The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৪, ০৫ মাঘ ১৪২০, ১৬ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ সামপ্রদায়িক সন্ত্রাস বন্ধে আইন করতে হবে: ইমরান এইচ সরকার | যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো মন্তব্য করবে না পাকিস্তান | ফেব্রুয়ারিতে উপজেলা নির্বাচন: সিইসি | নাটোরে ইউপি চেয়ারম্যান খুন | সাতক্ষীরার যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ১

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল ও প্রাণবন্ত হউক

দেশের অর্থনীতিকে জিম্মি করিয়া রাজনৈতিক আন্দোলনের কৌশল কোনমতেই গ্রহণযোগ্য নহে। যদিও দশম জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে আমরা তাহাই লক্ষ্য করিলাম। রাজনৈতিক সেই অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতির নাভিশ্বাস উঠিয়াছিল। প্রাণশক্তি সম্পন্ন অর্থনীতির পূর্বশর্ত হইল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ইহাই সকল সংকটের প্রধান নিয়ামক। আর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কেবল অর্থনীতির চাকাকে বারংবার প্রতিবন্ধকতার জালেই আবদ্ধ করে। ইহাতে মৌলিক অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তাটুকুও পূরণ করা সম্ভব হয় না। গত কয়েক মাস ধরিয়া বাংলাদেশের অর্থনীতি এক চরম স্থবিরাবস্থা পার করিয়াছে। রাজনৈতিক সহিংসতা আমাদের অর্থনীতিকে এমন এক পর্যায়ে লইয়া যায় যেইখান হইতে সহসা মুক্তি যেন কঠিন হইয়া পড়ে। কল-কারখানাগুলিতে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কারণে বাড়িয়া যায় বেকারত্ব। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে নূতন সরকার গঠনের পর এবং বিএনপির ছয় মাস সহিংস কর্মসূচি এড়াইয়া চলার আশ্বাসে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জীবনযাত্রা ক্রমেই স্বাভাবিক হইয়া উঠিতে শুরু করিয়াছে।

ইহার আগে দেশের যেসব ব্যবসায়ী নূতন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করিয়াছিলেন তাহাদের পক্ষে পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং দক্ষ শ্রমশক্তিকে টিকাইয়া রাখাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। জানা মতে, প্রতিবত্সর প্রায় ১৮-২০ লক্ষ নূতন কর্মক্ষম লোকের আবির্ভাব হয় আমাদের দেশে। ইহার অতি নগণ্যই সরকারিভাবে নিয়োগ পায় যাহা ১০ হাজারের অধিক নহে। বাকিদের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়া থাকে। কিন্তু রাজনৈতিক সহিংসতায় এই বেসরকারিখাত অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার ধ্বংসসাধন, লাগাতার হরতাল, অবরোধ, ব্যবসা কেন্দ্রে আগুন ও ভাঙ্গচুর ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে সে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম প্রায় নিষ্প্রভ হইয়া পড়িয়াছিল। দেখা গিয়াছে, যেসব রাজনৈতিক গোষ্ঠী এহেন কর্মসূচি দিয়াছিল তাহাতে বহুলাংশে নিজেদের কর্মী-সমর্থকদেরও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করিতে পারে নাই। কেননা এই অস্থিরতায় কোনো না কোনোভাবে তাহারাও ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে। জীবন-জীবিকা বিপন্ন হইবার জোগাড় হইয়াছে।

উল্লেখ্য, কয়েক বত্সর টানা বৈশ্বিক মন্দা সত্ত্বেও দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তথা ক্ষুদ্র অর্থনীতির অবদানের ফলেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু এ বত্সরের বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, প্রাক্কলিত ৭.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ধারে কাছে পৌঁছিতে পারিবে না আমাদের অর্থনীতি। প্রবৃদ্ধি ৫.৭ এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকিবে। এই পরিস্থিতির জন্য হরতাল, অবরোধসহ সহিংস কর্মকাণ্ডই দায়ী। ইহাতে তৈরি পোশাক শিল্পের ক্রেতারা অর্ডার দিতে পারেন নাই। সময়মত মালামাল হস্তান্তর করা যায় নাই। বাংলাদেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই কাঁচামাল আমদানির উপর নির্ভরশীল। উপরোক্ত কারণে বন্দর হইতে ঐসব কাঁচামাল শিল্প প্রতিষ্ঠানে যথাসময়ে পৌঁছাইতে পারে নাই। দেশীয় ক্রেতাদের কাছেও মালামাল পৌঁছানো ছিল বিপজ্জনক। ইহাতে মালামাল পরিবহনের খরচ বাড়িয়া যায়। কেননা মালবাহী ট্রাক-লরিতে আগুন, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ছিল ভয়াবহ।

যাহা হউক, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। বাজার অর্থনীতিতে অর্থনীতি রাজনীতির উপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করিয়া থাকে। আবার রাজনীতি অর্থনীতির উপরও প্রভাব রাখিতে সক্ষম। আসলে ইহা পরিপূরক। তাই আমরা মনে করি, রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হিসাবে অর্থনীতিকে জিম্মি করা কোন রাজনৈতিক দলের সুবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত হইতে পারে না। ভবিষ্যতে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ এই ধরনের আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড হইতে নিজেদের বিরত রাখিবে বলিয়াই আমাদের বিশ্বাস। আমরা আশা করি, নূতন সরকার দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সাধন করিবে। অর্থনীতিকে করিবে গতিশীল ও প্রাণবন্ত। কেননা অর্থনীতি বাঁচিলে দেশের মানুষ বাঁচিবে। আর রাজনীতিতো মানুষের জন্যই।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ইইউ পার্লামেন্টে বাংলাদেশ বিষয়ে পাস হওয়া এক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, 'যেসব রাজনৈতিক দল সন্ত্রাসী তত্পরতা চালাচ্ছে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
3 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ১৩
ফজর৩:৫৪
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:৩৫
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:১৭সূর্যাস্ত - ০৬:৩০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :