The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০ মাঘ ১৪১৯, ২০ রবিউল আওয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ কাল থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু | সোমবার সারাদেশে জামায়াতের বিক্ষোভ,বাধা দিলে লাগাতার হরতাল | টেস্টে সর্বনিম্ন রানের লজ্জায় পাকিস্তান | বিপিএল : বরিশালের বিপক্ষে রাজশাহীর জয় | তুরস্কে মার্কিন দূতাবাসে হামলা, নিহত ২ | সড়ক দুর্ঘটনায় মানিকগঞ্জে ৭, মহাদেবপুরে ২, ঝিকরগাছায় ১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ জন নিহত | নারায়ণগঞ্জে শিবিরের হামলায় ১২ পুলিশ আহত | বগুড়ায় পুলিশের গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ-ভাঙচুর | বগুড়ায় জামায়াতের ডাকে হরতাল পালন | পদ্মা সেতু নিয়ে রাজনীতি করেছে বিশ্বব্যাংক: সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত | দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেয়েছে :সিরাজগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী | নিজস্ব অর্থায়নে আগামী দুই মাসের মধ্যেই পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ শুরু হবে :জানালেন অর্থমন্ত্রী

রেলওয়ের যাত্রী নিরাপত্তা

গত বৃহস্পতিবার ভোরে আখাউড়া হইতে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়িয়া যাওয়া তিতাস কমিউটার ট্রেনে ভয়াবহ ডাকাতি সংঘটিত হয়। এ সময় বাধা দেওয়ার কারণে ভাদুঘর সেতুর ওপরে পাঁচ যাত্রীকে ট্রেন হইতে ফেলিয়া দেয় সশস্ত্র ডাকাতরা। ইহাতে একজন নারীসহ চারজন নিহত হইয়াছেন। যাত্রীবেশে ডাকাতদের এই তান্ডবের ঘটনায় যাহারা নিয়মিত বা অনিয়মিত রেলভ্রমণ করিয়া থাকেন তাহাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা দেখা দিয়াছে। শুধু তাহাই নহে, সম্প্রতি ট্রেনে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের পাশাপাশি রেললাইনের কাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনা বাড়িয়া গিয়াছে আশংকাজনক হারে। হত্যার পর লাশ রেললাইনের নিচে ফেলিয়া দিয়া তাহা দুর্ঘটনা হিসাবে প্রচারের প্রবণতাও দেখা যাইতেছে। গত ৬ মাসে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে ৩৬০টি কাটা লাশ উদ্ধার করা হইয়াছে। তন্মধ্যে গাজীপুর রুটেই ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের হাতে নিহত হইয়াছেন ৪৭ জন যাত্রী। তাহাদেরকে চলন্ত ট্রেন হইতে ফেলিয়া দিয়া হত্যা করা হয়। ইহাছাড়া ট্রেনে রহিয়াছে অজ্ঞান পার্টি আর পকেটমারদের সীমাহীন দৌরাত্ম্য ।

বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল ও জনবহুল দেশে গণপরিবহন হিসাবে রেলওয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু লোকবল-লোকোমোটিভ সংকট, রেল লাইন ঘেঁষিয়া অনিরাপদ বস্তি ও জরাজীর্ণ রেল লাইনসহ রেলওয়ের সমস্যার অন্ত নাই। তবে ইদানীং যাত্রীদের নিরাপত্তার অভাবই রেলওয়ের সবচাইতে বড় সমস্যা হইয়া দেখা দিয়াছে বলিয়া অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। বলিতে গেলে রেলওয়ের নিরাপত্তার সেই পুরাতন ধারা এখনও বজায় রহিয়াছে। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুইভাবে বিভক্ত। এক. রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী। তাহাদের দায়িত্ব শুধু রেলের সম্পদ পাহারা দেওয়া। দুই. রেলওয়ে পুলিশ, যাহারা পুলিশ বাহিনী হইতে প্রেষণে নিযুক্ত। রেলওয়ের চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধ এবং লাশ উদ্ধার ও মামলা তদন্তসহ রেলযাত্রীদের যাবতীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে এই বাহিনী। কিন্তু নানা সংকট ও সমস্যায় জর্জরিত এই রেলওয়ে পুলিশ বিভাগ। যেমন—১৯ কামরার এক্সপ্রেস ও মেইল ট্রেনের নিরাপত্তায় থাকেন মাত্র ৪-৫ জন রেল পুলিশ। তাহাদের বেশীরভাগই আবার লাঠিধারী কনস্টেবল। টহল বাহিনীর নেতৃত্ব দেন বড় জোর একজন এএসআই কিংবা এসআই। তাও আবার রাতের ট্রেনগুলিতে। টহল পুলিশ কর্মীরা যাহাতে নিজেদের মধ্যে অবিরত যোগাযোগ রাখিতে পারেন সেজন্য নাই কোন ওয়াকিটকি। ফলে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনেই যোগাযোগ রাখিতে হয় টহল পুলিশকে।

প্রকৃতপক্ষে রেলওয়ে পুলিশ এখন ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দারে পরিণত হইয়াছেন। তাই রেলওয়ে পুলিশের উন্নতি বিধানে সরকারকে সচেষ্ট হইতে হইবে। উল্লেখ্য, রেলওয়ে পুলিশ সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। যাহারা ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের নেকনজর পাইতে ব্যর্থ হন বা কোনভাবে বিরাগভাজন হন, তাহাদেরকেই এখানে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয় বলিয়া অভিযোগ রহিয়াছে। এমতাবস্থায় তাহারা আর কিইবা করিতে পারেন! এ কারণে রেলওয়ের নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বাড়িয়াই চলিয়াছে। সবচাইতে বিপত্তি ঘটে রাতের মেইল ও কমিউটার ট্রেনগুলিতে। এ ট্রেনগুলিতে করিডোর দিয়া চলাচলের সুযোগ নাই। ট্রেনগুলির এক বা দুইটি কামরায় পুলিশ অবস্থান গ্রহণ করিলেও বাকি কামরাগুলি থাকিয়া যায় অনিরাপদ। আবার এসব ট্রেনের অধিকাংশ কামরায় রাতে আলো থাকে না। তাই ট্রেনের যাত্রী নিরাপত্তা বাড়াইতে হইলে রেল পুলিশের জনবল ও রাতের ট্রেনগুলিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা অতীব প্রয়োজন।

বস্তুত ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলাদেশ ভূখন্ডে প্রথম রেললাইন চালু হইয়াছিল ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর। শুরুটা ছিল দর্শনা ও কুষ্টিয়ার জগতি এলাকার মধ্যে ৫৩.১১ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপনের মাধ্যমে। সেখানে বর্তমানে রেললাইন ২ হাজার ৮৫৫ কিলোটিমার। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন হইলেও রেললাইন প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ে নাই। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন জামতলী-ইব্রাহিমবাদ হইয়া যুমনা ব্রিজ পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইন স্থাপন করা হয়। গত কয়েক বত্সরে লোকবল স্বল্পতার অজুহাতে রেলের মোট ১১৭টি স্টেশন বন্ধ করিয়া দেওয়া হইয়াছে। এই সময়ে রেলের দুই অঞ্চলে বেশকিছু শাখা লাইন বন্ধ কিংবা লাইনে ট্রেন চলাচল কমানো হইয়াছে। ইহাতেই বোঝা যায়, রেলওয়ে আজ কতটা অবহেলিত। তাহার উপর সম্প্রতিকালে রেলভাড়া বাড়ানো হইয়াছে। কিন্তু যাত্রীসেবার মান বাড়িতেছে না। যাত্রীসেবার মধ্যে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হইবে অবশ্যই। বর্তমানে রেলওয়ের দুই অঞ্চলের মধ্যে প্রতিদিন চলাচলকারী ২৮৮টি ট্রেনে প্রায় আড়াই লাখ রেলযাত্রী চলাচল করিতেছেন। তাহাদের চলার পথ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করিতে গ্রহণ করিতে হইবে সর্বাত্মক উদ্যোগ।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সাংবাদিকদের জন্য পৃথক আবাসন তৈরি করা প্রয়োজন। সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?
6 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ২২
ফজর৩:৫৮
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১১
সূর্যোদয় - ৫:২৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :