The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ১ ফাল্গুন ১৪২০, ১২ রবিউস সানী ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ মানিকগঞ্জে বাসে ধর্ষণ : চালক-সহকারীর যাবজ্জীবন | লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ কর্মীকে গুলি করে হত্যা | বাতিল হওয়া সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৪ মার্চ | কোপা দেল রে'র ফাইনালে বার্সেলোনা

জিএসপির জন্য আরো কাজ করতে হবে বাংলাদেশকে

নির্বাচন করতে সরকারের ওপর চাপ বাড়বে

ইত্তেফাক রিপোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) ফিরে পেতে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিছু অগ্রগতি হলেও আরো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। জিএসপি পুনর্বহালে সেসব কাজ করতে হবে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির শুনানিতে এ কথা বলা হয়েছে। একই সাথে অবাধ ও সুষ্ঠু নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী দিনগুলোয় এ চাপ আরো জোরদার হবে বলে আশা করছে দেশটি। কমিটির সভাপতি বব মেনেনডেজের সভাপতিত্বে 'বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক মীমাংসা ও শ্রমিক অধিকার' পরিস্থিতি শিরোনামের শুনানিতে প্রথম প্যানেলের সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল, শ্রম মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক শ্রমবিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত অ্যাসোসিয়েট ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি এরিক বিয়েল, বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের শ্রমবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি লিউশ কারেশ বক্তব্য দেন।

দ্বিতীয় প্যানেলের সদস্য হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এলেন চসার ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার। সোয়া দুই ঘণ্টার শুনানিতে বাংলাদেশে শ্রম অধিকার পরিস্থিতি, সাম্প্রতিক নির্বাচন, সহিংসতা, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তা, গ্রামীণ ব্যাংক ও ব্যাংক থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অপসারণসহ নানা প্রসঙ্গ উঠে আসে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া এটি তৃতীয় শুনানি।

শুনানিতে ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি এরিক বিয়েল বলেন, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালের জন্য যে কর্মপরিকল্পনা দেয়া হয়েছিল, সে অনুযায়ী যথেষ্ট অগ্রগতি বাংলাদেশ দেখাতে পারেনি। শর্ত পূরণে গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করলেও শ্রমিকদের সিবিএ করার ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করাসহ কয়েকটি বিষয় আমলেই নেয়া হয়নি। সমপ্রতি বাংলাদেশ সরকার শতাধিক ট্রেড ইউনিয়নকে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দিলেও সেগুলো আদৌ মাঠে কার্যকর হবে কিনা যুক্তরাষ্ট্র সেদিকে নজর রাখবে বলে জানান তিনি। তার মতে, বাংলাদেশের আগের ট্রেড ইউনিয়নগুলোও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি।

বাংলাদেশে শ্রম ইস্যুতে এত প্রচেষ্টার পরও যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্য সন্তোষজনক নয় উল্লেখ করে আরো কঠোর হওয়া উচিত কি না জানতে চান সিনেটর কার্ডিন। এর উত্তরে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা বিসওয়াল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক কঠোর হয়েছে। আগে সাধারণত বছরে এক থেকে দুটি শ্রমিক সংগঠন নিবন্ধিত হতো। এই বছর বাংলাদেশে শতাধিক সংগঠন নিবন্ধিত হয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিশা দেশাই বলেন, বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক অর্জনের পরও বাংলাদেশে অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশ রয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি সরকার একটি চরম ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন করেছে। এ নির্বাচনে বাংলাদেশিদের ইচ্ছার বিশ্বাসযোগ্য প্রতিফলন ঘটেনি।

নিশা বিসওয়াল বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেকে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। সংলাপ শুরু এবং যত দ্রুত সম্ভব আবারও নির্বাচন করার আহ্বান জানিয়েছি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো দলের পক্ষ নেয়নি। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের অনেকে আমাদের মতোই বার্তা পাঠিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী দিনগুলোয় এ চাপ আরো জোরদার হবে বলে আশা করছে দেশটি।

চাপ জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা জোরদারের কি এখনই সময়? নাকি বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশেরই দূত নিয়োগ করে সমস্যা সমাধানে চাপ দেয়া উচিত?' সিনেটর মেনেনডেজের এমন এক প্রশ্নের উত্তরে নিশা বিসওয়াল বলেন, আন্তর্জাতিক চাপকে সমর্থন করা যায়। তবে সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক ইচ্ছাই সবচেয়ে শক্তিশালী নিয়ামক হবে। সমাধান যাতে বাংলাদেশেই হয় সে জন্য আমাদের চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।

গ্রামীণ ব্যাংক

শুনানিতে শ্রম ইস্যুতে আলোচনার পাশাপাশি উঠে আসে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি। ড. ইউনূসের অপসারণকে নিষ্ঠুর বিদ্রুপ অভিহিত করে একজন সিনেটর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে উদ্বেগ জানাতে থাকবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সিনেটর ডারবিন তার সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ করে বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের নেতৃত্ব থেকে ইউনূসকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক। তাকে শাস্তি দেয়ার অর্থ ওই ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ মানুষকে শাস্তি দেয়া।

এ বিষয়ে নিশা বিসওয়াল বলেন, লাখো নারীর ভাগ্য পরিবর্তনে গ্রামীণের ক্ষমতা হুমকির মধ্যে পড়েছে। আর এটি অত্যন্ত লজ্জার। আমরা এ বিষয়ে সরকারকে চাপ দিয়ে যাচ্ছি।

শুনানিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সংসদ বিশেষ করে সংসদ সদস্যরা সরাসরি সম্পৃক্ত এমন কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা কমাবে। নিশা বিসওয়াল বলেন, সংসদ শক্তিশালীকরণের বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে থাকব। আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালীকরণের মতো বড় কর্মসূচির দিকে যাব।

এর আগে গত ডিসেম্বরে নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে সিনেট কমিটিতে শুনানি হয়। এরপর ৭ জানুয়ারি ঐ শুনানির উপর একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে সহিংসতা বন্ধ, রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ ছয়টি পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানায় সিনেট।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ৫ বছর পর একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে এবং তা হবে বর্তমান সংবিধান আলোকেই। আপনি কি তার সাথে একমত?
4 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৬
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৪
মাগরিব৫:৩৫
এশা৬:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:৩০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :