The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৪, ০৯ মাঘ ১৪২০, ২০ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী ইউপি সদস্যের রগ কর্তন | জাহাঙ্গীরনগরের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য এম এ মতিন | ৭ মন্ত্রী-এমপির সম্পদ তদন্তে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ | ট্রাফিক ব্যারাকে লাশ, পুলিশ কন্সটেবল গ্রেফতার

দেশপ্রেমিক নাগরিকের চাওয়া

মো.ওমর ফারুক

একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্তই হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে কোনো দেশের সম্পদ এবং জনশক্তি যতই থাকুক না কেন সে দেশের পক্ষে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। অর্থাত্ সংঘাত, সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে প্রধান বাধা।

অথচ প্রতিবারই নির্বাচনের সময় আমাদের দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতা প্রকটাকার ধারণ করে এবং তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। তখন জনগণের জান-মাল এমনকি রাষ্ট্রীয় সম্পদেরও কোনো নিরাপত্তা থাকে না। লাগাতার হরতাল, অবরোধ, মানুষ পুড়িয়ে মারা, গাড়ি ভাংচুর এবং পরিবহণ ও কল-কারখানায় অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে গোটা দেশ অচল করে ফেলা হয়। ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। থেমে যায় দেশের অর্থনীতির চাকা। এক কথায় রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ব্যাহত হয় দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন। এমনকি দেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ও জনশক্তি রপ্তানি আশংকাজনক হারে হরাস পায়। ফলে অনেকাংশেই অর্থনৈতিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দেশ।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে আজ আমরা একটি পর্যায়ে উন্নীত হতে পেরেছি। তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। নানাভাবে তারা এ দেশকে শাসন করেছে। কখনো জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, কখনো অনির্বাচিত সরকার আবার কখনো কখনো সামরিক শাসক দ্বারা শাসিত হয়েছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথে প্রধানত দুটো লক্ষ্য কাজ করেছিল। একটি হলো পাকিস্তান থেকে রাজনৈতিক মুক্তি লাভ এবং অন্যটি হলো এ দেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন। রাজনৈতিক স্বাধিকারের পাশাপাশি দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা একটি দেশের প্রধান উদ্দেশ্য। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, স্বাধীনতা অর্জনের প্রায় ৪৩ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও আমরা সে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি।

এ ব্যর্থতা আমাদের জনগণের , এ ব্যর্থতা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সর্বোপরি এ ব্যর্থতা আমাদের শাসকগোষ্ঠী বা সরকারের। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থকে কেন্দ্র করে আমাদের সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংঘাত-সহিংসতা প্রতিনিয়ত লেগেই থাকে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তারা সংঘাত-সহিংসতা পরিহার করে কখনো এক হতে পারে না। বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান তাঁরা মেনে নিতে পারে না।

বাংলাদেশ একটি বহুদলীয় গণতন্ত্রের দেশ। এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনীতি করার অধিকার রাষ্ট্রীয় সংবিধান স্বীকৃত। কাজেই দেশের রাজনীতিতে নানান দল ও নানান মত থাকাটাই স্বাভাবিক। এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘাত-সহিংসতায় জড়িয়ে পড়া এবং জনগণের জান-মালের ক্ষতি সাধন করা কোনো দেশপ্রেমিক সচেতন নাগরিকের কাম্য হতে পারে না।

রাজনৈতিক আদর্শ, দল বা পথ ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু সকলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক হওয়া উচিত। আর তা হলো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন।

রাজনৈতিক মতবিরোধকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে কোনো প্রকার সংঘাত-সহিংসতায় লিপ্ত হওয়া এবং এর মাধ্যমে গোটা দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত করা উচিত নয়।

সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভাবে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোই আমাদের সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিত। কাজেই সংঘাত-সহিংসতার পথ পরিহার করে রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে বিদ্যমান সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো উচিত। এটিই এখন প্রতিটি দেশপ্রেমিক সচেতন নাগরিকের একমাত্র চাওয়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, 'সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযান নিয়ে খালেদা জিয়া যা বলেছেন, তা দেশের জন্য অপমানজনক। এ জন্য জনগণের কাছে তার মাফ চাইতে হবে।' আপনি কি তার সাথে একমত?
1 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ২৩
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :