The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৪, ১১ মাঘ ১৪২০, ২২ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বিশ্ব ইজতেমা শুরু, তুরাগ তীরে মুসল্লিদের ঢল | ইজতেমা প্রাঙ্গণে ২ মুসল্লির মৃত‌্যু | বিএনপিকে নাকে খত দিতে হবে : আমু | দশম জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ হলেন আ স ম ফিরোজ | দখলকারী শক্তি পরাভূত হবেই: খালেদা জিয়া

হিন্দুদের ভোটব্যাংক বিবেচনাই হামলার মূল কারণ

---------------- গণজাগরণ মঞ্চ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশের উত্তরবঙ্গের তিনটি জেলায় সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস এবং হিন্দুদের উপর হামলার প্রধান কারণ তাদেরকে 'ভোট ব্যাংক' হিসেবে বিবেচনা করার মানসিকতা।

সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক হামলায় আক্রান্ত গাইবান্ধার পলাশবাড়ি, দিনাজপুরের কর্ণাই এবং ঠাকুরগাঁয়ের গড়েয়ায় পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ শেষে এ কারণ চিহ্নিত করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট প্রকাশ করেন মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।

গত ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চ ঐ এলাকাগুলো পরিদর্শন করে এবং দ্বিতীয় রোড মার্চের অংশ হিসেবে সমাবেশ-পথসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

রিপোর্টে বলা হয়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ি, দিনাজপুরের কর্ণাই এবং ঠাকুরগাঁয়ের গড়েয়া—এই তিনটি এলাকাতেই মূলত ভোট প্রদানকে কেন্দ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপর আক্রমণ করা হয়েছে। আমাদের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচনার মানসিকতাই এই হামলার পেছনের একটি প্রধান কারণ। বিশেষ করে জামায়াত-শিবির এবং তাদের অনুসারীদের বদ্ধমূল ধারণা, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ঐতিহ্যগতভাবেই তাদেরকে ভোট দেয় না। তাই দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর তাদের দীর্ঘদিনের আক্রোশ সময় পেলেই প্রকাশিত হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনের মতোই ২০১৩ সালের নির্বাচনের পরেও জামায়াত-শিবির গোষ্ঠী এই নৃশংস হামলা পরিচালনা করে।

পলাশবাড়িতে হামলা-নির্যাতনের ঘটনা সম্পর্কে রিপোর্টে বলা হয়, দেশের অন্যান্য স্থানের মতোই এখানেও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধে প্রশাসনের নজিরবিহীন ব্যর্থতা ছিল। আক্রান্তরা অনেকবার অবহিত করলেও প্রশাসন সেখানে উপস্থিত হয়নি। এমনকি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল ও প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও এখানে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর পূর্ব কোনো প্রস্তুতি ছিল না। হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি এখানে নির্বাচনের পক্ষের দল, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও তাণ্ডবের শিকার হয়েছেন। ঘরে ঘরে ঢুকে আগুন দেয়া হয়েছে। অনেক বাড়িতে ঢুকে পবিত্র কোরআন শরীফসহ অনেক হাদিসের বই পুড়িয়েছে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা।

দিনাজপুরের তেলিপাড়া ও কর্ণাইয়ে হামলা সম্পর্কে বলা হয়, নির্বাচনের দিন সকাল ৭টায় পার্শ্ববর্তী মহাদেবপুরের নির্বাচন প্রতিহতের ডাক দেয়া রাজনৈতিক দলের কর্মীরা তেলীপাড়ায় উপস্থিত হয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একই এলাকার ঐ সন্ত্রাসীরা তেলীপাড়ায় গিয়ে ভোট কেন্দ্রে না আসার জন্য বাধা দেয় এবং যারা ইতোমধ্যে ভোট কেন্দ্র থেকে ফিরে গেছে তাদের শনাক্ত করতে প্রত্যেকের হাত দেখে দেখে অমোচনীয় কালি আছে কিনা সেটি পরীক্ষা এবং নির্যাতন চালাতে থাকে। তেলিপাড়ার সবগুলো রাস্তা আটকে অবরুদ্ধ করে ফেলা হয় গোটা গ্রাম। ভোট দিয়ে ফেরার পথে প্রত্যেকে এখানে হামলার শিকার হন। জনগণ প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলেও তাদের সহায়তায় কেউই এগিয়ে আসেনি।

নির্বাচনোত্তর সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিরোধে দায়-দায়িত্ব পালন ও ব্যর্থতার বড় দায় নির্বাচন কমিশনের বলে উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়, একটি উত্তেজনাকর ও সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানকালে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারদের নিরাপত্তায় যে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া দরকার ছিল, সেরকম কোনো ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশন নেয়নি।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, 'এই সরকারের আয়ু এক বছরও হবে না।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
4 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ২৫
ফজর৩:৪৫
যোহর১২:০১
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :