The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ০৫ জানুয়ারি ২০১৪, ২২ পৌষ ১৪২০, ০৩ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল: আওয়ামী লীগ (নৌকা) ১০৩টি, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ১২টি, অন্যান্য ২২টি

ইহা কেবলই একটি সাধারণ নির্বাচন নয়

আজ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সকল দলের অংশগ্রহণে এই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হইলে উত্তম হইত— এমন কথা দেশি-বিদেশি অনেকেই বলিয়াছেন। জনগণও এমনটিই আশা করিয়াছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত তাহা হয় নাই। ইহাই বাস্তবতা। কেন হয় নাই— তাহাও কমবেশি সকলেই জানেন। নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে নির্বাচন অনুষ্ঠানে যেমন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে, তেমনি গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্যও নির্বাচনের কোনো বিকল্প নাই। তাহার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই যে, প্রথাগত কোনো সাধারণ নির্বাচন ইহা নয়। তথ্যাভিজ্ঞমহলের অনেকেই মনে করেন, এইবারকার নির্বাচন যতটা না ক্ষমতা হস্তান্তরের, তার চাইতে অনেক বেশি তাত্পর্যপূর্ণ আদর্শিক ও চেতনাগত কারণে। দেশজুড়িয়া আজ সংঘাত-সহিংসতা, ধ্বংস ও মানুষ হত্যার যে পৈশাচিক উল্লাস চলিতেছে তাহারও মূলে রহিয়াছে চেতনাগত এবং আদর্শিক বৈপরীত্য। গত বত্সরের প্রথমদিকে যে সহিংস তাণ্ডবের সূত্রপাত ঘটে নির্বাচন সামনে রাখিয়া তাহারই ধারাবাহিকতা চলিতেছে বলিয়াই মনে করেন সচেতন মহল। সেই সূত্র ধরিয়াই যানবাহনে আগুন দিয়া, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করিয়া চালান হইতেছে নির্বিচার নরহত্যা। নারী-পুরুষ, শিশু কী বৃদ্ধ কেহই হরতাল অবরোধের হিংস্র আক্রমণ হইতে রেহাই পাইতেছে না। গভীরভাবে চিন্তা করিয়া দেখিলে ইতিহাস এবং ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও আদর্শগত,আরও পরিষ্কারভাবে বলিলে চেতনাগত বিরোধের সমূহ উপাদান নিহিত রহিয়াছে। স্বাধীনতা অর্জনের অব্যবহিত পর ১৯৭২ সালে যাহা করা উচিত ছিল, যে কোনো কারণেই হউক তাহা তখন করা হয় নাই বা করা যায় নাই। তদুপরি বিগত চার দশকের মধ্যে বহুবার মোড় বদল ঘটিয়াছে বাংলাদেশের রাজনীতির। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার পতন পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় চালু হয় সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। কিন্তু অজানা থাকিয়া যায় অনেক প্রশ্নের উত্তর। আর এই অবকাশে বিপরীত চেতনার অশুভ শক্তি ঝাড়েমূলে বাড়িয়া উঠিবার সুযোগ পাইয়াছে বলিয়া মত প্রকাশ করিয়া থাকেন অনেক বিদগ্ধ বিশ্লেষক। অন্যদিকে আয়তনে বাংলাদেশ ছোট হইলেও ইহার ভৌগোলিক অবস্থানের কৌশলগত গুরুত্বের দিকটিও সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।

এই বাস্তবতা সঙ্গে লইয়াই অনুষ্ঠিত হইতে যাইতেছে দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার বিষয়টিও উপেক্ষা করিবার মত নহে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হইলে তাহা কতোখানি দুর্ভাগ্যজনক হইতে পারে— ওয়ান-ইলেভেনপরবর্তী কালের সেই তিক্ততম অভিজ্ঞতা রাজনীতিকদের এতো তাড়াতাড়ি বিস্মৃত হইবার কথা নহে। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক দলেরই দায়িত্ব হইল স্বতঃপ্রণোদিতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং যেকোনো মূল্যে সাংবিধানিক ধারাকে সমুন্নত রাখা। নির্বাচনী ব্যবস্থায় গুরুতর কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি পরিলক্ষিত হইলে গঠনমূলক প্রক্রিয়ায় তাহা সমাধানে উদ্যোগী হওয়া। কিন্তু বাস্তবে সেই দায়িত্বশীলতা ও দূরদর্শিতার লেশমাত্র প্রতিফলনও দেখা যায় নাই। বরং নির্বাচনকে কেন্দ্র করিয়া 'ট্রেড ইউনিয়নিজম' বা দর কষাকষির যেই অসুস্থ প্রবণতা চলিয়া আসিতেছে দীর্ঘদিন যাবত্, এইবারও সেই দুষ্টচক্রে আটকা পড়িয়া গণতন্ত্রের দফারফা হইবার আশঙ্কা দেখা দিয়াছিল। শেষপর্যন্ত তাহা যে হয় নাই এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা যে অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হইয়াছে— ইহা নিঃসন্দেহে একটি স্বস্তিকর সংবাদ। অতএব, এই নির্বাচনের গুরুত্বকে খাটো করিয়া দেখিবার কোনো অবকাশ নাই।

ইহা অনস্বীকার্য যে, অদ্য যেই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হইতেছে তাহাকে আদর্শ নির্বাচন বলা যাইবে না। প্রধান বিরোধী দল অংশগ্রহণ করিলে নির্বাচনটি যে সকল অর্থে সার্থক হইত তাহাতে সন্দেহ নাই। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা না করা দলগুলির নিজস্ব ব্যাপার। কোনো দল নির্বাচনে অংশ নিতে না চাহিলে যেমন তাহাকে বাধ্য করা যায় না, তেমনি ব্যাহত করা যায় না সাংবিধানিক ধারাবাহিকতাও। বাংলাদেশের মতো দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলিতে রাতারাতি শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নহে— এই বাস্তবতা মানিয়া লইতে হইবে। তবে ইহা অনস্বীকার্য যে, এই নির্বাচন ও তাহার ফলাফল রেখাপাত করিয়া যাইবে বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতির গভীরে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
পরিবেশ মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, '৫ জানুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে চলমান সন্ত্রাস নির্মূল করা হবে।' আপনি কি মনে করেন এটা সম্ভব হবে?
7 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ১৭
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৫০
এশা৮:১৫
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :