The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১ ফাল্গুন ১৪১৯, ২ রবিউস সানি ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ সেমিফাইনালে চিটাগং কিংস | মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেট: প্রথমবারের মতো ফাইনালে উইন্ডিজ | জামায়াতের বিষয় নিয়ে কাল ইসির বৈঠক | জাবি ভিসির পদত্যাগের সিদ্ধান্ত | আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশোধন বিল সংসদীয় কমিটিতে অনুমোদন | ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও জেলা জজকে হাইকোর্টে তলব | মতিঝিল এলাকায় জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব | মোশতাকের নির্দেশে কিছু সেনাকর্মকর্তা জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে: এটর্নি জেনারেল | বিপ্লবী বসন্তে আগুন ঝরছে শাহবাগে | কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের প্রেসক্লাবের সদস্যপদ বাতিল

সর্বত্র হতাশার ছায়া

মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান

দেশ বর্তমানে নানা প্রতিকূলতায় অবতীর্ণ। সরকার ও বিরোধী দলের মুখোমুখি অবস্থান দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিরোধী দলের প্রতি সরকারের দমন পীড়ননীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় গণতন্ত্রের আবহে ফাটল ধরার উপক্রম। সরকারের প্রতি বিরোধী দলের অবিশ্বাস, সংসদে যোগ না দেয়া, তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে ঐকমত্যে না পৌঁছানো , সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি , গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের আজ্ঞাবাহী সন্ত্রাসীদের হামলা, শেয়ারবাজার, হলমার্ক, তাজরীন গামেন্টসে আগুন, সাংবাদিক সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া, দফায় দফায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদি সমস্যা বর্তমানে জাতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যে ভাবে সরগরম হয়ে ওঠছে তাতে সরকারের মরার উপর খাড়ার ঘার মত অবস্থা। বর্তমান প্রবন্ধে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সব প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে তার স্বরূপ উন্মোচন করা হবে।

বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু দেশের সবচেয়ে বড় ইস্যু। এ ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থান একেবারেই বিপরীত। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্ববহালের দাবিতে বিরোধী দল সংসদ বর্জন করেছে এবং মাঝে মধ্যে হরতাল, সমাবেশ, বিক্ষোভ পালন করে আসছে। হরতালের কারণে একদিকে যেমন দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে অন্যদিকে তেমনি জ্বালাও পোড়ানোর জন্য জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হরতালের আগের দিন গাড়ি পোড়ানো, বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে যে ক্ষতি সাধন করা হয় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সর্বত্র। সরকারের ভূমিকাও এ ক্ষেত্রে আশাপ্রদ নয়। বিরোধী দলের কর্মসূচি বানচাল করার লক্ষ্যে সরকার পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে দমন পীড়ননীতি গ্রহণ করে। এমনকি গাড়ি পোড়ানোর অজুহাত দেখিয়ে সরকার বিরোধী দলের মহাসচিবকে অন্তরীণ করে রাখতেও কার্পণ্য করেননি। এসব দৃষ্টান্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যায় বলে দেশে-বিদেশে তা সমালোচিত হচ্ছে বার বার। তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দল যদি মীমাংসার সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারে তবে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ চরম গণতান্ত্রিক সংকটে পড়বে।

বাংলাদেশ দুর্নীতি নামক রাহুর গ্রাসে জর্জরিত। সোনালী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাত্, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, শেয়ার বাজারের অর্থ লোপাট ইত্যাদি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবিশ্বাস জন্ম দিয়েছে। এসব কেলেঙ্কারির নেপথ্যের নায়কদের গ্রেফতার করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনটির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হয়নি বলে জনগণ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না। অন্যদিকে শাস্তি না হওয়ার কারণে অন্যরাও দুর্নীতি করতে উত্সাহী হচ্ছে। ফলে ঘুষ, দুর্নীতি, অন্যায়-অনাচার হরাস না পেয়ে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবার অশান্ত হচ্ছে। ভিসি ও তার দলীয় হোতাদের ঘুষ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, শিক্ষক নিয়োগে অর্থ গ্রহণ ইত্যাদির প্রতিবাদে সোচ্চারিত সচেতন শিক্ষক সমাজের আন্দোলনে সরকারের দলীয় আজ্ঞাবাহী ছাত্রলীগ হামলা ও মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা শিক্ষকদের ওপর এসিড নিক্ষেপের মত জঘন্যতম কাজ করতেও দ্বিধা করেনি। নিশ্চিত পরাজয় জেনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অনির্দিষ্ট কালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ করে দিয়েছেন। এরই অব্যবহিত আগে ঢাকা পলিটেকনিকের পরীক্ষায় ফেল করা ছাত্রলীগ কর্মীরা জোর করে পাস করার দাবিতে শিক্ষকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে এবং তাতে শিক্ষকগণ নারাজি হওয়ায় ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদেরকে আহত করে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, দখলদারি, দলবাজি ইত্যাদিতে নিমজ্জিত ছাত্রলীগ এখন বেপরোয়া আচরণ করছে। তাদের এই ছোবলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মক নাজুক অবস্থায় পতিত হয়েছে। যে ছাত্রলীগের তাণ্ডবে বিকাশের মত নিরীহ পথচারী রেহাই পায়নি তাদের ছোবল আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে। অন্যায়কারীকে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে রেহাই দেয়ার কারণেই এসব দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বারংবার। এই অপসংস্কৃতির রোধ প্রয়োজন; তা না হলে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে বাধ্য।

দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বিগ্ন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। হত্যা, গুম, রাহাজানি, সন্ত্রাস ইত্যাদি দিনের দিন বৃদ্ধিই এর কারণ। মানবিক মূল্যবোধের আজ চরম সংকট। নারীদের প্রতি সহিংসতা রোধ করা যাচ্ছে না কোনমতে। নারীরা মাঝে মধ্যেই ধর্ষণের মত জঘন্যতম কর্মের শিকার হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় টাংগাইলে ধর্ষণের শিকার হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করছে এক অভাগা। মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেই এ সব অঘটন বার বার ঘটছে। অন্যদিকে পুলিশ সব সময়ই সরকারের অপকৌশলের যন্ত্রে পরিণত হয়। আমাদের দেশের পুলিশ তাই জনগণের বন্ধু হতে পারেনি কখনও। পুলিশের বাড়াবাড়ি মাঝে মাঝে এমন অবস্থায় পরিণত হয় যা কোন মতেই কাম্য নয়। গত কয়েকদিন ধরে এর প্রমাণ মিলেছে। এমপিও ভুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত কলেজ শিক্ষকদের ওপর পুলিশ যে অন্যায় আচরণ করছে তাতে সচেতন মানুষ বিস্মিত হয়েছেন। নিরীহ শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কেবল লাঠিপেটা করেই ক্ষান্ত হননি তাদের ওপর প্রয়োগ করেছে পিয়ার নামক কাঁদানো গ্যাস- যা মানুষের দেহে নানা মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে। পুলিশের এরূপ ভূমিকা কোন ভাবেই কাম্য হতে পারে না।

সরকারের ভুল পদক্ষেপের ফলে শাহবাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি ইস্যুতে দেশের সচেতন সমাজ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নেমেছে। এতে করে সরকার যেমন বিব্রত অবস্থায় অবতীর্ণ হয়েছে; অন্যদিকে দেশের মানুষ আইন আদালতের প্রতি দিনের পর দিন অনাস্থা জ্ঞাপন করছে। এছাড়া আন্দোলনের তীব্রতা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে তা নিরসনের কোন উদ্যোগ প্রশাসনের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে না। এ আন্দোলন প্রমাণ করে দেশের মানুষ কতটা অসন্তুষ্ট এই রায়ে। জনমনে এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে যে, জামায়াতের সঙ্গে চুক্তি করে এই রায় প্রদান করা হয়েছে। যদি এই উড়ো কথা সত্যি হয় তাহলে দেশের জন্য তা হবে আরও করুণ- 'বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদবে'। বিচারের নামে রাজনীতিকরণের এই অপসংস্কৃতি কোন দিনই দেশের মাটি থেকে দূর হবে না। সরকারের ভ্রান্তনীতির ফলে দেশের মানুষকে যেমন রাস্তায় নামতে হয়েছে স্বাধীনতার ৪০ বছর পরে ; এর চেয়ে হতাশার আর কী হতে পারে। সরকারের অতি ক্ষমতাকেন্দ্রিক লোভ লালসার দরুন দেশের হাজার হাজার মানুষ আজ যানজটের কবলে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এ অবস্থার অবসান হওয়া প্রয়োজন।

একটি গণতান্ত্রিক দেশে এসব অন্যায় কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অন্যায়ভাবে হরতাল, সংসদ বর্জন যেমন কোন ভাবেই গ্রাহ্য হতে পারে না তেমনি সরকারের স্বেচ্ছাচারী নীতি দেশকে ভাল কিছু দিতে পারে না। তাই দেশের বর্তমান ক্রান্তিলগ্ন দূর করে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগের কোন বিকল্প নেই।

 লেখক : সহকারী অধ্যাপক,

ভাষা বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি বলেছে শাহবাগের কিছু ঘটনা ফ্যাসিবাদের প্রতিধ্বনি। দলটির বক্তব্য আপনি সমর্থন করেন?
4 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৮
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৪
এশা৬:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :