The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৪, ০৯ মাঘ ১৪২০, ২০ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী ইউপি সদস্যের রগ কর্তন | জাহাঙ্গীরনগরের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য এম এ মতিন | ৭ মন্ত্রী-এমপির সম্পদ তদন্তে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ | ট্রাফিক ব্যারাকে লাশ, পুলিশ কন্সটেবল গ্রেফতার

স্মরণ

সুচিত্রা সেন এবং আমার প্রেম

মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন

সুচিত্রা সেন এবং আমার বাড়ি একই জেলা শহরে। ১৯৪৭ সনে বিয়ে করে তিনি পাবনা ছেড়ে কোলকাতা চলে যান। ১৯৬৩ সনে স্বামীর সাথে সুচিত্রার ছাড়াছাড়ি হওয়ার খবরটি পত্রিকায় পড়ে তার ব্যাপারে কৌতূহলী হয়ে উঠি এবং পরের দিনগুলোতে সিনেমা হলে গিয়ে তার ছবি দেখে তার একনিষ্ঠ ভক্ত হয়ে পড়ি। ১৯৬৮-৬৯ সনে আমি যখন কলেজ ছাত্র তখন সুচিত্রা সেনকে নিয়ে রীতিমত স্বপ্ন দেখা শুরু করি। হারানো সুর, দ্বীপ জ্বেলে যাই, শিল্পী, হাসপাতাল সবার উপরে ইত্যাদি ছবির গানের বই সংগ্রহ করে তখন আমি সেই সব ছবির গান মুখস্থ করে ফেলি। বন্ধু-বান্ধবের সামনে যখন, "এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায়, তুমি যে আমার, এই রাত তোমার আমার" ইত্যাদি গানের কলি আওড়াতাম তখন বন্ধু-বান্ধবও আমাকে বাহবা দিয়ে বলতো, "তোর গলায় তো সুর আছে রে"। আর এভাবে কৈশরেই সুচিত্রার' ভক্ত হয়ে যৌবনে এসে তার প্রেমে পড়ে গেলাম। ঐ কাঁচা বয়সেই সুচিত্রার চেহারা এক স্বর্গীয় নারীর রূপকল্প হিসেবে আমার মানসপটে আটকে গেল। কাঁচা বয়সে কাঁচা বুদ্ধিতেই তখন ভাবতাম পাবনার মেয়ে সুচিত্রা একদিন পাবনা আসবেনই। অন্তত সিনেমার কাজে হলেও তিনি এখানে আসবেন এবং আমার সাথে তার সাক্ষাত্ও হবে। বলতে গেলে এই জাতীয় চিন্তা-চেতনা সে সময়ে আমার মনকে আচ্ছন্ন কর ফেলেছিল। মোটকথা উঠতি বয়সেই আমি এক ধরনের সুচিত্রা পাগল হয়ে উঠেছিলাম। এভাবে চলতে চলতেই স্বাধীনতা যুদ্ধের দামামা বেজে উঠলো। সেই উত্তাল দিনসমূহে এসব ভাবার সময় না থাকায় যুদ্ধ শেষে অস্ত্র জমা দিয়ে আবার লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করলাম। পরে চাকরি জীবনে কিছু টাকা জমা করে পাসপোর্ট করে কোলকাতা চলে গেলাম এবং সুচিত্রার বাসার ঠিকানা যোগাড় করে বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে গিয়ে হাজির হলাম। বাসা খুঁজে বের করলেও সুচিত্রার সাক্ষাত্ পেলাম না। পাবনা হতে এসেছি বলায়, বলা হলো, তিনি কোলকাতার বাইরে এবং আরো এক সপ্তাহ পরে ফিরবেন। লম্বা ছুটি না নিয়ে যাওয়ায় ফিরে আসতে হলো। পরে যখন আবার যাবার পরিকল্পনা করলাম তখন জানতে পারলাম তিনি গুরু ভরত মহারাজের শিষ্য হয়েছেন এবং সন্নাস জীবন বেছে নেয়ায় কাউকেই সাক্ষাত্ প্রদান করেন না। অতঃপর ধীরে ধীরে সেসব ভুলে এই বয়সে নিজের জীবনের ভালমন্দ নিয়ে যখন চিন্তায় নিমগ্ন তখন সুচিত্রা সেনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিয়ে মিডিয়া সরগরম হয়ে উঠলো। আবার নতুন করে আমার মনে পড়ে গেল যৌবনে সুচিত্রা প্রেমিক হওয়ার সেইসব দিনের কথা। সুচিত্রার কথা আমার বাবাও বলতেন। বাবা বলতেন কৈশরে সুচিত্রা পূজা-পার্বণের সময় তৈরি মঞ্চে নাচতেন। সেসব কথা শুনে এবং সিনেমায় তার নাচ-গান, অভিনয় দেখে-শুনে কোটি কোটি মানুষের মত আমিও এক সময় তার ভক্ত, প্রেমিক এবং পরবর্তীকালে গুণমুগ্ধে পরিণত হয়েছিলাম। সুচিত্রার ভিটাটি খোলামেলা থাকায় সে বাড়ির আঙিনা এবং বারান্দায় গিয়ে আমি হাঁটাহাঁটি করে অনুভব করার চেষ্টা করতাম যে, ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত সুচিত্রাও এখানে হাঁটাচলা করতেন। এখন সে পাগলামির কথা মনে পড়লে হাসি পায়।

সুচিত্রা সেন দীলিপ কুমার, দেবানন্দ, অশোককুমার, উত্তম কুমারসহ বিখ্যাত সব অভিনেতার সাথে অভিনয় করে অভিনয় শিল্পে রুচির যে মানদণ্ড রেখে গিয়েছেন, বাংলার নারীর যে রূপ তিনি পর্দায় পরস্ফুিট করেছেন তা কেবলমাত্র তাকে দিয়েই সম্ভব ছিল। আজ তিনি নশ্বর দেহ নিয়ে পরপারে, কিন্তু তিনি অবিনশ্বর করে রেখে গিয়েছেন তার কীর্তি। বাংলাদেশ সরকার যদি তার বাড়িটি রাহুমুক্ত করে সেটি সুরক্ষিত করতে পারেন বা একটি সংগ্রহশালা বা ঐ জাতীয় কিছু করতে পারেন তাহলে তার প্রতি যেমন সম্মান দেখানো হবে তেমনি সুচিত্রা প্রেমিকসহ সকল ভারতবাসীর কাছে তা একটি আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত হবে।

লেখক: মুক্তিযোদ্ধা, কলামিস্ট

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, 'সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযান নিয়ে খালেদা জিয়া যা বলেছেন, তা দেশের জন্য অপমানজনক। এ জন্য জনগণের কাছে তার মাফ চাইতে হবে।' আপনি কি তার সাথে একমত?
1 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ২০
ফজর৩:৪৯
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৩৯
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :