The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৪, ০৯ মাঘ ১৪২০, ২০ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী ইউপি সদস্যের রগ কর্তন | জাহাঙ্গীরনগরের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য এম এ মতিন | ৭ মন্ত্রী-এমপির সম্পদ তদন্তে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ | ট্রাফিক ব্যারাকে লাশ, পুলিশ কন্সটেবল গ্রেফতার

স্থিতিশীলতা চাই গতিশীল অর্থনীতির জন্য

হাজী মো. রাসেল ভুঁইয়া

নির্বাচনের আগে যে ধরনের সংঘাত-সহিংসতা বিরাজমান ছিল তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গার্মেন্টস খাত। দেশের ৪০ শতাংশ অর্ডার বিদেশি ক্রেতারা বাতিল করে দিয়েছেন। দেশের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সেটিই কাল হয়ে দাঁড়ায়। অনেক বিদেশি ক্রেতা অন্য দেশে চলে গেছেন শুধু রাজনৈতিক সহিংসতার দরুন। কিছু কিছু গার্মেন্টস মালিক তাঁদের বাজার এবং সুনাম ধরে রাখার স্বার্থে আকাশপথে গার্মেন্টস সামগ্রী পাঠিয়েছেন। তাতে যা লাভ হওয়ার কথা ছিল তার চেয়ে লোকসান দিতে হয়েছে অনেক বেশি। সে অবস্থায় কিছু কিছু গার্মেন্টসে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মতো ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। দেশের প্রবৃদ্ধির হার ধরে রাখতে গার্মেন্টস সেক্টরের অবদান কোনো অংশে কম নয়। তাছাড়া প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য কৃষির অবদান সবচাইতে বেশি। সে কৃষিও এবার রাজনৈতিক রোষানলে পড়েছে। এতে কৃষকরা বিপর্যস্ত হয়েছেন। কৃষক পণ্য বিক্রি করতে না পারায় তা প্রবৃদ্ধিতে আসতে পারেনি। এ বিষয়গুলো দেশের প্রবৃদ্ধি যে হারে হওয়ার কথা ছিল তা রুখে দিয়েছে। প্রবৃদ্ধি অর্জন কম হলে তার সঙ্গে দেখা দেয় মূল্যস্ফীতি। সেটা দেশের জন্য একটা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

দেশের অগ্রগতির স্বার্থে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি জরুরি হয়ে পড়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও অস্থিরতার সাময়িক অবসান ঘটলেও প্রবৃদ্ধির গতি ফিরে পেতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নজর দিতে হবে। এমনিতেই চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি হবে না বলে অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের ধারণা। গত কয়েক মাসে সরকারি ব্যয় বাড়লে আনুপাতিক হারে বাড়েনি সরকারি রাজস্ব আয়। প্রত্যাশিত বৈদেশিক সহায়তা বাড়াতেও নিতে হবে কার্যকর উদ্যোগ। সরকার ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে এগুলেও বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ ইতিমধ্যে সাড়ে পাঁচ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হবে না বলে তারা জানিয়েছে। অতীতের নির্বাচনকালীন বছরগুলোতে দেশের প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় কমেছে। এবছরের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। সরকারকে দ্রুত গতিতে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে কার্যত পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থ বছরের ৬ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। আগামী ছয় মাসেও এ ধারা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত রয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে সরকারের ব্যয়ের চাপ বেড়েছে। বাড়তি চাপ মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ বাড়াতে হতে পারে।

সরকারি ব্যয়ে চাপ কমিয়ে পরিস্থিতির উত্তরণে বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড় বাড়িয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে (এডিপি) তাগিদ দেন দেশের অর্থনীতিবিদরা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় না থাকলে বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি সাড়ে পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৪৩ থেকে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হরাস পেয়ে ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ হয়েছে। এর আগে ২০০০-০১ অর্থবছরে ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থেকে ২০০১-০২ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমেছে। অর্থাত্ এর আগের নির্বাচনকালীন অর্থবছরেও এ পরিস্থিতি লক্ষ করা গেছে। এর জন্য নির্বাচনকালীন বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করেছেন অর্থনীতিবিদরা। সমপ্রতি বিশ্বব্যাংক তাদের বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাসে বাংলাদেশে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশংকা করেছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলেছে সাড়ে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বাংলাদেশে। তবে আশার কথা হলো—গত কয়েক বছরের হিসাবের সঙ্গে বিশ্ব ব্যাংক এবং আইএমএফ-র হিসাব মেলেনি। রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক সূচক আবার উর্ধ্বমুখী হবে। সে ক্ষেত্রে যদি প্রবৃদ্ধির অর্জন কিছুটা বাড়ানো যায়। চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত আগের অর্থবছরের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ১৭ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ ৬ বিলিয়ন ডলার বেড়ে রেকর্ড ১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। কৃষিতে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও এ অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশের কাছাকাছি থাকলে অসম্ভব কিছু নয়। তবে এর জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।

সরকারের নির্বাচন পরবর্তী প্রধান করণীয় হবে দেশে আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখা এবং অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে তার ইশতেহার অনুযায়ী দ্রুততার সঙ্গে কর্মপদক্ষেপে চলে যাওয়া। ইতিমধ্যে অর্থবছরের অর্ধেক সময় পার হয়ে গেছে। বাকি সময়গুলোতে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে উত্পাদনশীল খাতের সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন করা এ ক্ষেত্রে জরুরি। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীদের ঋণ সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সামনের মুদ্রানীতিকে সেভাবে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, 'সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযান নিয়ে খালেদা জিয়া যা বলেছেন, তা দেশের জন্য অপমানজনক। এ জন্য জনগণের কাছে তার মাফ চাইতে হবে।' আপনি কি তার সাথে একমত?
5 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ২০
ফজর৩:৪৯
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৩৯
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :