The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৪, ০৯ মাঘ ১৪২০, ২০ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী ইউপি সদস্যের রগ কর্তন | জাহাঙ্গীরনগরের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য এম এ মতিন | ৭ মন্ত্রী-এমপির সম্পদ তদন্তে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ | ট্রাফিক ব্যারাকে লাশ, পুলিশ কন্সটেবল গ্রেফতার

রাজনীতিতে ইতিবাচক ধারার বিকল্প নেই

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সহিংসতায় দেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছিল ভীতিকর পরিস্থিতি। রাজনীতির আকাশ অশুভ কালোমেঘে ঢাকা পড়েছিল অনেকটাই। তবে এখন সেখানে 'সুবাতাস' বইতে আরম্ভ করেছে বলেই প্রতীয়মান হয়। অবশ্য পোড় খাওয়া মানুষকে মোটেও তা শঙ্কামুক্ত করতে পারছে না। ইতিবাচক ধারার প্রতি মোড় ফেরার লক্ষণ দেখা দিলেও তা স্থায়িত্ব পাবে কিনা সে বিষয়ে নানা মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে গত ২০ জানুয়ারি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জনসভায় বিএনপি'র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আবারও 'পিছনে' ফিরে যাবার মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। ইনিয়ে বিনিয়ে তিনি বর্তমান সরকারকে 'অবৈধ' বলেছেন। সরকার যদি অবৈধই হয়ে থাকে তবে সরকারের সঙ্গে আলোচনার দরজা খুলবে কীভাবে? তিনি যে আলোচনার কথা বলেছেন, সে আলোচনাও তো তাহলে অবৈধ হয়ে যাবে। তা হলে বলতে হয়, গাড়ির চাকা চলতে যাওয়ার মুহূর্তে কাদায় আটকে গেল!! তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষেত্রেও তিনি ঐ জনসভায় তার আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আরো অনেক কথাই তিনি বলেছেন যা রাজনৈতিক সভায় 'সাধারণ ভাষা' হিসেবে গণ্য করা যায় যদিও তা মাঝেমধ্যে খুবই 'কটু' বলে মনে হয়। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একই দিনে জামায়াত-শিবিরের উপর্যুপরি সন্ত্রাসী তত্পরতার কারণে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত সাতক্ষীরার জনপদ পরিদর্শনান্তে সেখানে আয়োজিত জনসভায় সন্ত্রাস-সহিংসতার বিরুদ্ধে তার সরকারের শক্ত অবস্থানের কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন। তা ছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং বিচারের রায় যেহেতু সাম্প্রতিক সহিংস ও সন্ত্রাসী এবং উত্তেজনাকর রাজনীতির প্রধান উত্স সেহেতু সামনে এ বিচার প্রক্রিয়ার চলমানতা এবং রায়-এর ঘোষণা কি নতুন করে রাজনীতির নামে সহিংসতা ও চরম সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটাবে না? সুতরাং এমতাবস্থায় ভিন্নধর্মাবলম্বী যারা কি-না অন্যতম মূল 'টার্গেট' তারাসহ আপামর জনগণ কীভাবে নিশ্চিন্ত হতে পারেন? অন্যদিকে ২০ তারিখের জনসভায় বেগম খালেদা জিয়া সন্ত্রাস দমনে যৌথ বাহিনীর তত্পরতাকে 'বক্র চোখে' দেখেছেন। তা হলে সন্ত্রাসের সঙ্গে সংযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অন্যাদিকে জনমনে স্বস্তিও তাদের নিরাপত্তা কীভাবে রক্ষিত হবে? অপরাধীদের বিচারের আওতায়ই বা কীভাবে আনা যাবে? বেগম খালেদা জিয়া দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারকে যদি অবৈধ মনে করেন তবে তিনি আদালতে যেতে পারেন। সন্ত্রাসের আশ্রয়-প্রশ্রয়সহ তা উসকে দিয়ে সমস্যার সমাধান যে হয় না তা-কি তিনি এখনও বুঝতে অপারগ হচ্ছেন? অথবা রাজনৈতিক আন্দোলন জমিয়ে তুলে সরকার উত্খাত করাও যে সহজসাধ্য নয় সে অভিজ্ঞতাও তিনি সম্প্রতি অর্জন করেছেন। সুতরাং বেগম খালেদা জিয়া এবং তার দল ও জোটকে নতুন করে সুস্থ ও সুন্দর মন নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভেবে দেখতে হবে।

তবে আপাতত প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট একটানা হরতাল, অবরোধের মতো কর্মকাণ্ড আর দিচ্ছে না। সে জন্য ভুক্তভোগী, কৃষক, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক, ভোক্তা শ্রেণি কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে শুরু করেছেন। আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল হতে শুরু করেছে। তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হলো নতুন করে বার্ন ইউনিটে রোগী আসছে না, জ্বলন্ত পেট্রোল বোমার আঘাতে নিরীহ বাসযাত্রীকে আর পুড়ে মরতে হচ্ছে না। দাউ দাউ করে বাস, টেম্পো, অটোরিকশা জ্বলতে দেখা যাচ্ছে না। 'দিন আনে দিন খায়' এমন শ্রমজীবী মানুষকে আর বেকার বসে থাকতে হচ্ছে না। সমগ্র দেশব্যাপী আবার কর্মচাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে। ট্রেন যাত্রীরা মোটামুটি নির্ভয়ে যাতায়াত করতে শুরু করেছেন। ফিসপ্লেট তুলে ফেলার মতো কর্মকাণ্ড পরিদৃষ্ট হচ্ছে না। জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় কেনা রেলের বগিতে আগুন জ্বলছে না। বোবা বৃক্ষগুলো নিজেদেরকে নিরাপদ ভাবতে শুরু করেছে। এসব ইতিবাচক তত্পরতা আসলে রাজনীতির সুস্থ্য ধারার প্রকাশ। অন্যদিকে রাজনীতির নামে প্রায় তিনমাস ধরে একটানা যা চলছিল তা আসলে রাজনীতি ছিল না— ঐ সব তত্পরতাকে নিঃসন্দেহে বলা যায় অপরাজনীতি' সন্ত্রাস সহিংসতা। এসব কিছুই মানবতা, গণতন্ত্র, সভ্যতা বিরোধী কার্যক্রম।

তবে এখনও সভ্যতা মানবতা এবং দেশের সংবিধান বিরোধী তত্পরতা অল্প মাত্রায় হলেও অব্যাহত রয়েছে। অল্প মাত্রা এ জন্যই বলা যায় যে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখে '৭১ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধের রায়ে মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় আসার পর থেকেই দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নধর্মাবলম্বীদের বাড়ি-ঘরে আগুন দিয়ে এবং তাদের পুজা মণ্ডপ, প্রতিমা ভাংচুর করে সহিংস তত্পরতার মাধ্যমে ভয়ভীতির সঞ্চার করা হতে থাকে। যেনো তারাই সাঈদীর বিচার করেছে। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক এবং মুক্ত চিন্তার মানুষরাও এই বর্বরোচিত হামলা থেকে রেহাই পাননি। যে যাই বলুন না কেনো ধারণা এবং অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় এ সব অপতত্পরতা, সন্ত্রাসী, অসভ্য বর্বরোচিত, সাম্প্রদায়িক এবং সহিংস কর্মকাণ্ড দেশের একটি 'চিহ্নিত' মহল থেকেই করা হয়েছে এবং এখনও সেই মহলটি সন্ত্রাস, সহিংস এবং রাজনীতির শিষ্টাচার বহির্ভূত অপতত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর হতে আরম্ভ হয়ে নতুন বছর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন 'বর্জন' এবং 'প্রতিরোধ' কার্যক্রম আরও সহিংস হয়ে ওঠে। সন্ত্রাস-সহিংসতার বৈশিষ্ট্য ও চরিত্র প্রায় একই রকম থেকে গেলেও তার মাত্রা এবং হিংস্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়। মিডিয়া এবং গণমাধ্যমের বদৌলতে ভিন্নধর্মাবলম্বীদের কান্না, হাহাকার নিরাপত্তাহীনতার ভয়-ভীতিপূর্ণ আকুতি-মিনতি অনেকেরই কর্ণ কুহর ভেদ করে অন্তর বিগলিত করছে। কারো কারো চোখে অশ্রু ঝরছে। আমরা যারা মক্তিযুদ্ধের সময়ের প্রজন্ম তাদের কাছে, জামায়াতের দ্বারা সংঘটিত এ সব কর্মকাণ্ড অভিনব মনে হয় না। তবে এটি সন্দেহাতীত ভাবে হতবাক হওয়ার মতো। কেননা এ রকম বাংলাদেশের জন্য আমরা যুদ্ধ করিনি। রক্তস্নাত হয়ে যে লাল-সবুজের পতাকার জন্ম হয়েছিল তা এভাবে নিজের 'মর্যাদা' হারাবে তা ভাবতেও কষ্ট লাগে। যারা '৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, তারা সাম্প্রতিক সময়ে সহিংস সন্ত্রাস বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মী এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর সংঘটিত বর্বর আক্রমণ থেকে কিছুটা আঁচ করতে পারে।

জামায়াত শিবির হুমকি দিয়েছিল যে 'যুদ্ধাপরাধীর বিচারের প্রহসন থেকে সরে না এলে তারা সারা দেশে আগুন জ্বালাবে' (৭১ সালের গর্জন)। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এই সাম্প্রদায়িক শক্তিটি ২০১৩ এবং ২০১৪ সালের প্রারম্ভে বাস্তবেও তাদের হুঙ্কার প্রমাণ করে দেখালো। অথচ মুক্তিযোদ্ধার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি জামায়াত-শিবিরের মতো অপশক্তিকে সমর্থন জানালো, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক বাহক বলে দাবিদার আওয়ামী লীগ সরকার কঠোর হাতে সন্ত্রাস এবং সহিংস কর্মকাণ্ড দমনে পারঙ্গমতা দেখাতে ব্যর্থ হলো বা হচ্ছে।

তবে গত কয়েকদিন থেকে বিএনপি'র রাজনীতি কিছুটা হলেও 'পথ' বদলেছে বলে মনে করা যায়। যে জন্য দলটি 'সাধুবাদ' পেতে পারে। প্রথমত, দলটি নতুন করে টানা হরতাল অবরোধ দেয়া থেকে বিরত থাকছে। এর কারণ হিসেবে একটি তীব্র গণআন্দোলন সৃষ্টির ব্যর্থতা, কিংবা আন্তর্জাতিক চাপ, অথবা দেশীয় অর্থনীতি ও জনদুর্ভোগের মতো বিষয় বিবেচনা—যা-ই হোক না কেনো সেটি বড় কথা নয়। পটভূমি বিশ্লেষনের চাইতে 'কর্ম' দিয়ে বিচার করাই শ্রেয়। দ্বিতীয়ত, এ কথা অনস্বীকার্য যে বিএনপি দেশের অন্যতম একটি বৃহত্ রাজনৈতিক দল—এ দলের ইতিবাচক রাজনীতি ব্যতীত দেশের শান্তি, সৌহার্দ্য, অর্থনৈতিক অগ্রগতি কোনটাই সম্ভব নয়। সে জন্য বিএনপির মধ্যে যদি চিন্তার ভ্রান্তি ও কর্মের কৌশলে পরিবর্তন আসে তাহলে তা অবশ্যই মঙ্গলজনক। তাই সরকারি প্রান্তে অবস্থানরত দল ও রাজনৈতিক শক্তিটিকে এই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে। বিএনপির জন্য সুস্থ ধারার রাজনীতির চর্চার পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে সহয়তা দিতে হবে। তবে এর মাধ্যমে সুস্থ্য ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার একটি সুযোগ আসতে পারে মাত্র। কিন্তু তা কতিপয় পরিস্থিতি এবং ঐক্যমতের শর্ত ব্যতীত স্থায়ী হবে কিনা সে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

বড় দু'টি দলের মধ্যে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে উত্তর-দক্ষিণ মেরুর মতো অবস্থান চলতে থাকরে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকা সম্ভব হবে না।

যে যেভাবেই ব্যাখ্যা করুন না কেন, আমার মনে হয় বর্তমান সংকটটির মূল কারণ যুদ্ধাপরাধী বা মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের শেকড়ের মধ্যে প্রথিত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগের একটি ঐক্যমত সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন। সম্প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট অনেক কথাই বলেছে। ব্রিটিশ কমনসসভায় অনেক আলোচনাই হয়েছে, কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার শুরু করার কাজটি স্বীকৃতি পেয়েছে। বিএনপিকে এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। আমার মনে হয় এতে এতে করে বিএনপির কিছু হারাবার ভয় নেই। উপরন্তু তারা এ থেকে কিছু পুঁজি অর্জন করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে বিএনপি কি সেই সাহসী ভূমিকায় আসতে পারবে? কেননা, বিএনপির মৌল রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে জামায়াত শিবিরসহ অন্যান্য পলিটিক্যাল ইসলামিস্টদের লক্ষ্য ও আদর্শের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে কিছু 'মিল' দেখা যায়। আমার মনে হয় বিএনপি এবং জামায়াত-শিবিরের 'সখ্যতা' নিছক 'সাময়িক কৌশল' বা নির্বাচনী মোর্চা নয়। অথচ তৃনমূল পর্যায় অবধি বিএনপি এখন যতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে তা থেকে মনে করা যায় বাংলাদেশের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার মতো মৌল নীতি গ্রহণ করলেও বিএনপি ভোটের ময়দানে আওয়ামী লীগের গায়ে ঘাম ঝরাবার মতো শক্তি রাখে। তাই বলা যায় ১৯৭২ সালের সংবিধান অত্যন্ত গণতান্ত্রিক। বিএনপি এই সংবিধানের 'স্পিরিট' গ্রহণ করে উগ্রধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গ সখ্যতা বর্জন করে মুক্তিযুদ্ধের 'আদি' চেতনা ধারণ করলে বরং লাভবান হতে পারে এবং এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মতো ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে।

বিএনপি কর্তৃক প্রতিবেশী দেশের প্রতি বিরোধীতার মনোভাব কখনও 'বাস্তব' কখনও আবার নিছক গলাবাজি স্বর্বস্ব। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাস্তব এবং ন্যায়আনুগ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করাই দলটির জন্য মঙ্গলময় হয়ে উঠতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমান দেশগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার রয়েছে। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো আওয়ামী লীগ ইসলাম 'ধর্ম হেফাজাত' করছে না। কিন্তু 'নৈর্ব্যক্তিকভাবে ভেবে চিন্তে দেখলে বলা যাবে আওয়ামী লীগের শাসনামলে ধর্মের গায়ে কোন প্রকার আঁচড় লাগেনি। এ প্রচারটি তাই 'সর্বব্যৈ মিথ্যা' এবং 'উদ্দেশ্য প্রণোদিত'। বিএনপি কি ক্ষমতায় এেল নারীদের সমানাধিকার ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের বাদ দেবার মতো সাহস দেখাতে পারবে? সুতরাং এ সব গলাবাজীমূলক রাজনৈতিক বক্তব্য ও "গালতালি' বর্জন করে বড় দুটি দল গণতান্ত্রিক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনামুখি তত্পরতার ভেতর দিয়ে এগিয়ে গেলে দেশ, দল এবং তাদের জন্যও সঙ্গলময় হতে পারে।

মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের বেলায় ঐক্যমত্য এবং পলিটিক্যাল ইসলামিস্টদের সঙ্গ ত্যাগ পূর্বক ও সেই সঙ্গে '৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার ক্ষেত্রে বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিতে ঐক্যমত্যে এসে বড় দুটি দল উন্নত গণতান্ত্রিক দেশের মত সুশাস প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়া, দলকে সুগঠিতকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিযোগিতামুখী হলে তাবেই দেশ উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করা যায়।

লেখক: সাবেক সভাপতি, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, 'সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযান নিয়ে খালেদা জিয়া যা বলেছেন, তা দেশের জন্য অপমানজনক। এ জন্য জনগণের কাছে তার মাফ চাইতে হবে।' আপনি কি তার সাথে একমত?
7 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ১৬
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৫০
এশা৮:১৫
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :