The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৪, ০৯ মাঘ ১৪২০, ২০ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী ইউপি সদস্যের রগ কর্তন | জাহাঙ্গীরনগরের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য এম এ মতিন | ৭ মন্ত্রী-এমপির সম্পদ তদন্তে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ | ট্রাফিক ব্যারাকে লাশ, পুলিশ কন্সটেবল গ্রেফতার

mvsevw`KG`i ˆডল ফ্যাক্টরি ভ্রমণ

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলেই মনোযোগী ডেল

মোজাহেদুল ইসলাম

মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডেলের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ফ্যাক্টরি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীরা। ডেল ফ্যাক্টরি পরিদর্শনের সাথে সাথে ডেলের ভবিষ্যত ব্যবসা পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা হয় তাদের সাথে। পেনাং, মালয়েশিয়া থেকে ফিরে ডেলের ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও ডেল ফ্যাক্টরি নিয়ে লিখেছেন

মোজাহেদুল ইসলাম

বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি পণ্যের বাজারে, বিশেষ করে পিসির বাজারে একটি সুপরিচিত নাম ডেল। কিছুদিন আগ পর্যন্তও ডেস্কটপ এবং ল্যাপটপ উত্পাদনে শীর্ষস্থানটি দখলে ছিল ডেলের। তবে পরবর্তী সময়ে এইচপি এবং লেনোভোর কাছে নিজেদের সেই অবস্থানটি হারাতে হয় তাদের। ডেল'র প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল কর্তৃক ডেলকে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে সবকিছু পেছনে ফেলেই বিশ্বব্যাপী পিসির বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে তুলতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ডেল। আর বর্তমান সময়ের তাদের মনোযোগ অনেক বেশি নিবদ্ধ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে। এই অঞ্চলে প্রযুক্তি পণ্যের বাজার ক্রমবর্ধমান থাকায় অন্যদের মতো ডেলও এই অঞ্চলেই আরও বেশি বিনিয়োগ এবং গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

২০১৩ সালে ডেল

গত বছরে বিশ্বব্যাপী পিসি বিক্রিতে শীর্ষস্থানটি দখলে রেখেছে চীনের লেনোভো। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে এইচপি। এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে থেকে তৃতীয় অবস্থানটি ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে ডেল। গত বছরের শেষ চতুর্ভাগে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ডেল মোট পিসি বিক্রি করে ১ কোটি ৩০ হাজার ইউনিট। আর তাতে করে তাদের দখলে রয়েছে বিশ্বব্যাপী পিসি বিক্রির ১২.২ শতাংশ বাজার। ২০১২ সালের তুলনায় এটি ডেলের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তিজনক। কেননা ২০১২ সালের শেষ চতুর্ভাগে তাদের দখলে ছিল মোট বাজারের ১০.৯ শতাংশ। আর ২০১২ সালের শেষ চতুর্ভাগের তুলনায় ২০১৩ সালের একই সময়ে ডেলের পিসি বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৫.৮ শতাংশ। পিসি বিক্রির দিক থেকে গত বছর পর্যন্তও ডেলের সবচাইতে বড় বাজার ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে আগের বছরগুলোর তুলনায় গত বছরে এসে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ডেলের বাজার অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে মনোযোগ

এশিয়া অঞ্চলে প্রযুক্তি পণ্যের বাজার প্রায় সব প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতারই দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে গত কয়েক বছরে। ডেলও তার ব্যতিক্রম নয়। এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে আবার চীনের দিকেই বেশি মনোযোগ রয়েছে তাদের। চীনের বিপুল জনসংখ্যা এর বড় একটি কারণ। গত বছরের জুনে চীনের চেংডিউয়ে তারা স্থাপন করে পূর্ণাঙ্গ একটি পিসি অপারেশন সাইট। নতুন প্রজন্মের ডাটা সেন্টারও তারা স্থাপন করছে এশিয়ায়। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে মনোযোগের কথা স্বীকার করে নিয়ে ডেলের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল বলেন, 'এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি ডেল প্রতিশ্র'তিবদ্ধ। এই অঞ্চলে আমাদের বিনিয়োগ আরও বাড়বে এবং আধুনিক সব প্রযুক্তির সাথে সাথে এই অঞ্চলের ক্রেতাদের সাথেও আমাদের সম্পর্ক উন্নয়ন ঘটবে। এর মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রাতেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনার বিষয়ে আমরা আশাবাদী।'

মালয়েশিয়ায় ডেল ফ্যাক্টরি

মালয়েশিয়ায় পর্যটনের জন্য বিখ্যাত পেনাং শহরের মূল ভূখণ্ডেই ডেলের কম্পিউটার ফ্যাক্টরি, যেখান থেকেই বিশ্বের চাহিদা পূরণে প্রতি বছর তৈরি হয় লাখ লাখ কম্পিউটার। স্থানীয় বিমানবন্দর থেকে জর্জটাউন হোটেলের পথেই রয়েছে কর্পোরেট জোন, যেখানে রয়েছে ডেলের কেন্দ্রীয় প্রধান কার্যালয়। এখান থেকেই গোটা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বাণিজ্য পরিচালনা করে থাকে ডেল। আঞ্চলিক কেন্দ্রীয় কার্যালয় পেনাংয়ে হলেও ডেলের মূল ফ্যাক্টরির অবস্থান পেনাং মেইনল্যান্ডে। পেনাং দ্বীপের সাথে মেইনল্যান্ডের সংযোগে রয়েছে দীর্ঘ সাড়ে ১৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এক সেতু। অবশ্য ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ আরেকটি সেতু নির্মাণ শেষে উন্মুক্ত হওয়ার পথে।

ডেল ফ্যাক্টরিটি মেইনল্যান্ডের যে জায়গাটিতে অবস্থিত, সেখানকার নাম বুকিত তেনগাহ। শুর'তে অবশ্য এই কারখানাটি এখানে ছিল না। ১৯৯৫ সালে পেনাংয়ের বায়ান লেপাসে প্রথম কারখানা স্থাপন করে ডেল। পরে ২০০১ সালে একে স্থানান্তর করা হয় এখানে। এই ফ্যাক্টরির মূল নাম 'ডেল এশিয়া প্যাসিফিক এসডিএন'। তবে স্থানীয় লোকজনও একে একনামে 'ডেল ফ্যাক্টরি' বলেই ডাকে। আকারের দিক থেকে ডেলের এই ফ্যাক্টরি তাক লাগানোর মতোই। ২ লক্ষ ৩৮ হাজার বর্গফুটের বিশাল এলাকা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই কারখানা। আর এখানে উত্পাদিত ল্যাপটপ, ডেস্কটপ এবং সার্ভার দিয়েই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর চাহিদা পূরণ করা হয়ে থাকে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামসহ অত্র অঞ্চলের ২১টি দেশ।

মূলত ডেস্কটপ এবং ল্যাপটপ উত্পাদনকারী হিসেবেই সকলের কাছে পরিচিত ডেল। ডেলের ফ্যাক্টরিতেও এই দুই পণ্যের উত্পাদন থাকবে বলেই সবাই আশা করে। কিন্তু এর বাইরেও এই কারখানায় সার্ভার কম্পিউটারও তৈরি হয় বিপুল পরিমাণে। আসলে বর্তমানে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার কারণেই সার্ভার কম্পিউটারের চাহিদা অনেক বেশি। সেই চাহিদা পূরণেই সচেষ্ট ডেলের এই ফ্যাক্টরি। ডেলের কর্মকর্তারা জানালেন, সর্বমোট ৭ ধরনের পণ্য উত্পাদন করা হয় এই কারখানায়। এই কারখানার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কাজই সম্পন্ন হয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। তবে কর্মীদেরও কাজও নেহায়েত কম নয়। আর সে কারণেই এই কারখানায় কর্মরত রয়েছেন পাঁচ হাজারেরও বেশি কর্মী। এই বিপুল পরিমাণ কর্মীদের বড় অংশই টেকনিক্যাল জ্ঞানে সমৃদ্ধ নয়। কম্পিউটার নির্মাণের কারখানা হলেও এখানে মাত্র কয়েক শতাংশই প্রকৌশলী রয়েছেন। বাকি কর্মীদের মধ্যে বাংলাদেশেরও কিছু কর্মী রয়েছে বলে জানা গেল।

ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, সার্ভার কম্পিউটারসহ নানা ধরনের পণ্য উত্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক উপাদানই আসে ডেল অনুমোদিত অন্যান্য প্রস্তুতকারদের কাছ থেকে। সেগুলো অ্যাসেম্বল করেই এখানে তৈরি করা হয় ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহারের উপযোগী সম্পূর্ণ প্রস্তুত কম্পিউটার, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য পণ্য। এসব পণ্য সংরক্ষণ, সরবরাহ এবং পরিবহনের কাজে ব্যবহারের জন্য বিপুল জায়গা রয়েছে কারখানাটির মধ্যে। বিশাল বিশাল সব কন্টেইনারের আনাগোনা সারাদিন ধরেই দেখা যায় এখানে। তবে এতসব কর্মযজ্ঞের মাঝেও পরিবেশ নিয়ে যথেষ্টই সচেতন ডেল। সে কারণেই কারখানার বিশাল পরিসরের বড় একটি অংশই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ঘাস আর গাছের জন্য। এই কারখানার কার্বন নিঃসরণের হারও শূন্য শতাংশ। শুধু তাই নয়, এখানে ব্যবহূত বিভিন্ন দ্রব্যকে যথাসম্ভব রিসাইকেল করে ব্যবহার করা হয়। ফলে এই কারখানাকে ডেল 'গ্রিন ফ্যাক্টরি' বলেই ডাকে। অন্যান্য কারখানাগুলোও এমন পরিবেশবান্ধব হলে বিশ্বের আবহাওয়া-জলবায়ুতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা বলাই বাহুল্য।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, 'সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযান নিয়ে খালেদা জিয়া যা বলেছেন, তা দেশের জন্য অপমানজনক। এ জন্য জনগণের কাছে তার মাফ চাইতে হবে।' আপনি কি তার সাথে একমত?
7 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ২৩
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :