The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৪, ১১ মাঘ ১৪২০, ২২ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বিশ্ব ইজতেমা শুরু, তুরাগ তীরে মুসল্লিদের ঢল | ইজতেমা প্রাঙ্গণে ২ মুসল্লির মৃত‌্যু | বিএনপিকে নাকে খত দিতে হবে : আমু | দশম জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ হলেন আ স ম ফিরোজ | দখলকারী শক্তি পরাভূত হবেই: খালেদা জিয়া

দাওয়াত প্রদানে উম্মাহর দায়িত্ব

ড. মু. বিলাল হুসাইন 

ইসলামী দাওয়াত মুসলমানদের জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হতে এক অফুরন্ত নেয়ামত। এ জন্য ইসলামে দাওয়াতের গুরুত্ব অপরিসীম। যে কারণে অসংখ্য নবী-রাসূল এ পৃথিবীতে আগমন করেছেন। 'দাওয়াহ' আরবী শব্দ। যার শাব্দিক অর্থ— আহবান করা, ডাকা। পরিভাষায় সকল মানব সমাজকে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সুখ-শান্তি, কল্যাণ ও মুক্তি লাভের উদ্দেশ্যে পরিচালিত কার্যক্রমকে ইসলামে দাওয়াত হিসেবে গণ্য করা হয়। এ দাওয়াত মানুষকে অশান্তি থেকে শান্তির দিকে, অকল্যাণ থেকে কল্যাণের দিকে, সংকীর্ণতা থেকে উদারতার দিকে, জাহান্নাম থেকে জান্নাতের দিকে এবং পশ্চাদপদতা থেকে প্রগতির দিকে ধাবিত করে। আল্লাহর সাথে মানব জাতির সম্পর্ক দৃঢ় করতে দাওয়াত সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ইসলামী দাওয়াতের কর্মসূচী মানুষের জন্য কল্যানকর। মহান আল্লাহ তায়ালা মানব জাতির মধ্য থেকে কিছু লোককে বাছাই করে দাওয়াতের জন্য মনোনীত করেছেন। তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। পৃথিবীর প্রথম মানব ও নবী হযরত আদম (আ.) এ দাওয়াতের কার্যক্রমের সূচনা করেন। পরবর্তী সময়ে হযরত নূহ, হুদ, সালিহ, ইয়াকুব, ও ইউসুফ (আ.) থেকে হযরত ঈসা (আ.) পর্যন্ত অসংখ্য নবী-রাসূলের মাধ্যমে এ ধারা অব্যাহত রাখেন। তাঁরা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আশা বাণীগুলো সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়ে দিতেন। মহান আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় হাবীবকে প্রেরণ করেছিলেন সকল জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য। ফলে মহানবী (স.) এর দাওয়াত ছিল সার্বজনীন। পূর্ববতী নবী ও রাসূলগণ বিশেষ কোন গোত্র, গোষ্ঠী বা অঞ্চলের অধিবাসীকে দাওয়াত দিয়েছেন। ফলে তাদের দাওয়াত সার্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। মহানবী (স.) সকল জাতি, গোষ্ঠীর কাছে আল্লাহ প্রদত্ত দাওয়াত দিয়েছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা এজন্যই তাকে ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন- "আপনি বলুন, হে মানবমণ্ডলী ! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রসূল" (সুরা আল-আ'রাফ : ১৫৮)। তাঁর অবর্তমানে দাওয়াতের এ গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয় মুসলিম উম্মাহর প্রতি। যারা কেয়ামত পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।

রিসালাতের এই দায়িত্বের কারণেই মুসলিম উম্মাতকে 'সর্বোত্তম জাতি' বলা হয়েছে। মুসলমানরা যদি এই দায়িত্ব পালনে নিবৃত থাকে তাহলে অন্য জাতির সাথে পার্থক্য করা যাবে না। অন্য জাতির মধ্যে না আছে কোন বিশেষ সৌন্দর্য, আর না আছে বিশেষ মর্যাদা লাভের কোন কারণ। আল্লাহ তায়ালারও দেখার প্রয়োজন নেই যে, তারা দুনিয়াতে সসম্মানে বসবাস করছে, না অপমানিত অবস্থায় জীবন যাপন করছে। বরং এই দায়িত্ব ভুলে যাবার কারণে পূর্বে অন্য জাতির ন্যায় আল্লাহর অভিশাপে পতিত হবে। ইসলামী দাওয়াত সমাজ সুন্দরের অন্যতম হাতিয়ার। সমাজের সকল প্রকার অন্যায়, অবিচার, পাপচার, মারামারি, দূনীতি, ব্যক্তি চরিত্র নষ্ট সহ সকল অপরাধ নির্মূলে ইসলামী দাওয়াত বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে। কেননা এ দাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু হলো সত্ কাজের আদেশ এবং অসত্ কাজের নিষেধ। সেহেতু ব্যক্তি সকল প্রকার অন্যায় কাজ থেকে বিরত থেকে সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবে। পাপাচারযুক্ত এ সমাজে ইসলামী দাওয়াতই মানব সমাজের কাছে আশার আলো প্রজ্জ্বলিত করতে পারে। মুসলিম উম্মাহ দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এটাই স্বভাবিক। কেননা মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা নির্ভর করে এ দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনার উপর। সকল অন্যায় অত্যাচারের যাতাকল থেকে বিশ্ব মানবতাকে মুক্ত করে একটি সুখী সমৃদ্ধ পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব এ উম্মতেরই। আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'তোমরাই শ্রেষ্ঠতম উম্মত। মানুষের কল্যাণার্থেই তোমাদেরকে বের করা হয়েছে। তোমরা সত্ কাজের আদেশ দিবে, অসত্ কাজ থেকে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখবে' (আলে ইমরান:১১০)।

ইসলামী দাওয়াতের বাস্তবায়ন তড়িঘড়ি কোন বিষয় নয়। ইসলামী দাওয়াতি কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকার কোন সুযোগ মুসলিম উম্মাহর নেই। সকল প্রকার অন্যায়-অবিচারে পৃথিবী যখন জর্জরিত তখনই অবিরাম দাওয়াতী কার্যক্রমই পারে বিপন্ন মানবতাকে মুক্তির সন্ধান দিতে। মানুষকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে দাওয়াতে বিকল্প কিছুই নেই। এ দাওয়াতের মাধ্যমে সমাজ-দেশ-জাতি-রাষ্ট্রের মধ্যে বসবাসকারী মানবতা মুক্তি ও কল্যাণ লাভ করতে পারে। এতে ছেদ পড়লে মানব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। মহানবী (স.) ও এ বিষয়ে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন— আমি সেই সত্তার শপথ করে বলছি, যার হাতে রয়েছে আমার প্রাণ অবশ্যই তোমরা সত্কাজের নিদের্শ দিবে এবং অসত্কাজ হতে মানুষকে বিরত রাখবে। নতুবা তোমাদের ওপর শীঘ্রই আল্লাহর শাস্তি অবতীর্ণ করবেন। তখন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানাতে থাকবে কিন্তু তোমাদের প্রার্থনা কবুল করা হবে না। (তিরিমিযী)

অতএব সামাজিক অশান্তি দূর করা ও মানবতার মুক্তির জন্য সকলকে একযোগে দাওয়াতী কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করতে হবে। নিজেদের পরিশুদ্ধ হতে হবে এবং অন্যদের মাঝে চিন্তার পরিশুদ্ধি ঘটাতে হবে। তবে আমরা নতুন প্রজন্মের মাঝে একটি কল্যানময় সমাজ উপহার দিতে সক্ষম হব এবং পরকালে লাভ করতে পারবো চুড়ান্ত সফলতা।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, 'এই সরকারের আয়ু এক বছরও হবে না।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
7 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ২২
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :