The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০১৪, ১৩ মাঘ ১৪২০, ২৪ রবিউল আওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ নাদালের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন ওয়ারিঙ্কা | তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরীকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিয়োগ | শাবিতে শিবির-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, ভাংচুর | সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার বিশেষ ক্ষমতা আইনেই: আইনমন্ত্রী | যুক্তরাষ্ট্রের শপিং মলে হামলা, নিহত ৩ | মওদুদসহ বিএনপির ৪ নেতার জামিন

শিক্ষা আইনের আগে এমপিওভুক্তি নয়

নিজামুল হক

শিক্ষা আইন পাসের আগে আর কোন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে না। ফলে এমপিওভুক্তির যোগ্যতা থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্তির জন্য আরো অপেক্ষা করতে হবে। মন্ত্রণালয়সূত্র জানিয়েছে, নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি এবং এমপিওভুক্ত হবার পর যেসব প্রতিষ্ঠানে নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী নেই তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষা আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে ব্যবস্থা নেয়া যাবে। এ কারণে শিক্ষা আইনের পরেই নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি হবে।

সরকারের গত মেয়াদে মন্ত্রী পরিষদের সভায় শিক্ষা আইনে কিছু সংশোধনীর কথা বলা হয়। সে আলোকেই শিক্ষা আইন সংশোধন করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশোধনের পর এটি নতুন করে মন্ত্রী পরিষদের সভায় যাবে। পরে এটি সংসদে পাস হবে।

দেশে ৩৩ হাজার বেসরকারি হাইস্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজে ৫ লাখেরও বেশি শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে ২৮ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্তির মাধ্যমে বেতন-ভাতার সরকারি অংশ পান। কিন্তু বেশকিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় সমান। আবার কোথাও শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষক সংখ্যা বেশি। ফলে ওইসব প্রতিষ্ঠানে সরকারের অর্থ অপচয় হচ্ছে। শিক্ষা আইন পাসের পর এইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে। প্রয়োজনে শিক্ষকের এমপিও বহাল রেখে ওই প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল করা হবে। ওই শিক্ষকদের অন্য এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে। এর ফলে সরকারের অর্থ সাশ্রয় হবে। এভাবে কিছু প্রতিষ্ঠান সমন্বয়ের পর নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে।

খসড়া শিক্ষা আইনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিভুক্তির অংশে উল্লেখ রয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ প্রাপ্তির জন্য প্রতিষ্ঠানসমূহকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রাপ্যতা, স্বীকৃতি/অধিভুক্তি, জনবল কাঠামো, কাম্য শিক্ষার্থী, পাবলিক পরীক্ষার কাম্য ফলাফল এবং ব্যবস্থাপনা কমিটি/গভর্নিং বডি ইত্যাদির শর্তসমূহ সরকার কর্তৃক জারিকৃত এমপিও নির্দেশিকা অনুসারে প্রতিপালন করতে হবে। প্রতিষ্ঠান এমপিও বাতিলের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/শিক্ষক নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করলে সরকারি বেতন-ভাতার অংশ প্রদান করা যাবে না এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান/শিক্ষকের এমপিও বাতিল করা যাবে।

দেশে সর্বশেষ ২০১০ সালের ১৬ জুন ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়। এর মধ্যে জুনিয়র স্কুল ৫২৯টি, স্কুল ৩৫৮টি, ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ১০৫টি, এইচএসসি (বিএম) ১৫৫টি, স্কুল এ্যান্ড কলেজ ২৩টি এবং ১২৫টি ভোকেশনাল স্কুল রয়েছে। কিন্তু এরপর আর কোন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি। কিন্তু সারাদেশে সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ৭ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন এমপিওভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায়। এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে ১৭ লাখ শিক্ষার্থী। গত চার বছর নতুন এমপিওভুক্তি বন্ধ রয়েছে। এ চার বছরে সরকারি অনুমোদন পাওয়া প্রায় তিন হাজার নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও যোগ হচ্ছে এমপিওভুক্তির জন্য। গত ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে এমপিওভুক্তির জন্য মাত্র ৩৬ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ ছিল। এই টাকা দিয়ে দুইশ প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা যেত।

বেসরকারি সাত হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্তির দাবিতে সোচ্চার রয়েছেন। গত চার বছর ধরেই তারা এমপিওভুক্তির দাবিতে মাঠে রয়েছেন। সংসদ সদস্যরা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে সংসদে মুখর ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী তাদের জানিয়েছেন বাজেটে অর্থ নেই। ওই সময়ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংসদ ও শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেছিল 'আমরা তালিকা করে প্রস্তুত রয়েছি। অর্থ বরাদ্দ পেলেই নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে।' কিন্তু নতুন প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তি আর দেয়া হয়নি। বর্তমান সরকারের সংসদ অধিবেশনের শুরু থেকেই সংসদ সদস্যরা সংসদে এমপিওভুক্তির দাবি জানাবেন বলে জানা গেছে।

শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এমপিওভুক্তি নির্ভর করে অর্থের ওপর। এবার এমপিওভুক্তিতে অর্থ যেন অপচয় না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। আমরা আগে শিক্ষা আইন করবো। তিনি বলেন, দেশের বেশকিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে শিক্ষার্থী নগণ্য। এইসব প্রতিষ্ঠানের কারণে এমপিওভুক্তির অর্থ অপচয় হয়। এ প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়েও আমরা ভাবছি। তবে ভালো কোন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বাইরে থাকবে না।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটবে না। এতে অর্থনীতি দীর্ঘ মেয়াদি সংকটে পড়বে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
6 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ২৫
ফজর৩:৪৫
যোহর১২:০১
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :