The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৩, ১১ মাঘ ১৪১৯, ১১ রবিউল আওয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে আবার সুযোগ দিন : প্রধানমন্ত্রী | চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকদের অবস্থান ধর্মঘট অব্যাহত | মির্জা ফখরুলের জামিন ও রিমান্ড নামঞ্জুর | বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে ডাকাতি | ডিএসই: সূচক বেড়েছে ১৪ পয়েন্ট | চিটাগাং কিংসের প্রথম জয় | গোল্ড স্টেইনকে চাকরি ছেড়ে রাজনীতি করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর | বিপদ টের পেয়ে সরকার তত্ত্বাবধায়ক বাতিল করেছে: খালেদা জিয়া | সমালোচনার মুখে ক্যামেরন | ইচ্ছা থাকলে আধাঘণ্টার মধ্যেই তত্ত্বাবধায়কের সমাধান সম্ভব: ড. কামাল | বিশ্বজিত্ হত্যার দ্রুত পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ আদালতের | ইডেন ছাত্রীর ওপর এসিড নিক্ষেপকারী গ্রেফতার | পদ্মা সেতু দুর্নীতি: সাবেক প্রকল্প পরিচালকসহ চার জনকে তলব | রায়েরবাজারে শিশুর গলায় চাপাতি ধরে মাকে খুন | সাগর-রুনির সব খুনি ধরতে না পারা প্রশাসনিক ব্যর্থতা: তথ্যমন্ত্রী | ১৪ দলের মানববন্ধন কর্মসূচি পালন | আবারো পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষার ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার | ১০৪ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে মারধরের পর ডাকাতি

যেতে যেতে পথে পথে

সত্যাগ্রহ আন্দোলনের সূচনাবিন্দু

রণজিত্ বিশ্বাস

রিচার্ড এটনবরোর গান্ধী ছবিটা বড় মনোযোগে দেখেছি। তার বিভিন্ন পরতের মোচন উন্মোচন করে বিভিন্ন চরিত্র সম্পর্কে শ্রবণপঠন যুক্ত করেছি, মিলিয়ে নিতে চেয়েছি। যেমন-এই তাহলে মওলানা আবুল কালাম আজাদ! শিক্ষামন্ত্রী! যিনি 'ইন্ডিয়া উইনস ফ্রীডম' লিখেছিলেন! বইয়ের ত্রিশ পৃষ্ঠা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দিনের আলো না দেখানোর জন্য যিনি আইনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

যেমন-গান্ধীজী তাহলে অনশন ভাঙ্গার সময় নেহরু-প্যাটেল এদের কারও হাত থেকে জল গ্রহণ করেননি। বেছে নিয়েছিলেন তাহলে ভিনবিশ্বাসের আবুল কালাম আজাদকে! বর্ণ হিন্দুদের পক্ষে লবেজান নেমে পড়া ব্রাহ্মণজাত নাথুরাম কি তাহলে বাপুজীর অনশনক্লান্ত দেহটাই বেছে নিয়েছিল তার 'পবিত্র দায়িত্ব' পালনের জন্য! এত অন্ধ, ইডিয়ট, বিদ্বিষ্ট, ব্রেইনওয়াশড আর কালপ্রিট-ক্রিমিনাল আর অবিশ্বাস্য ক্রুয়েল ছিল কি সেই গডসে কুলাঙ্গারা!

এসব ভাবাভাবির অনেক বছর পর এক গান্ধীপ্রেমীর সন্ধান পেলাম ইটালীর তুরিনে, বছরখানেক আগে। দক্ষিণ আফ্রিকার এক সরকারি কর্মকর্তা, চাকরি তার লেবার ডিপার্টমেন্টে। ভারতীয় চেহারার মানুষ। মনে হচ্ছেলনা হয় তামিল হবে, নয় কানাড়; আবার হয়ে যেতে পারে শ্রীলংকার মানুষও। পরে কথায় কথায় বের হলো পিতামহের আমলে ওরা দক্ষিণ আফ্রিকার জীবন শুরু করেছিল। অনেকটা অ্যালেক্স হ্যালির 'রুটস'-এর কুন্তাকিন্তের মতো ক্রীতদাসের জীবন। ওর পূর্বপুরুষদের শ্রম দিতে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায় সুগার কেইন ফিল্ডের শ্রমিক হিসেবে। এসব বলার সময় কৃষ্ণসুন্দর ও সামান্য খুঁড়িয়ে হাঁটা মানুষটিকে গৌরবের বোধে আমি কাঁপতে লক্ষ্য করেছি। তার সর্বাঙ্গ যেন হাসছিল। তার দেহের সকল প্রত্যঙ্গ যে গৌরবদীপ্ত ইতিহাসের কথা বলছিল। আমার কথা শুনে তিনি বলেছিলেন:মনে হচ্ছে গান্ধীজীর ব্যাপারে আপনারও খুব আগ্রহ আছে?

: বলতে পারেন।

: কিছু মনে করবেন না, ওর সম্পর্কে আপনি কী কী জানেন? তেমন কিছু না। জানি, আপনার দেশে 'পিটার মারিজবার্গ' বলে একটি জায়গা আছে। সেখানে গান্ধীকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছিল। এখন সে জায়গার রেলওয়ে স্টেশনে গান্ধীজীর একটা আবক্ষ মূর্তি প্রতিষ্ঠিত আছে। এই পিটার মারিজবার্গ আমাদের কাছে আরো একটা কারণে পরিচিত। এখানে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আমরা শ্রীলংকার কাছে গোহারা হেরেছিলাম। চামিন্ডা ভাস তার প্রথম ওভারে আমাদের চারজনকে কাত করেছিল। হ্যাটট্রিকসহ। সেটি ছিল ম্যাচেরও প্রথম ওভার। তারপর মিস্টার রঙ্গনাথন বললেন, আমি আরো কিছু বলি। যখন গান্ধীকে শ্বেতাঙ্গ 'টিকিট কালেক্টার' ট্রেনের ফার্স্টক্লাস কম্পার্টমেন্ট থেকে নামিয়ে দিয়েছিল তখন মধ্যরাত, শীতের রাত। এই রাতে ঘুটঘুটে অন্ধকারের ভেতর, অপরিচিত জায়গায়, কনকনে শীতের মধ্যে গান্ধীজীকে মশার কামড় খেতে খেতে বহু প্রত্যাশার ভোরের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল। তরুণ ব্যারিস্টার গান্ধীকে বিলেত থেকে টেলিগ্রাম পাঠিয়ে আমার পূর্বপুরুষদের মতো দাস শ্রমিকেরা দক্ষিণ আফ্রিকায় আনিয়েছিলেন একটা মামলা লড়ার জন্য। দক্ষিণ আফ্রিকায় তখন ভারতীয়রা জমির মালিক হতে পারতো না।

'কেন হতে পারবে না'— এই ছিল মামলা লড়ার জন্য বড় আনন্দে আর দায়িত্ববোধে সম্মত হয়ে এগিয়ে আসা গান্ধীর মামলার বিষয়। ট্রেনে ট্রান্সভাল যাওয়ার পথে তিনি কাউন্টারে ফার্স্বক্লাসের টিকিট চেয়েছিলেন। পেয়েও গিয়েছিলেন। তিনি জানতেন না যে, ফার্স্টক্লাসে ভ্রমণ কৃষ্ণাঙ্গ ও অশ্বেতাঙ্গদের জন্য নিষিদ্ধ। টিকিট চেকারকে তিনি ক্রোধেরবশে তর্কে টানলেন।

:আপনাকে বলতে হবে কেন আমি পকেটের পয়সায় কেনা বৈধ টিকিটে এখানে চড়তে পারবো না। কেন আপনাকে একজন বৈধ প্যাসেঞ্জারকে নামিয়ে দিতে হচ্ছে!

: ফার্স্টক্লাসে তুমি ভ্রমণ করতে পারবে না। কারণ তোমার গায়ের চামড়া সাদা নয়। গান্ধী তখন বললেন-দেখো, তোমার গায়ের রং, অর্থাত্ তোমার ও তোমাদের অহঙ্কারের সাদা রং আছে আমার পায়ের তলায়; কিন্তু তোমার দেহের কোথাও তুমি আমার গায়ের রং দেখতে পারবে না।

এবার বল তুমি বড় না আমি?

তারপর সাদা চামড়ার টিকিট চেকার গান্ধীকে হিড়হিড় করে টানতে টানতে ট্রেন থেকে নামিয়ে দিয়েছিল। সেখানে সারারাত শীতের ভেতর গান্ধী কাঁপতে কাঁপতে শপথ নিয়েছিলেন- মানুষের প্রতি মানুষের ঘোর এ অন্যায় সইবার নয়। আমি 'সত্যাগ্রহ' আন্দোলন শুরু করবো। দেশে ফিরে তিনি শুরু করলেন, ১৯১১ সালে, ঐতিহাসিক আন্দোলন-সত্যাগ্রহ।

লেখক :শ্রমজীবী কথাসাহিত্যিক

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
কৃতিত্বের জন্যই ডিসি হারুনকে পুলিশ পদক দেয়া হয়েছে— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যটি যৌক্তিক মনে করেন?
8 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ২৯
ফজর৪:৩৫
যোহর১১:৫০
আসর৪:০৮
মাগরিব৫:৫১
এশা৭:০৪
সূর্যোদয় - ৫:৪৯সূর্যাস্ত - ০৫:৪৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :