The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ জানুয়ারি ২০১৩, ২৭ পৌষ ১৪১৯, ২৭ সফর ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ভারতে ট্রাক দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত | ডিএসই: সূচক বেড়েছে ১০ পয়েন্ট | শ্যাভেজের বিলম্বিত অভিষেক বৈধ: আদালত | আজ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস | ১০ ঘন্টা পর মাওয়ায় ফেরি চালু

ব্যালট ও ইভিএমে সংসদ নির্বাচন

নির্বাচনে সকল মন্ত্রণালয় ইসির অধীন, কমিশনকে সহযোগিতা না করলে শাস্তি

সাইদুর রহমান

এখন থেকে শুধু ব্যালট পেপারে নয়, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) সংসদ নির্বাচনের জন্য আইনের সংশোধনী চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। খসড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ২৬ (এ) ধারায় ইভিএম অন্তর্ভুক্ত করে সরকারের কাছে শিগগিরই প্রস্তাব পাঠাচ্ছে কমিশন। ফলে আগামী দশম সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। একইসঙ্গে আরপিও সংশোধন করে প্রস্তাবিত খসড়ায় সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার পর নতুন সংসদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত সকল মন্ত্রণালয়ের

নিয়ন্ত্রণ চাওয়া হয়েছে। নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ কমিশনের আদেশ পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক 'ইত্তেফাক'কে বলেন, সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে আগামী সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রস্তাবিত খসড়ায় চারটি নয়, নির্বাচনকালে সব মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব চেয়ে প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। ইভিএমের বিষয়ে প্রস্তাবিত ২৬ (এ)তে বলা আছে, 'নির্বাচনী আসন বা আসনগুলোর অথবা নির্বাচনী আসনের যে কোন পোলিং স্টেশনে নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটিং মেশিনে ভোট দেয়া, ভোট লিপিবদ্ধকরণসহ প্রত্যেকটি বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে কমিশন অবগত থাকবে। ভোটিং মেশিন বলতে যে কোন মেশিন অথবা যন্ত্রপাতি যান্ত্রিক উপায়ে পরিচালিত হয়ে ভোট গ্রহণ এবং সংরক্ষণ করবে। ভোটিং মেশিনের পাশাপাশি ব্যালট বাক্স বা ব্যালট পেপার নির্বাচনের ভোট গ্রহণে ব্যবহার করা যাবে।' গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে খসড়ায় ইভিএম অন্তর্ভুক্ত করায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলো। ফলে আংশিক নির্বাচনী এলাকায় ইভিএম ব্যবহার করার লক্ষ্যেই আইনী পরিবর্তন করা হচ্ছে। এতে ব্যালটের পাশাপাশি ইভিএমও আগামী নির্বাচনে ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও ইভিএম ব্যবহার নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বরাবরই বিরোধিতা করে আসছে। তবে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা নির্বাচনের পর শুধু জাতীয় নির্বাচনে নয়, এবার উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা-ভাবনা চলছে। রংপুর সিটি করপোরেশনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে সফল ইভিএম ব্যবহারের পর এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য নতুন করে ১ হাজার ইভিএম মেশিন ক্রয় করা হচ্ছে। যেহেতু নিজস্ব জনবলে সফলতা এসেছে সেহেতু বৃহত্ পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করার উপর জোর দেয়া হয়েছে। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নতুন করে ইভিএম ক্রয় করার প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। যে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মেশিনগুলো ক্রয় করা হবে-তাদের কাছ থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণও গ্রহণ করা হবে।

২০১০ সালের জুনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বুয়েটের সহায়তায় ইভিএম ব্যবহার করে বিগত নির্বাচন কমিশন। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ব্যবহূত এখনো ১৩০টি ইভিএম আজ পর্যন্ত ফেরত আনা হয়নি। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর সীমিত পরিসরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও ব্যবহার করা হয় ইভিএম। গত বছরের ৫ জানুয়ারি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সব কয়টি ওয়ার্ডে ব্যবহার করা হয় ইভিএম। এছাড়াও গত বছরের ১৯ জানুয়ারি নরসিংদী পৌরসভার উপ-নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহার করে কমিশন। বর্তমানে কমিশনের কাছে ১২৩০টি ইভিএম রয়েছে।

আদেশ পালনে ব্যর্থ হলে শাস্তি

আরপিও'র খসড়া অনুযায়ী ৪৪ (ই)তে বিগত কমিশন যে চারটি মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাব দিয়েছিল, সেখানে নির্বাচনকালীন সময়ে সকল মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে কমিশনের মতামত গ্রহণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সংসদ ভেঙ্গে যাওয়া পর থেকে নতুন কোন সংসদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রণালয়গুলো কমিশনের মতামত গ্রহণ করবে। আর কমিশনকে না জানিয়ে নির্বাহী বিভাগের কাউকে নির্বাচনকালীন কাউকে নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন করলে ৮৬ (এ) (বি) ধারায় শাস্তির বিধান থাকছে। বলা আছে, যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ কমিশনের আদেশ পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে শাস্তি হিসেবে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থ জরিমানা রয়েছে। ৫ (১) ধারায় উল্লেখ থাকছে, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কমিশনের যে কোন আদেশ মানতে বাধ্য থাকবে। প্রস্তাবিত খসড়া পাস হলে আগামী নির্বাচনে কোন বিদ্রোহী প্রার্থী অংশ নিতে পারবেন না। ইসির প্রস্তাবে আরপিও'র ২ নং ধারা (ক) (৬) 'প্রতিদ্বন্দ্ব্বী প্রার্থী'র সংজ্ঞা পরিবর্তন ও ১৬ নং ধারা (ক) পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে। এতে সুস্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পরে প্রতীক বরাদ্দের জন্য দল যাকে চূড়ান্ত করবে তিনিই হবেন একমাত্র দলীয় প্রার্থী। বাকীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার হয়েছে বলে গণ্য হবে।' হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও সদস্যপদ বাতিলের সুযোগ থাকা, প্রার্থীদের নির্বাচন ব্যয় ১৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকায় উন্নীতকরণ, প্রার্থীর জামানত ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকায় উন্নীতকরণ, নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ব্যয় বৃদ্ধি করা, দলীয় প্রধানের নির্বাচনী খরচ নির্ধারণ, জরিমানার অংক নির্ধারণ, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল স্পষ্টকরণ, নির্বাচনী আচরণ বিধির শাস্তি আরও কঠোর করা, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অপরাধের জন্য তাত্ক্ষণিক শাস্তির বিধান করার মতো বিষয় রয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অপরাধের জন্য তাত্ক্ষণিক শাস্তি হিসেবে স্ট্যান্ড রিলিজের বিধান রাখা, নির্বাচন-পরবর্তী ১ মাস নির্বাচনী কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা, প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় যাচাইয়ে মনিটরিং কমিটি রাখা, তৃণমূল থেকে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি প্রমাণসহ যাচাই করা, মনোনয়ন পেতে দলে ৩ বছর থাকাটা বাধ্যতামূলক করা, নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক ভিডিও ক্যামেরা রাখা, প্রতিটি আসনে কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষক থাকা, প্রার্থীর প্রচারণামূলক পোস্টারে প্রেসের নাম ও মুদ্রণকৃত পোস্টারের সংখ্যা উল্লেখ করা, প্রচারণাকালীন এক সপ্তাহ পরপর রিটার্নিং অফিসারের কাছে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব প্রদানসহ আরপিওতে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন। পাশাপাশি নবনিযুক্ত জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর তিন বছর অতিক্রান্ত না হলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ না পাওয়ার বিধানটিও অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ড. শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন নির্বাচনী আইনের বেশকিছু সংস্কার প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠালেও তা গৃহীত হয়নি। বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পরপরই তাদের মতামতের জন্য ইসি'র কাছে ফেরত পাঠায় আইন মন্ত্রণালয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯৫টি ধারার ৪০টির সংশোধনী এনেছে কমিশন। গত তিন মাস কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে চারজন কমিশন চুলচেরা বিশ্লেষণ করে খসড়া চূড়ান্ত করেছে। আগামী সপ্তাহেই এ খসড়া ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চাচ্ছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
1 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ২০
ফজর৩:৫৭
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫০
এশা৮:১২
সূর্যোদয় - ৫:২২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :