The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ১ ফাল্গুন ১৪২০, ১২ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ মানিকগঞ্জে বাসে ধর্ষণ : চালক-সহকারীর যাবজ্জীবন | লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ কর্মীকে গুলি করে হত্যা | বাতিল হওয়া সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৪ মার্চ | কোপা দেল রে'র ফাইনালে বার্সেলোনা

রেমিটেন্স প্রবাহের অফুরন্ত সম্ভাবনা

বেলাল আহমেদ

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বাংলাদেশের মানবসম্পদ রপ্তানি এখন একটি অনিবার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে চাহিদার পরিবর্তনে তাই বাংলাদেশের জন্য দক্ষ ও শিক্ষিত শ্রমশক্তির যোগান আবশ্যকীয় হয়ে উঠেছে। দক্ষ শ্রমশক্তির বাজার এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। তাছাড়া ইদানীং এই বাজারটি উদীয়মান ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও নেপাল দেশ তিনটির সঙ্গে চরম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে। পেশাভিত্তিক শিক্ষিত দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে আধিপত্য বিস্তারে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার সময় দ্রুতগতিতে ফুরিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকার হসপিটাল এসোসিয়েশন (A H A) এর একটি সমীক্ষায় জানা যায়, ১৯৯৮ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নার্স ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে এবং এটি একটি দ্রুত বর্ধনশীল চাকরির খাত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। ২০০৬ সালে যেখানে নার্স ঘাটতির সংখ্যা ছিল ৪,৫০,০০০ জন সেখানে ২০১২ সালে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫,৫৩,৫০০ জন। ২০২০ সালে সংখ্যাটি দাঁড়াবে ৮,০০,০০০ জন। শ্রম পরিসংখ্যানের হিসাবমতে ২০১২ সালে প্রায় ২৪.৬ বিলিয়ন ডলারের চাকরির বাজার ছিল এটি। প্রায় ৫০০০ কমিউনিটি হাসপাতালের ৮৫০ টি নিয়োগকারী সংস্থা বিশ্ববাজার থেকে নার্স নিয়োগে লাগাতার কাজ করে যাচ্ছে। ইংল্যান্ড, কানাডা, জার্মানী, নরওয়ে, জাপান এবং অন্য উন্নত দেশগুলোর হিসাব ধরলে আগামী দিন গুলোতে চাহিদা আর যোগানে বিশাল ফারাক তৈরি হবে।

বাংলাদেশে এই আগ্রাসী শ্রমবাজারের একটি অংশ কি পূরণ করতে পারবে?

ধরে নেই প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ৫০০০ জন প্রশিক্ষিত নার্স আমেরিকায় বা উল্লেখিত দেশগুলোতে পাঠাতে পারলো, প্রতিজন নার্স এর অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাদ দিয়েও ন্যূনতম ৬০,০০০ ডলার ধরে ২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ কি পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে? একটি টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে উন্নত উচ্চতর নার্সিং প্রশিক্ষণ সুবিধার মাধ্যমে কাজটি করতে পারলে বাংলাদেশের সামাজিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনে, নারীর ক্ষমতায়নে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হতে পারে।

বর্তমান বিশ্বে ৮০ বছরের উর্ধ্বে জনসংখ্যা প্রায় ৮ কোটি বলে ধরা হয়, যার শতকরা ৩৫ জন রয়েছে উন্নত বিশ্বে। ২০২৫ সালে সংখ্যাটি ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ কোটিতে দাঁড়াতে পারে। অর্থাত্ একটি বিপুল জন সমষ্টিকে দেখভাল করার জন্য নার্সিং হোম বা বৃদ্ধ নিবাসগুলোর ঘাটতি পূরণে আশংকা তৈরি হচ্ছে। ইউরোপ আমেরিকার সবক'টি দেশে নার্সিং পেশায় উত্সাহী জনবল কমে যাওয়ার পাশাপাশি পেশাজীবী নার্সরাও অবসরে চলে যাচ্ছে। সেই হারে নতুন প্রজন্ম আনুপাতিক হারে পেশাটিতে আগ্রহী না হওয়ায় ঘাটতি পূরণে হেরফের বেড়েই যাচ্ছে। উন্নত বিশ্ব তাই হন্যে হয়ে অনুন্নত/উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে নার্স নিয়োগে তত্পর। শুধুমাত্র ইংল্যান্ড ১৯৯০-২০০২ পর্যন্ত সময়ে ৯৫ টি দেশ থেকে ১৬০০০ হাজার নার্স তালিকাভুক্তি করিয়েছে। ২০০৬-২০০৭ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী নার্সিং চাহিদার ৬৫ শতাংশের যোগান দিয়েছে ফিলিপাইন। অবশ্য এতে করে তাদের হাসপাতাল, নার্সিং হোমগুলো চরম নার্স সংকটে ভোগে।

বাংলাদেশে (BMET) ব্যুরো অব ম্যান পাওয়ার এমপ্লয়মেন্ট এন্ড ট্রেনিং এর মতে বাংলাদেশ থেকে চার ধরনের শ্রমশক্তির যোগান যায় বাইরের দেশগুলোতে। এগুলোর প্রায় সবই স্বল্পকালীন চুক্তির ভিত্তিতে হয়। এর মধ্যে আছে পেশাভিত্তিক, দক্ষ, আধাদক্ষ এবং অদক্ষ শ্রমিক। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক,নার্সদের ধরা হয় পেশাভিত্তিক। গার্মেন্টস কর্মী, গাড়ীচালক, কম্পিউটার অপারেটর, ইলেকট্রিশিয়ানদের ধরা হয় দক্ষ। দর্জি, রাজমিস্ত্রি ও রং মিস্ত্রিরা আধাদক্ষ এবং ক্লিনারস, হাউজমেড ও সাধারণ শ্রমিকদের গণ্য করা হয় অদক্ষ শ্রমিক। ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ থেকে ৯৭ শতাংশ বেশী শ্রমিক রপ্তানি হয় কিন্তু সেই তুলনায় রেমিটেন্স বৃদ্ধি পায় মাত্র ১২.৫২ শতাংশ। ১৯৯৮ সালে রপ্তানি ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পরও রেমিটেন্স মাত্র ৪.৮৬ শতাংশ বাড়ে। এর একমাত্র কারণ হিসেবে শ্রমবাজারে অদক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি, তুলনামূলক বেতন কম। বর্তমান বিশ্বে শ্রমবাজারে চাহিদা পরিবর্তনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রয়োজন দক্ষ শ্রমশক্তি উত্পাদন ও রপ্তানি। দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ মালয়েশিয়া এবং উন্নত যেমন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, নরওয়ে দেশসমূহের স্বাস্থ্যকর্মীও চাহিদার সংগে বাংলাদেশকে তার উদ্বৃত্ত মেধাবী মানবসম্পদ ঢেলে সাজিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন চ্যালেঞ্জিং কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে সুযোগটি কাজে লাগানোর জন্য কাজ করে যাওয়ার এখনই সময়।

প্রশ্ন হচ্ছে বর্তমানে নার্সিং প্রশিক্ষণ বা বাংলাদেশে সার্বিকভাবে পেশাটির অবস্থান কি? বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন এবং বিদেশে নার্সিং চাকরির প্রয়োজনে সর্বপ্রথমে পেশাটির প্রশিক্ষণ কারিকুলাম আধুনিক করা অতীব জরুরী। প্রচলিত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ উন্নততর ও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। আগ্রহী বিদেশ গমনেচ্ছুদের জন্য নার্সিং কলেজ সমূহ একটি বিশেষ প্যাকেজ প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ শুরু করতে পারে।

আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য বি এম ই টি (BMET) অবিলম্বে একটি বিশেষ কাউন্সিলিং কর্মশালার মাধ্যমে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে চাকরিদাতা দেশগুলোর বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিয়মকানুন অবহিত করতে পারে। বৃটিশ কাউন্সিল বা আমেরিকান সেন্টার এর সাথে যৌথভাবে (BMET) বি এম ই টি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। বি এম ই টি পরীক্ষার উচ্চতর ফি'র জন্য ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে পারে। বি এম ই টি যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় মানদণ্ডের পেশার জন্য ইংরেজীতে দক্ষতা, বিশেষ উচ্চতর প্রশিক্ষণ এবং বৃটিশ বা আমেরিকান মানদণ্ডতুল্য মৌলিক শিক্ষার আয়োজন করতে পারে।

প্রতিটি জেলা সদরে আমেরিকান মানদণ্ডের ভিত্তিতে ১টি করে নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে পারে যাতে করে প্রতিবছর ৬৪,০০০ নার্স প্রশিক্ষণ শেষ করতে পারে। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে উজ্জ্বল একটি সম্ভাবনার উেস পরিণত হতে পারে। খাতটিকে একটি থ্রাস্ট সেক্টর ঘোষণা করে, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এবং আন্তর্জাতিক রিক্রুটিং সংস্থাগুলোর সহায়তা নিয়ে জরুরী বা বিশেষ প্যাকেজ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে। প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসমূহে বৃটিশ বা আমেরিকান মানদণ্ডে নার্সিং কোর্স চালু করতে পারে। প্রতিটি জেলা সদরেও একটি করে মানসম্পন্ন নার্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বছরে গড়ে ৫০০০ জন প্রশিক্ষিত নার্স যারা আমেরিকার (NCLEX) সনদপ্রাপ্ত হতে পারে। এইভাবে ২০২০ সালের মধ্যে আমেরিকায় ৫০,০০০ নার্স প্রেরণ করতে সক্ষম হলে আমাদের রেমিটেন্স প্রবাহে একটি বিপুল পরিবর্তন আনতে পারা সম্ভব।

লেখক:চেয়ারম্যান, সেন্টার ফর এনালাইসিস রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট (কার্ড)

[email protected]

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ৫ বছর পর একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে এবং তা হবে বর্তমান সংবিধান আলোকেই। আপনি কি তার সাথে একমত?
2 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ২১
ফজর৩:৫৮
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১১
সূর্যোদয় - ৫:২৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :