The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০ মাঘ ১৪১৯, ২০ রবিউল আওয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ কাল থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু | সোমবার সারাদেশে জামায়াতের বিক্ষোভ,বাধা দিলে লাগাতার হরতাল | টেস্টে সর্বনিম্ন রানের লজ্জায় পাকিস্তান | বিপিএল : বরিশালের বিপক্ষে রাজশাহীর জয় | তুরস্কে মার্কিন দূতাবাসে হামলা, নিহত ২ | সড়ক দুর্ঘটনায় মানিকগঞ্জে ৭, মহাদেবপুরে ২, ঝিকরগাছায় ১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ জন নিহত | নারায়ণগঞ্জে শিবিরের হামলায় ১২ পুলিশ আহত | বগুড়ায় পুলিশের গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ-ভাঙচুর | বগুড়ায় জামায়াতের ডাকে হরতাল পালন | পদ্মা সেতু নিয়ে রাজনীতি করেছে বিশ্বব্যাংক: সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত | দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেয়েছে :সিরাজগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী | নিজস্ব অর্থায়নে আগামী দুই মাসের মধ্যেই পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ শুরু হবে :জানালেন অর্থমন্ত্রী

বিনিয়োগ উত্সাহিত হবে কোন খাতে

আলি জামান

সাম্প্রতিক সময়ে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াগুলোতে একটি বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে। এর ভাষা:ব্যবসা আছে, শেয়ার আছে তুই জমিতে বিনিয়োগ করবি? হ্যাঁ:কারণ বিশ বছরে জমির দাম বেড়েছে একশ' গুণ। কথাটি একেবারে মিথ্যা নয়। আসলেই জমিতে যারা বিনিয়োগ করেছিল তাদের পুঁজি একশ' গুণ হয়ে গেছে। তবে ২০০৭-০৮ সালের মার্কিন অর্থনীতিতে সৃষ্ট ধসের পর সাধারণত ঐ দেশটিসহ ইউরোপের অপরাপর দেশগুলোতে অন্তত এরূপ কথা আর কেউ বলে না। কারণ, ওয়াকেবহাল মহল মাত্রেরই জানা আছে, ঐ সময় মার্কিন অর্থনীতিতে যে ধস নেমেছিল, তার মূলে ছিল রিয়েল এস্টেট সেক্টরের কথিত বুম। রিয়েল এস্টেটে যারা বিনিয়োগ করেছিল তাদের পুঁজি অস্বাভাবিকভাবে ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল। এর পরিণতিতে সেই ফোলানো বেলুন ফেটে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল অর্থনৈতিক বিপর্যয়। যার রেশ ইউরোপসহ সারাবিশ্বকে আজও টেনে বেড়াতে হচ্ছে। এরপর সাধারণ মানুষ যারা এই খাতে বিনিয়োগ করেছিল তাদের বিনিয়োজিত পুঁজিতে টান ধরেছে। আর এখন তো সহজে ক্রেতাই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না যে, তারা সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে। আমেরিকা ইউরোপের দেখাদেখি এশিয়ার অনেক দেশেও রিয়েল এস্টেট সেক্টরে এরূপ বুম অবস্থা দেখা যায়। এসব দেশে জমির দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। কিন্তু কিছু দেশ, বিশেষ করে এশিয়ার মধ্যে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড অতি দ্রুত এখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে। তারা সফলকামও হয়। কিন্তু এর জন্য তাদের অনেক ঝুঁকি নিতে হয়েছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ডের সেই সময়কার প্রধানমন্ত্রী সরকারি ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধন করে। উত্পাদন খাতকে প্রাধান্য দিয়ে একগ্রাম-এক পণ্য (one village-one product) প্রকল্প নেয়া হয়। এই পলিসি গ্রহণ করে তিনি অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটি আজ শিল্পে অনেকটা এগিয়ে থেকে এশিয়ার বড় বড় বাঘদের টক্কর দিচ্ছে। এর জন্য অবশ্য তাদেরকে বড় বেশি মূল্য দিতে হয়েছিল। দেশের ব্যবসায়ী সমাজ বিশেষ করে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়তে হয়েছিল তাকে। আজ কিন্তু দেশটি তার সুফল ভোগ করছে। এই শতকের গোড়া থেকে আমাদের দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য তথা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজমান ছিল। মুদ্রাস্ফীতির হার সন্তোষজনক অবস্থায় ছিল। জিডিপির প্রবৃদ্ধিও পাঁচ থেকে ছয়ের মধ্যে দৃশ্যমান হতে থাকে। এই অবস্থার পরিবর্তন হয়, যখন থেকে সরকারি আর্থিক নীতিমালায় সম্প্রসারণশীল ধারা গ্রহণ করা হয় তারপর থেকে। বিনিয়োগের নামে ব্যাংকগুলো থেকে ব্যাপক হারে ঋণ প্রদান করা হয়। এই ঋণের সিংহভাগ চলে যায় জমি ক্রয় অর্থাত্ রিয়েল এস্টেট সেক্টরের বিনিয়োগে। জমির দাম হু হু করে বাড়তে থাকে আর সেই সাথে বাড়তে থাকে শহর অঞ্চলের বাড়ি-ঘর-ফ্ল্যাটের দাম। যাদের কাছে উদ্ধৃত্ত পুঁজি ছিল তারা তো বটেই, সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষও জমি-ফ্ল্যাট ক্রয়ে ব্যাপকভাবে উত্সাহিত হয়। এই খাতে বিনিয়োগের এমন ধারা গত বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। কিন্তু দেশে শেয়ার বাজারে সৃষ্ট ধসের পরে সরকার আর্থিক নীতিমালায় পরিবর্তনের সূচনা করে। কারণ ব্যাংকগুলোতে দেখা দেয় তারল্য সংকট। বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের শুরুতেই সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করে। ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদানে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। আর এখন একদিকে তারল্য সংকট, অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যে সৃষ্ট মন্দা অবস্থার কারণে চাহিদার অভাব—সব মিলিয়ে একটা জটিল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। পরিণতিতে এ বছর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর লাভের অঙ্ক দৃশ্যমান হারে কমে গেছে। অবশ্য ব্যাংকগুলোর লাভের অংক কমে যাওয়ার আরো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কারণ হল, আমানতের উপর সুদ প্রদানে ব্যাংকগুলোর মধ্যে সৃষ্ট প্রতিযোগিতা। এমনিতে দেশের সরকারি ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি খাতে প্রায় পঞ্চাশটি ব্যাংক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। প্রধানমন্ত্রী ব্যাংক আমানতের সুদের হার ১২.৫% বেঁধে দিয়েছিলেন। এই অংকই ছিল অনেক বেশি। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকটের কারণে তাদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়। তারা অনেক ক্ষেত্রে মেয়াদী আমানতের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সুদ দিয়ে আমানত সংগ্রহ করতে থাকে। আর এর ফলে লেন্ডিং রেট অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। ১৮% থেকে শুরু করে অনেক ব্যাংক ২০-২১% পর্যন্ত সুদ হারে ঋণ বিতরণ করেছে। ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদের হার তো আরও অনেক বেশি। এই সুদ হারে ঋণ দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য বিশেষ করে শিল্প পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ফলে ঋণের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। তাহলে সাধারণ মানুষ- যাদের হাতে বিনিয়োগযোগ্য সঞ্চয় রয়েছে, সেই অর্থ তারা বিনিয়োগ করবে কোথায়? বিনিয়োজিত অর্থের বিপরীতে তাত্ক্ষণিকভাবে লাভ ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদে লাভের বিষয়টি প্রায় সকলে ভাবে। অর্থাত্ বিনিয়োজিত পুঁজির বিপরীতে স্থিতিশীল অথচ ধারাবাহিক একটি লাভের চিন্তা সকলের থাকে। তাই স্থিতিশীল বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক সময় সরকার সৃষ্টি করে দেয়। সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অনেক সময় ঋণ গ্রহণ করে। এই অর্থ যেমন বন্ড বা সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সংগ্রহ করে তেমনি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকেও বিভিন্ন উপায়ে ঋণ সংগ্রহ করে। এমন সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ভাটার কারণে সরকারকে বাণিজ্যিকভাবে ঋণ সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা বর্তমান সময়ে পূর্বের সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ব্যাংকগুলোর দেয়া আমানতের সুদের হার থেকে কম হওয়ায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি কম হচ্ছে। আবার সরকার যে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বাড়াবে সেই সুযোগও আর নেই। তাই বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এর খারাপ ফল দারুণভাবে পড়ছে অর্থনীতিতে। বিশেষ করে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে। এমনিতে তারল্য সংকট, অন্যদিকে সরকারি ঋণ গ্রহণের ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের জন্য ঋণ প্রবাহ এক প্রকার বন্ধ হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুত্ সংকট, জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, দুর্বল অবকাঠামো, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ইত্যাদি কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য তথা বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। চূড়ান্ত পরিণতিতে অর্থনীতিতে একটা মন্দা অবস্থা সৃষ্টির ফলে কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে না বলে অনেকে আশংকা প্রকাশ করেছে।

এতো গেল ব্যবসা বাণিজ্যের অবস্থা। শেয়ার বাজারের অবস্থা কি? সেখানে তো আরও ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশের শেয়ার বাজারে সৃষ্ট ধসের পর এখানে যারা বিনিয়োগ করেছিল তারা সর্বস্বান্ত হয়েছে। কেউ কেউতো আত্মহত্যাও করেছে।

এই অবস্থায় মানুষ বিনিয়োগ করবে কোথায়? সেটা কি বিজ্ঞাপনের ভাষা অনুযায়ী জমি-ফ্ল্যাট অর্থাত্ রিয়েল এস্টেট সেক্টরে, নাকি ব্যবসা বাণিজ্য শিল্পে অথবা শেয়ার বাজারে। একটি বিষয়ের কথা অনেকের নিশ্চয় জানা আছে; যে দেশের অর্থনীতিতে রিয়াল এস্টেট সেক্টরের ঊর্ধ্বগতি হয়, সেখানে এর বিপরীতে উত্পাদন অর্থাত্ শিল্প খাতের অধোগতি হয়। অর্থাত্ রিয়েল এস্টেট সেক্টরের ঊর্ধ্বগতি হয়, সেখানে এর বিপরীতে উত্পাদন অর্থাত্ শিল্পখাতের অধোগতি হয়। সেক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা কি হবে? অবশ্য আমাদের সরকারও বিষয়টি অনুধাবন করে রিয়াল এস্টেট সেক্টরের কথিত অগ্রযাত্রায় কিছুটা রাশ টেনে ধরার চেষ্টা করছে। নিরুত্সাহিত করছে এখানে বিনিয়োগ। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। সাধারণ নাগরিকদের বিষয়টি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে এখানে মাত্রাতিরিক্ত বিনিয়োগের কুফল সম্বন্ধে। এখানে আর একটি বিষয়ের প্রতি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। রিয়াল এস্টেট ব্যবসা আর আবাসনকে এক করে দেখলে চলবে না। একজন সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় চাহিদার অংশ হলো একটু শাখা গোঁজার ঠাঁই অর্থাত্ আবাসন। এক টুকরা জমি বা স্বল্প মূল্যের একটি ফ্ল্যাট অবশ্যই তার ন্যায্য চাহিদা। কতিপয় ব্যবসায়ীদের অশুভ প্রতিযোগিতার কারণে জমির দাম হু হু করে বেড়ে গিয়েছে, যার পরিণতিতে সাধারণ নাগরিকের ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। আর জমি ফ্ল্যাটের অতিরিক্ত মূল্যের কারণে বাড়িভাড়াও বেড়ে যাচ্ছে অস্বাভাবিকভাবে, যার ফলে নাগরিক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারকে তাই এ বিষয়ে দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে হবে— এই খাতে অসুস্থ প্রতিযোগিতার রাশ টেনে ধরার জন্য।

এর বিপরীতে দেশের ব্যবসা বাণিজ্য এবং শেয়ার বাজারের অবস্থার উন্নতি ঘটাতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে এই দুটি খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসে তার ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকেই। যারা সরাসরি বিনিয়োগ করতে চায় তাদেরকে যেমন বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে হবে, তেমনি যারা সরাসরি অর্থাত্ প্রত্যক্ষ বিনিয়োগে সক্ষম নয়,তাদের জন্য পরোক্ষ অর্থাত্ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে হবে। স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্পের প্রধান অন্তরায় গ্যাস, বিদ্যুতের সংযোগ প্রদানের পাশাপাশি প্রধান অন্তরায় হিসাবে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনতে ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা কেবল সম্ভব হবে যদি আমানতের সুদের সর্বোচ্চ হার ১০% নির্ধারণ করে দেয়া যায় তবে। আর এটা এই সময়েই বাস্তবায়ন সম্ভব, কারণ মুদ্রাস্ফীতির হার এখন অনেক কম। এখন গড় মূল্যস্ফীতির হার ৬.৫৫%। তাই নাগরিকদের real interest প্রাপ্তিতে কোন সমস্যা হবে না।

দেশের শেয়ার বাজারের প্রধান সমস্যা হলো আস্থার সংকট, সেই সাথে পুঁজির সংকট। আস্থার সংকট দূর করতে গৃহীত পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। অথচ বিনিয়োগকারীদের চাহিদা খুবই নগণ্য। আস্থার সংকট দূর করতে এসইসি এ পর্যন্ত যতগুলো পদক্ষেপ নিয়েছে তা নেহায়েতই কম নয়। কিন্তু সমস্যা হলো তারা সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারছে না। এখানে সরকারকে দেখতে হবে যে, শেয়ার বাজারের দুষ্টচক্রের চেয়ে সরকারের হাত অনেক শক্তিশালী। তাহলেই আস্থার সংকট দূর হবে। তারল্য সংকট মোকাবিলায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উপর গুরুত্ব দিতে হবে বেশি। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী অর্থ বাণিজ্যিক ব্যাংক, বীমা বা মার্টেন্ট ব্যাংকগুলো নয়। সেগুলো অবশ্যই মিউচুয়াল ফান্ড, ইউনিট ফান্ড, পেনশন ফান্ড ইত্যাদি। ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চরিত্র সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মত। তারা একটু বড় বিনিয়োগকারী মাত্র। শেয়ার বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসাবে মিউচুয়াল ফান্ডের অবস্থার উন্নতি ঘটাতে হবে। মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর করুণ দশার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগে উত্সাহ হারিয়ে ফেলছে। বর্তমানে বেশির ভাগ মিউচুয়াল ফান্ডের বাজার মূল্য তাদের নেট এসেট ভ্যালূর (NAV) অনেক কম। ফলে এগুলো কেনা বেচা করতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হচ্ছে না। অথচ কে না জানে যে, যেই দেশের শেয়ার বাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের ভূমিকা যত বেশি সেই শেয়ার বাজার ততো স্বচ্ছ ও উন্নত। ভারতের শেয়ার বাজারে বর্তমানে মিউচুয়াল ফান্ডের আবদান ঙেখানে ৪০% এর অধিক সেখানে আমাদের শেয়ার বাজারে এর অবদান মাত্র ১% এর কিছু বেশি। শেয়ার বাজারে তারল্য সংকট কাটাতে আরও অনেক মিউচুয়াল ফান্ড বাজারে আসার সুযোগ দিতে হবে। তার আগে এইসব মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতি যাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা সৃষ্টি হয় তার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

এই মুহূর্তে দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে রেমিটেন্স। রেমিটেন্সের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন সর্বোচ্চ। কিন্তু রেমিটেন্সের বিপরীতে প্রাপ্ত দেশীয় মুদ্রা যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক সময় এর প্রভাব হচ্ছে নেতিবাচক। অথচ রেমিটেন্সের অর্থ যথাযথ ব্যবহার করে শ্রীলংকা এবং ফিলিপাইন তাদের এসএমই খাতকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়েছে। আমরা এর থেকে শিক্ষা নিতে পারি।

লেখক : সভাপতি, এসএমই ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সাংবাদিকদের জন্য পৃথক আবাসন তৈরি করা প্রয়োজন। সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?
1 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ২১
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :