The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৪, ০৫ মাঘ ১৪২০, ১৬ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ সামপ্রদায়িক সন্ত্রাস বন্ধে আইন করতে হবে: ইমরান এইচ সরকার | যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো মন্তব্য করবে না পাকিস্তান | ফেব্রুয়ারিতে উপজেলা নির্বাচন: সিইসি | নাটোরে ইউপি চেয়ারম্যান খুন | সাতক্ষীরার যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ১

দীপ জ্বালাইয়া গেলেন যিনি

তিরাশি বত্সর বয়সে গতকাল শুক্রবার যিনি চিরবিদায় লইয়াছেন—তিনি চিরকালের লাস্যময়ী মহানায়িকা—সুচিত্রা সেন। তিনি সম্ভবত জানিতেন কবি ওমর খৈয়ামের বিখ্যাত কবিতার সারকথা—প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হইয়া আসিবে একদিন। অর্থাত্ বয়সের নিষ্ঠুর থাবা-তুল্য বলিরেখা ছাপ ফেলিবে শরীরের সর্বকোণে। তাই যৌবনরেখা লীন হইবার পূর্বেই তিনি দর্শকহূদয়ে নিজেকে চিরযৌবনা রাখিতে চলিয়া গিয়াছিলেন অন্তরালে। তাহাও প্রায় তিন দশক পূর্বে। কিন্তু এইবার তিনি চির অন্তরালে চলিয়া গেলেন। অকালপ্রয়াত হইবার কারণে মেরিলিন মনরো যেইভাবে আজও চিরউদ্ভিন্ন-যৌবনা রহিয়াছেন, সেইভাবে সুচিত্রার পক্ষে সম্ভব ছিল না দর্শককূলের নিকট নিজেকে চিরন্তন সুন্দরীর নিরবচ্ছিন্ন ভাবমূর্তি বহাল রাখিতে। তাই বয়সের ছাপ গোপন করিতে আড়াল-বাস ব্যতীত তিনি আর কি করিতে পারিতেন? নিজের আবেদনময়ী ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখিতে তিনি সকলঅর্থেই মরিয়া ছিলেন। এমন কী জীবনের শেষদিন শেষকৃত্য অবধি তিনি প্রকাশিত হন নাই। নিজের বার্ধক্যরূপকে আড়ালে রাখিতেই তিনি ভারতের সর্বাধিক সম্মানিত পুরস্কার 'দাদাসাহেব ফালকে' পর্যন্ত গ্রহণ করিতে অস্বীকৃতি জানাইয়াছিলেন। ইহাকে আমরা কী বলিব? ইহা কি তাহার ভক্তকুলের প্রতিই গভীর নিষ্ঠা নহে, যাহাতে কোনোভাবেই চিড় না ধরে তাহার কুহক চাহনি আর সৌন্দর্যময় যৌবনের ভাবমূর্তিতে?

আমরা শ্রদ্ধা জানাই এইরূপ একনিষ্ঠ দর্শকসচেতন মহানায়িকার প্রতি। তিনি সেই সাদাকালো যুগের নায়িকা যখন সিনেমার রং ধূসর হইলেও কাহিনী ছিল কালারফুল। তাই ৬১ বত্সর পূর্বে বাংলা চলচ্চিত্রে তাহার অভিষেক ঘটিলেও তিনি তত্কালীন (এমনকি এই যুগের) দর্শকদের নিকট অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্রের সৌন্দর্যে অলংকৃত হইয়াছেন। জমাট গল্প, টান টান চিত্রনাট্য, অপূর্ব সঙ্গীত পরিচালনা, অসাধারণ অভিনয়—এমনই এক স্বর্ণযুগের অভিনেত্রী ছিলেন তিনি। সেই সময় সাহিত্যনির্ভর চিত্রনাট্য রচিত হইত, গান লিখিতেন প্রখ্যাত কবিরা। পরিচালনা করিতেন রুচিঋদ্ধ চলচ্চিত্রকাররা। তাই এখনও যাহারা তাহার সিনেমা দেখেন, তাহারা তাহার ঘোরে না মজিয়া পারেন না। তাহার আশ্চর্য হাসি, তাকানোর ভঙ্গিমা, চোখের ভাষা, কখনও নির্বাক কান্না, হঠাত্ হঠাত্ কটাক্ষপাত, ছোট আঁঁচলটি হঠাত্ই টানিয়া শরীরে জড়াইয়া নেওয়া—সব মিলাইয়া তিনি যেন রূপতৃষ্ণা মেটাইবার শীতল সলিল। একের পর এক রোমান্টিক ও বিচিত্র চরিত্রের বাংলা-হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করিতে করিতে তিনি, সুচিত্রা সেন তথা রমা দাশগুপ্ত, কখন যেন হইয়া উঠিলেন 'মহানায়িকা'। তাহার 'সাত পাকে বাঁধা' সিনেমাটি মস্কো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল তাহাকে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসাবে নন্দিত করে। হিন্দি সিনেমার লাস্যময়ী মধুবালার হাসি, মুখশ্রী, কখনও কখনও যেন মনে করাইয়া দেয়—আরে! ইহা তো সুচিত্রার হাসিরেখা! কয়েক দশক পরে মাধুরী দীক্ষিতেরও প্রায় একইরকম হাস্যচ্ছটা-মুসকান, চোখ আর ভ্রূর ভঙ্গিমায় দর্শককূল যেন নূতন করিয়া সুচিত্রা ম্যাজিক খুঁজিয়া পায়। হিন্দি ছবি 'আঁধি'-তে সুচিত্রা সেনকে দেখিয়া মনে হইতে পারে ইহা যেন ১৯৭০-'৭১ সালের ভারতের তেজস্বী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী! চুলের বিন্যাস, এমনকি সমগ্র মুখাবয়ব ও ভঙ্গিমার ভেতরে কোথায় যেন তাহারা মিলিয়া মিশিয়া একাকার হইয়া গিয়াছিলেন। তাহার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছবি 'দীপ জ্বেলে যাই'। 'এই রাত তোমার আমার...' গানের কথা ও সুর বোধকরি বহুকাল অবধি বাঙালির হূদয়ে শীতলঝড় তুলিবে, শরীর-কাঁটা করিবে।

জীবনের ২৬টি বসন্ত রূপালি পর্দায় পার করিয়া তিনি ইন্দ্রানী, সাগরিকা, হারানো সুর, সপ্তপদী, উত্তর ফাল্গুনী, শাপমোচন, পথে হলো দেরি-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ভারতের পদ্মশ্রী ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বঙ্গ বিভূষণে সম্মানিত হইলেও দশকের পর দশক দর্শককুলের হূদয়ে আসন পাতিয়া থাকিবার পুরস্কারের তুলনা কি মিলিবে খুব বেশি? চলচ্চিত্রজীবনে ৬০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেন বাঙালির এই স্টাইল আইকন। রূপালি পর্দায় তাহার অন্যতম প্রধান নায়ক উত্তম কুমার চিরবিদায় লইয়াছেন আরও তিন দশক পূর্বে। কিন্তু তাহাদের 'এই পথ যদি না শেষ হয়' আরও অনেককাল সত্য হইয়া থাকিবে। অনন্ত কুহকাচ্ছন্ন হাসির, রহস্যময় চাহনির, উচ্চারণের গাঢ় ভঙ্গিমার সুচিত্রা সেন বাঙালির নিকট চিরযৌবনা প্রিয় অভিনেত্রী হইয়া রহিবেন আরও বহুকাল।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ইইউ পার্লামেন্টে বাংলাদেশ বিষয়ে পাস হওয়া এক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, 'যেসব রাজনৈতিক দল সন্ত্রাসী তত্পরতা চালাচ্ছে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
3 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ১৩
ফজর৩:৫৪
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:৩৫
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:১৭সূর্যাস্ত - ০৬:৩০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: itt[email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :