The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৪, ০৫ মাঘ ১৪২০, ১৬ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ সামপ্রদায়িক সন্ত্রাস বন্ধে আইন করতে হবে: ইমরান এইচ সরকার | যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো মন্তব্য করবে না পাকিস্তান | ফেব্রুয়ারিতে উপজেলা নির্বাচন: সিইসি | নাটোরে ইউপি চেয়ারম্যান খুন | সাতক্ষীরার যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ১

[ শ্র দ্ধা ঞ্জ লি ]

সুচিত্রা সেন বেঁচে থাকবেন

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

সকালে ঘুম থেকে উঠে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন সম্পর্কে পত্রিকায় রিপোর্ট পড়ছিলাম। তার অবস্থার উন্নতি ঘটেছে বলে অনেকটা উত্ফুল্ল হয়ে উঠেছিলাম। কিছুদিন আগে আমি একটি ইংরেজী দৈনিকে তার সুস্থতা কামনা করে একটি লেখা লিখেছিলাম। মনে মনে সন্তুষ্টি নিয়ে ভাবলাম স্রষ্টা আমার মত কোটি কোটি বাঙালির প্রার্থনা হয়ত মঞ্জুর করেছেন। হঠাত্ বিনা মেঘে বজ পাতের মত টেলিভিশনের স্ক্রলে দেখলাম আমাদের প্রিয় মহানায়িকা এ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চির বিদায় নিয়েছেন। এ ব্যাপারে শোকাভিভূত সারা বিশ্বের বাঙালি দর্শকের সাথে আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাও।

কয়েকদিন আগে আমার ছোট বেলা, তরুণ বয়স ও যৌবনের বন্ধুদের সাথে আলোচনা করছিলাম। তারা বলছিলেন যে সুচিত্রা সেনের ভক্ত, অনুরক্ত ও অনুসারী নয় এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সে আলোচনায় প্রকাশ পেল যে নতুন প্রজন্ম তার ছবিগুলোকে গতানুগতিক ও ধীর গতির মনে করে। আমাদের কালে আমরা তেমন বোধ করি নাই বা এখনও করছি না। গতকালকে ও তার অভিনীত হার মানা হার ছবিটি দেখছিলাম এবং মহানায়িকার সুস্থতার জন্যে এক মনে প্রার্থনা করছিলাম।

আমরা আগেই তাকে হার্টথ্রব বা আইকন হিসাবে চিহ্নিত করেছি। আমাদের কাছে সেই আগের সুচিত্রা সেন আগের মতই রয়েছেন। ১৯৭৮ সালে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেলেও তা ছিল শাপে বর। ১৯৭৮ সালের পর থেকে তার স্বাস্থ্য, দৈহিক অবয়ব ও সৌন্দর্যে দ্রুততর পরিবর্তন ঘটেছে কিন্তু লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে তিনি আমাদের কৈশোর ও যৌবনের সুচিত্রা সেনই রয়েছিলেন।

সুচিত্রা সেন অভিনয়ে আসেন ১৯৫৩ সালে। তার জন্ম ১৯৩১ সালে আমাদের পাবনাতে হলেও তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে ভারতে চলে যান। সেটা ছিল দেশ বিভাগের একদিন পর। জন্মকালে তার নাম ছিল রমা দাসগুপ্ত যাকে বাবা কৃষ্ণা বলে ডাকতেন। অনিন্দ্য সুন্দরী ও ফর্সা অবয়বের অধিকারী এই শিশুটিকে বাবা কেন কৃষ্ণা বলে ডাকতেন তার রহস্যাবৃত রয়ে গেল। ১৯৪৭ সালে তার বিয়ে হয় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও ঐতিহ্যবাহী দীননাথ সেন পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য দিবানাথ সেনের সঙ্গে। বিয়ের পর তিনি স্বামীর পদবী গ্রহণ করেন। তবে চলচ্চিত্রে সুচিত্রা সেন নামে আবির্ভূত হন। তার প্রথম অভিনীত ছবি শেষ কথা কোনদিন আলোর মুখ দেখেনি। ১৯৫৩ সালেই তিনি উত্তম কুমারের সাথে জোট বদ্ধ অভিনয় শুরু করেন।

সে সময় উত্তম কুমার সুপার-ডুপার ফ্লপ হিরো হিসাবে পরিচিত ও চিহ্নিত ছিলেন। সুচিত্রা সেনের সাথে অভিনয়ের শুরুতে শুধু সুচিত্রার প্রসার নয়, উত্তমেরও প্রসার ঘটতে থাকে। উত্তমের সাথে অভিনীত তার প্রায় ৩১টি ছবি ও অন্যান্য সুখ্যাত অভিনেতাদের সাথে অভিনীত তার কোন ছবি কখনও ফ্লপ হয়নি, বরং ক্রমশঃ তিনি তরুণ ও যুবকের আরাধ্য দেবী, হার্টথ্রব ও আইকন হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। তার কালে সমাজটি ছিল অতীব সংস্কারে বাধা। শুধু মুসলমান নয় হিন্দু মেয়েরাও বোরকা বা দীর্ঘ আচ্ছাদন পরত যাতে দেহ ও মুখশ্রী ঢাকা থাকত। তার আগে চলচ্চিত্রে বা নাটকে পুরুষেরা মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করত। সুচিত্রা সেনদের কিছু আগ থেকে এই রীতি ব্যাপকভাবে ভাঙ্গতে থাকে। যেকালে সমাজের ও নারীদের এমন দূরবস্থা, সেকালে সুচিত্রা সেনের ন্যায় অনিন্দ ও বিরল মুখশ্রী, দীর্ঘকেশ ও পরিমিত উচ্চতার মহিলা অভিনয়ে এসে আলোড়ন সৃষ্টি করলেন। তার অভিনয় প্রতিভা, ব্যক্তিত্ব, মুখের অপূর্ব গঠন ও প্রকাশ, চুলের বিন্যাস ও অভিনয়ে প্রেমের অপূর্ব অভিব্যক্তি তাকে স্বপ্নপুরীর রানীতে পরিণত করে। তার ঠোঁটে শুনা বিভিন্ন শিল্পীর গানগুলো ছিল হূদয়স্পর্শী। মনে হোত অন্তরের গভীরতম প্রদেশে লুকায়িত ভাবাবেগকে যেন টেনে তুলে আনছে। আমরা আবেগাপ্লুত ও অভিভূত হতাম। তার অভিনীত বহু ছবি দেখতে গিয়ে দর্শক সিনেমা হলে বসে ফুপিয়ে কেঁদেছে কিংবা কখনও উচ্চ-সিত হয়ে হাসিতে নিজের উল্লাস প্রকাশ করেছে।

সেকালে ফ্রন্ট স্টলে সিনেমার টিকেটের দাম ছিল তিন আনা কিংবা পাঁচ আনা। সে অর্থ যোগাতেও আমাদের হিমসিম খেতে হোত। পরিচিত সিনিয়ররা ও বন্ধু-বান্ধব অনেক অভিনব পন্থায় সে অর্থ সংগ্রহ করত। আমার সিনিয়ররা ছোট বেলায় বিনা পয়সায় বিড়ি বা সিগারেট উপভোগ করতে আমাকে ফুসলিয়ে বিড়ি খাওয়ায় অভ্যস্ত করেছিল। তাদেরই কেউ কেউ বিনা পয়সায় সিনেমা বিশেষত সুচিত্রা-উত্তমের সিনেমা দেখতে আমাকে সুচিত্রার ছবির সাথে পরিচিত করেছিল। বাজারে তখন মুদ্রিত আকারে সুচিত্রার ফিল্মের গানগুলো পাওয়া যেত। হেড়ে গলায় সে সব গাওয়ার মহড়াও আমরা দিতাম।

১৯৫২ সালে আমি স্কুলে যাওয়া শুরু করলেও ১৯৫৭ সালের দিকে আমি সুচিত্রা অভিনীত সিনেমার একজন অন্ধ ভক্ত ও সমজদার হয়ে পড়ি। ভারতীয় চলচ্চিত্র তখনও পূর্ব পাকিস্তানে দেখান হোত। আমরা ফ্রন্ট স্টলে বসে কখনও ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সুচিত্রার ছবি দেখতাম। আমাদের অনেকেই বাজার সওদাইর পয়সা বাঁচিয়ে বা অন্য কৌশলের আশ্রয় দিয়ে সুচিত্রার ফিল্ম দেখার অর্থ যোগাত। আমাদের এক বন্ধুর এসব সুযোগ ছিল না বলে সে পয়সা যোগাতে অভিনয় পন্থা অবলম্বন করেছিল।

তাদের পরিবারটি মোটামুটি সচ্ছল গৃহস্থ পরিবার ছিল। তাই ধানের গোলায় বা চালের গোলায় প্রচুর ধান ও চাল থাকত। চালের গোলায় চাল ভরে গোলার মুখ অতি যত্ন করে লেপে রাখা হোত এবং প্রয়োজনে ঢাকনা খুলে চাল বের করে আনা হোত। আমাদের সেই বন্ধুটি প্রতিদিন গোলা ঘরে ঢুকত এবং দীর্ঘ সময় কাটাত। সেসব দেখে তার বাবা দীর্ঘ সময় গোলা ঘরে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে সে বলল যে সে তেলাপোকা ধরছে এবং সেগুলোকে মক্কায় পাঠিয়ে দেবে। তার হেয়ালীময় কথায় বাবা আর দ্বিতীয় বাক্য উচ্চারণ করেননি। ইতোমধ্যে আমাদের বন্ধুটি ঢোলের নিম্নাংশ ছিদ্র করে প্রতিদিন কিছু চাল বের করে আনত এবং তা বাজারে বিক্রি করে সিনেমা দেখত। এসব করতে করতে ঢোলের আধা প্রায় শূন্য হয়ে গিয়েছিল। একদিন পরিবারে চালের স্বল্পতার কারণে তার বাবা ঢোল থেকে চাল আনতে গিয়ে ঢাকনার উপর চড়লেন এবং মুহূর্তেই ঢোলের প্রায় নিম্নাংশে পড়ে গেলেন। এবারে তিনি ছেলের তেলাপোকা ধরা ও সে সব মক্কা পাঠানোর রহস্য খুঁজে পেলেন। পরে জানা গেল তিনিও সুচিত্রা ভক্ত। আমরা আরও জানতে পারি যে, আমাদের কোন কোন বয়োজ্যেষ্ঠ ও সহপাঠীরা সুচিত্রার কোন কোন ছবি শতাধিক বার দেখেছিল। 'পথে হোল দেরী'তে সুচিত্রা কয়বার শাড়ী বদল করেছিল তা নির্ধারণের জন্যে একজন ৮২ বার সে ছবি দেখেছিল। অনেকেই সুচিত্রাকে নিয়ে কবিতা লিখত। আমার মত বাণিজ্যের ছাত্রের মাঝেও কবিত্ব ভর করেছিল। শুনেছি কেউ নাকি 'বিচিত্রা সেন' নামে কবিতা প্রকাশ করে মামলা-মোকদ্দমার সম্মুখীন হয়েছিল। সে ছিল সুচিত্রা সেন।

সুচিত্রার প্রথম সিনেমা 'শেষ কোথায়' কখনও মুক্তি পায়নি। তাঁর মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সিনেমা হচ্ছে — 'সাড়ে চুয়াত্তুর"। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৬১টি ছবিতে অভিনয় করেন। এ'সব ছবির মাঝে প্রায় ৩১টি যথা — সাড়ে চুয়াত্তুর, ওরা থাকে ওধারে, মরণের পরে, সদানন্দের মেলা, অন্নপূর্ণা মন্দির, অগ্নি পরীক্ষা, গৃহ প্রবেশ, সাপ মোচন, সাঁঝের প্রদীপ, সবার উপরে, সাগরিকা, একটি রাত, ত্রিসমা, শিল্পী, হারানো সুর, চন্দ্রনাথ, পথে হল দেরি, জীবন তৃষ্ণা, রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত, ইন্দ্রানী, সূর্য তোরণ, চাওয়া পাওয়া, বিপাশা, গৃহদাহ, কমললতা, নবরাগ, আলো আমার আলো, হার মানা হার এবং প্রিয় বান্ধবী ছবিতে তিনি উত্তম কুমারের সাথে অভিনয় করেন। উত্তমের সাথে তার প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল কিনা জানি না। তবে উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর তাকে দেখতে তিনি এক পুরোদিন ঘরের বাইরে ছিলেন। আর একবার ভোটার পরিচিতিপত্র সংগ্রহে লাইন দিয়ে ঘরের বাইরে এসেছিলেন। পরবর্তীতে দাদা সাহেব ফালকে'র ন্যায় উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন পুরস্কার গ্রহণের জন্য তিনি যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সে পুরস্কার হারান। উত্তম কুমার ছাড়াও সাঝঘর, মেজো বউ, ভালবাসা, আমার বউ, স্মৃতি টুকু থাক, উত্তর ফাল্গুনী এবং সন্ধ্যা দ্বীপের শিখা ছবিতে তিনি বিকাশ রায়ের বিপরীতে অভিনয় করেন। বসন্ত চৌধুরীর সাথে অভিনয় করেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য, শুভরাত্রি এবং দ্বীপ জ্বেলে যাই ছবিতে। এছাড়াও সৌমিত্র চ্যাটার্জীর সাথে অভিনয় করেন সপ্তপদী, মেঘ কালো এবং প্রণয় পাশা ছবিতে। তবে শুধু একটি করে ছবিতে অভিনয় করেন সমর রায় (সাত নম্বর কয়েদী), রবীন মজুমদার (এটম বোম), প্রসন্ন কুমার (ঢুলি), দীপক মুখোপাধ্যায় (বলয় গ্রাস), অশোক কুমার (হসপিটাল), উত্পল দত্ত ( ফরিয়াদ), সমিত ভূষণ (শ্রাবণ সন্ধ্যা) এবং রঞ্জিত মল্লিক (দেবী চৌধুরানী) -এর সাথে।

তাঁর অভিনীত বাংলা ছবিগুলোতে প্রেমের বাচনিক অপেক্ষা সাংকেতিক প্রকাশ ছিল বেশি। তাতে বাড়াবাড়ি নেই, কাড়াকাড়ি নেই, ছ্যাবলামী নেই, সংঘাত বা সংঘর্ষ কদাচিত দেখা যায়। আজকালকার মত দুনিয়ার সব কাজকর্ম ফেলে শুধু প্রেম, দাঙ্গা, মারামারি, লাঠালাঠির প্রকাশও নেই। এমনকি জাগতিক বাঙালিত্ব বিসর্জনের কোন চিহ্ন ও প্রবণতাও নেই। হিন্দি ছবি দেবদাস হতে শুরু করে বাকিগুলোতেও বাঙালিদের আবহমান জীবন, মূল্যবোধ ও চেতনা পরস্ফুিট রয়েছে।

তিনি ৭টি হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করলেও দিলীপ কুমারের সাথে 'দেবদাস' ছবিতে অভিনয় করে বিশেষ সুনাম ও কৃতিত্ব অর্জন করেন। তিনি প্রখ্যাত অভিনেতা দেবানন্দের সাথে 'দেখনে মে ভোলা হ্যায়' এবং 'বোম্বাই কা বাবু' ছবিতে অভিনয় করেন। এছাড়াও শেখরের সাথে 'মুসাফির', ভারত ভূষণের সাথে 'চম্পাকলি', সঞ্জীব কুমারের সাথে 'আন্ধি' এবং হিন্দি 'মমতা' ছবিতে ধর্মেন্দ্র ও অশোক কুমারের সাথে অভিনয় করেন। পূর্বেই বলেছি তার অভিনীত হিন্দি ছবিগুলোতেও তিনি তার চিরায়ত বাঙালিত্ব কদাচিত্ বিসর্জন দিয়েছেন।

২৬ বত্সরের অভিনয় জীবনে তিনি মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার, চার বার বি এফ জে এ পুরস্কার, ফিল্ম ফেয়ার এ্যাওয়ার্ড, পদ্মশ্রী পুরস্কার এবং বঙ্গবিভূষণ পুরস্কারে ভূষিত হন। আগেই বলেছি যে, আত্ম-নির্বাসন ছেড়ে তিনি প্রকাশ্যে আসেননি বলে ভারতের অতিশয় সম্মানজনক পুরস্কার 'দাদা সাহেব ফালকে' তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

তাঁর হিন্দি ফিল্মে অভিনয়ের শুরু থেকে আমাদের বাঙালিত্ব বোধ প্রখর হতে শুরু করে। পূর্ব বাংলার স্বাধীকার আন্দোলন ও ৬ দফার সাথে সম্পৃক্ততার কারণে তার হিন্দি ফিল্মে অভিনয় করাটা আমার ভাল লাগেনি। হিন্দি ফিল্মে অভিনয়ের সময় থেকে তিনি আমার হূদয়ের সেই আসনটি সম্পূর্ণ অটুট রাখতে পারেননি। ১৯৭৮ সালে অভিনয় ছেড়ে দিয়ে তিনি বরং ভালই করেছিলেন। সে সময় থেকে তার আকর্ষণীয় চোখ দুটো ম্রীয়মাণ হয়ে এসেছিল, চেহারা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটছিল এবং দেহ পল্লবী খানিকটা ভারিক্কি হয়ে যাচ্ছিল। আমাদের স্বপ্নের মহারাণী, ফিল্মের মহানায়িকা সময়মত সরে পড়ে বরং বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তবুও সুচিত্রাকে আমাদের মাঝে জীবিত থাকার জন্যে কামনাই প্রার্থনা করেছি, সময় পেলেই তার ছবি দেখেছি। একটি ছবি বার বার দেখেও তৃপ্তি পেতাম না। হয়ত ভবিষ্যতেও পাব না।

তাঁর মহাপ্রয়াণে জানি সারা বিশ্বের বাঙালিরা আলোড়িত হবে। কেউ কেউ উম্মে কুলসুমের মহাপ্রয়াণে যা ঘটেছিল তার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারেন। তার শেষকৃত্য বাংলাদেশের পাবনায় হওয়া সম্ভব হয়নি, তবে তার শ্বশুর বাড়ি ও বাবার বাড়িটি দখলমুক্ত করে তা ফিল্ম আর্কাইভে রূপান্তর করলে কোটি কোটি সুচিত্রা ভক্ত আনন্দিত হবে। বিশ্বে আবার পরিচিত হবে বাঙালিরা সংস্কৃতিবান, সৃষ্টিশীল ও উপ-মহাদেশের অনেক কৃতিত্বের দাবিদার হিসাবে। সুচিত্রা সেনের উত্তরাধিকার আমরা গ্রহণ করতে পারব। তার ব্যক্তিগত উত্তরাধিকার কন্যা মুনমুন সেন বা নাতনীদ্বয় এদেশেরই অন্যতম সম্পদ। মুনমুন পতি আমাদের কুমিল্লা/ত্রিপুরারই সন্তান। তার নাতনী সমপ্রতি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি 'দি বাস্টার্ড চাইল্ড' -এ অভিনয় করে বাঙালিত্ব আবার বরণ করেছে।

সুচিত্রা পারিবারিক ও বৈবাহিক জীবন শান্তি ও সৌহার্দময় ছিল না বলে ধারণা করা হয়। স্বামীর সাথে হয়ত উত্তমের কারণে বা অভিনয়ের কারণে তার তেমন বনিবনা ছিল না। মৃত্যুর ১৬ বছর আগেই পতির সাথে তার সম্পর্কচ্ছেদ হয়েছিল। তবু বলতে হয় A dissatisfied Socrates is better than a satisfied চরম । সুচিত্রা সেন অনন্তকাল বেঁচে থাকবে তার কর্মে ও আমাদের পরমাত্মীয় হিসাবে।

লেখক:মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ইইউ পার্লামেন্টে বাংলাদেশ বিষয়ে পাস হওয়া এক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, 'যেসব রাজনৈতিক দল সন্ত্রাসী তত্পরতা চালাচ্ছে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
3 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :