The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০ মাঘ ১৪১৯, ২০ রবিউল আওয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ কাল থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু | সোমবার সারাদেশে জামায়াতের বিক্ষোভ,বাধা দিলে লাগাতার হরতাল | টেস্টে সর্বনিম্ন রানের লজ্জায় পাকিস্তান | বিপিএল : বরিশালের বিপক্ষে রাজশাহীর জয় | তুরস্কে মার্কিন দূতাবাসে হামলা, নিহত ২ | সড়ক দুর্ঘটনায় মানিকগঞ্জে ৭, মহাদেবপুরে ২, ঝিকরগাছায় ১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ জন নিহত | নারায়ণগঞ্জে শিবিরের হামলায় ১২ পুলিশ আহত | বগুড়ায় পুলিশের গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ-ভাঙচুর | বগুড়ায় জামায়াতের ডাকে হরতাল পালন | পদ্মা সেতু নিয়ে রাজনীতি করেছে বিশ্বব্যাংক: সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত | দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেয়েছে :সিরাজগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী | নিজস্ব অর্থায়নে আগামী দুই মাসের মধ্যেই পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ শুরু হবে :জানালেন অর্থমন্ত্রী

বিশ্ব অর্থনীতি

ভারতে স্বর্ণ আমদানিতে কর বৃদ্ধি

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ আমদানিকারক দেশ ভারত স্বর্ণ আমদানির উপর কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমদানি কর বাড়িয়ে চার থেকে ছয় শতাংশ করা হচ্ছে। এদিকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগেই দেশটির স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও জুয়েলারি মালিকরা যতটা সম্ভব মজুদ বাড়িয়ে নিচ্ছেন। ফলে জানুয়ারি মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে দেশটিতে স্বর্ণের চাহিদা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। ভারত সরকার চাইছে দেশটির চলতি হিসাব ঘাটতি কমাতে স্বর্ণের আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে। হিসাব ঘাটতি (গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে) মোট অর্থনৈতিক উত্পাদনের রেকর্ড পরিমাণ ৫দশমিক ৪ মাত্রায় পৌঁছে। মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে নিজেদের অর্থের মূল্য ধরে রাখতে অনেক ভারতীয় স্বর্ণের গহনা এবং কয়েন কিনে রাখে। অর্থনীতি বিষয়ক সচিব অরবিন্দ মায়ারাম বলেন, কর আরোপ করে হিসাব ঘাটতির উপর প্রভাব বিস্তার এবং ভবিষ্যতে এটি কি ফল নিয়ে আসবে জানা বেশ কঠিন। তবে এটি অল্প মাত্রায় স্বর্ণের চাহিদার উপর রাশ টেনে ধরবে। দেশে স্বর্ণের আমদানি সংযত পরিমাণে আসলে কর হারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। মুম্বাইয়ের সোনার বাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহিত কামবোজ বলেন, এই উদ্যোগে সরকারের রাজস্ব বাড়বে ঠিকই, কিন্তু স্বর্ণ আমদানি কমবে না।

গ্রীসের অর্থনৈতিক

সংকটে শ্রমিক

ধর্মঘট

গ্রীসের রাজধানী এথেন্সে মেট্রোকর্মীদের ১০দিনের ধর্মঘট গত শুক্রবার (২৫জানুয়ারি) শেষ হয়েছে। কাজে ফেরত না গেলে কর্মীদের গ্রেফতার করা হবে-সরকার এমন হুমকি দিলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। তবে দেশটির বাস শ্রমিকরা ধর্মঘট দীর্ঘয়িত করেছে। চরম অর্থনৈতিক সংকটে থাকা গ্রীস সরকার চাইছে বাজেটে কৃচ্ছ্রতা সাধন করতে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন করছে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো। দেশটির ভূগর্ভস্থ পরিবহন ব্যবস্থায় অর্থাত্ মেট্রোরেল, ট্রাম ও শহরতলির রেলপথে প্রতিদিন প্রায় দশ লাখ যাত্রী ভ্রমণ করে। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী কোস্টিস হাদজিদাকিস বলেন,'শহরের রেলকর্মীরা পুনরায় কাজে যোগ দেয়াতে আমি খুশি হয়েছি। তবে যাত্রীরা মনে হয় আরো বেশি খুশি হয়েছে।' সরকারি খাতে সমন্বিত মজুরি পরিকল্পনায় পরিবহন কর্মীদের বেতন ২৫ শতাংশ কমানো সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সব ধরনের পরিবহন শ্রমিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ করছে। সরকারে ব্যয় সংকোচন কর্মসূচি অর্থনীতিতে একটি বড় প্রভাব ফেলেছে । এই মাসের শুরুর দিকে বেকারত্বের হার ইউরোপীয় ইউনিয়ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে গ্রীসে সবোর্চ্চ ২৬ দশমিক আট মাত্রায় পৌঁছেছে।

পাকিস্তানের ত্রিশ লাখ

ধনী কর দেন না

পাকিস্তানের রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আলি আরশাদ হাকিম দেশটিতে যারা কর ফাঁকি দেন তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইতিমধ্যে ত্রিশ লাখ ধনী নাগরিককে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কর দেন না। সমপ্রতি লাহোরে কাস্টম হাউজের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৮ কোটি নাগরিকের দেশ পাকিস্তানে মাত্র ৮ লাখ নাগরিক কর পরিশোধ করেন। কর ফাঁকি দেয়া ব্যক্তিদের ৭৫ দিন সময় দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে যদি তারা নাগরিক হিসাবে তাদের দায়িত্ব পালন না করেন তাহলে তাদের নাম দেশত্যাগ নিয়ন্ত্রণ তালিকায় (ইসিএল) উঠে যাবে। (ইসিএল হলো ১৯৮১ সালের একটি অধ্যাদেশ, যেটি অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত পাকিস্তানি নাগরিকদের তালিকা করে এবং ওই ব্যক্তিকে বিদেশ যেতে বাধা দেয়)। একই সঙ্গে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বন্ধ করে দেয়া হবে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের বর্তমান কর ব্যবস্থা জরুরি ভিত্তিতে সংশোধন করা প্রয়োজন। পাকিস্তানের জিডিপিতে আয় করের অবদান খুবই সামান্য। পাকিস্তানের সাধারণ পরিষদে বির্তকিত কর ক্ষমা বিলটি বিরোধীদলের আপত্তিতে ঝুলে রয়েছে। এ অবস্থায় দেশটির রাজস্ব বোর্ড প্রধান এমন মন্তব্য করলেন। বেশি কর আদায়ে সরকার ওই বিলে কালো টাকা সাদা করার বিধান রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তেল উত্পাদন বাড়বে

২০১৪ সাল নাগাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তেল উত্পাদন এক লাফে এক চতুর্থাংশ পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়াবে। মূলত কোমল শিলা থেকে প্রাপ্ত তেলের বিশাল একটি মজুদ যুক্তরাষ্ট্রে আবিষ্কার হওয়ায় তেল উত্পাদন বেড়ে যাবে। আর গত ২৬ বছরের মধ্যে এটাই হবে দেশটির সর্বোচ্চ তেল উত্পাদনের হার। আমেরিকার জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, জ্বালানি তেলের গড় মূল্য ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলার থেকে দাম পড়ে দাঁড়াবে ৯৯ ডলারে। সংস্থাটি আরো বলেছে, দেশেই তেল উত্পাদন বৃদ্ধির ফলে ও নতুন শিলা গ্যাসের ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হওয়ায় ২০১৪ সালের মধ্যে আমেরিকার তেল আমদানি এক চতুর্থাংশ কমে যাবে। ২০০৫ সাল থেকেই আমেরিকার তেল আমদানি কমছে। আগে যেখানে দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করা হতো, ২০১৪ সালের মধ্যে এটি অর্ধেকে নেমে ছয় মিলিয়ন হবে বলে জানায় ইআইএ। গত বছরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা পূর্বাভাষ দেয় ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেল উত্পাদক দেশ হিসাবে আমেরকাি সৌদি আরবকে অতিক্রম করবে। গত বছর দৈনিক ৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উত্পাদন হয়েছে দেশের ভেতর থেকে, আগামী বছর তা বেড়ে হবে দৈনিক ৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেল। ১৯৮৮ সালের পর এটি দেশের সবোর্চ্চ তেল উত্পাদন।

সিটি গ্রুপের জ্বালানি কৌশল বিষয়ক বৈশ্বিক প্রধান সেদ ক্লেইনম্যান বলেন, অসাধারণ দ্রুত গতিতে আমেরিকার জ্বালানি তেল উত্পাদন বাড়ছে। মূলত ফ্রেকং পদ্ধতির প্রয়োগ বৃদ্ধি হওয়ায় সম্ভাবনাময় তেল ক্ষেত্র যুক্ত হচ্ছে বাজারে। ফ্রেকিং হলো পাথুরে শিলার মধ্যে উচ্চচাপে পানির বিস্ফোরণ ঘটানোর একটি প্রক্রিয়া, যাতে শিলার মধ্যে থাকা তেল ও গ্যাস উত্তোলন করা যায়। এই ব্যবস্থাটি পুরো আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাসের দাম দ্রুত নেমে যাচ্ছে। অনেকেই বলেন, শিলা থেকে প্রাপ্ত গ্যাস আমেরিকার জ্বালানি বাজারে আশীর্বাদ স্বরূপ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) পর্যন্ত বলছে তারা আশা করছে, ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্যাস উত্পাদক দেশ হিসাবে আমেরিকা রাশিয়াকে ছাড়িয়ে যাবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশটি জ্বালানি ক্ষেত্রে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। তবে সমালোচকরা পাথুরে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ফলে পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যেমন এ ক্ষেত্রে অনেক পানি ব্যবহার ও এর পর মিথেন গ্যাস নির্গত হওয়ায় সম্ভাব্য পানি দূষণের আশংকা থেকে যায়। আর খননের কারণে কিছু মাত্রায় ভূ কম্পন হতে পারে। তেল গ্যাস উত্তোলনের এই প্রক্রিয়াটি ফ্রান্স নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যও এই প্রক্রিয়ায় তেল উত্তোলন ব্যবস্থা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। দু'বছরের মধ্যে আমেরিকার তেল আমদানির হার কমে যাওয়ার যে ভবিষ্যদ্বাণী ইআইএ করেছে তা বাস্তবায়নে বেশি সাহায্য করবে পাথুরে শিলা থেকে প্রাপ্ত গ্যাস।

ক্লেইনম্যান বলেন, কঠিন জ্বালানি অর্থনীতিই তেলের তুলনায় প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বাড়াতে শুরু করবে। দামের দিক দিয়েও তেলের চেয়ে গ্যাসের দাম অনেক কম। তা সত্ত্বেও রফতানি রাজস্ব অক্ষুণ্ন রাখতে ও দেশীয় চাহিদা মেটাতে তেলের উত্পাদন ক্রমাগত বাড়াবে আমেরিকা। বস্তুত, সারাবিশ্বে তেল উত্পাদন বাড়তেই থাকবে। আইইএর প্রধান অর্থনীতিবিদ ফাতিহা বিরল বলেন, মোট তেল উত্পাদন বাড়তেই থাকবে। অনুমান করা হচ্ছে মোট তেল উত্পাদন দৈনিক একশ' মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছবে, যা এখন থেকে বিশভাগ বেশি।

— পলাশ সরকার

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সাংবাদিকদের জন্য পৃথক আবাসন তৈরি করা প্রয়োজন। সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?
3 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ২১
ফজর৩:৫৮
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১১
সূর্যোদয় - ৫:২৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :