The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০১৪, ১৩ মাঘ ১৪২০, ২৪ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ নাদালের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন ওয়ারিঙ্কা | তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরীকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিয়োগ | শাবিতে শিবির-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, ভাংচুর | সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার বিশেষ ক্ষমতা আইনেই: আইনমন্ত্রী | যুক্তরাষ্ট্রের শপিং মলে হামলা, নিহত ৩ | মওদুদসহ বিএনপির ৪ নেতার জামিন

অভিজ্ঞতায় আত্ম-বিশ্লেষণ

ড. শ্যাম সুন্দর সিকদার

ব্যক্তিগত প্রয়োজনে 'শ্রদ্ধা' শব্দটার প্রয়োগ করতে গিয়ে তত্ত্বগতভাবেই কিছু নতুনত্ব পেয়েছিলাম। মূলত 'শ্রদ্ধা' হচ্ছে এমন একটা অদৃশ্য অনুভূতির সম্মানিত প্রয়োগ,— যার অর্থ বুঝতে হলে আগে পুষ্প ব্যতিরেকে দেবতাকে খুশি করতে হবে। এমন ব্যতিক্রম উপমা দেয়ার রহস্যটা কী? রহস্যটা আর কিছু না। একবার এক গুরুর মুখে শুনেছিলাম—"ভোজনে দরিদ্র তুষ্ট, ফুলে তুষ্ট দেবতা"। যদি গুরুর কথা সত্য হয়, তবে ফুল ব্যতীত দেবতাকে খুশি করা যেমন কষ্টসাধ্য, তেমনি অর্থ ব্যয় না করে পূজনীয় ব্যক্তিদের খুশি করাও কম কষ্ট নয়। যদি সেটা সম্ভব হয়, তবে 'শ্রদ্ধা' শব্দের ব্যবহারই এমন সাফল্যের দুয়ারে পৌঁছে দেয়।

আমি বাস্তব জীবনে 'শ্রদ্ধা' শব্দটাকে সদ্ব্যবহার করতে চেষ্টা করি এবং আমার বাঁচার জন্য ওটা বিশেষ বড় উপকরণও। তবে কখনো অপাত্রে এবং নেকামী করে 'শ্রদ্ধা' প্রদর্শনের ফলটা বিশেষ ভালো না— একথা আমার অজ্ঞাত নয়। যার মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ আছে, সে প্রকৃত মানুষ ও দেবতা চিনে। যে 'সম্মান' বোঝে সে অপমানও বোঝে।

রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ফুটপাতে বসে থাকা পালিশওয়ালা কোনো ভদ্রলোকের মুখপানে না দেখে, আগে তার পদযুগলের প্রতি তীক্ষ্ন দৃষ্টি রাখে। আবার একজন নাপিত তার সেলুনের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া ভদ্রলোকের পায়ের দিকে নয়, মাথা-মুখ দেখে নেয়; আর লক্ষ্য রাখে ভদ্রলোক দোকানে প্রবেশ করে কিনা? এসব দেখাদেখি অবশ্যই বিপরীতমুখী। কিন্তু উভয়ের উদ্দেশ্য এক— সেটা হলো উপার্জন। ব্যক্তিবিশেষে এখানেই আমরা দেখি, তাদের পেশাও ভিন্নমুখী। তবে শ্রদ্ধা পাওয়ার জন্য বাজারের ব্যবসায়ী হতে হয় না। তবে কৌশলী হতে হয়। মানুষ হিসেবে আমি অন্য কাউকে কখনও ভালবাসা দিতে পেরেছি কিনা- জানি না। তবে মানুষের কাছ থেকে আন্তরিকতা পেয়েছি অপরিসীম। তা' না হলে বোধহয় আমার পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব হতো না। আমি কেন?— প্রত্যেক মানুষের বেলায় এ কথাটা চিরন্তন সত্য।

যতটুকু বুঝি, —দূর থেকে মানুষকে ভালবাসা যায় নিঃস্বার্থভাবে। সেটাই নিখুঁত ভালবাসা। কাছ থেকে ভালবাসলে, মানুষের দোষগুলো ধরা পড়ে খুব বেশি। সময় যত বেশি যায়, তত বেশি দোষ ধরা পড়ে। এজন্য কাছে থাকলে ভালবাসা না জন্মে বরং ঘৃণাটা বড় হয়ে যায়। ঘৃণা জমে জমে বরফের মতো কঠিন হয়ে যায়। তখন ভালবাসা গৌণ হয়ে পড়ে।

আবার যে ভালবাসতে জানে, সে ঘৃণা শব্দটার সাথে খুব বেশি পরিচিত। কারণ, ঘৃণা ও ভালবাসা, শ্রদ্ধা ও অপমান, স্নেহ ও অত্যাচার এসব শব্দগুলো একটি আরেকটির বিপরীত। অবশ্য কেউ যদি আমাকে ঘৃণা করে, সমালোচনা করে, আমি তার খুব কাছাকাছি থাকি। ঘৃণা করা সত্ত্বেও আমি যদি ঐ ব্যক্তির নৈকট্য ত্যাগ না করি, তবে ঐ ব্যক্তিই একসময় আমাকে প্রাণপ্রিয় করে নেবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে— আমাকে আমার দোষ পরিহার করে নীতিগতভাবে সর্বদা তাকে সন্তুষ্ট করতে হবে। তা পয়সা খরচ করে নয়। আত্মশুদ্ধির দ্বারা। চরিত্রকে সুন্দর করে আচার-আচরণের দ্বারা। যে ঘৃণা করে, তার কাছে থাকার একটা সুবিধা আছে। সুবিধা হলো নিজস্ব চরিত্রের ত্রুটিসমূহ খুঁজে বের করার। কারণ, আমাকে যে ঘৃণা করে- সে সর্বদাই আমার দোষ ধরতে সচেষ্ট থাকেন। কিন্তু অন্যকে ঘৃণা করার আগে নিজের দোষকে ঘৃণা করতে শিখতে হবে। অনুভূতি দিয়ে বুঝতে হবে তার মজাটা কেমন। ফুলকে স্বভাবতই প্রতিটি মানুষ পছন্দ করে। জানালার পার্শ্বে যদি ফুলগাছ থাকে— তবে ফুল না দেখার জন্য কেউ জানালা বন্ধ করে দেয় না। কেউ যদি এমন কাজটি করে— তবে বুঝতে হবে, ঐ ব্যক্তির ভালবাসার তহবিল শূন্য হয়ে আছে। এমন লোক হয়তো কোনো আহত ব্যক্তির রক্তক্ষরণ দেখে 'উহুঁ' বা 'আহা' করবে না।

সুতরাং আমরা তাকে মানুষের আওতায় না ফেলে, একটু ভিন্নতর প্রাণীর কোটায় ফেলবো। ঐ ব্যক্তির কাছে 'শ্রদ্ধা' 'অপমান' 'ঘৃণা', ভালবাসা- এসবের কোনটিই গুরুত্ব রাখে না। জাগতিক নিয়মে নয়, বরং ভিন্ন নিয়মে ঐ মানুষ নামের প্রাণীকে তখন কাদার তৈরি মূর্তির চাইতে বড় কিছু বলে আখ্যা দেয়া যায় না। যেহেতু আমার কাঁচা জ্ঞানের অভিজ্ঞতায় ও মানদণ্ডের বিচার-বিবেচনায় এমন ফলাফল পেয়েছি,— সেহেতু আমাকেও কেউ দোষত্রুটি হতে রেহাই দেবেন না। একথা আমি আগেই মনে রেখেছি।

লেখক :কবি ও চেয়ারম্যান, বিসিক

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটবে না। এতে অর্থনীতি দীর্ঘ মেয়াদি সংকটে পড়বে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
8 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ১৬
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৪
আসর৪:১৯
মাগরিব৬:০৫
এশা৭:১৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৬:০০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :