The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০ মাঘ ১৪১৯, ২০ রবিউল আওয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ কাল থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু | সোমবার সারাদেশে জামায়াতের বিক্ষোভ,বাধা দিলে লাগাতার হরতাল | টেস্টে সর্বনিম্ন রানের লজ্জায় পাকিস্তান | বিপিএল : বরিশালের বিপক্ষে রাজশাহীর জয় | তুরস্কে মার্কিন দূতাবাসে হামলা, নিহত ২ | সড়ক দুর্ঘটনায় মানিকগঞ্জে ৭, মহাদেবপুরে ২, ঝিকরগাছায় ১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ জন নিহত | নারায়ণগঞ্জে শিবিরের হামলায় ১২ পুলিশ আহত | বগুড়ায় পুলিশের গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ-ভাঙচুর | বগুড়ায় জামায়াতের ডাকে হরতাল পালন | পদ্মা সেতু নিয়ে রাজনীতি করেছে বিশ্বব্যাংক: সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত | দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেয়েছে :সিরাজগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী | নিজস্ব অর্থায়নে আগামী দুই মাসের মধ্যেই পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ শুরু হবে :জানালেন অর্থমন্ত্রী

হদিস নেই সাড়ে পাঁচ লাখ ভোটারের

ইত্তেফাক রিপোর্ট

নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তালিকায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৬ জন ভোটারের হিসাব না মেলার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ও রাজ-নৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এই ভোটাররা গেল কোথায়, তাদের হদিস মিলছে না কেন? চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে-পরে খোদ ইসির দেয়া তথ্যেই গরমিল দেখা দেয়ায় এনিয়ে সঙ্গত কারণেই রাজনৈতিক বিতর্কও দেখা দেবে বলে মনে করছেন তারা।

ভোটার তালিকার এই তথ্যবিভ্রাট সম্পর্কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সরকার বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপিকা দিলারা চৌধুরী গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, শুরু থেকেই বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সকল কার্যক্রমে কোনো না কোনো গরমিল দেখছি। এখন চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এরকম মারাত্মক বিভ্রান্তির কারণে এই কমিশন সম্পর্কেই জনমনে সন্দেহ কিংবা আস্থার সংকট দেখা দেবে। এমনিতেই সাধারণ মানুষের একরকম ধারণা রয়েছে যে, এই কমিশন অদৃশ্য কোনো শক্তি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। সাড়ে পাঁচ লাখ ভোটারের হিসাব না মেলার কারণে মানুষের সেই ধারণা এখন তা আরও বদ্ধমূল হবে।

নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী ২০১২ সালের ১০ মার্চ ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম শুরুর আগে সারা দেশে ছবিসহ ভোটার ছিল ৮ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার ৩৫৬ জন। মৃত্যুজনিত কারণে তালিকা থেকে কর্তন করা হয় ৭ লাখ ৪১ হাজার ৬৯ জনকে। অন্যদিকে এবার হালনাগাদ কার্যক্রমে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ৭০ লাখ ১৭ হাজার ৫২১ জন ভোটার। এই হিসাবে চূড়ান্ত তালিকায় ভোটার হওয়ার কথা ৯ কোটি ২৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮০৮ জন। কিন্তু বৃহস্পতিবার কমিশন প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে, ভোটার সংখ্যা ৯ কোটি ২১ লাখ ২৯ হাজার ৮৫২। ফলে ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৬ জন ভোটারের হিসাবে গরমিল পরিলক্ষিত হচ্ছে।

তথ্যবিভ্রাট সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে স্পষ্ট কোনো জবাব কিংবা ব্যাখ্যা দিতে পারেননি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। তবে সাংবাদিকদের সিইসি বলেছেন 'ভোটার তালিকা প্রণয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তাদের কাছে আমিও এই প্রশ্নটি করেছি, তাদের জবাবের অপেক্ষায় আছি।

এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ প্রকল্পের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকতারুজ্জামান সিদ্দিকী দাবি করেছেন, হালনাগাদের সময় যে হিসাব দেয়া হয়েছিল, সেটি হয়তো ভুল ছিল। বর্তমানে যে হিসাব দেয়া হয়েছে তা শতভাগ নির্ভুল।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা জানিপপ চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, সাড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি ভোটারের হিসাব কেন মিলছে না, সে ব্যাপারে কমিশনকেই ব্যাখ্যা দিতে হবে। কীভাবে ভোটারের এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ হিসাব বুঝিয়ে দিতে হবে কমিশনকেই। তা না হলে এনিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠবে। যে পর্যন্ত কমিশন সবার কাছে বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা হাজির করতে না পারবে, সে পর্যন্ত অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলেও কমিশন দাবি করতে পারবে না।

২০১২ সালের ৮ মার্চ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিতভাবে সিইসি কাজী রকীবউদ্দিন জানিয়েছিলেন, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৮ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ছিল ৪ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ১৪৯, পুরুষ ভোটার ছিল ৩ কোটি ৯৮ লাখ ২২ হাজার ৫৪৯ জন। এরপর ২০০৯ সালের হালনাগাদে ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ কোটি ৫৭ লাখ ৪৭ হাজার ৩৬৩। ঐসময় ভোটার বৃদ্ধি পায় ৪৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ছিল ২০ লাখ ৭৭ হাজার ৩৮৬ এবং পুরুষ ভোটার ছিল ২৬ লাখ ১১ হাজার ২৭৯ জন। পরে দুই বছর ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ভোটার করার কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। কমিশন থেকে বলা হয়, ঐ দুই বছরে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ভোটার নিবন্ধন করা হয়েছে। সেই হিসাব কষলেও বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ভোটার সংখ্যার সঙ্গে গরমিল ধরা পড়ে।

অধ্যাপিকা দিলারা চৌধুরীর মতে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পূর্বশর্ত হল একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা। সেক্ষেত্রে এই কমিশন শুরুতেই হোঁচট খেল। ড. কলিমুল্লাহও মনে করেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা সম্পর্কে এই তথ্যবিভ্রাট দূর করতে কমিশন ব্যর্থ হলে এই কমিশনকে অনেক বড় মূল্য দিতে হতে পারে। তাই যতদ্রুত সম্ভব এর গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিয়ে কমিশনের উচিত একটি সন্দেহমুক্ত ভোটার তালিকা জনগণের সামনে হাজির করা।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সাংবাদিকদের জন্য পৃথক আবাসন তৈরি করা প্রয়োজন। সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?
2 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ২১
ফজর৩:৫৮
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১১
সূর্যোদয় - ৫:২৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :