The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮ মাঘ ১৪১৯, ১৮ রবিউল আওয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ বরিশালের ৬ রানে জয় | সিলেটে দলীয় কোন্দলে ছাত্রদল নেতা নিহত | শর্ত পূরণ না হলে পদ্মায় অর্থ নয়: বিশ্বব্যাংক | ফেনীতে পিকেটারদের তাড়া খেয়ে সিএনজি চালক নিহত | সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলায় উদ্বিগ্ন রাশিয়া | নারায়নগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩ | বগুড়ায় আগামী শনিবার জামায়াতের হরতাল আহ্বান | বিপিএল: রংপুরের বিপক্ষে সিলেটের জয় | স্কাউটদের দেশের প্রয়োজনে প্রস্তুত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর | ডিএসই: দিন শেষে সূচক বেড়েছে ১০ পয়েন্ট | ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভয়াবহ ডাকাতি, চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে চারজনকে হত্যা | নির্বাচন পদ্ধতি রাজনীতিবিদরাই নির্ধারণ করবেন :সিইসি | পল্টন থানার মামলায় জামিন পেয়েছেন মির্জা ফখরুল | যশোরে শিবিরের তা্লব, অসুস্থ হয়ে পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু | বগুড়ায় সংঘর্ষে ব্যবসায়ী ও শিবির নেতা নিহত | দেশব্যাপী জামায়াতের ডাকে হরতাল পালন

দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতেনির্বিচারে পোনা শিকার

বরিশাল অফিস

দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে অবাধে শিকার করা হচ্ছে পোনা মাছ। পোনা মাছ ধরার জাল হিসাবে পরিচিত বেহেন্দি ও মশারি জাল দিয়ে ইলিশ, রিডা, আইড়, পাঙ্গাস, কাঁচকি, চাপিলা, বাটা, বায়লা, পুঁটি, বাইন ও চিংড়ির পোনা নির্বিচারে শিকার করছে জেলেরা। এগুলো 'গুঁড়া মাছ' হিসাবে কেজি দরে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। একটু বড় মাছগুলো সাচরা মাছ হিসাবে ভাগ দিয়ে বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় বাজারগুলোতে। এসব সুস্বাদু মাছ বড় হওয়ার আগেই জেলেরা ধরে ফেলায় বিগত কয়েক বছর ধরে মাছের বংশবিস্তার কমে গেছে। এভাবে অবাধে পোনা নিধন হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নদ-নদীর সুস্বাদু মাছের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন সরকারি বিএম কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান। তিনি প্রায় অর্ধশত প্রজাতির মাছ উপকূলের নদ-নদী থেকে হারিয়ে যাওয়ার তথ্য দিয়ে বলেন, মত্স্য আইনে আছে ৩০ সেন্টিমিটারের নিচে কোনো মাছ ধরা যাবে না। কিন্তু এ আইনটি শুধু মাত্র ইলিশের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ হচ্ছে।

মত্স্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ছোট মাছ বেশি পরিমাণে শিকার হওয়ার কারণেই এ অঞ্চলের মানুষ মৌসুমী মাছ পাচ্ছে না।

সরেজমিনে নগরীর তালতলী খেয়াঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, ভোরের আলো ফোটার আগেই প্রায় অর্ধশত নৌকা বোঝাই করে গুঁড়া মাছ নিয়ে হাজির হয়েছে জেলেরা। বর্তমানে জাটকাবিরোধী অভিযানের কারণে ইলিশ নেই বললেই চলে। শুধু গুঁড়া মাছের নামে নানা প্রজাতির লাখ লাখ টাকার পোনা বিক্রি হচ্ছে। এ বাজারে প্রতিদিন কয়েক মণ পোনা মাছ বিক্রি হয় বলে মত্স্য ব্যবসায়ীরা জানান।

অনুসন্ধানে তালতলী খেয়াঘাট ছাড়াও বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, চরমোনাই, চন্দ্রমোহন ও বুখাইনগর এলাকার ঘাটগুলোতে ভোরে সূর্য ওঠার আগেই পাইকারদের কাছে জেলেরা এ ধরনের মাছ বিক্রি করছে বলে জানা গেছে। সেখান থেকেই পাইকাররা স্থানীয় বাজার ও নগরীতে এনে এসব মাছ বিক্রি করছে। জেলেরা জানায়, উপকূলের নদ-নদীতে শীত মৌসুমে সাধারণত চাপিলা, কাঁচকি ও দগরি মাছ ধরার জন্য জেলেরা শিকারে নামে। কিন্তু এসব মাছের সাথে অবাধে বেহেন্দি জাল, মশারি জাল দিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে নানান প্রজাতির মাছের পোনা। এখানকার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, আড়িয়াল খাঁ, বলেশ্বর, জয়ন্তী, নয়া-ভাংগুলী, সুগন্ধা, সন্ধ্যা, কালাবদর, কীর্তনখোলা ও বুড়া গৌরগঙ্গা নদীতে প্রতিনিয়ত জেলেরা পোনা শিকার করে যাচ্ছে।

প্রবীণরা জানান, আগে নদীর মাছ ছাড়াও শীতের মৌসুমে এ অঞ্চলের পুকুর, ডোবা, খাল-বিলে শীত মৌসুমে শিং, মাগুর, কই, বাছা, পুঁটি ও ভেদা মাছ পাওয়া যেত। নদ-নদীতে কাজলী, রানী, বাইম, পাটা বাইম, মহাশোল, বাঘা আইড়, বোয়াল, রিটা, পিপলা, চিতলসহ কয়েকশ' প্রজাতির সুস্বাদু মাছ পাওয়া যেতো। ধীরে ধীরে এসব প্রজাতির অধিকাংশ মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। শিং ও মাগুরসহ কিছু মাছ আগে পাওয়া গেলেও এখন তাও মিলছে না।

ছোট ডিঙ্গি নৌকায় পোনা মাছ ধরা হয় যা অভিযানের সময় আটক হয় না। মত্স্য কর্মকর্তা ও কোস্টগার্ড জাটকা ইলিশ মাছের শিকার ঠেকাতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

জেলা মত্স্য কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান ইত্তেফাককে জানান, নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত ইলিশ মাছ ধরা নিষেধ। এছাড়াও উপকূলের নদ-নদীতে সাড়ে ৪ সেন্টিমিটারের জাল দিয়ে মাছ শিকার করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রেণু পোনা থেকে শুরু করে ছোট জাতের সকল মাছ শিকার বন্ধে কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কোস্টগার্ডের পাশাপাশি নৌবাহিনী অভিযান শুরু করবে।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সংকটের ফয়সালা রাজপথেই হবে বলেছে বিএনপি। আপনি তাদের এ বক্তব্য যৌক্তিক মনে করেন?
5 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৫
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :