরনের মামলার প্রতিকার কিভাবে দেয়া যেতে পারে তা এই আইনে সুুনির্দিষ্টভাবে দেয়া আছে। অতএব সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে যে সকল মামলার প্রতিকার দেয়া হয় তা সবই দেওয়ানী প্রকৃতির, ফৌজদারী অপরাধের নয়। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দখল, চুক্তি বলবত্করণ, দলিল সংশোধন, চুক্তি রদ, দলিল বিলোপন, ঘোষণামুলক ডিক্রী, রিসিভার নিয়োগ এবং নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত আইন এই আইনের মুখ্য আলোচ্য বিষয়। ৫৭টি ধারা সম্বলিত বিধিবদ্ধ এই আইনের ১০টি অধ্যায় রয়েছে।

যে সকল উপায়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচেছ

(ক) নির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ করে দাবিদারকে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে;

(খ) সুনির্দিষ্ট আইনগত কর্তব্য সম্পাদনের মাধ্যমে;

(গ) আইনগত যে কাজ না করা কর্তব্য সে কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দান বা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে;

(ঘ) মামলার পক্ষসমূহের অধিকার সাব্যস্ত করে ঘোষণা প্রদান বা ঘোষণামূলক ডিক্রীর মাধ্যমে;

(ঙ) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।

পরবর্তী অংশ আগামীকাল

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
পরিবেশ মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, '৫ জানুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে চলমান সন্ত্রাস নির্মূল করা হবে।' আপনি কি মনে করেন এটা সম্ভব হবে?
9 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ১৯
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :