The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ জানুয়ারি ২০১৩, ২৭ পৌষ ১৪১৯, ২৭ সফর ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ভারতে ট্রাক দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত | ডিএসই: সূচক বেড়েছে ১০ পয়েন্ট | শ্যাভেজের বিলম্বিত অভিষেক বৈধ: আদালত | আজ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস | ১০ ঘন্টা পর মাওয়ায় ফেরি চালু

নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রধান দু'দলের সহযোগিতামূলক মনোভাব খুবই জরুরি

ঘোলা পানিতে যেমন মাছ ধরা সম্ভব নয়, তেমনি বর্তমানে দেশের যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণভাবে অনুপযোগী। এর জন্য প্রধান দু'দলকে দায়ী করা যেতে পারে, কারণ যে দল সরকারে আসুক না কেন সে দল নিজের আখের গোছানোতে ব্যস্ত থাকে, অন্য দলকে দল হিসাবে গণ্য করা হয় না—এটাই বাংলাদেশের রাজনীতি। এর ফলে দেশের মধ্যে সবসময় গুম,হত্যা, দুর্নীতি,অর্থ কেলেঙ্কারী, শেয়ার বাজারে ধস, তেল-বিদ্যুত্ ও সারের মূল্য বৃদ্ধিসহ জ্বালাও-পোড়াও, যানবাহনে অগ্নিসংসোগ প্রভৃতি সহিংস ঘটনা ঘটেই থাকে। এ বছরে জাতীয় নির্বাচন, তা সত্ত্বেও প্রধান দু'দল তথা সরকারি দল দলীয় সরকারের অধীনে আর বিরোধী দল নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমরা আশা করব দেশের মধ্যে যেন এমন একটি সু্ষ্ঠু, নিরপেক্ষ, আন্তর্জাতিকমানের গ্রহণযোগ্য ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে থাকবে সকল রাজনৈতিক দলের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। এজন্য উচিত হবে বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমঝোতার জন্য উভয় দলের মধ্যে ধৈর্য-সহনশীল ও সহযোগিতামূলক মনোভাব থাকার পাশাপাশি অবাধ ও সু্ষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এগিয়ে আসা। অন্যথায় দেশ আবারও তৃতীয় কোন শক্তির হাতে চলে যেতে পারে ।

মো. আরিফ হাসান (ওসমানী)

বিএসসি (অনার্স), ৪র্থ বর্ষ

প্রাণীবিদ্যা বিভাগ, শহীদ হবিবুর রহমান হল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

০০০

নির্বাচন কিভাবে হবে—তত্ত্বাবধায়ক ফর্মূলা না অন্তর্বর্তী ফর্মূলা

কালের প্রবহমান ধারায় নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরে। ফলশ্রুতিতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন রাষ্ট্রীয় দরজায় কড়া নাড়ছে। নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন মহাজোট, বিরোধী জোট এবং মিনি জোটগুলো দৃশ্যত বা অন্তরালে প্রচারের তোড়জোড় শুরু করেছেন ইতোমধ্যেই। প্রশ্ন উঠছে- নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে? তত্ত্বাবধায়ক ফর্মূলা না অন্তর্বর্তী ফর্মূলা। যদিও জনমত জরিপে শীর্ষে রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা, যেটিকে অনেকেই মৃত গাছ হিসেবে অভিহিত করেন।

তথাপিও আস্থার সর্বশেষ স্থল। যে পদ্ধতিতেই নির্বাচন হোক কিছু সম্পূরক প্রশ্নও সাথে আছে যেমন- সংসদ আসনের সীমানা জটিলতা নিরসন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ই-ভোটিং মেশিন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা ইত্যাদি। এতোসব সম্পূরক প্রশ্ন ও নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের চরম মতদ্বন্দ্বের কারণে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেন আদৌ কি নির্বাচন হবে! ক্ষমতা তৃতীয় কোন অপশক্তির কাছে চলে যাবে না তো! আমি ব্যক্তিগতভাবে দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করি- প্রথম ও দ্বিতীয় অপশন কোনটি নয়, যে ফর্মূলায়ই হোক নির্ধারিত সময়ে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু আমার মূল সংশয় হচ্ছে আমরা তথাকথিত নয়টি সংসদ নির্বাচন থেকে প্রাপ্ত চিরচেনা অধিকতর অকার্যকর সরকারের দৌরাত্ম্য থেকে বের হয়ে আসতে পারবো কি? অতীত নির্বাচনগুলোতে জনগণ নির্দিষ্ট দলের প্রতীক দেখে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে এবং অতি কম সময়ে হতাশ হয়েছে। মূল কারণ হচ্ছে- ঐ প্রতীকসর্বস্ব লোকটি কালোবাজারী, ঋণখেলাপী, সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ এসমস্ত চিত্তাকর্ষক বিশেষণমুক্ত কি না ভেবে দেখেনি। অতীত ইতিহাস বলে উপর্যুক্ত গুণে গুণান্বিত ব্যক্তিকে তারা অপছন্দ করতে পারেনি। আসন্ন নির্বাচনেও যদি জনগণ পছন্দের পরিবর্তন না করতে পারে তাহলে আগামী নির্বাচনও শুধু আরেকটি প্রতীকী নির্বাচন হয়েই থাকবে দেশ ও জাতির জন্য। ভোটারদের যথার্থ মূল্যবোধসম্পন্ন মূল্যায়নের উপর নির্ভর করছে আগামী নির্বাচনের আদর্শিক গুরুত্ব। প্রতীক নয়- আদর্শই রাষ্ট্রের গৌরবোজ্জ্বল ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে পারে।

ধৈর্য

ইংরেজি বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ,

সরকারি সা'দত কলেজ, করটিয়া, টাংগাইল

০০০

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার দু'টি শব্দকে একটিতে পরিণত করতে হবে

বাংলাদেশ সম্ভাবনার দেশ— তাই আমাদের উচিত হবে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি না করে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতার মধ্যে আসা। তাহলে আগামী নির্বাচন হবে সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য। ক্ষমতাসীন দল চায় অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন আর বিরোধীদল চায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন। দু'দল দু'রকম কথা। রাজনীতিকভাবে এই দু'টি কথা হচ্ছে তাই রাজনৈতিকভাবে এর সমাধান হওয়া উচিত। কোন রাজনীতিক দল যদি মনে করে এদেশে যেভাবে নির্বাচন হয়ে থাক আমি জয়ী হব, তার এ বিশ্বাস থাকে তাহলে তো দু'টি কথা এক হয়ে গেলো। এখন অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন হলে তা গ্রহণযোগ্য না হতে পারে কারণ এটা নতুন একটা ধারা। তত্ত্বাবধায়ক তো আর নতুন ধারা নয়, তাই এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে। আর যখন নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা না হবে, তখন দেশের মাঝে আবার অরাজকতা সৃষ্টি হবে। কিন্তু আমি বলতে চাই—দেশের মানুষকে কষ্ট না দিয়ে সহজে এবং সাধারণভাবে রাজনৈতিক-এর মাঝে ফিরে আসলে ভাল হবে। দেশের মাঝে হট্টগোল সৃষ্টি হলে তো সাধারণ মানুষের ক্ষতি। কিন্তু যারা দেশের জনগণের জন্য নির্বাচন করবে তারা কেন মানুষের ক্ষতি চাইবে। তাই বলছি- জনগণের স্বার্থে সংলাপে বসে সমাধান করার প্রয়োজন। আমরা দু'দল যদি না বুঝি বিশেষজ্ঞদেরকে নিয়ে বসে দু'টিকে একে পরিণত করা উচিত বলে আমি মনে করি।

দেলোয়ার হোসেন

অর্থনীতি বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ,

সরকারি তিতুমীর কলেজ

০০০

দু'টি প্রধান দল একই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারলে দেশ আরও ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হবে

১৯৭১ সালে অনেক আন্দোলন, ত্যাগ এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি আমাদের স্বাধীনতা এবং পেয়েছি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। গণতান্ত্রিক একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে সকল ক্ষমতার উত্স সাধারণ জনগণ। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের পছন্দের এবং যোগ্য দলের হাতে তুলে দিবে দেশ পরিচালনার মহান দায়িত্ব। কিন্তু আজ যেন তার বিপরীত দিকটায় দেখা যাচ্ছে। দেশের দুই প্রধান দল নির্বাচন নিয়ে অবস্থান নিয়েছে বিপরীতমুখী অবস্থানে। বিরোধী দল চাইছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আর সরকারি দল চাইছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সরকারি দলের অধীনেই হবে নির্বাচন। দু'দলই তাদের সিদ্ধান্তে অনড়। যার ফলে বেড়েছে রাজনীতিক প্রতিহিংসা, হরতাল, অবরোধ, ভাংচুর, গ্রেফতার, নৃশংস হত্যা, গুম, মারামারি। যার পরিণতি হিসেবে চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। রাজনীতিক ক্যাডারদের হাতে প্রাণ হারাতে হচ্ছে বিশ্বজিতের মত নিরপরাধ সাধারণ জনগণের। মা-হারা হচ্ছে রিফাত ও রশ্মির মত অবুঝ বাচ্চারা, জেলে যেতে হচ্ছে রিপনের মত হাজারো নিরপরাধ পথযাত্রীকে। আমরা তরুণ সমাজ এবং দেশের সাধারণ জনগণ চাই শান্তি, জীবনের নিশ্চয়তা এবং সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তাই আমাদের বিশেষ আহবান সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ই সংলাপে বসুন এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থে একটি সিদ্ধান্তে আসুন। কেননা দু'টি প্রধান দল একই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারলে দেশ আরও ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হবে। ক্ষমতায় টিকে থাকার অসত্ লড়াই বন্ধ করুন। সাধারণ জনগণের কল্যাণে ও দেশের উন্নয়নের কাজে নিজেদের নিয়োজিত করুন। দেশকে একটি অবাধ, সুষ্ঠ ুও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিন। নির্বাচনে যেই নির্বাচিত হোক না কেন তাঁকে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মত শুভেচ্ছা জানিয়ে হাতে হাত মিলিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করার জন্যে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোন।

তানজিনা সুলতানা রিক্তা

বিবিএ, ৩য় সেমিষ্টার

মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চাচ্ছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
9 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ১৬
ফজর৩:৫৫
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:২০সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :