The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১ ফাল্গুন ১৪১৯, ২ রবিউস সানি ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ সেমিফাইনালে চিটাগং কিংস | মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেট: প্রথমবারের মতো ফাইনালে উইন্ডিজ | জামায়াতের বিষয় নিয়ে কাল ইসির বৈঠক | জাবি ভিসির পদত্যাগের সিদ্ধান্ত | আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশোধন বিল সংসদীয় কমিটিতে অনুমোদন | ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও জেলা জজকে হাইকোর্টে তলব | মতিঝিল এলাকায় জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব | মোশতাকের নির্দেশে কিছু সেনাকর্মকর্তা জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে: এটর্নি জেনারেল | বিপ্লবী বসন্তে আগুন ঝরছে শাহবাগে | কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের প্রেসক্লাবের সদস্যপদ বাতিল

নীরব প্রতিবাদ, স্তব্ধ দেশ

আসিফুর রহমান সাগর, মুন্না রায়হান, মাহবুব রনি

নীরব প্রতিবাদে জেগে উঠলো স্বদেশ। তিন মিনিটের জন্য পুরো দেশ থমকে দাঁড়ালো। মুষ্টিবদ্ধ হাত স্পর্শ করতে চাইলো নীল আকাশকে। সত্যকে। ঘড়ির কাঁটা বিকাল চারটা স্পর্শ করতেই সারাদেশের মানুষ যে যেখানে ছিলেন সেখানেই উঠে দাঁড়ান। স্তব্ধতাও যে এমন তীব্র প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে তা দেখলো পুরো বিশ্ব। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে সারাদেশের মুক্তবুদ্ধির মানুষ মুষ্টিবদ্ধ হাতে উঠে দাঁড়ালেন। প্রতিবাদ জানালেন মৌনতার ভাষায়। কিন্তু কী তীব্র সে ভাষা! যে দেশের মানুষ সারাক্ষণ জ্বালাও-পোড়াও ধ্বংসাত্মক রাজনীতি দেখে ভীত, সেই দেশের সত্যসন্ধানী মানুষ উঠে দাঁড়ালেন। যে যেখানে ছিলেন সেখানেই। গতকাল বুধবার বিকাল চারটায় তিন মিনিটের জন্য সারা দেশ স্তব্ধতায় ঢেকে দিয়ে জানালেন তীব্র প্রতিবাদ। 'শাহবাগ আন্দোলন' থেকে দেয়া সেই তরুণদের ডাকে হাত মেলালেন মুক্তিযোদ্ধারাও। যে তরুণদের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ, সেই তরুণরাই সারাদেশের মানুষকে এক ক্রান্তিকালে ডাক দিয়েছে এই আন্দোলনের। দেশের মুক্তবুদ্ধির আবালবৃদ্ধবনিতা এসে সমবেত হয়েছেন সেই ছায়াতলে।

'এ প্রজন্ম যুদ্ধ দেখেনি,/ রাজাকাররাও এ প্রজন্মের যুদ্ধ দেখেনি/ সময় এখন দেখিয়ে দেবার—এ স্লোগান জানিয়ে দেয় তরুণদের আন্দোলন এক নতুন অধ্যায়ের যোগ করেছে বাংলাদেশের ইতিহাসে। যারা সকল রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশের মানুষকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে একজোট হবার ডাক দিয়েছে। সেই ডাকে যোগ দিয়ে যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে তা সারাদেশের রাজাকার, আলবদরদের আশ্রয় দেয়া জামায়াতে ইসলামীসহ সকল মৌলবাদী শক্তির 'জ্বালাও পোড়াও' অস্ত্রকে ভোঁতা করে দিয়েছে।

তাদের দোসররাও যেন লুকিয়েছে গর্তে। তরুণরা দেখিয়ে দিয়েছে প্রতিবাদের নতুন ভাষা। সেই প্রতিবাদের আন্দোলনে শামিল হয়েছে পুরো দেশের মানুষ।

শাহবাগ আন্দোলনের নেতা ডা. ইমরান এইচ সরকার কাউন্টডাউন শুরু করেন। তিন, দুই, এক — বিকাল চারটা। সবাই মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে ধরলেন আকাশে। শাহবাগ আন্দোলন মঞ্চ ঘিরে লাখ লাখ সমবেত মানুষ দুই হাত তুলে তারুণ্যের সংগ্রামে জানালেন তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন। সারাদেশের যে যেখানে ছিলেন—সবাই উঠে দাঁড়ালেন, সরকারি অফিস, আদালত সবখানে, পরিবহন শ্রমিকরাও রাস্তায় বাস দিয়েছিলেন থামিয়ে, দেশের প্রতিটি গার্মেন্টস কর্মীরা নেমে এসেছিলেন রাস্তায়, ভ্যান-চালক, রিকশা চালকরাও রিকশা চালানো দিয়েছিলেন থামিয়ে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সংসদ সদস্যরাও এসে দাঁড়িয়েছিলেন তরুণদের এই ডাকে। যেন দেশের প্রতিটি মানুষ বলছে, হে তরুণ তোমরাই দেশের ভবিষ্যত্। দেশ মাতৃকার কলঙ্ক মোচনের সুকঠিন এক দায়ভার তোমরা স্বেচ্চায় কাঁধে তুলে নিয়েছ। তাইতো আমরাও এসেছি তোমাদের ডাকে!

চারটা তিন মিনিটে এই মৌনতা ভাঙ্গান অগ্নিকণ্ঠী লাকী আক্তার। 'তার জয় বাংলা' স্লোগান মৌনতা ভাঙিয়ে অনুরণন ছড়িয়ে দেয় প্রত্যেকের হূদয়ে। গতকালই হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে গণজাগরণ মঞ্চে এসে যোগ দেন ঝাঁঝালো স্লোগানে সারাদেশকে উজ্জীবিত করে তোলা এই লাকী আক্তার।

বেলা এগারোটা থেকেই শাহবাগে প্রজন্ম চত্বরে আসতে শুরু করেন তরুণরা। মাথায় বাংলাদেশের পতাকা জড়ানো, হাতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি জানানো প্ল্যাকার্ড, কণ্ঠে 'জয় বাংলা' ধ্বনি। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলি যেন ফিরে এসেছে তরুণদের হূদয়ে। গণজাগরণ মঞ্চে এসে সমবেত হয়েছিলেন ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনি, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম, দেশের প্রথম এভারেস্ট জয়ী মুসা ইব্রাহীম। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসহ ছাত্রনেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

৪২ বছরতো গেছে, আর কত? :'৪২ বছরতো গেছে, আর কত?' ক্ষোভ নিয়েই কথাটা বললেন, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাদি। গতকাল প্রজন্ম চত্ব্বরে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে আমরা অনেক দেরি করে ফেলেছি, আর কত? তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম যে এত গভীরভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করে তা দেখে আমি সত্যিই অভিভূত।

জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে তরুণ প্রজন্মের ধ্রুব বলেন, সকল রাজাকারের ফাঁসি চাই। সোহেল বলেন, শুধু রাজাকারদের বিচার হলে হবে না, তাদের যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে তাদেরও বিচার করতে হবে।

গতকাল প্রজন্ম চত্ব্বরে শিশু সন্তানকে নিয়ে এসেছেন আরজু। তিনি বলেন, আমার সন্তানকে সাথে নিয়ে এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। তিনি বলেন, এত বছর কেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়নি এটা লজ্জার। একই কথা বলেছেন কলেজ শিক্ষার্থী মাইসা, জ্যোতি, দীপ্তি ও সেজুতি। কাদের মোল্লার বিচারের রায় প্রত্যাখ্যান করে তরুণ প্রজন্মের এ প্রতিনিধিরা বলেন, কতজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করলে ফাঁসি হয়, আমরা তা জানতে চাই।

শ্লোগানে শ্লোগানে মুখর শাহবাগ : সব শঙ্কা, ভয় দূর করে দিয়ে জনস্রোত বাড়ছেই শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে। গতকাল দুপুরে কাওরানবাজার ও মতিঝিলসহ কয়েকটি এলাকায় শিবির ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের খবর প্রজন্ম চত্ব্বরে কোন প্রভাবই ফেলতে পারেনি। উল্টো প্রতিনিয়ত শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রজন্ম চত্ব্বর। ক্লান্তি যেন ছুটি নিয়েছে সবার কাছ থেকে। কবিতায়, গানে আর শ্লোগানে শ্লোগানে প্রতিবাদ জানাতে ব্যস্ত তরুণ প্রজন্ম। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে সব বয়সের নারী-পুরুষ। এই কয়েকদিনে অনেক শ্লোগানই ফিরছে সবার মুখে মুখে।

তবে সব শ্লোগানকে ছাপিয়ে গেছে যে শ্লোগানটি তাহলো, 'ক-তে কাদের মোল্লা, তুই রাজাকার তুই রাজাকার', 'ক-তে কামারুজ্জামান, তুই রাজাকার তুই রাজাকার', 'গ-তে গোলাম আযম, তুই রাজাকার তুই রাজাকার'; 'স-তে সাকা, তুই রাজাকার তুই রাজাকার', 'ম-তে মুজাহিদ, তুই রাজাকার তুই রাজাকার', 'ন-তে নিজামী, তুই রাজাকার তুই রাজাকার', 'স-তে সাঈদী, তুই রাজাকার তুই রাজাকার' শ্লোগান। এছাড়া অন্যান্য শ্লোগানের মধ্যে রয়েছে, 'জামায়াতে ইসলাম, মেড ইন পাকিস্তান,' 'একাত্তরের রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়', বাঙ্গালির হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার', 'প্রীতিলতার বাংলায়, সূর্যসেনের বাংলায়, শহীদ জননীর বাংলায়, রাজাকারের ঠাঁই নেই', 'তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা', 'সামপ্রদায়িকতার আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও, 'বাংলাদেশের মাটিতে জামায়াত-শিবিরের ঠাঁই নাই', 'আর কোনো দাবি নাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই', 'এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন', 'জয় বাংলা', জনতার দাবি, রাজাকারের ফাঁসি' ইত্যাদি সব শ্লোগানে মুখরিত ছিল প্রজন্ম চত্ব্বর।

বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংহতি :সময় যত গড়াচ্ছে ততই বাড়ছে জনস্রোত। তাদের দাবির সাথে একাত্মতা জানাতে বাড়ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংহতি। গতকাল গণজাগরণ মঞ্চে এসে সংহতি প্রকাশ করেন ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, সিপিবি'র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, অধ্যাপক আকমল হোসেন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক, অভিনেতা জাহিদ হাসান, মীর সাব্বির প্রমুখ। এছাড়া জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারাকাত সংহতি প্রকাশ করতে আসেন বেলা ১১টার দিকে। এ সময় তিনি বলেন, এ প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধাদের দেখানো পথ আমি মাথা পেতে নিলাম।

বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়া ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান। এছাড়া মৌলবাদের অর্থনীতির যে ভিত গড়ে উঠেছে তা বয়কটের আহবান জানান। পরে আবুল বারাকাতের লেখা 'বাংলাদেশে মৌলবাদের রাজনৈতিক অর্থনীতি' বইটির কয়েক হাজার কপি বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

গতকাল প্রজন্ম চত্ব্বরে যোগ দেয় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে রয়েছে অভয় বিনোদিনী উচ্চ বিদ্যালয়, হলিক্রস স্কুল, উদয়ন স্কুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ও দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটি দল, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের জেড, এইচ শিকদার মেডিক্যাল কলেজ শাখা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সংহতি প্রকাশ করে। ইতিমধ্যে আন্দোলনে অংশ নেয়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন।

'মঙ্গল প্রদীপ জ্বলুক প্রাণে' :তিন মিনিটের নীরবতা কর্মসূচি পালনের পর শাহবাগে গণজাগরণে সমবেত জনতা আন্দোলনে নব উদ্যমে জেগে উঠেন। সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনের সড়কে মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে গানে ও শ্লোগানে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সাথে যোগ দেন আগত জনতা। এ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থী সুমিত রায় বলেন, রাজাকারদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। তাদের পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করতে হবে। তবেই দেশ মঙ্গলের দিকে এগিয়ে যাবে। এ চেতনাকে ধারণ করে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানো হয়েছে। এর আগে বিকালে চারুকলা অনুষদের মূল ফটকে শিল্পী সমাজের ব্যানারে আলোচনা ও সঙ্গীতে সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি এবং জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়। অনুষদের মূল ফটকের পাশেই বিশাল এক ঝাড়ু স্থাপন করে রাজাকারদের প্রতি ঘৃণা জানানো হয়। ঝাড়ুতে লেখা ছিল- 'রাজাকারের গুষ্ঠি ধরে, ঝাঁট মারো জোরে জোরে'। জাতীয় জাদুঘরের সামনে সড়কে মানচিত্র অঙ্কন করে বৈঠকী শ্লোগান দেন চারুকলা অনুষদের শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

মঞ্চে ফিরেছেন লাকী :গণজাগরণ মঞ্চে আবারো ফিরেছেন লাকী আক্তার। গতকাল বিকালে নীরবতা কর্মসূচি শুরু হওয়ার মিনিট দশেক আগে সমাবেশ স্থলে আসেন এ 'শ্লোগান কন্যা'। গত রবিবার রাতে মঞ্চে অজ্ঞাতনামাদের আঘাতে তিনি আহত হন। এছাড়া পানিশূন্যতাজনিত সমস্যায়ও তিনি ভুগছিলেন। রবিবার থেকেই বারডেম হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছিলেন। বিকালে শাহবাগে সমাবেশে এসে তিনি বলেন, সংগ্রামী ভাই ও বোনেরা, আমি ভালো আছি। কোনো অপপ্রচারে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি, কোনোভাবেই ঐক্য নষ্ট হতে দেব না। জয় বাংলা। উপস্থিত জনতা তাকে হাততালি ও শ্লোগানে স্বাগত জানান। বিকাল ৪টা তিন মিনিটে তিনি পুনরায় শ্লোগান শুরু করেন। ছাত্র ইউনিয়নের এ সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদকের শ্লোগানে প্রকম্পিত হয় শাহবাগ।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার :মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিল ও কারওয়ান বাজারে জামায়াত-শিবিরের ঝটিকা মিছিল থেকে গুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনার পর শাহবাগে বাড়তি পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। গণজাগরণ মঞ্চের দক্ষিণে শিশু পার্কের সামনে, উত্তর দিকে হোটেল রূপসী বাংলা মোড়, পশ্চিমে আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে এবং পূর্বে চারুকলার সামনে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। শাহবাগ এলাকার বিভিন্ন ভবনের ছাদেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের রমনা জোনের ডিসি সৈয়দ নূরুল ইসলাম জানান, শাহবাগ এলাকার নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আগে থেকেই গ্রহণ করা হয়েছিল। এখন আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রয়োজনে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরো সদস্য মোতায়েন করা হবে।

তিন মিনিট বন্ধ ছিল বিপিএল ম্যাচ :শাহবাগ আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ চলার সময়েও খেলা বন্ধ হয়ে যায়। সিলেট রয়েলস এবং খুলনা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মধ্যে খেলা চলছিল। এসময় তিন মিনিট নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলোয়াড় ও দর্শকরা। শাহবাগ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিকাল চারটা থেকে তিন মিনিট বন্ধ থাকে খোলা। শাহবাগের আন্দোলনের সাথে আগেই একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন দেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়রা। তাদের সঙ্গে ছিলেন ক্রীড়া সাংবাদিক, বিসিবির কর্মকর্তারা। কিন্তু বিপিএল খেলা বিদেশি খেলোয়াড়রা গতকাল দেখলেন বাঙালির আন্দোলন।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি বলেছে শাহবাগের কিছু ঘটনা ফ্যাসিবাদের প্রতিধ্বনি। দলটির বক্তব্য আপনি সমর্থন করেন?
8 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ২১
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :