The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৪, ১১ মাঘ ১৪২০, ২২ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বিশ্ব ইজতেমা শুরু, তুরাগ তীরে মুসল্লিদের ঢল | ইজতেমা প্রাঙ্গণে ২ মুসল্লির মৃত‌্যু | বিএনপিকে নাকে খত দিতে হবে : আমু | দশম জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ হলেন আ স ম ফিরোজ | দখলকারী শক্তি পরাভূত হবেই: খালেদা জিয়া

স্মরণ

জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলাম

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

দেখতে দেখতে একটি বছর অতিক্রান্ত হলো। মহাপ্রয়াণে, না ফেরার দেশে চলে গেছেন নুরুল ইসলাম স্যার। এক প্রবল কর্মযজ্ঞের কান্ডারি, তিনি সারাজীবন যে কাজেই হাত দিয়েছেন, সেখানেই সোনা ফলিয়েছেন। দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজের মেধা, শ্রম আর ভালবাসা দিয়ে তিনি আমাদের চিরঋণী করে রেখে গেছেন। একজন চিকিত্সক হিসেবে তিনি ছিলেন অসাধারণ। শুধু রোগের উপশমই নয়, তিনি রোগ ও রোগী নিয়ে চিন্তা করতেন, ছিলেন চিকিত্সাবিজ্ঞানী। তাঁর অসংখ্য গবেষণাপত্র দেশে ও বিদেশের খ্যাতিমান জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সমাজের সবাইকে স্বাস্থ্যসচেতন করতে তিনি ছিলেন তত্পর। এদেশে ধূমপানের কুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে তিনিই প্রথম ধূমপান বিরোধী কার্যক্রম শুরু করেন এবং "আমরা ধূমপান নিবারণ করি" বা "আধুনিক"-এর প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন ওষুধের অপ্রয়োজনীয় এবং অপব্যবহার রোধকল্পে জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারীদের অন্যতম ছিলেন। তিনি নিজে নেহায়েত যে সমস্ত ওষুধ প্রয়োজনীয় সেগুলোই রোগীর জন্য প্রেসক্রিপশনে লিখতেন, অযথা অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ওষুধ পরিহার করার ব্যাপারে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। অনেক সময় রোগীদের অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা ছিল তার একদম অপছন্দ। প্রায়ই তাকে বলতে শুনেছি, রোগীর কাছ থেকে সুন্দর করে রোগের ইতিহাস নিয়ে এবং রোগীকে ভালভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেই অনেক রোগ সনাক্ত করা সম্ভব। অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অনেকক্ষেত্রেই রোগীর বিশাল অর্থের অপচয় ঘটে, যা অনেকেই বহন করতে অক্ষম। শুধু চিকিত্সক হিসেবেই নয়, চিকিত্সা বিজ্ঞানের একজন প্রথিতযশা শিক্ষক হিসেবেও ছাত্রদের মাঝে ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। বর্তমানে আমাদের দেশে যারা মেধাবী এবং দক্ষ চিকিত্সক হিসেবে চিকিত্সার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভাল শিক্ষক হিসেবেও শিক্ষাসেবা দিয়ে চলছেন, তাদের শিক্ষাগুরু হিসেবে স্যারের অবদান অপরিসীম। ব্যক্তিজীবনে স্যার ধর্মের অনুশাসন মেনে চলতেন। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সত্য ভাষণে অকপট, সততা আর সত্যের পথে অবিচল এই মানুষটি সবসময়ই ছিলেন আন্তরিক, মমতাপূর্ণ ও স্নেহার্দ। একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে ইসলাম স্যার ছিলেন অত্যন্ত কঠোর প্রকৃতির, অন্তত বাহ্যিকভাবে তাই মনে হতো। কাজের ক্ষেত্রে কোন অবহেলা তিনি সহ্য করতেন না। নিজে নিয়মের অনুশাসন মেনে চলতেন, অন্যদেরও নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করতেন। যাকে বকাঝকা করতেন, দেখা যেতো পর মুহূর্তে তাকেই আবার সস্নেহে আলিঙ্গন করছেন।

প্রশাসন চালাতে গিয়ে অনেকের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক গড়ে উঠলেও ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সম্পর্ক সবার সাথে ভালই ছিল। নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে ইসলাম স্যার ছিলেন চৌকস। নিজের বিচক্ষণতার উপর তার আত্মশক্তি ও আত্মপ্রত্যয় ছিল অত্যন্ত প্রবল আর আস্থা ছিল অবিচল। কবি কাজী নজরুল ইসলামের এক বিশিষ্ট বাণী স্যার মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন। তার এক ডায়েরিতে ঐ বাণীটি লেখা ছিল:বিশ্বাস আর আশা যার নাই, যেও না তাহার কাছে। নড়াচড়া করে, তবুও সে মরা, জ্যান্ত সে মরিয়াছে। শয়তান তারে শেষ করিয়াছে, ঈমান লয়েছে কেড়ে, পরাণ গিয়াছে মৃত্যুপুরীতে ভয়ে তার দেহ ছেড়ে।

স্যার কাজ করতেন নিজের পদ্ধতিতে, শাসন করতেন কঠোর হস্তে। নিপুণ হাতে তিনি সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন, এতে কাজের গতি বাড়ত, সমন্বয় ঠিক থাকত। এক্ষেত্রে তার ভূমিকার জন্য অনেকেই তাকে স্বৈরশাসক বা ডিক্টেটর হিসেবে আখ্যায়িত করতেন। কিন্তু আসলে তিনি ছিলেন বেনেভলেন্ট ডিক্টেটর। আর এজন্যই তিনি তত্কালীন পিজি হাসপাতালের মত একটি প্রতিষ্ঠানকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন, যা বর্তমানে দেশের একমাত্র চিকিত্সা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। শুধু তাই নয়, সারাজীবন তিনি আরো অসংখ্য সংস্থা আর প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন। চট্টগ্রামে ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (ইউএসটিসি) প্রতিষ্ঠা তাঁর কর্মযজ্ঞের অন্যতম বিশিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে। দেশ ও জাতির প্রতি তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য দেশি ও বিদেশি পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৮৭ সালে তিনি জাতীয় অধ্যাপকের পদ অলংকৃত করেন।

শেষজীবনে ইসলাম স্যার বহুদিন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু সেই অবস্থায়ও তিনি কাজ করে গেছেন, নিত্যনতুন সৃষ্টি করেছেন, দক্ষ হাতে প্রশাসন চালিয়ে গেছেন। তিনি বলতেন যে আল্লাহর রহমতে আর মানুষের দোয়ায় বেঁচে আছি, হয়তো আমার কাজ শেষ হয়নি বলেই। তাঁর কর্মস্পৃহা বুকে নিয়ে, মাটি ও মানুষের সেবার মানসিকতা ধারণ করে যদি আমরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারি, তবে তাই হবে এই মহান ব্যক্তির প্রতি যোগ্য সম্মান প্রদর্শন।

লেখক: ডিন, মেডিসিন অনুষদ, অধ্যক্ষ, মেডিসিন বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, 'এই সরকারের আয়ু এক বছরও হবে না।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
7 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৪
ফজর৫:১১
যোহর১১:৫৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :