The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৪, ০৯ মাঘ ১৪২০, ২০ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী ইউপি সদস্যের রগ কর্তন | জাহাঙ্গীরনগরের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য এম এ মতিন | ৭ মন্ত্রী-এমপির সম্পদ তদন্তে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ | ট্রাফিক ব্যারাকে লাশ, পুলিশ কন্সটেবল গ্রেফতার

তাঁহার এই মন্তব্য অনভিপ্রেত

গত সোমবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি আহূত গণসমাবেশে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দশম জাতীয় সংসদের সদস্যদের 'সং' বলিয়া পরিহাস করেন। তাঁহার ভাষায়, 'এ সংসদে কতগুলো সং বসে থাকবে, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়।' মাননীয় সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে এই ধরনের অমার্জিত মন্তব্য দেশের কোনো দায়িত্বশীল নেতার নিকট হইতে প্রত্যাশিত হইতে পারে না। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবার পর বিএনপি'র এই সমাবেশ হইতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য আসিবে ইহাই ছিল সকলের কাম্য। বিশেষত গত কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতিতে যে ক্ষত সৃষ্টি হইয়াছে তাহা কিভাবে কাটাইয়া উঠা যায় এবং সকলের কল্যাণে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়, সেই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা আশা করা হইয়াছিল। কিন্তু সরকারের সহযোগিতায় সেই সমাবেশ সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হইলেও বিএনপি চেয়ারপারসনের এই ধরনের কটূ ও সুবিবেচনাবর্জিত বক্তব্যে হতাশাবোধ না করিয়া পারা যায় না। তাঁহার তো ইহাও বিস্মৃত হইয়া যাইবার কথা নহে যে, তিনি নিজেও একাধিকবার সংসদ নেতা এবং বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করিয়াছেন।

রাজনীতিতে মত ও দ্বিমত থাকিবে ইহাই স্বাভাবিক। তাই বলিয়া রাজনীতিবিদদের মধ্যে ন্যূনতম পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকিবে না তাহা কি হইতে পারে? অভিধান ঘাঁটিয়া দেখা যায়, 'সং' অর্থ অদভূত পোশাকধারী হাস্যকৌতুককারী অভিনেতা বা বিনোদনকারী। কিন্তু ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ইহার আলাদা একটি নেতিবাচক ভাব-ব্যঞ্জনা রহিয়াছে, তাহা বলাইবাহুল্য। বর্তমান জাতীয় সংসদে এমন অনেক সদস্য আছেন যাহারা অতীতেও নিজেদের আসনে বারংবার নির্বাচিত হইয়াছেন। পালন করিয়াছেন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্ব। তাহারা জনগণের পরীক্ষিত নেতা। তাহাছাড়া ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়া যতই সমালোচনা করা হউক, ইহাকে 'অবৈধ' বলিবার কোনই অবকাশ নাই। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হইয়াছে এই নির্বাচন। কিন্তু কেহ নির্বাচনে আসে নাই বলিয়াই ইহা অবৈধ হইয়া যায় না। এই প্রসঙ্গে স্মরণ করা যাইতে পারে যে, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও অনেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। শুধু তাহাই নহে, অন্যান্য সাধারণ নির্বাচনেও কমবেশি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হইবার নজির আছে। কিন্তু সেই সংসদের কাহাকেও 'সং' বলিয়া পরিহাস করা হইয়াছে এমন কোন নজির নাই। এখন কেহ যদি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভকারী সংসদ সদস্য ও সেই সংসদের নেতাকে 'সং' বলিয়া আখ্যায়িত করেন, তাহা হইলে কি অন্যায় হইবে?

ইহা সকলের জানা যে, গত ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন প্রতিহত করিবার ঘোষণা দিয়াছিল ১৮ দলীয় জোট। কিন্তু শত সহিংসতা, কূটনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা ও নানা কূটকৌশল গ্রহণ করিয়াও শেষপর্যন্ত এই নির্বাচন ঠেকানো যায় নাই। ইহাই সত্য ও বাস্তবতা। নির্বাচনের পর সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নূতন সরকারকে অবৈধ আখ্যা দেন। তিনি বলেন যে, জনগণের অনুমোদনহীন কোন সরকারের দেশ পরিচালনার নৈতিক ও সাংবিধানিক এখতিয়ার নাই। আবার সেই একই প্রতিক্রিয়ায় তিনি সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানান। এমতাবস্থায় সুধী মহলের জিজ্ঞাসা, তাহার এই বক্তব্য কি সাংঘর্ষিক ও স্ববিরোধী নহে? সরকারকে অবৈধ বলা তো গত ২৪ নভেম্বর হইতেই শুরু হইয়াছে। কেবল পার্থক্য এই যে, এইবার বলা হইয়াছে 'সম্পূর্ণ অবৈধ'। এই বলিয়া নূতন সরকারের সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গেরও অবতারণা করা হইয়াছে যাহা প্রশ্নবোধক। একইভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ওই জনসভায় সংসদ সদস্যদের 'সং' বলিয়া তিনি আবারও প্রশ্নের মুখে পড়িলেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অনুরূপ এক নির্বাচনে তিনি নিজেও নির্বাচিত হইয়াছিলেন এবং সেই সংসদের নেতা হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর পদে বৃত হইয়াছিলেন। আজ দশম সংসদের মাননীয় সদস্যগণ যদি তাঁহার ভাষায় 'সং' হইয়া যান, তাহা হইলে তিনিও কি সেই দলে পড়িয়া যান না! তাঁহার ন্যায় অভিজ্ঞ নেতার নিকট হইতে এই ধরনের অশোভন মন্তব্য কিছুতেই অভিপ্রেত নহে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, 'সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযান নিয়ে খালেদা জিয়া যা বলেছেন, তা দেশের জন্য অপমানজনক। এ জন্য জনগণের কাছে তার মাফ চাইতে হবে।' আপনি কি তার সাথে একমত?
5 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ২১
ফজর৩:৫৮
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১১
সূর্যোদয় - ৫:২৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :