The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৪, ০৯ মাঘ ১৪২০, ২০ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী ইউপি সদস্যের রগ কর্তন | জাহাঙ্গীরনগরের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য এম এ মতিন | ৭ মন্ত্রী-এমপির সম্পদ তদন্তে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ | ট্রাফিক ব্যারাকে লাশ, পুলিশ কন্সটেবল গ্রেফতার

নতুন বছরের প্রত্যাশা

কামাল কামাল সিদ্দিকী

সব নতুনই আমাদের প্রিয়। যেমন নতুন জামা, নতুন জুতা, নতুন সুগন্ধি বই আর নতুন বছর। আর নতুন বছর তো আসে সময়ের ভেলায় চড়ে। বছরের ১২ মাসের বন্দরে নোঙর করে একসময় সে ঘাটে পৌঁছে যায়। আর সেখানে সে বিশ্রাম নিয়ে আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করে। এই যে যাত্রা শুরু এটাই হচ্ছে নতুন বছর—বলা যেতে পারে পুরাতন জীর্ণতা-দীর্ণতা-হীনতাকে নদীর জলে ভাসিয়ে তবেই না নতুন বছর আমাদের জীবনে গর্বের সঙ্গে উদয় হয়। আজ আমরা সেই নববর্ষের দিনে হাজির। আমাদের দেশে মূলত দু'টি নববর্ষ বেশ জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয়। যার একটি হলো বাংলা নববর্ষ বা বঙ্গাব্দ, অন্যটি হলো খ্রিস্টাব্দ— বঙ্গাব্দ আমাদের নাড়ি ধরে টান দেয়। তাই এদিন আমরা বাবা-মায়ের হাত ধরে সকাল হলেই বেরিয়ে পড়ি রঙ-বেরঙের নতুন কাপড় পরে। বঙ্গাব্দের প্রথম দিনটি হচ্ছে পহেলা বৈশাখ, তাই অনেকেই এটাকে বৈশাখী উত্সব হিসাবে দেখতে অভ্যস্ত। এদিন বসে নানা ধরনের মেলা। যেখানে মেলে বিভিন্ন ধরনের খেলনা—আর মিষ্টি-মেঠাই। সে সব কিনে ক্লান্ত পায়ে আমরা আবারো বাবা-মায়ের হাত ধরে বাড়ি ফিরি। এসব বঙ্গাব্দের আয়োজন।

আরো একটি নববর্ষ হচ্ছে খ্রিস্টীয় নববর্ষ। যার শুরু হয় ১লা জানুয়ারি। অর্থাত্ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যরাত থেকে যার আগমন সূচিত হয়। এদিন শেষে রাত ১২.০১ মিঃ খ্রিস্টীয় নববর্ষ আমাদের ঘরে উপস্থিত হয়। তারপর তা চলে পরদিন রাত ১১.৫৯ মিঃ পর্যন্ত। এ সময়টুকু আমাদের নানা কাজে নানা আয়োজনে ব্যস্ত রাখে। আমরা নববর্ষ উপলক্ষে নতুন নতুন সাজপোশাক যেমন পরি তেমনি নানা ধরনের খাদ্য খাই। খাবার যত না খাই তার চেয়ে বেশি অপচয় করি। খ্রিস্টীয় নববর্ষ বিশ্বের ১৯০টি দেশে পালিত হয়। অনেকেই আবার এটিকে ইংরেজি নববর্ষ বলে। এই কথাটি সম্পূর্ণ ভুল। কারণ, ইংরেজি কোন নববর্ষ নেই। যিশুখৃষ্ট তথা আমাদের ঈসা নবীর জন্মক্ষণ ধরে এই দিনক্ষণ গণনা শুরু। তবে আমাদের দেশে এটি ইংরেজি নববর্ষ হিসাবে ভাবার যে কারণ তা হচ্ছে ইংরেজ জাতিই প্রথমে এদেশে এ বছরটির প্রচলন করে। এর আগে আমাদের দেশে যারা শাসক ছিলেন, তারা বাংলা নববর্ষের পাশাপাশি ফার্সী নববর্ষ তথা পারস্যের 'নওরোজ' উত্সব পালন করতেন। কিন্তু ইংরেজরা এই নতুন বছরটির পত্তন করেন। সেখান থেকেই এই ভ্রান্ত ধারণা জন্ম নেয়। তবে এর পেছনে ইংরেজদের কৌশল ছিল। তারা নিজেদেরকে ভারতীয়দের অপেক্ষা উন্নত জাতি মনে করতো। তাই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে তারা গোপনে খ্রিস্টীয় সনকে ইংরেজি সন বলে চালানোর চেষ্টা করে। যা এ অঞ্চলের মানুষ আদৌ গ্রহণ করেনি।

খ্রিস্টীয় নববর্ষের আগমন ঘটে জানুয়ারি মাসে। এ সময় আমাদের দেশে প্রচণ্ড শীত পড়ে। শৈত্যপ্রবাহের ফলে গরীব মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। শিশু-বয়স্করা এই সময়ে নানা ধরনের শীতবাহী রোগে আক্রান্ত হন। এমনকি অনেকেই শীতের প্রকোপ সইতে না পেরে মারা যান। আমরা যদি নববর্ষের উত্সব পালনের টাকায় এসব অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে পারি তাহলে উত্সবটি নিশ্চয়ই পরিপূর্ণ হবে। কারণ আমাদের কবি বলেছেন, 'আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ ধরণী পরে/ সকলের তরে আমরা সবাই প্রত্যেকে মোরা সবার তরে'। আজ এই নববর্ষের উত্সবে যদি অসহায় শীত-কাতর খোকা-খুকীদের জন্য কিছু করা যায় তাহলে সেটিই হবে নববর্ষ পালনের শ্রেষ্ঠ উত্সব। নতুন বছর বয়ে আনুক সকলের কল্যাণ।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, 'সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযান নিয়ে খালেদা জিয়া যা বলেছেন, তা দেশের জন্য অপমানজনক। এ জন্য জনগণের কাছে তার মাফ চাইতে হবে।' আপনি কি তার সাথে একমত?
9 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৩
ফজর৫:১১
যোহর১১:৫৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :