The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ জানুয়ারি ২০১৩, ১৬ মাঘ ১৪১৯, ১৬ রবিউল আওয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আগামীকাল অর্ধদিবস হরতাল | হংকং গমনেচ্ছুদের নিবন্ধন ফেব্রুয়ারিতে: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী | বিপিএল: ৩৩ রানে খুলনার হার | বিপিএল: সিলেট রয়্যালসের প্রথম হার | ডিএসই: দিন শেষে সূচক বেড়েছে ৬৪ পয়েন্ট | মেহেরপুরে সন্ত্রাসী হামলায় যুবলীগ নেতা নিহত | লাঠি নিয়ে বিক্ষোভ , ফুলবাড়িতে ঢুকতে পারেনি এশিয়া এনার্জির প্রধান | পুরান ঢাকায় অতর্কিত হামলা, দুই বাসে আগুন | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৫টি ককটেল বিস্ফোরণ | এ সরকারের ওপর প্রেতাত্মা ভর করেছে: সমাবেশে তরিকুল | জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজন ঐকমত্য:হানিফ | জামায়াত-শিবির দেখলেই গণধোলাই: ১৪ দল | পদ্মা দুর্নীতি ও ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে সরকার বিব্রত: তথ্যমন্ত্রী | আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ সংসদীয় কমিটির | ধর্ষণের তথ্য পেলেই মামলা নিতে হাইকোর্টের নির্দেশ | বিমানে স্বাচ্ছন্দ্য ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ | সাঈদীর মামলার রায় যেকোন দিন

বিএনপি অনড় :এ সরকারের অধীনে কোনভাবেই নির্বাচন নয়

শামছুদ্দীন আহমেদ

'নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিরোধী দল নির্বাচনে যাবে না, এমনকি তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া দেশে কোনো একতরফা নির্বাচনও হতে দেয়া হবে না'- মুখের এরকম হুংকারের সঙ্গে বিএনপির দৃশ্যমান সাংগঠনিক শক্তি ও রাজপথের অবস্থানের ফারাক বিস্তর। এরকম অবস্থানে দাঁড়িয়েই বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, পরিস্থিতি যেদিকেই যাক না কেন-কোনো অবস্থাতেই তারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবেন না। তাতে যা হবার হবে, যত মূল্য দেয়া দরকার দেবেন, প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারেও রাজি তারা। অবশ্য তারা বলছেন, এই ধরনের কোনো বেসামাল পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটলে সেটির সম্পূর্ণ দায় সরকারকেই নিতে হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক-বিশ্লেষকরাও বলছেন, বিএনপি কোন পথে? তারা সংসদেও যাচ্ছে না, আবার রাজপথেও উল্লেখযোগ্যভাবে সক্রিয় নেই। মাঝে-মধ্যে দু'একটি বিচ্ছিন্ন হরতাল, অবরোধ, মানববন্ধন, গণসংযোগ আর গতানুগতিক বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশের বৃত্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ সরকার বিরোধী আন্দোলন। আবার একটি ইস্যুতে সভা-সমাবেশের কর্মসূচি শেষ হতে না হতেই সামনে চলে আসছে আরও বড় ইস্যু। কোনটা রেখে কোনটিতে হাত দেবে, সেখানেও খেই হারিয়ে ফেলছে বিএনপি।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, বিএনপির সাংগঠনিক কোনো দুর্বলতা নেই। আন্দোলনের কতগুলো স্তর থাকে। সেভাবেই বিরোধী দল এগোচ্ছে। পর্যায়ক্রমে আন্দোলন তীব্রতর হবে। উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কর্মসূচি দেয়া হবে। সেই আন্দোলনে সরকার দিশেহারা হয়ে পড়বে। সরকার তখন বিরোধী দলের দাবি মেনে নিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে। এভাবে রাজপথেই এ সমস্যার সমাধান হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবারও আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় সুস্পষ্ট করে বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে কী নেবে না, তা তাদের ব্যাপার। নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য দলীয় এমপিদের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

কোনো অবস্থাতেই অনির্বাচিত ও নির্দলীয় সরকারের দাবি মানা হবে না- এরকম সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পক্ষান্তরে বিরোধী দল বলছে, তারা শেখ হাসিনার কিংবা বর্তমান দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না। তাহলে পরিস্থিতি কোনদিকে গড়াবে?

এই প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার যদি এরকম অনড় অবস্থানে থাকে কিংবা একগুয়েমি দেখায় তাহলে রাজনীতি ও নির্বাচন অনিশ্চয়তার দিকেই যাবে। এতে দেশে অস্থিরতা বাড়বে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত সাম্প্রতিক জনমত জরিপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব জরিপে দেখা গেছে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ নির্দলীয় সরকারের পক্ষে। সুতরাং এ ব্যাপারে জনমত তৈরি হয়েই আছে। সরকার যদি জনমত উপক্ষো করে একতরফা কোনো নির্বাচন করতে চায় তাহলে জনগণই তা প্রতিহত করবে।

শেষ পর্যন্ত যদি বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়াই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে এমন কী সাংগঠনিক শক্তি আছে যা দিয়ে বিএনপি তা প্রতিহত করবে—এরকম প্রশ্নের জবাবে ড. মোশাররফ বলেন, প্রশাসন যন্ত্রকে ব্যবহার করে বর্তমান সরকার চাইলে গায়ের জোরে ঐরকম একটি নির্বাচন করতে পারে। ঐরকম নির্বাচন ('৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি) আমরাও করেছি। পরিণতি খারাপ হবার আগেই আমরা ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছি। ১৯৮৮ সালে এরশাদ সাহেবও এই ধরনের নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু মাত্র দুই বছরের মাথায় নিদারুণ পরিণতি হয়েছিল তাদের। আমরা মনে করি, বর্তমান সরকারও যদি সে পথে হাঁটে, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা মোকাবেলা করার মত সামর্থ্য বিএনপির রয়েছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির সামনে পথ একটিই-তা হল আন্দোলন। আমাদের সামনে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত পরিষ্কার, কোনো অবস্থাতেই বর্তমান সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব না, সরকার একতরফা নির্বাচন করতে চাইলে সর্বশক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। এতে যা হবার তাই হবে, সংগ্রাম করতে হলে করব। আমরা সেই ধরনের প্রস্তুতি নিয়েই এগুচ্ছি।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও বলেছেন, সরকার যতকিছুই বলুক, কোনো দলীয় কিংবা বহুদলীয় বা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোট অংশ নেবে না। সরকার গোঁ ধরলে বিএনপি আন্দোলনের মাধ্যমেই তার জবাব দেবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা ধারাবাহিকভাবে বলছেন, উপ-নির্বাচন, সিটি করপোরেশন ও উপজেলাসহ বর্তমান সরকারের আমলে পাঁচ হাজারের বেশি নির্বাচন হয়েছে, কোথাও সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। এসব স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের উদাহরণ তুলে ধরে তারা দাবি করছেন, বর্তমান সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচনও অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।

সরকারি দলের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আর জাতীয় সংসদ নির্বাচন আলাদা বিষয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিয়ে সংসদ নির্বাচনকে মূল্যায়ন করা যায় না। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তন হয় না।

এই প্রসঙ্গে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপি সরকারের আমলেও সবগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। আমাদের সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঢাকায় মো. হানিফ ও চট্টগ্রামে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। কোনো কোনো নির্বাচনে বিএনপির লোক হেরেছে। কাজেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এখন যা বলছেন, সেরকম উদাহরণ বিএনপির শাসনামলেও ছিল। কিন্তু তাই বলে এখনকার প্রধানমন্ত্রী সেদিন ('৯৬ সালে) তত্ত্বাবধায়াকের দাবি থেকে সরে যাননি। তাহলে এখন বিএনপিকে কেন প্রধানমন্ত্রী ঐসব উদাহরণ দেখাচ্ছেন? যে কারণে সেদিন আওয়ামী লীগ নির্দলীয় সরকারের দাবি তুলেছিল, এখনও একই কারণেই আমরাও নির্দলীয় সরকার চাচ্ছি।

বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে না গেলে এবং একটি নির্বাচন হয়ে গেলে পরিস্থিতি কী হবে, এ প্রশ্নের জবাবে জেনারেল মাহবুব বলেন, আমরা বারবার আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছি যে-কোনো অবস্থাতেই বর্তমান সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব না। এখানে আমাদের ছাড় দেয়ার কোনো অবকাশ নেই। শেষ পর্যন্ত লড়বো। সরকার যদি নিজেদের অবস্থানে অটল থাকে তাহলে নিশ্চয়ই পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে যাবে। এজন্য দায়ী থাকবে বর্তমান সরকার। আমরা যত মূল্য দিতে হয় দেব, তবু দাবি করেই ছাড়বো, দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করবোই।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সংসদ নির্বাচন হবে এই সরকারের অধীনেই। মহাজোট সরকারের এই অনড় অবস্থান গ্রহণ যৌক্তিক বলে মনে করেন?
7 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৪
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৫
মাগরিব৫:৩৭
এশা৬:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৫৫সূর্যাস্ত - ০৫:৩২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :