The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৪, ০৫ মাঘ ১৪২০, ১৬ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ সামপ্রদায়িক সন্ত্রাস বন্ধে আইন করতে হবে: ইমরান এইচ সরকার | যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো মন্তব্য করবে না পাকিস্তান | ফেব্রুয়ারিতে উপজেলা নির্বাচন: সিইসি | নাটোরে ইউপি চেয়ারম্যান খুন | সাতক্ষীরার যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ১

মাড়ির রোগ থেকে হূদরোগ স্ট্রোক ডায়াবেটিস

অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী  সান্মানিক সিনিয়র কনসালটেন্ট ডিপার্টমেন্ট অব ডেন্টিষ্ট্রি বারডেম হাসপাতাল ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ চেম্বার:১৫/এ গ্রীণ রোড, ঢাকা

সমপ্রতি বিজ্ঞানিরা প্রমাণ

করেছেন যে, মাড়ির প্রদাহ বা ইনফেকশন থেকে দেহে

অনেকগুলো মারাত্মক রোগের উত্পত্তি ঘটতে পারে, যেমন হূদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। তাই আপনার মাড়িও ঝুঁকিপূর্ণ কিনা তা প্রমাণ করতে

হলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো,

কে গুরুত্ব দিতে হবে-

১. আপনার বয়স কত?

মাড়ির রোগ সাধারণত বয়সের সাথে সাথে বাড়তে থাকে। গবেষণায় দেখা যায়, বয়স্কদের বেশীর ভাগই পেরিওডেন্টাল

ডিজিজ হতে পারে তাই তাদের সঠিকভাবে মাড়ির যত্ন দরকার ।

২. আপনি পুরুষ না মহিলা

গবেষণায় দেখা যায় পুরুষ

অথবা মহিলাদের মধ্যে মাড়ির রোগটি জিনেটিক কারণে

ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। দেখা গেছে যে, মহিলারা পুরুষদের চাইতে বেশী মাড়ির যত্ন করলেও তাদেরই

বেশী মাড়ির সমস্যা হয়, এর

কারণ হলো মহিলাদের দেহে হরমোনের তারতম্য অনেক বেশী সময় ধরে চলতে থাকে, ফলশ্রুতিতে তাদের দেহের

বিভিন্ন টিস্যুর উপর প্রতিক্রিয়া

হয় যেমন মাড়ির টিস্যুর উপরও প্রতিক্রিয়া হয়।

৩. আপনার মাড়ি থেকে

কি রক্ত পড়ে?

মাড়ির রোগের অন্যতম একটি লক্ষণ হচ্ছে মাড়ি থেকে রক্ত পড়া। অনেক ক্ষেত্রে যিনি ধূমপায়ী তার মাড়ির প্রদাহ থাকলেও রক্ত নাও পড়তে পারে। আমাদের দেহের চামড়া থেকে রক্ত পড়লে আমরা যেমন সিরিয়াস হয়ে যাই তেমনি মাড়ি থেকে রক্ত পড়লেও আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলে প্রাথমিক অবস্থাতেই রোগ সনাক্ত করা সম্ভব।

৪. আপনার দাঁত কি নড়বড়ে ?

মাড়ির রোগটি হচ্ছে একটি মারাত্মক প্রদাহজনিত রোগ যা বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়া দ্ব্বারা সৃষ্টি হয় এবং এর কারণে টিস্যু এমনকি পার্শ্ববর্তী হাড়কে ও ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে। যদি মাড়ির প্রদাহ প্রাথমিক অবস্থায় অবহেলা করা হয় তবে পরবর্তীতে টিস্যু ও হাড়কে আক্রান্ত করার ফলে দাঁতের ভিত্তিও নড়বড়ে হয়ে যায়।

৫. আপনার মাড়ি কি ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ায় দাঁতকে লম্বা আকৃতির দেখাচ্ছে?

মাড়ির রোগের আরও একটি বিশেষত্ব হচ্ছে মাড়িগুলো আস্তে আস্তে দাঁতের অবস্থান থেকে সরে আসে ফলশ্রুতিতে দাঁতকে স্বাভাবিকের চাইতে লম্বা

দেখা যায়।

৬. আপনি কি ধূমপান করেন বা তামাক/ জর্দ্দা ব্যবহার করেন?

গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, তামাক ব্যবহারকারীদের মাড়ির ক্ষয়ক্ষতি অন্যান্য অধূমপায়ী বা যারা তামাক জর্দ্দা ব্যবহার করেন না তাদের চাইতে অস্বাভাবিক এবং বেশী পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

৭. আপনি কি কখনো ডেন্টিস্ট এর পরামর্শ নিয়েছেন?

প্রতিদিন দুইবেলা সকালে ও

রাতে দাঁত ব্রাশ আপনার মাড়ির আশপাশ থেকে খাদ্যকনা দূর করতে পারে কিন্তু সম্পূর্ণভাবে

নয়, এর জন্য প্রয়োজন বছরে অন্তত: দুইবার ডেন্টিস্ট এর সাহায্যে মুখ পরীক্ষা করানো ও দাঁতের স্কেলিং করানো।

৮. আপনি কি ফ্লস ব্যবহার করেন

গবেষণায় দেখা যায় নিয়মিত দাঁতের ফাঁক থেকে ডেন্টাল ফ্লসের সাহায্যে খাদ্য কণা বের করে আনতে পারলে মাড়ির প্রদাহ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

৯. বর্তমানে আপনার কি নিম্নের কতকগুলো রোগ হয়েছে?

যেমন হূদরোগ, অষ্টিওপরোসিস,অষ্টিওপেনিয়া অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও ডায়াবেটিস ইত্যাদি?

বর্তমান গবেষণায় দেখা যায়

মাড়ির রোগের সাথে উপরোক্ত রোগসমূহের সম্পর্ক রয়েছে।

মাড়ির রোগের সাথে যে সমস্ত ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু থাকে সেই সমস্ত জীবাণু রক্তের মাধ্যমে ঐ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ঢুকে যেতে পারে এবং জীবনটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যেতে পারে। তাই সুস্থ দেহ সুস্থ মাড়ির নিশ্চয়তা দেয়।

১০. আপনি কি কখনো জানতে পেরেছেন যে আপনার মাড়ি আক্রান্ত?

মাড়ির প্রদাহ সাধারণত শান্ত অবস্থায় থাকে অর্থাত্ ভয়াবহতা সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায় না । গবেষণায় দেখা যায় মাড়ির প্রদাহ যাদের প্রাথমিক অবস্থায় আছে তাদের ভবিষ্যত্ মাড়ির রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৬ গুণ বেশী।

১১. আপনার কি কোনো প্রাপ্তবয়স্ক দাঁত তুলতে হয়েছে?

আপনার প্রাপ্ত বয়সে যদি কোনো দাঁত তুলতে হয় তবে বুঝতে হবে মাড়ির এই প্রদাহ জনিত কারণে আরও দাঁত ভবিষ্যত-এ তুলতে হতে পারে, তবে আক্কেল দাঁত, টেরা-বাঁকা দাঁতের চিকিত্সায় বা দূর্ঘটনায় পতিত হওয়ার কারণে দাঁত তুলে ফেলবার সাথে মাড়ির রোগের কোনো সম্পর্ক নাই।

১২. আপনার পরিবারে কি কারো মাড়ির রোগ আছে?

গবেষণায দেখা যায়, যে ধরণের ব্যাকটেরিয়া বা জীবানু মাড়ির রোগের জন্য দায়ী সেগুলো মুখের লালার সাথে একজন থেকে অন্যজনে সংক্রমিত হতে

পারে। সেই কারণেই পিতামাতার মাড়ির রোগ থাকলে তা সন্তানের মধ্যে যেমন সংক্রমিত হতে

পারে তেমনি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও সংক্রমিত হতে পারে।

গবেষণায় আরো প্রমাণিত

হয়েছে যে, মোট জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ৩০ ভাগই কোনো

না কোনো ভাবে মাড়ির রোগে

আক্রান্ত হতে পারে।

নিয়মিতভাবে মুখ ও দাঁতের

যত্ন নেয়া সত্ত্বেও এই পরিমান জনগোষ্ঠীর মাড়ির রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় ৬ গুণ বেশী । তাই মাড়ির রোগটিকে অতি সাধারণভাবে না নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। যাতে এই রোগের কারণে হূদরোগ, স্ট্রোক বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আগেই প্রতিরোধ নেয়া যেতে

পারে এবং তার জন্য প্রয়োজন প্রতিদিন খাবার পর

ভালোভাবে কুলিকুচি করা ও

সকালে নাস্তার পর এবং রাতে খাবার পর দাঁত ব্রাশ করা।

সেই সাথে প্রতিদিন কিছু ফলমূল, শাক সবজির সাথে সালাদ গ্রহণ করা। বছরে অন্তত: দুইবার ডেন্টিস্ট এর সাহায্যে মুখ ও দাঁত পরীক্ষা করা এবং দাঁতের স্কেলিং করা। মনে রাখতে হবে, দুইবার দাঁত ব্রাশের সাথে ডেন্টাল ফ্লস করাটাও যেমন জরুরী তেমনি জীবছুলা দিয়ে জিহ্বা পরিষ্কার করাটাও বিজ্ঞাসম্মত।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ইইউ পার্লামেন্টে বাংলাদেশ বিষয়ে পাস হওয়া এক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, 'যেসব রাজনৈতিক দল সন্ত্রাসী তত্পরতা চালাচ্ছে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
8 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ১৬
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৫০
এশা৮:১৫
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :