The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৪, ০৫ মাঘ ১৪২০, ১৬ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ সামপ্রদায়িক সন্ত্রাস বন্ধে আইন করতে হবে: ইমরান এইচ সরকার | যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো মন্তব্য করবে না পাকিস্তান | ফেব্রুয়ারিতে উপজেলা নির্বাচন: সিইসি | নাটোরে ইউপি চেয়ারম্যান খুন | সাতক্ষীরার যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ১

আন্ডার গ্রাজুয়েট কর্মকর্তার পোস্ট গ্রাজুয়েট কর্মচারী

ফারজানা মিলি

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লি. (পিজিসিবি) সরকার মালিকানাধীন একটি কোম্পানি ও দেশব্যাপী জাতীয় বিদ্যুত্ সঞ্চালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়া শুধু ডিপ্লোমা পাস ব্যক্তিদের ২য় শ্রেণির কর্মকর্তা (উপ-সহকারী প্রকৌশলী) হিসেবে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। আর উপ-সহকারী প্রকৌশলীর সমপর্যায়ভুক্ত ২য় শ্রেণির কর্মকর্তা 'জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক' পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয় স্নাতকোত্তর ডিগ্রিসহ তিন বছরের অভিজ্ঞতা। আমরা জানি যে, ডিপ্লোমাধারীগণ অবশ্যই আন্ডার গ্রাজুয়েট এবং ডিপ্লোমা ডিগ্রি এইচএসসি মানভুক্ত। কিন্তু ৩য় শ্রেণির কর্মচারী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয় বিএ/বিকম/বিএসসি পাস অর্থাত্ গ্রাজুয়েট ব্যক্তি। অথচ নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে স্নাতকোত্তর/ এমবিএসহ অন্যান্য প্রফেশনাল শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিও থাকেন। পিজিসিবিতে পরিস্থিতি এমন যে, আন্ডার গ্রাজুয়েট কর্মকর্তার পোস্ট গ্রাজুয়েট কর্মচারী। ফলে এই বৈষম্যের কারণে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তগণ আগে নিয়োগপ্রাপ্তদের মতোই নিয়োগপ্রাপ্তির পর মানসিকভাবে হতাশ হয়ে পড়েন এবং এদের ক্ষেত্রে বেতন বৈষম্যও বেশি পরিলক্ষিত হয়। শুধু তাই নয় এই শ্রেণির কর্মচারীদের কোনো পদোন্নতি দেওয়া হয় না তবে পদোন্নতির পরিবর্তে একই পদে রেখে শুধু পদবির সঙ্গে ৪ বছর পর গ্রেড পরিবর্তন করা হয় (সরকারি ২০টি গ্রেডের ধাপ নয়, এটা একই পদের ৪টি গ্রেড)। যেমন গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-৩, গ্রেড-২ ও গ্রেড-১ প্রদান করা হয়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এই যে, এই গ্রেড পরিবর্তনকেও কর্মচারীদের প্রমোশন বলে পিজিসিবি কর্তৃপক্ষ চালিয়ে দিচ্ছেন! তারপরও এ ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়ে কোটা পদ্ধতি। অর্থাত্ ৪ বছর কাজ করার পর গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-৩-এ যেতে হলে গ্রেড-৩-এ কোটা ফাঁকা না থাকলে সেটাও সম্ভব নয়। আর কোটা ফাঁকা থাকলে গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-৩-এ উন্নীত হয়ে বেতন বাড়ে ৫২০ থেকে সর্বোচ্চ ৬৪০ টাকা। পে-ফিক্সেশন করার পর বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা মাত্র যা উপহাস করা ছাড়া আর কী এবং এই গ্রেড পরিবর্তনকে পদোন্নতি বলাও আরেক ধরনের উপহাস। তাই একে প্রমোশন না বলে প্রহসন বলাই শ্রেয়।

অন্যদিকে নিয়োগপ্রাপ্ত ডিপ্লোমাধারীগণ পদোন্নতির এক তৃতীয়াংশ কোটা পেয়ে ৪ বছর পর উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী হন এবং তাঁদের বেতনস্কেল ১৮০০০ থেকে ২৬০০০ টাকা হয়ে থাকে। আর যাঁরা প্রমোশন পান না তাঁরা সিলেকশন গ্রেড পেয়ে ২২০০০ টাকার স্কেলভুক্ত হন। তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী পদোন্নতিও ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে। কিন্তু কর্মচারী পর্যায়ের কোনো সিলেকশন গ্রেড দেওয়া হয় না। তাই যদি কেউ কোটার ফাঁদে পড়ে গ্রেড পরিবর্তনের সুযোগটুকুও না পান তবে তিনি যেখানে ছিলেন সেখানেই তাঁকে থাকতে হবে। এটা কর্মস্পহা নষ্ট করার এক অপপ্রয়াস যা পরিবর্তন একান্তই প্রয়োজন।

একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ৪ বছর পর পর পদোন্নতি পেয়ে মোট ১৬ বছরে নির্বাহী প্রকৌশলী হন এবং তাঁর বেতনস্কেল শুরুতে ১৮০০০ টাকা হয়, নির্বাহী প্রকৌশলী হলে ৪৫০০০ টাকা দাঁড়ায়। অথচ একজন পোস্ট গ্রাজুয়েটধারী কর্মচারী যে পদে ছিলেন তাই থাকবেন শুধু এই ১৬ বছরে তাঁর স্কেল বাড়বে মাত্র ২৫০০ টাকা যা অমানবিক। আর এই পদগুলো হলো ব্যক্তিগত সচিব, অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী, স্টোর সহকারী ও নিরাপত্তা পরিদর্শক।

বর্ণিত সমস্য সমাধানে কিছু সুপারিশ পেশ করছি :

১. ব্যক্তিগত সচিব, অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী, স্টোর সহকারী ও নিরাপত্তা পরিদর্শক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ডিগ্রি এবং ৩ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। তাই এই পদগুলোকে গ্রেডমুক্ত করে জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক (অকারিগরি) পদে উন্নীত করা হোক—কেননা এই পদধারীগণ প্রশাসনিক কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকেন।

২. পিজিসিবিতে আলাদা প্রশাসন দপ্তর থাকা সত্ত্বেও শুধু প্রধান কার্যালয় ছাড়া হিসাব বিভাগের কর্মকর্তাগণ হিসাব ও প্রশাসন হিসেবে দেশব্যাপী কাজ করে থাকেন (জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক থেকে ব্যবস্থাপক পদ পর্যন্ত) এবং এই দুই দপ্তরের নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা ছিলেন পরিচালক (অর্থ)। পিজিসিবি-র পরিচালক পর্ষদ কর্তৃক হিসাব ও প্রশাসন দপ্তরকে আলাদা করা হয়। হিসাব বিভাগকে নির্বাহী পরিচালক (অর্থ)-এর নিয়ন্ত্রণে এবং প্রশাসন দপ্তর নির্বাহী পরিচালক (এইচআরএম)-এর নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কিন্তু প্রধান কার্যালয় ছাড়া দেশের অন্য দপ্তরগুলোতে হিসাব বিভাগের কর্মকর্তাগণ এখনও হিসাব ও প্রশাসন উভয়ই নিয়ন্ত্রণ করছেন যা নিয়ম বহির্ভূত এবং এর কোনো ভিত্তি নেই। তাই দেশের বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসনিক কাজগুলো ব্যক্তিগত সচিব, অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী ও স্টোর সহকারীদের জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) হিসাবে উন্নীত করে দায়িত্ব প্রদান করা যায়। এবং

৩. কোনো 'জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন)' যদি কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সচিব-এর দায়িত্ব পালন করেন তবে তাঁকে জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক (এটাচ টু জিএম/ডিজিএম) বলা যায় এবং হিসাব বিভাগে যেহেতু কমার্স ব্যাকগ্রাউন্ড প্রয়োজন। তাঁদের জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক (হিসাব) বলে অভিহিত করা যেতে পারে। এতে কাজের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না বরং কাজের ক্ষেত্রে মনোবল বৃদ্ধি পাবে ও হতাশা দূর হবে।

ঢাকা

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ইইউ পার্লামেন্টে বাংলাদেশ বিষয়ে পাস হওয়া এক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, 'যেসব রাজনৈতিক দল সন্ত্রাসী তত্পরতা চালাচ্ছে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
8 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ১৭
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৫০
এশা৮:১৫
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :