The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০১৪, ১৩ মাঘ ১৪২০, ২৪ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ নাদালের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন ওয়ারিঙ্কা | তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরীকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিয়োগ | শাবিতে শিবির-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, ভাংচুর | সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার বিশেষ ক্ষমতা আইনেই: আইনমন্ত্রী | যুক্তরাষ্ট্রের শপিং মলে হামলা, নিহত ৩ | মওদুদসহ বিএনপির ৪ নেতার জামিন

সৃজনশীল প্রশ্ন বলে কথা

মাছুম বিল্লাহ

বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উদ্যোগটি হচ্ছে, বাইরের প্রশ্নপত্র ক্রয় না করে প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ও দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষকগণ স্ব-স্ব বিষয়ের প্রশ্নপত্র নিজেরাই প্রণয়ন করবেন এবং ঐসব প্রশ্নপত্রের ওপরেই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা পরিচালনা করবেন। বছরের পর বছর ধরে চলা সনাতনী পদ্ধতি বাতিল করে ২০০৮ সালে মাধ্যমিক স্তরের লেখাপড়ায় চালু করা হয় ক্রিয়েটিভ বা সৃজনশীল প্রশ্ন। উদ্দেশ্য হচ্ছে, শিক্ষার্থিগণ অরিজিন্যাল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যত্ চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবে যা সনাতনী পদ্ধতিতে সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, শিক্ষার্থিগণ বর্তমানে যে ফল অর্জন করে পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে তা অধিকাংশই বাজারে প্রচলিত বইয়ের ধারণা হুবহু পরীক্ষার খাতায় ঢেলে আসার ফল, অবশ্য ব্যতিক্রমও আছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাই হচ্ছে। সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করার পরও শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষক কাউকেই সৃজনশীল করা যাচ্ছে না অর্থাত্ নিজ থেকে শেখা এবং প্রশ্নের উত্তর দেয়া হচ্ছে না এবং লাগছে না। কারণ, বাজারে বেরিয়েছে প্রচুর সৃজনশীল পদ্ধতির বই। তাহলে পূর্ববর্তী পরীক্ষাগুলো থেকে আলাদা হলো কি? তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা এটি একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকগণ নিজেরা প্রশ্নপত্র তৈরি করবেন এবং সেগুলোর ওপর নিজেরাই পরীক্ষা গ্রহণ করবেন, বর্তমানে প্রচলিত শিক্ষক সমিতির কাছ থেকে প্রশ্নপ্রত্র ক্রয়া করা যাবে না কিংবা বাজারের বই থেকে প্রশ্ন নকল করা যাবে না। বাজারে প্রচলিত বইগুলো থেকে হুবহু প্রশ্ন তুলে দেয়ার রীতি থাকায় অনেক পটেনশিয়াল শিক্ষকও প্রশ্নপত্র তৈরি করার মতো একটি আবশ্যিক দক্ষতা হারিয়ে ফেলেছেন। এটি পুনরুদ্ধার করা দরকার।

সাধারণ নিয়মে প্রশ্ন করাই শিক্ষকগণ অনেকে ভুলে গেছেন বা প্রশ্ন তৈরি করার দক্ষতা হারিয়ে ফেলেছেন; কারণ তাদের প্রশ্ন তৈরি করতে হয় না। নামি-দামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণও প্রশ্ন আসল অর্থে নিজেরা তৈরি করেন না। তারা টেক্সট পেপার বা গাইড বই থেকে অদল-বদল করে কিংবা উল্টিয়ে-পাল্টিয়ে অথবা কিছুটা পরিবর্তন করে প্রশ্নপত্র তৈরি করেন। তারা সমিতির কাছ থেকে প্রশ্নপত্র ক্রয় করেন না। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমিতির কাছ থেকে প্রশ্নপত্র ক্রয় করাই নিয়মে পরিণত হয়েছে। আর শিক্ষক সমিতিগুলো একাডেমিক কার্যাবলীর চেয়ে রাজনৈতিক কার্যকলাপেই বেশি ব্যস্ত থাকে। অবশ্য তাদের টিকে থাকার জন্য কিছু ব্যবসার প্রয়োজনও রয়েছে আর সেটি তারা প্রশ্নপত্র তৈরি এবং তা বিক্রির মাধ্যমে করে থাকে। বর্তমান ঘোষণার পর তারা রাজনৈতিক কার্যকলাপ ছাড়াও একাডেমিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করবেন, প্রস্তুতি নেবেন।

সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করার পর সারা দেশের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০১৩ সালে মাধ্যমিক, দাখিল ও উচ্চ মাধ্যমিক ও আলিমের চার লাখ ১৭ হাজার ৪৪০ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে এবং এ প্রশিক্ষণ ২০১৩ সালের অক্টোবরে শেষ হয়েছে। প্রথমে মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হয়েছে। তারা জেলা পর্যায়ের শিক্ষকদের তিনদিনের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন ধরনের মতামত এসেছে শিক্ষকদের কাছ থেকে। তা থেকে জানা যায় যে, সৃজনশীল পদ্ধতিতে শিক্ষকের প্রশিক্ষণ যথাযথ হয়নি। এ বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে ভেবে দেখতে হবে। সকল শিক্ষককে সৃজনশীল পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়ার জন্য পত্র-পত্রিকা, রেডিও-টেলিভিশনে আরও ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো টক-শো-র আয়োজন করে থাকে, অথচ শিক্ষার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে টক-শো খুব একটা দেখা যায় না। টিভি চ্যানেলগুলোরও তো এ ব্যাপারে দায়-দায়িত্ব কিছুটা আছে। কাজেই তারা বিষয়টি নিয়ে টক-শো-র আয়োজন করতে পারেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তিনি বলেন, পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনে শিক্ষকদের সংকট প্রকট। পরিস্থিতি এমন যে, এসএসসি-র প্রি-টেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্ন পর্যন্ত বোর্ড থেকে করে দিতে হয়েছিল। কারণ অনেক স্কুল তা করতে পারেনি। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীদের আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা সরকারের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব সরকারকে কঠোরভাবে পালন করতে হবে, কোন ধরনের তদবির বা নিয়ম বহির্ভূত কাজ করা যাবে না। এসব কারণেই শিক্ষকতা পেশার এই হাল হয়েছে। এ পেশার করুণ দশার জন্য আমরা কাকে দোষারোপ করব? শিক্ষকদের, না আমাদের ব্যবস্থাকে?

আমাদের শিক্ষার্থীদের জানার আগ্রহ অনেক, তাদের আগ্রহ মেটাতে সক্ষম নন আমাদের অনেক শিক্ষক। অথচ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য তৈরি করতে হবে। আর এ মহান দায়িত্ব শিক্ষকদেরকেই পালন করতে হবে। কাজেই তাদের সৃজনশীল হতেই হবে। আর পেছনে তাকানো যাবে না।

লেখক : ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট :বাংলাদেশ ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ টিচার্স এসোসিয়েশন (বেল্টা)

ইমেইল: [email protected]

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটবে না। এতে অর্থনীতি দীর্ঘ মেয়াদি সংকটে পড়বে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
1 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ২০
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :