The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৪, ১১ মাঘ ১৪২০, ২২ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বিশ্ব ইজতেমা শুরু, তুরাগ তীরে মুসল্লিদের ঢল | ইজতেমা প্রাঙ্গণে ২ মুসল্লির মৃত‌্যু | বিএনপিকে নাকে খত দিতে হবে : আমু | দশম জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ হলেন আ স ম ফিরোজ | দখলকারী শক্তি পরাভূত হবেই: খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়া জামায়াতের আমির হয়ে ষড়যন্ত্র করছেন

নওয়াপাড়ার জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

ফারাজী আজমল হোসেন, যশোর থেকে ফিরে

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, উনি জামায়াতের আমির হয়ে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মানুষ হত্যা ও সহিংসতা সরকার বরদাশত করবে না। দেশের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যতোটা কঠোর হওয়া দরকার সরকার ততোটাই কঠোর হবে। কোন ধরনের সন্ত্রাস-সহিংসতা আর সহ্য করা হবে না। ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে স্বাধীনতার পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার যশোরে নওয়াপাড়ার শংকরপাড়া হাই স্কুল মাঠে এক বিশাল জনসভায় এবং অভয়নগর উপজেলার মালোপাড়ায় সম্প্রতি সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে সাক্ষাত্কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেত্রীর উদ্দেশে বলেন, দেশের মাটিতে আর মানুষ হত্যা ও সন্ত্রাস করার চেষ্টা করবেন না। জনগণের শান্তি কেড়ে নেয়ার চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়ে সহিংসতা চালিয়েও নির্বাচনে মানুষের ভোট দেয়া ঠেকাতে পারেননি। নির্বাচনে না এসে উনি যে কতবড় ভুল করেছেন, সেই ভুল এখন বুঝতে পারছেন। উনি নির্বাচনের ট্রেন মিস করে এখন বেতাল হয়ে গেছেন। যুদ্ধাপরাধী-স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সঙ্গেই এখন তার উঠা-বসা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ হিংসা-হানাহানি, মারামারি-কাটাকাটি বা সহিংসতা চায় না। দেশের মানুষ শান্তি চায়, গণতান্ত্রিক পরিবেশ চায়। বিএনপি নেত্রী আন্দোলনে সফল হতে পারেননি, আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পারেননি। আন্দোলনে সফল না হলেও খালেদা জিয়া আন্দোলনের নামে ব্যাপক সহিংসতা-নাশকতা, নৃশংস কায়দায় পুড়িয়ে মানুষ হত্যা, মানুষের বাড়ি-গাড়ি, স্কুল-কলেজ পুড়িয়ে দেয়া, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন এমনকি নিরীহ গরুকে পুড়িয়ে মারতে সফল হয়েছেন। আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে উনি ব্যর্থ হয়েছেন।

বিএনপি নেত্রী এখন প্রতিটি কথাই মিথ্যা বলেন— উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনার নিজের যে কতটা জন্মদিন তা তিনি নিজেও জানেন না। সম্প্রতি এক সমাবেশে দাঁড়িয়ে নির্বাচনের তারিখটিও উনি ভুল বলেছেন। বলেছেন ৫ মে নাকি নির্বাচন হয়েছে! তবে মে মাসের কথা তার ভালই মনে থাকে তারও একটি কারণ আছে। কেননা এই ৪ মে নিজে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আল্টিমেটাম দিয়ে এবং পরদিন হেফাজতকে নিয়ে ঢাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিলেন তিনি।

খালেদা জিয়া নিজেকে ৯৫ শতাংশ মানুষের নেত্রী দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশবাসীকে নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছেন। নির্বাচন যাতে না হয় সেজন্য ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছেন; কিন্তু ভোটারদের আটকাতে পারেননি। উনি ৯৫ ভাগ মানুষের নেত্রী হলে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে কীভাবে ৪৪/৪৫ শতাংশ ভোট পড়লো তার জবাব খালেদা জিয়াকে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

'গোপালগঞ্জের নাম বদলে দেয়া হবে' মর্মে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গোপালগঞ্জের ওপর উনার এতো রাগ কেন? জাতির পিতার জন্মস্থান বলে? তিনি দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন বলে? আপনি কি দেশের স্বাধীনতা চান না? নাকি এখনো পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখেন? আসলে এখনো খালেদা জিয়া পাকিস্তানের প্রভুদের ভুলতে পারেননি বলেই গোপালগঞ্জের ওপর তার এতো রাগ। সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধে সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সব ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। কেউ এ অধিকারে হস্তক্ষেপ করলে সরকার তা সহ্য করবে না।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ গত সরকারের অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েকটি মাস ধরে বিএনপি-জামায়াত জোট আন্দোলনের নামে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ করেছে, সারাদেশে তাণ্ডব চালিয়েছে। কিন্তু তাদের হরতাল-অবরোধসহ শত বাধা উপেক্ষা করে দেশের মানুষ নির্বাচনে আমাদের ভোট দিয়েছে, আমরা সরকার গঠন করেছি। নির্বাচনে বাধা দিতে তিনি (খালেদা জিয়া) হরতাল, অবরোধ, ভোট কেন্দ্রে আক্রমণ, নির্বাচন কর্মকর্তাদের পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা এই মালোপাড়ায় ১৩০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ঋষিপল্লীতে দুই নারীকে ধর্ষণ পর্যন্ত করা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর অপরাধ কী? নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়াই কী অপরাধ? ভোট মানুষের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার। জামায়াত এমন একটি দল যারা পাকিস্তানেও নিষিদ্ধ হয়েছিল। যখন পাকিস্তানের দাবি উঠেছিল তখন জামায়াত পাকিস্তান চায়নি, 'না পাকিস্তান' বলেছিল। আবার একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশও তারা চায়নি। তারা ইসলামের নামে রাজনীতি করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী যতই চেষ্টা করুন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে পারবেন না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলতেই থাকবে এবং রায়ও কার্যকর করা হবে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি আলী রেজা রাজু'র সভাপতিত্বে জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মত্স্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদার, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক এমপি, মুন্নুজান সুফিয়ান এমপি, রণজিত্ কুমার রায় এমপি, খালেদুর রহমান টিটো, শেখ আফিল উদ্দিন এমপি, শাহ হাদিউজ্জামান, কামরুজ্জামান চুন্নু, ছাত্রলীগ সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ প্রমুখ। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জনসভার আগে প্রধানমন্ত্রী দুপুরে হেলিকপ্টারে যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে অবতরণ করেন। সেখান থেকে তিনি সড়কপথে নির্বাচনোত্তর সামপ্রদায়িক তাণ্ডবের শিকার যশোরের অভয়নগর উপজেলার মালোপাড়া পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিজিবির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই মালোপাড়ায় বাড়িঘর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মালোপাড়ায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী মালোপাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত ৫১টি পরিবারকে সর্বনিম্ন ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মুখ থেকে তাণ্ডবের বর্ণনা শুনে প্রধানমন্ত্রী আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেত্রীর উদ্দেশে বলেন, আপনি মুখে বলেন যে, কেউ ভোট দিতে যায়নি। তাহলে ভোট দিতে যাওয়ার অপরাধে এই জুলুম-নির্যাতন কেন? নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা কখনোই ভাববেন না এটি আপনাদের জন্মস্থান নয়। এটি আপনাদের জন্মস্থান। কেউ আপনাদের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না। মনের জোর নিয়ে নিজেদের শক্তিতে জন্মভূমিতে থাকবেন। কারো দয়ায় নয়। কেউ আপনাদের অধিকার কেড়ে নিতে আসলে রুখে দাঁড়াবেন। সরকার ও আওয়ামী লীগ সবসময় আপনাদের পাশে আছে এবং থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে জামায়াত-বিএনপির তাণ্ডবের বর্ণনা দিতে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন চাপাতলা মালোপাড়া শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির কমিটির সভাপতি শেখর কুমার বর্মণ। শেখর কুমার বর্মণ ৫ জানুয়ারি নির্বাচনোত্তর সামপ্রদায়িক গোষ্ঠীর হামলার চিত্র তুলে ধরে পুনর্বাসন ও মন্দির সম্প্রসারণের দাবি জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী এ দাবি পূরণের আশ্বাস দেন।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, 'এই সরকারের আয়ু এক বছরও হবে না।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
8 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ২১
ফজর৪:১৭
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৬
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :