The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২৫ মাঘ ১৪১৯, ২৫ রবিউল আওয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ জামিন পেলেন হল-মার্ক চেয়ারম্যান জেসমিন | সাগর-রুনি হত্যা: এনামুল সন্দেহে আটক ২০ জন | ৩৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ | নির্বাচনের আগেই আন্দোলন করে নেতাদের মুক্ত করা হবে: জামায়াত | বিপিএল: খুলনাকে ৮৯ রানে হারালো চট্টগ্রাম | ময়মনসিংহে সুলতান মীর হত্যা মামলায় চারজনের ফাঁসি | শনিবার চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল | 'দেশে নতুন ভোটার সংখ্যা ৭০ লক্ষাধিক' | 'দেশের অর্থে পদ্মা সেতু হলে চালের কেজি ১৫০ টাকা হবে' | বার্সেলোনা আসবে: সংসদে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী | ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রীর নামে অ্যাকাউন্ট খুলল কে? | ফাঁসির দাবি শাহবাগ থেকে এখন সারাদেশে

[ রা জ নী তি ]

তাহলে ক্ষমতার চাবিকাঠি কার হাতে

মামুন আল মোস্তফা

'এখনই সময়। আমেরিকার নেতৃত্বাধীন বিশ্বের বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বাঁচানো নিশ্চিত করতে তত্পর হওয়ার সময় এখনই' (ইট ইজ দ্য টাইম ফর দ্য ওয়ার্ল্ড, লেড বাই আমেরিকা, টু এ্যাক্ট এন্ড এনসিওর দ্যাট ডেমোক্রেসি ইজ সেইভড ইন বাংলাদেশ)। এদেশের গণতন্ত্রকে বাঁচানোর এই আর্তি বেগম খালেদা জিয়ার। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে বিরোধী দলীয় নেত্রী। দেশের শতকরা প্রায় চল্লিশ ভাগ ভোটারের সমর্থনপুষ্ট দলের নেত্রী। সেদিক থেকে বলা যায়, দেশটির বর্তমান ও ভবিষ্যত্ অনেকাংশেই নির্ধারিত হবে তাঁর চিন্তা-চেতনা প্রসূত নীতি এবং কর্মসূচির দ্বারা। আর এ কারণেই তাঁর যে কোনও বক্তৃতা-বিবৃতি বা লেখা-জোখার অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ জরুরি। প্রিয় পাঠক, আমাদের আজকের লেখাটি ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত বেগম জিয়ার সর্বসাম্প্রতিক নিবন্ধটির একটি বিলম্বিত প্রতিক্রিয়া মাত্র [কারণ, ক্রিয়া'র সাধ্য যার অতি সীমিত, প্রতিক্রিয়া তারই সাজে]।

গণতন্ত্র কায়েম করতে গিয়ে দেশবাসীর কাছ থেকে যিনি 'আপোষহীন নেত্রী'র খেতাব পেয়েছেন গণতন্ত্র কখনও সংকটাপন্ন হলে তাঁর পক্ষে উদ্বিগ্ন হওয়া খুবই স্বাভাবিক। আর সেই উদ্বেগই প্রতিফলিত হয়েছে ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত তাঁর লেখাটিতে। লেখাটির সারোত্সার আছে নিবন্ধের সর্বশেষ বাক্যে : 'বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে তত্পর হওয়ার জন্য আমেরিকার নেতৃত্বাধীন বিশ্বের এটাই উপযুক্ত সময়'। নিবন্ধটিতে বেগম জিয়া অবশ্য-পালনীয় চারটি কাজের কথা বলেছেন: ক) ভোটারদের সিদ্ধান্তে নতুন সরকার নির্বাচনের জন্য আবশ্যিকভাবেই ক্ষমতার হাতবদল হতে হবে [মানে, প্রথমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা যেতে হবে]। খ) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যকে কাজে ও কথায় আরও অনেক বেশি শক্ত অবস্থানে আবশ্যিকভাবে যেতে হবে; অন্যথায় বাংলাদেশের গণতন্ত্র পিছলে বেপথু হয়ে যেতে পারে। গ) যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ও যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মতো ব্যক্তিদের ইজ্জত বজায় রাখার জন্য অবশ্যই কোশেশ জারি রাখতে হবে। ঘ) শ্রমিকের অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধাচরণকারীদের মতামত ও বিশ্বাস প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা দেয়া হলে বাণিজ্য-সুবিধা যে প্রত্যাহার করে নেয়া হবে সে ব্যাপারটি প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁরা অবশ্যই ব্যাখ্যা করবেন।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোন ইস্যুতে কোন রাজনৈতিক দলের সুর্নির্দিষ্ট অবস্থান থাকা স্বাভাবিক। সে জন্য দলটি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সে লক্ষ্য অর্জনে নিরলস প্রচেষ্টা চালাবে। তার মিত্র দলগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধ হবে। এবং নিজেদের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, বেগম জিয়া কেন দাবি করছেন যে, দেশের গণতন্ত্র নিরাপদে নেই? আর কেনই বা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাহায্য-প্রার্থী হয়েছেন? ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ষড়যন্ত্রের কথা জোরালো ভাবে প্রচার করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বটে; কিন্তু গোটা একটা রাজনৈতিক দলের পূর্বাপর ষড়যন্ত্র দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে থাকা পীড়াক্রান্ত হওয়ারই লক্ষণ। ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের বাইরে থেকে যাঁরা নিবন্ধটি দেখতে চান তাঁদের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, বেগম জিয়া কয়েকটি বিষয়কে স্বীকার করে নিয়েছেন। প্রথমত: বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য বিরোধীদলের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জোট সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখার দায়িত্ব পালনে তিনি এবং তাঁর দল ব্যর্থ হয়েছেন। দ্বিতীয়ত: তিনি ও তাঁর দলের বাইরেও দেশীয় যে সমস্ত চলক গণতন্ত্র ও প্রগতিশীলতার জন্য ক্রিয়াশীল - যেমন-সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক বলয় - তাঁরাও ইতোমধ্যে এ কাজে ব্যর্থ হয়েছেন। তৃতীয়ত: তিনি ধরেই নিয়েছেন তিনি, তাঁর দল ও অন্যান্য দেশীয় চলকগুলোর পক্ষে আওয়ামী লীগ সরকারের বেয়াড়াপনাকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা সম্ভব হবে না।

কোন লক্ষ্য অর্জনে কেউ ব্যর্থ হয়েছেন তখনই বলা যুক্তিযুক্ত হবে যখন দেখবো সে লক্ষ্য অর্জনে তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল। সে অনুযায়ী বিএনপি যে শেখ হাসিনার সরকারকে জবাবদিহির মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারছে না সেটা বুঝা যাবে যদি সে লক্ষ্যে দলটি সত্যিই সচেষ্ট বলে লক্ষণ প্রকাশ পায়। দলটির আন্তরিক প্রচেষ্টার নমুনা পাওয়া যায় নবম সংসদে টানা অনুপস্থিতির মধ্যদিয়ে, বিভিন্ন সময়ে রাজপথে সদর্প উপস্থিতির মধ্য দিয়ে। আরও পাওয়া যায় ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬-এই দশ বছর সময়ে সংসদ, নির্বাচন কমিশনের মতো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে কোন ব্যবস্থা না নেয়া থেকে। আর উচ্চ আদালতকে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের যে অভিযোগ এখন আনা হয়, সে অভিযোগ বেগম জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ও ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতিও সবার কাম্য। তাই অতীতমুখি না হয়ে সামনে দেখাটাই বেগম জিয়ার উদ্দেশ্য হতে পারে। কিন্তু সেজন্য যেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে [যেমন-সংসদ] ও যেসব প্রক্রিয়ায় [যেমন-সংলাপ] সংকট নিরসনের পথ খোঁজাটা গণতান্ত্রিক রেওয়াজকে চর্চার পর্যায়ে তিনি এখনও আনেননি। ফলে গণতন্ত্র নিয়ে তাঁর উদ্বেগকে কেউ কেউ হয়তো আমলে নিতে গর-রাজি থাকবেন। আর তর্কের খাতিরে ধরাই যাক, বাংলাদেশের গণতন্ত্র গোল্লায় গেছে বা যাওয়ার পথে।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র যদি গোল্লায় গিয়েও থাকে এবং সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিও যদি শেখ হাসিনার 'একনায়কতান্ত্রিক ও এক-দলীয় শাসন' রুখতে না পারে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যই বা কেন ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে আসবে? খামাখা আসবে? আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কেউই পরার্থপরতার চর্চা করেন না। তবে ভান করে। অতি সাড়ম্বরে। দশ বছর ধরে দেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব করার পরও বেগম জিয়ার বিষয়গুলো নিশ্চয়ই অজানা থাকার কথা নয়। তিনি নিশ্চয়ই ভালো করেই জানেন যে, বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র কায়েম ও রক্ষা করা এখন ব্রত - যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রবর্গ - এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকায় একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ দুই ধরনের ভূমিকাই ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্রায়ণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা না থাকলেও দেশটিতে একনায়কতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা ও এর স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সক্রিয় ছিল। তাছাড়া ফিলিপিন, আর্জেনটিনা, স্পেন, পর্তুগালের মতো রাষ্ট্রগুলো যখন গণতন্ত্রের পথে চলতে শুরু করেছে তখন গণতন্ত্রপ্রেমিক যুক্তরাষ্ট্র তাদের থেকে অত্যন্ত দূরবর্তী অবস্থান বজায় রেখেছে।

তাহলে যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে কখন? নির্মোহভাবে বলতে গেলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ইত্যাদি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা খুব সন্তোষজনক নয়। বরং হতাশাজনক। এ নিয়ে প্রচুর গবেষণাও হয়েছে। উদাহরণ হিসাবে ডেভিল কার্লটন ও মাইকেল স্টোলের গবেষণার কথা বলা যেতে পারে। তাঁরা দেখান যে যদিও রোনাল্ড রিগ্যান ও জিমি কার্টার গণতন্ত্র, মানবাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন, তাঁদের শাসনামলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে যুক্তরাষ্ট্র যে সব অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহায়তা দিয়েছে সেগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর গণতান্ত্রিক অগ্রগতি বা অধোগতি কিংবা মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতিকে কোনভাবে সম্পর্কযুক্ত করা যায় না। এক্ষেত্রে পাকিস্তান সবচাইতে ভাল উদাহরণ হতে পারে। পাকিস্তান সেই ১৯৫০-এর দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। মজার ব্যাপার হলো যুক্তরাষ্ট্র তার এই মিত্রের গণতন্ত্রায়ণের ব্যাপারে একেবারেই যেন নিস্পৃহ।

এটা অনস্বীকার্য যে, দ্বিতীয় বিশ্ব-যুদ্ধোত্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির একটা বড়ো অংশ জুড়ে থাকে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র ও সার্বজনীন মানবাধিকার রক্ষার তাগিদ । তবে কোন রাষ্ট্রে বা অঞ্চলে এসব রক্ষার জন্য দেশটি তখনই তত্পর হয় যখন সংশ্লিষ্ট দেশ/অঞ্চলে হস্তক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং রাজনৈতিক স্বার্থের অনুকূল হয়। অন্যথা নয়। আর এসব কারণেই আমরা দেখি আফগানিস্তান, ইরাক বা লিবিয়াতে গণতন্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রবর্গ কতটা ক্ষিপ্র ছিল। আমাদের মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রীর যুক্তি হলো যেহেতু দেশের ভিতরকার গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহ আওয়ামী একনায়কতন্ত্রকে রুখতে যথেষ্ট নয়, সে কারণে দেশি চলকগুলোর সঙ্গে বিদেশি সহায়তাও লাগবে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মুরুব্বিগিরিতে উপর্যুক্ত দেশগুলোতে যেমনটা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ইমামতিত্বে যে গণতন্ত্র আফগানিস্তান, ইরাক ও লিবিয়া পেয়েছে (বা পেতে যাচ্ছে) বাংলাদেশে সে পদ্ধতির প্রয়োগের ব্যাপারে বেগম জিয়া হয়তো রাজি হবেন। কিন্তু আমার বিশ্বাস বেশিরভাগ বঙ্গবাসী এমনকি বিএনপি'র কর্মী সমর্থকেরাও একে মানতে নারাজ হবেন। বেগম জিয়ার যে মনোভাব নিবন্ধটিতে প্রকাশ পেল সেটা বাংলাদেশে অভিনব কিছু নয়। ২০০১ সালের ১লা অক্টোবরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির ২৬ দিন পর দলীয় এক সমাবেশে তত্কালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেন যে, ষড়যন্ত্রের নীল নকশার মাধ্যমে তাঁর দলকে নির্বাচনে হারানো হয়েছে। 'আমরা গ্যাস রপ্তানি করতে রাজি হইনি বলে আমাদেরকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া হয়নি'। তিনি বলেননি যে, জনগণ ভোট দিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটকে বিপুলভাবে নির্বাচিত করেছে। গ্যাস রপ্তানির জন্য যে সমস্ত বিদেশি পক্ষ চাপাচাপি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যাঁদের অন্যতম বন্ধু তাদের অনুরাগ বা বিরাগভাজন হওয়াকে তিনি নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হিসাবে মানছেন। যদি এ সমস্ত পক্ষের ইচ্ছা বা অনিচ্ছাই ক্ষমতায় যাওয়ার নিয়ামক হয়ে থাকে, আর তিনি ও তাঁর দল যদি সেগুলোকে প্রতিরোধ করার মনস্থ করে থাকেন তাহলে সেই গোপন বিষয়গুলো জনগণের কাছে তুলে ধরাই কী যথার্থ জননেত্রীর কাজ হতো না? তাছাড়া এ সমস্ত পক্ষ যদি ক্রিয়াশীল থাকেই তাহলে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি কি তাদের আশীর্বাদ/সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন? যদি তা না করে থাকেন, তাহলে তেল-গ্যাস-বিদ্যুত্-বন্দর রক্ষার আন্দোলনকারীরা সরকারী বাহিনীর হাতে নির্যাতিত কেন হবে?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার চাবি-কাঠি কার হাতে? জনগণের হাতে? না-কি বিদেশি কোন পক্ষের হাতে? জনগণ বিশ্বাস করতে চায় যে তাঁরাই সকল ক্ষমতার উত্স। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ক্ষমতা যাঁদের হাতে তাঁরা এখনও জনগণের উপর ঈমান আনতে পারেননি। আর সম্ভবত সেই কারণেই আমাদের জাতীয় জীবনে নানান কিসিমের দুর্দৈব।

 লেখক: শিক্ষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিষয়ভিত্তিক টিভি চ্যানেল কেউ স্থাপন করতে চাহিলে সরকার বিবেচনা করবে—তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য আপনি সমর্থন করেন কি?
7 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ১৭
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৪
আসর৪:১৮
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :