The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ১ ফাল্গুন ১৪২০, ১২ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ মানিকগঞ্জে বাসে ধর্ষণ : চালক-সহকারীর যাবজ্জীবন | লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ কর্মীকে গুলি করে হত্যা | বাতিল হওয়া সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৪ মার্চ | কোপা দেল রে'র ফাইনালে বার্সেলোনা

উপজেলা নির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ নেই ইসির

নির্বাচনী কর্মকর্তার দায়িত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তারা  ইসির মাঠ পর্যায়ের উপেক্ষিত কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ

সালেহউদ্দিন ও সাইদুর রহমান

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে যে হারে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছে তাতে কার্যত এই নির্বাচনের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দেশের ৪৮৭টি উপজেলার মধ্যে এবার তিন ধাপে ৫৮ জেলার ২৯৮টি উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে ৫৩টি জেলাতেই রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন যথাক্রমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)। অন্যদিকে ৫টি জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয়েছে কমিশনের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে। জেলাগুলো হচ্ছে ঢাকা, কুমিল্লা, বরিশাল, দিনাজপুর ও রাজশাহী। এই পাঁচ জেলায় সহকারী রিটার্নিং অফিসার করা হয়েছে কমিশনের থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের। এভাবে নিয়োগের ফলে এ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনের ব্যত্যয় না ঘটলেও উপজেলা নির্বাচন আয়োজন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলেই মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ মহল।

দেশের প্রায় সব জেলায় ও উপজেলায় কমিশনের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আঞ্চলিক কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন। এদেরকে রহস্যজনক কারণে নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের নির্বাচনী কাজে সম্পৃক্ত না করাকে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী এবং প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ক্ষেত্রে অন্তরায় বলে অভিহিত করেছেন নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন, দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তারা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করতেন তা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা না করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা ইত্তেফাককে বলেছেন, সব কাজ করছেন কমিশনের কর্মকর্তারা, আর ফল ভোগ করছেন বাইরের লোকেরা। এতে করে কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। হেয় করা হচ্ছে নিজস্ব জনবলকে। নামেমাত্র ৫ জনকে রিটার্নিং অফিসার করা হয়েছে। সব উপজেলা নির্বাচনে তাদেরকে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার না করাকে তারা অস্বাভাবিক ঘটনা হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

যদিও বিগত সময়ে অনুষ্ঠিত সবকটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তারা। ওইসব নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হওয়ায় সকল মহলের প্রশংসাও কুড়িয়েছিল কমিশন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নির্বাচন কমিশনার ইত্তেফাককে বলেছেন, নির্বাচনে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্যই মূলত এডিসি ও ইউএনওদের নির্বাচনী দায়িত্বে রাখা হয়েছে। তাদের বাদ দিয়ে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের উপর নির্বাচনী কার্যক্রম ছেড়ে দিলে প্রশাসনিক সহযোগিতা নাও মিলতে পারে। এছাড়া তাদের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবুও ৫ জনকে রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদা ইত্তেফাককে বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিয়ে নির্বাচন করলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে বরাবরই সন্দেহ থাকে। এজন্য আমরা নিজস্ব জনবল দিয়ে বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আয়োজন করেছিলাম। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল দু'টি—এক. নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, দুই. নিজস্ব জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। তিনি বলেন, এবার ধাপে ধাপে উপজেলার নির্বাচন হওয়ায় নিজস্ব জনবল দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করে তাদের সামনে আনার সুযোগ ছিল। কিন্তু কমিশন কেন সেই সুযোগ নিল না বোধগম্য নয়।

সাবেক এই সিইসি আরো বলেন, আইনে আছে প্রশাসন অথবা কমিশনের নিজস্ব বা যে কাউকে রিটার্নিং অফিসার করা যায়। ফলে রিটার্নিং অফিসার করার ক্ষেত্রে আইনে কমিশনকে আটকানো যাবে না। বর্তমান কমিশন হয়তো সমালোচনা ভয় পায় না, এজন্য তারা প্রশাসনের উপর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিচ্ছে।

ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতিমধ্যে তিনধাপে উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। দুই ধাপের মনোনয়ন দাখিল, বাছাই ও প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে তথ্য পেতে কমিশনকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। শতচেষ্টা করেও অনেক রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা মেলেনি। কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী নয় বরং নিজের মতো করে তারা তথ্য দিয়েছে। এর আগে দশম সংসদ নির্বাচনে 'বিশেষ ব্যক্তির নির্দেশে' প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের পরও প্রার্থিতা প্রত্যাহার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিয়ে নজীর স্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। পরে কমিশন বাধ্য হয়ে তার আইনি বৈধতাও দেয়। ওই ঘটনায় তখন কমিশনকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এরপরও সেই সংশ্লিষ্টদেরই নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

যে কারণে নিয়ন্ত্রণ নেই ইসির

সরকারি পদে থাকলেও ডিসি-এডিসিরা বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন। বিশেষ করে সংসদ সদস্য-মন্ত্রীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে তাদের কাজ করতে হয়। বর্তমানে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আছে। অনেক ক্ষেত্রে ডিসি-এডিসি-ইউএনও'রা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময়ে উপরের নির্দেশ মানতে হয় তাদের। আবার পদে থেকে এবার নির্বাচন করছেন উপজেলা চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানরা। ইউএনও-রা (সহকারী রিটার্নিং অফিসার) হচ্ছেন উপজেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। আর সভাপতি হচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসাবে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারের তালিকা করেন ইউএনও। ওই তালিকা তৈরি করার ক্ষেত্রে ইউএনওরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যানরা তাদের পছন্দের কর্মকর্তাকে ও স্কুল কলেজের শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্বে সম্পৃক্ত করার জন্য ইউএনওদের চাপ দেয়ার একাধিক নজীর আছে। পদে থেকে নির্বাচন করার কারণে অনেক উপজেলা চেয়ারম্যানর পরিষদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নির্বাচনী চালাচ্ছেন। পত্র-পত্রিকায় এ বিষয়ে একাধিক সংবাদ পরিবেশন হলেও 'প্রশাসনের' রিটার্নিং অফিসাররা থাকছেন অনেকটা নীরব। আচরণবিধি লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে নিচ্ছে না কোন ব্যবস্থা। কমিশনের তাগাদার পরও নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির ক্ষেত্রে কার্যকর কোন পদক্ষেপও গ্রহণ করছেন রিটার্নিং অফিসাররা। তাছাড়া এটা স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হলেও সরকারের পক্ষ থেকে বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নির্বাচন করার দায়িত্ব দেয় কমিশনকে। আইন অনুযায়ী পুরো কর্তৃত্ব কমিশনের উপর থাকার কথা থাকলেও উপজেলা নির্বাচন মনিটরিং করার জন্য এবার নির্বাচন কমিশনারদের কোন দায়িত্ব দেয়া হয়নি। সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সময় এক একজন কমিশনারকে একেকটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পর্যালোচনার দায়িত্বে ছিলেন। এবার এখনো পর্যন্ত এ রকম দায়িত্ব কাউকে দেয়া হয়নি। বরং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের উপর সব দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন। উপজেলা নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ করার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা তা করেনি। এমনকি কমিশন তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে হলফনামা প্রকাশের আইনী বাধ্যবাধকতা থাকলেও রিটার্নিং অফিসাররা তা না পাঠানোর কারণে এখনো সম্ভব হয়নি। এমনকি সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন আবেদন করেও প্রার্থীদের হলফনামা সংগ্রহ করতে পারেনি। ফলে নির্বাচনে কমিশনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে বা যে নেই তা অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে।

এ বিষয়ে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, লিখিত আবেদন করেও তাদের কাছ থেকে হলফনামা সংগ্রহের ব্যাপারে কোন সহযোগিতা মিলছে না। এ জন্য আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে কমিশনকে লিগ্যাল নোটিস পাঠানো হয়েছে। রিটার্নিং অফিসাররা নিরপেক্ষ থাকলে দুর্ভাগ্যবশত সদ্য অনুষ্ঠিত দশম নির্বাচনে জাল ভোট ও কারচুপির ঘটনা ঘটতো না। প্রশাসনের ভূমিকা ছিল বিতর্কিত। সেই বিতর্কিত প্রশাসন দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করা হলে উপজেলা নির্বাচনে কমিশনের নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হবে না। যদি কমিশন মনিটরিং না করে তাহলে মহা কেলেংকারি হবে।

তিনি আরো বলেন, অতীতে প্রশাসনের উপর কমিশনের নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এখন থাকার কোন যৌক্তিকতা নেই। তবে উপজেলা নির্বাচন ক্ষমতা টিকে থাকার উপর কোন প্রভাব ফেলে না। সরকার চাইলে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। সরকার বা প্রশাসন না চাইলে কমিশনের পক্ষে কোনভাবেই নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।

নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সব কিছুই করা হবে। এই ব্যাপারে কোনো রকম ছাড় দেয়া হবে না। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সেনা বাহিনী থাকবে পাঁচ দিন। নির্বাচনের আগে-পরে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ৫ বছর পর একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে এবং তা হবে বর্তমান সংবিধান আলোকেই। আপনি কি তার সাথে একমত?
4 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ২০
ফজর৩:৪৯
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৩৯
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :